• প্রকাশ : রবিবার ০৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের পল্লী হবে আরো আধুনিক, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ; আর সেই সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে একটি উন্নত, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।


আগামীকাল ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার উন্নয়নের মূলধারায় দেশের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গ্রাম ও পল্লীকেই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, উন্নত পল্লী ছাড়া সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যকে আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উদযাপন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।’


এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারের উন্নয়ন দর্শন, জনগণের প্রত্যাশা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ অভিযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে আমাদের পল্লী। দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, কুটির শিল্প ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই পল্লী উন্নয়ন কেবল একটি খাতভিত্তিক কর্মসূচি নয়; বরং একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।


তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মধ্য দিয়েই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল ও স্থায়ী করা সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৯৭৭ সালে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নের একটি সুদূর প্রসারী রূপরেখা প্রণয়ন করেন। এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, যুবসমাজকে সুসংগঠিত করা, প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।


পাশাপাশি কৃষক সংগঠন গঠন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, খাল খনন, সেচ ও কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রবর্তিত ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ দেশের স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমকে নতুন গতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করে।


তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক গৃহীত বিস্তৃত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তাঁর সময়কালে গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্র ঋণ ও আয়বর্ধক কার্যক্রমে সহায়তার মাধ্যমে পল্লী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এসব কার্যক্রম পল্লী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ওঅর্থনৈতিক গতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।


তারেক রহমান বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যয়ে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় প্রতিশ্রুতি (নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পল্লীর দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষি ঋণ মওকুফ, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।


একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পল্লী গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তর-সংস্থা এবং পল্লী উন্নয়নে নিয়োজিত সকল অংশীজনের প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।


‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ দিবস পল্লী উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান করবে।’ 


এ উপলক্ষ্যে তিনি পল্লীবাসী সকল জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।




  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ এএম

রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেই সময় ওই শব্দ হয়। তবে বোমা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম সমকালকে বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছাতার মধ্যে লুকানো বোমাসদৃশ বস্তুটি পাওয়া যায়।নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকা ঘিরে রাখা হয়। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। তখন বিকট শব্দ হয়। এতে কেউ হতাহত হননি। তবে কেউ ভুলে ছাতা ভেবে সেটি বহন করতে গেলে বিপত্তি হতে পারতো।

এদিকে বিস্ফোরণের শব্দের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে আর কোথাও এমন বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় করা ‘বোমা’র ভেতরে শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইডি বোমা বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এটি শক্তিশালী বোমা ছিল।

বিষয় : বোমা


সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজীবন পেনশন, মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা, সরকারের দেওয়া অফিস-স্টাফ, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ নানা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেতনের ৭৫ শতাংশ হিসেবে মাসে ৯০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির বেতন বৃদ্ধি পেলে পেনশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে বলা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কী সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন কর্মজীবনে জেলা জজ ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যে কোনো একটি পেনশন পাবেন। মৃত্যুর পর তাঁর দুই তৃতীয়াংশ পেনশন সুবিধা কার্যকর হবে।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং অফিস পরিচালনার খরচ পাবেন সরকারের কাছ থেকে। ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। 

একজন মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একজন মন্ত্রী দেশে ও বিদেশে শতভাগ সরকারি খরচে চিকিৎসা সুবিধা পান। রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও এই সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে বিনা খরচে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। বাসায় ব্যবহারের জন্য টেলিফোন পাবেন। নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল সরকার পরিশোধ করবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইসব সুবিধা পাবেন যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন। নৈতিক স্খলনের কারণে দণ্ডিত হলে অবসর সুবিধা বাতিল হবে।

চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে।


রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বলেছেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আন্দোলনে তাদের কোথাও দেখা যায়নি। অনেকে পালিয়ে ছিল। নির্বাচনের পর এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি। এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে।’


সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। 


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই।  বিএনপি ও শরিকরা প্রতিটি আন্দোলনে সামনে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে ডিফরেন্স অব অপিনিয়ন হতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে আমি মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্র হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এক।’ 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক। আমাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে যেমন একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করব– এই ব্যাপারে আপনার একটা মত থাকতে পারে, আমার একটি মত থাকতে পারে। এখানে হয়তো কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, আমাদের ৩১ দফার আলোকে হোক এবং জুলাই সনদের আলোকে হোক আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’  


