ভোটে বাধা মনে করলেই গ্রেপ্তার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ততই নতুন কৌশলে হাঁটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার অভিযানেও আসছে পরিবর্তন।
এখন থেকে ধরে ধরে শুধু ‘ডেভিলদের’ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন) গ্রেপ্তার নয়, আসন্ন নির্বাচনে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বা করতে পারে—এমন মনে হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যারা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এরই মধ্যে এমন লোকদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। চলমান অভিযানের সঙ্গে ওই তালিকাভুক্তদের নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনের আওতায় নিতেও বলা হয়েছে।
এ নিয়ে গতকাল রোববার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘যারা নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা সামনের সময়েও অব্যাহত থাকবে।’
ইসি কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, গতকাল ইসির সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ ১৬ বিভাগ ও সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট বা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৈঠকে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মাঠপর্যায়ে ঘুরে এসেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মাঠপর্যায়ে কো-অর্ডিনেশন ও অপারেশন জোরদার করতে বলেছেন। পাশাপাশি বৈঠক থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমস্যা তৈরি করতে পারে, নির্বাচনের জন্য যারা হুমকি, তাদের তালিকা করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।’
এ তালিকা কারা করবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় করে তালিকা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নজরদারি করা এবং যথোপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনে বাধা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারে নজরদারি ও অভিযান চালানো হলেও অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস-২ অব্যাহত থাকবে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেই হয়রানি করা যাবে না। শুধু যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসি কর্মকর্তাদের বৈঠকে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ইসি থেকে সমন্বয় সেল, ভিজিল্যান্স টিম, মনিটরিং টিমসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সমন্বয়ে অনেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এসব কমিটি ঠিকমতো কাজ করছে না বলে গতকালের বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। বৈঠক থেকে সেগুলো যেন ভালোভাবে কাজ করে, সেটা জোর দিতে বলা হয়েছে। মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনকে সময়ে সময়ে অবহিত করতেও বলেছেন ইসি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। এরপরই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। ওই ঘটনার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে গত ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় ‘ডেভিল হান্ট ফেস-২’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ হাজার ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার হয়েছে ১৫৬টি অবৈধ অস্ত্র।
এর আগে গাজীপুরে হামলার পর গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনী সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করে। এ অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে এ অভিযান নিয়ে সমালোচনাও হয়। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ‘নিরীহদের’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রথম ধাপে শুরু হওয়া ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়ে যায়।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তখন ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়নি। সন্ত্রাসী, অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিয়মিত কাজ, তা চলমান ছিল। পরিস্থিতি যেন খারাপের দিকে না যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেজন্য দ্বিতীয় দফায় ডেভিল হান্ট শুরু হয়।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ: ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও মাঠ পুলিশে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এখনো পুলিশের থানা ও স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপারেশন ডেভিল হান্ট চালিয়ে এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও এসব অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে যেন অস্ত্রের চোরাচালান না হয়, সে ব্যাপারেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেক জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেগুলোর সব খোয়া যাওয়া অস্ত্র নয়। অন্য অস্ত্রও রয়েছে। এসব অস্ত্রের একটা অংশ পরবর্তী সময়ে উদ্ধারও হয়েছে। তবে খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্রগুলোর ব্যবহার দেখা যায়নি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও কিছু অস্ত্র এসেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেটার পরিমাণ খুব বেশি নয়। এসব অস্ত্রের গতিপথ অনুসরণ করে সেগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলমান আছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি এবং একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এসব চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এদিকে বেসরকারি খাতে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া উপকূল নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে চুক্তি সই করেছে জাপান সরকার।
বুধবার রাতে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতে সহায়তা করবে জাপান। এ ছাড়া কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েও আলাদা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি পর্যায়ের চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দেশটিতে চার দিনের সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এই সফরের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর (রোববার) পর্যন্ত এ আবেদন দাখিল ও গ্রহণ করা হবে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষ্যে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ৩০ ও ৩১ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরবর্তী কর্মদিবস ১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মতামতও সরাসরি শোনা হয়।
সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেও কী প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিনের হবে— সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠন করতে হবে— এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, সমস্ত প্রস্তাব ও পর্যালোচনা শেষে যখন জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হবে, তখন সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে আরও নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়ে কথা হলেও এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সার্বিকভাবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এর বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো নতুন ভালো প্রস্তাব আসলে তা সহানুভূতির সাথে পরীক্ষা করে দেখা হবে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে তাদের জীবনের ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন। ভবিষ্যতে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ও শক্তিশালী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সঞ্চালন-২ এর প্রধান প্রকৌশলী (অতিঃ দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে একযোগে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় একটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে সচল হয় জাতীয় গ্রিড। এখন পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে।
বিকেলে জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির পাঠানো বার্তায় বলা হয়, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো চালু রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।