প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ফটো

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন আজ সোমবার। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। 


রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।


এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।


পররাষ্ট্র সচিব জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এর পর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।


প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এর পর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।

তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।


প্রধানমন্ত্রী একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।


তিনি ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারিবিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করবেন।


সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।


এ ছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিষয় :




গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ এএম

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।


রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।’


পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করছেন। এরই মধ্যে পুলিশ হেফাজতে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।


এদিকে, পল্লবী থানায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নজরুল ইসলাম গতকাল ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুল আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।  


পুলিশ জানায়, ৫ নম্বর ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলাম সস্ত্রীক বসবাস করেন। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়ামের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখা যায়। ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানার ওসিকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে ডাকা হয়। তারা আসার আগ পর্যন্ত ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ। রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।


শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ধারণ করা তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ১৯ বছরের তরুণী মরিয়ামকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। পরে নজরুল ইসলাম জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

বিষয় :


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ পিএম

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। আজ বুধবার গুলশান কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। 



এফবিসিসিআই জানিয়েছে,  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রকল্পের কারিগরি ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে জানান আলেক্সান্দার খোজিন।



তিনি জানান, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও নিবিড় ও প্রসারিত করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে আগ্রহ জানিয়েছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।



আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, নভেম্বর মাসের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য মস্কোতে এই ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হবে।



বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এ সময় তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকসহ রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।



রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে।


এছাড়া কৃষি, মৎস্য ও জাহাজনির্মাণ শিল্প এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।


ফাইল ফটো

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। 


তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। সাত ধাপে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা হতে পারে।


নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। অর্থাৎ আইন সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন থেকে সরে আসবে না নির্বাচন কমিশন। বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।


বাংলাদেশের পাসপোর্ট-এনআইডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: গ্রাফিক্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২২ পিএম

প্রবাসীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ১৭টি দেশের ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি দেশে এই নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


একই সঙ্গে ই-পাসপোর্ট, অনলাইন সত্যায়ন, ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ এবং সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সেবা দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও স্বচ্ছ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট চালু থাকা বিদেশি মিশনগুলোতে প্রবাসীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন, নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে পারছেন এবং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানার সুযোগ পাচ্ছেন।


তিনি বলেন, দূতাবাস বা মিশন থেকে এনআইডি ও পাসপোর্টের মূল নথি ইস্যু করা হয় না। এগুলো ঢাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাসপোর্ট বিতরণের জন্য প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।


খলিলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ১৭টি রাষ্ট্রের ২৭টি বাংলাদেশ কূটনৈতিক দপ্তরের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন এবং এনআইডি কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৪১টি দেশে এই সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


সৌদি-আমিরাতে বিশেষ নজর


বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি জানান, বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রামের’ আওতায় ঢাকা থেকে দক্ষ কারিগরি দল পাঠিয়ে এসব দেশে সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অনলাইনেই সত্যায়ন, চালু ‘ই-অ্যাপোস্টিল’


প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ব্যবস্থা ও ‘ই-অ্যাপোস্টিল’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাগ্রহীতাদের সময় ও খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।


মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বা সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি একক ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও অনলাইন ব্যবস্থা


প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সব বৈদেশিক মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণসহ এই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমানো এবং পাসপোর্ট ও এনআইডি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করাই সরকারের লক্ষ্য।



বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ এএম

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লংঘন না করে সেজন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতির সংস্কৃতি যাতে গালাগালিতে পরিণত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান। জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলে গালাগালির পরিবর্তে কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান তিনি।


তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভেদ পরাজিত ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারে। এজন্য ঐক্য রাখা একান্ত কাম্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।


সরকারপ্রধান বলেন, “ফ্যাসিবাদ শাসনকালে জনগণের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বাকস্বাধীনতা। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।”


তারেক রহমান বলেন, “আমরা যেরকম চাই না, দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক, যেকোনো বিবেকবান মানুষ, যেকোনো দেশপ্রেমিক রাজনীতিক অবশ্যই আমরা চাই না, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত হয়।


“এজন্যই আমাদের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে, আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, কেন আমরা জনপরিষদে সেসব শব্দ ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না মাননীয় স্পিকার? আপনার মাধ্যমে আমি এটি সব সদস্যের কাছে, দেশের সব বিবেকবান নাগরিকের কাছে প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।


“আমরা যদি সত্যিকারভাবে সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, আসুন আমরা তাহলে গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি।”


এ সময়ে সংসদ অধিবেশনের কক্ষে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সমর্থন জানান।


এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ অধিবেশন সমাপনীসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পড়ে শোনান।


সমাপনীতে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী ৭টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।


সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয় গত ২৭ অগাস্ট।


‘বিরোধ-বিভেদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুরুজ্জীবিত করবে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকারি দলই বলি, বিরোধী দলই বলি, আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সে কারণে মাননীয় স্পিকার, সবসময় আমি বলার চেষ্টা করি, আমি বলে থাকি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।


“জনগণের কাছে আমার আহ্বান, আসুন গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ, বিরোধ কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, সেই পথকেই হয়তো সুগম করতে পারে…। এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।”


সরকারপ্রধান বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই, শহীদদের প্রতি কর্তব্যের অংশ হিসেবে অবশ্যই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”


তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা— আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে। সারা পৃথিবীতেই সেটি থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। এটিও ডেমোক্রেটিক প্র্যাকটিস।


“কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, মাননীয় স্পিকার, সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”


‘সংসদ সব কর্মের কেন্দ্রবিন্দু’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সংসদকে আমরা সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কারোরই সদিচ্ছার অভাব ছিল না, সেটি নিশ্চয়ই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা উভয়পক্ষ দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে কাজ করছি, দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে আলোচনা করেছি ও কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি, সে ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।


“এই জাতীয় সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আমি আজ উপস্থিত সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা এই জাতীয় সংসদের কাছে। এই জাতীয় সংসদে আলোচনা করে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে; এই সংসদ তাদের জন্য শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা।”


‘গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের কারণে জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। এ সমস্যা হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস তোলার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি। খুবই আশ্চর্যের বিষয়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ডানে এবং বামে যে প্রতিবেশী দেশগুলো আছে, তারা সমুদ্র থেকে গ্যাস তুলছে। কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় মাঝখানে বাংলাদেশ, মাঝখানে বঙ্গোপসাগর, সেই বঙ্গোপসাগর থেকে বিগত এক যুগের বেশি সময় ফ্যাসিবাদের আমলে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি।


“অনেকে বলে, বিশেষ কোনো দেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, কিংবা তারা যেন গ্যাস নিয়ে যেতে পারে, সেজন্যই বাংলাদেশ অংশে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস উৎপাদন করা হয়নি। অপরদিকে পশ্চিম এশিয়া ছিল আমাদের গ্যাস আমদানির প্রধান উৎস। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবেই দেশকে জ্বালানি-নির্ভর করে ফেলা হয়েছিল।”


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ইরানের চলমান যুদ্ধের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠন করার ১০-১২ দিন পরেই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে তেল এবং গ্যাস আমদানি করা হতো, সে ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি হলো। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এই পরিস্থিতির ভেতরেই আমাদের যে দুটি এফএসআরইউ আছে, তার একটিতে ইলেকট্রিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে এবং সম্পূর্ণভাবে সেই এফএসআরইউতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে এটি বিকল হয়ে যায়। এ কারণেই বর্তমানে গ্যাস এবং বিদ্যুতের জন্য সমগ্র দেশের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”


‘বিরোধী দলের লংমার্চ’


দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ৬ দাবিতে গত শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।


তাদের সেই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমস্যা সমাধানে আমরা আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। অথচ আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়িবহরের লং মার্চ আয়োজন করা হয়েছিল।


“বিভিন্ন মানুষ বাইরে একটি কথা বলে, জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কিনা? গাড়ির লং মার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।”


তিনি বলেন, “একটি কথা সবারই মনে আছে, তাও এটি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাশিয়া ও ইউক্রেইন যুদ্ধ যখন শুরু হলো, সেই ২০২২ সালে যুদ্ধের অজুহাতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করার জন্য, তখন অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে এক দিনের জায়গায় বাড়িয়ে দুই দিন ছুটি করা হয়েছিল। ব্যাংকের লেনদেনের কর্মসূচিও পরিবর্তন করা হয়েছিল।


“আমরা আগেই বলেছি, কোনো অজুহাত তুলে আমরা জনগণের দুর্ভোগ বা সমস্যার সমাধানকে এড়িয়ে যেতে চাই না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যারা ২০০৯ সাল থেকে একটানা বছরের পর বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল, মানুষের কথা বলার অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিয়ে, তাদেরও, মাননীয় স্পিকার, বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বা করেছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখার জন্য ‘সো-কল্ড নিশ্চিত’ কুইক রেন্টাল বসানো হয়েছিল। এই কুইক রেন্টালের নামে কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে এই রাষ্ট্রকে ফতুর করে দেওয়া হয়েছিল, ঋণগ্রস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও তারা বিদ্যুৎ সমস্যা বা জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করে আনতে পারেনি।”


বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রেক্ষাপটের বিষয়ে তিনি বলেন, “অথচ বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের ভেতরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই ইউক্রেইন যুদ্ধকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন পদক্ষেপ তখন তারা নিয়েছিল, সেই ইউক্রেইন যুদ্ধ এখনো চলমান। এর মধ্যে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি।


“এর পাশাপাশি দুটি এফএসআরইউ, দুটি এলএনজি টার্মিনাল— একটি গেল নষ্ট হয়ে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। এসব সমস্যা বর্তমান সরকার এবং যেহেতু আমি বলেছি বিরোধী দল সরকারের একটি অংশ, আমরা সকলেই এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছি।”


তারেক রহমান বলেন, জনগণের সামনে বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের যেমন রয়েছে, যেহেতু জনগণ আমাদের সকলকেই ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে, তাই আমি মনে করি, এই সংসদের প্রত্যেক সদস্য, তিনি বিরোধী দলের হোন কিংবা সরকারি দলের হোন— আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সঠিক চিত্র বা বাস্তব পরিস্থিতি জনগণের সামনে তুলে ধরা। প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে এটি যদি করার সুযোগ না হয়, তাহলে পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্রই লাভবান হবে। তাহলে এতগুলো আত্মদানের কী মূল্য থাকবে?”


সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তা চলতি সংসদে তুলে ধরার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।


স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আমি আপনার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ইতোমধ্যেই আমরা যথাসম্ভব অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যে সমস্যা যাচ্ছে, যেটি গ্যাস বা বিদ্যুতের, সেই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হব।


“দেশ এবং জাতিকে অবশ্যই আমাদের বিরোধীদলীয় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এ সমস্যা থেকে ইনশাআল্লাহ বের করে আনতে সক্ষম হব।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এতদিন আমরা আমদানিনির্ভর উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রাহক ছিলাম। বর্তমান সরকার যে ব্যবস্থা বা যে উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা যদি আমরা ইনশাআল্লাহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা শুধু গ্রাহক নয়, বরং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হব ইনশাআল্লাহ।


“সেই সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। কারণ আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ হচ্ছে বিএনপির গৌরবময় অতীত ইতিহাস। বিএনপি— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— যতবারই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, প্রত্যেকটি বার, মাননীয় স্পিকার, দেশকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশ এবং জনগণের প্রতিটি সংকটে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি দেশের হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে।”


‘অর্থনীতি প্রসঙ্গে’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে জনগণের রায়ে প্রত্যাখ্যাত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে, যে কথাটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা একইভাবে বলেছেন, ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে। তারা জনগণের অধিকারকে কেড়ে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে। এই ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে পড়েছে।


“এরা পালিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এই ঋণ রেখে গিয়েছে এই দেশের কাঁধে, এই দেশের জনগণের কাঁধে। যারা পালিয়ে গিয়েছে, তারা শুধু ঋণখেলাপিই করেনি, বরং ঋণখেলাপির পরিমাপের যে হিসাব-নিকাশ, সেটির মধ্যেও তারা জালিয়াতি করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ঋণখেলাপির অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। বিগত নির্বাচনের পরে যেখানে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেখানে এটি নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে।”


তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট চক্রের অনাচার, লুটপাট, দুর্নীতি— এসব উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে বিএনপি যেভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিল, একই চক্রের কারণে ২০২৪ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির যে কলঙ্ক, এর থেকেও বিএনপি বাংলাদেশকে ইনশাআল্লাহ মুক্ত করে নিয়ে আসবে।


“বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। যারা বাংলাদেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছে, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে; কিন্তু বাংলাদেশকে এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল এবং সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখি ডলার পরিশোধ করেছে। যদিও ফ্যাসিবাদের লুটতরাজ, টাকা পাচারের কারণে এখনো দেশের কাঁধে, জনগণের কাঁধে হাজারো কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ বাকি রয়ে গেছে।”


আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৬ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।


এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো।


সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’


এ সময় তিনি নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। 


একইসাথে রাষ্ট্রপতি সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’


এসময় তিনি দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালু করার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।


তিনি দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র  হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’


এ সময় তিনি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।


তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


একইসাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। 


তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।



জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।


প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।


সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।


তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিনে আমরা মুক্তভাবে লিখতে পারছি, মুক্তভাবে বলতে পারছি। এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত থাকে।


তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরেন। আপনারা অন্যান্য জায়গায় হয়তো সবসময় আপনাদের খুশি রাখার মতো কথা শুনবেন। কিন্তু সত্যটা জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই পথ যেন অব্যাহত থাকে, এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।


এ সময় তিনি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।


সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।


উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।


জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও মাসিক সরগম-এর সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাসুমুর রহমান খলিলী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মোহসিন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।


সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।