‘গুপ্তদের রাজপথে দেখা যায়নি’

অতীতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটু পেছনে যাই– আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না– যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদের আমরা পাইনি, আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদের? তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি। 


বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। রাজপথে দেখিনি, শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। কাজেই দেশের মানুষ আমাদের ওপরই আস্থা রেখেছে যে এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে– এটি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”  


মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।’  


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই এটাও স্মরণ আছে যে ৩১ দফা– রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম, সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। সেটিকে আমরা রাষ্ট্র মেরামতের দফা বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যারা পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি একত্রে, আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।’ 


তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন এই ৩১ দফা শুধু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নয় বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে।’ 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী আগস্টের ৫ তারিখের পরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আপনাদের পরিষ্কার মনে আছে যে তারা ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কি স্বৈরাচারী কায়দায় ডিজিটাল ওয়েতে তারা কীভাবে তাদের কাজগুলো চালিয়েছিল? কীভাবে তারা চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সব সময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কখনও ভুল করেনি।’ 


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, তারা যে ১৮ মাসের মতন দেশ পরিচালনা করেছেন, এই ১৮ মাস তারা কত অসহায়ের মতো ছিলেন। তিনি (উপদেষ্টা) বলছেন,  সরকারের ৬০ শতাংশের ওপরে সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’  


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি এবং এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখছি। সেই ব্যক্তির (উপদেষ্টার) বক্তব্য হচ্ছে, এরা দিশাহারা হয়ে গেছেন– ১৮ মাস তারা এমনভাবে পুরা জিনিসটাকে ব্যবহার করেছে তাদের পক্ষে। কিন্তু ১২ তারিখে যখন জনগণ তাদের রায় প্রদান করেছে, তারপর থেকে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৬-১৭ বছরের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।  


শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রত্যয় 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। আপনি দেখেন এই ‍ঢাকা শহর এখন পরিষ্কার করতেই সমস্যা। যে দিকে তাকাবেন ময়লা। কেউ একজন বলেছেন, এটা কি ফেয়ারওয়েল ডিনার কিনা? কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয় গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম। আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।’  


দুঃখ প্রকাশ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন বসার সুযোগ হয়নি সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। আমি জানি, মুরুব্বিরা যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি মোটেও দ্বিমত করব না। তাদের মনে এই কষ্ট আছে– সেগুলো আমি জানি। স্বাভাবিক। বয়সে তারা আমার থেকে বড়– আমি ছোট ভাই হিসেবে বড় ভাইদের সব বিষয় মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই অনুরোধ করব, আমাদের সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময় মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) ভাই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।’  


সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনার অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে, আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে, যারা যারা যেভাবে চালাচ্ছেন, সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’


বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে... বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’


মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’


  • প্রকাশ : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

সরকারি পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হবে। তারা মায়েদের নরমাল ডেলিভারিকরাতে উৎসাহ দেবেন। এছাড়া ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ করা হবে।


তিনি বলেন, দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অপ্রয়োজনে ঢাকায় ছুটে আসতে হবে না।


এর আগে, সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।


অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে তারেক রহমানের শোকবার্তা

দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিক হারাল


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৯ এএম

প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল।”


রোববার ভোরে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের সংসদ সদস্য জমির উদ্দিন সরকার; তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।


তারেক রহমান তার শোকবার্তায় বলেন, “তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”


১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম। আইন পেশায় তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান।


ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির যুক্ত হন।


জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠন করলে তাতে যোগ দেন জমির উদ্দিন সরকার। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।


২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।


শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেনে, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।


“গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন।”


তারেক রহমান বলেন, দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ‘আদর্শচ্যুত হননি’।


“রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।”


প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।


রোববার বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা হবে। পরে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণেই দাফন করা হবে সাবেক এই স্পিকারকে।


তার মৃত্যুতে সোমবার সারাদেশে শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।


  • প্রকাশ : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ এএম

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


রোববারেএক শোকবার্তায় তিনি বলেন, "এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।"


রোববার ভোরে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের সংসদ সদস্য জমির উদ্দিন সরকার; তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।


২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।


২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।


এর আগে জিয়াউর রহমানের সময় গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার সরকারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন জমির উদ্দিন।


রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।