আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, যাতে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। এই তালিকায় ১৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মনোনীত এসব নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে ডা. তাসনিম জারা, ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও দিলশানা পারুলদের মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন। তবে সামান্তা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম এখনো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে মনিরা শারমিন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), ঝালকাঠি-১ আসনে ডা. মাহমুদা আলম মিতু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ-১১ আসনে তানহা শান্তা, ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১২ আসনে নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৭ ডা. তাজনূভা জাবীন, ফরিদপুর-৩ আসনে সৈয়দা নীলিমা দোলা, চাঁদপুর-২ আসনে ইসরাত জাহান বিন্দু, নোয়াখালী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাগুফতা বুশরা মিশমা, খাগড়াছড়িতে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন।
এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে, মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুর-৩ আসনে আ হ ম শামসুল মুকতাদির, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আব্দুল আহাদ, নীলফামারী-২ আসনে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. আবু সায়েদ লিয়ন, লালমনিরহাট-২ আসনে রাসেল আহমেদ ও লালমনিরহাট-৩ আসনে মো. রকিবুল হাসান জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
রংপুর-১ আসনে মো. আল মামুন, রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনি, গাইবান্ধা-৩ আসনে মো. নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ডা. আ. খ. ম. আসাদুজ্জামান, জয়পুরহাট-১ আসনে গোলাম কিবরিয়া, জয়পুরহাট-২ আসনে আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল, বগুড়া-৬ আসনে আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান) এনসিপির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নওগাঁ-১ আসনে কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নওগাঁ-২ আসনে মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী, নওগাঁ-৩ আসনে পরিমল চন্দ্র (উরাও), নওগাঁ-৪ আসনে মো. আব্দুল হামিদ, নাটোর-২ আসনে আব্দুল মান্নাফ, নাটোর-৩ আসনে অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পাবনা-৪ আসনে অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল মজিদ, মেহেরপুর-১ আসনে মো. সোহেল রানা, মেহেরপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার (দয়াল বাসার), যশোর-৪ আসনে মো. শাহজাহান কবীর, মাগুড়া-২ আসনে মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনে মোল্যা রহমাতুল্লাহ, খুলনা-১ আসনে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, খুলনা-২ আসনে ফরিদুল হক, পটুয়াখালী-১ আসনে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এনসিপির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ভোলা-১ আসনে অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, বরিশাল-৪ আসনে আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল-৫ আসনে মো. নুরুল হুদা চৌধুরী, পিরোজপুর-৩ আসনে ড. মো. শামীম হামিদী, টাঙ্গাইল-১ আসনে সাইদুল ইসলাম (শহীদ সাজিদের পরিবার), টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৫ আসনে মাসুদুর রহমান রাসেল, টাঙ্গাইল-৭ আসনে খন্দকার মাসুদ পারভেজ, জামালপুর-৪ আসনে ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, শেরপুর-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া ও শেরপুর-২ আসনে খোকন চন্দ্র বর্মণ (আহত) এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।
ময়মনসিংহ-১ আসনে মো. আবু রেহান, ময়মনসিংহ-৩ আসনে কবি সেলিম বালা, ময়মনসিংহ-৫ আসনে মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ আসনে জাবেদ রাসিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনে অ্যাডভোকেট এ. টি. এম. মাহবুব-উল আলম, ময়মনসিংহ-৯ আসনে আশিকিন আলম (রাজন), নেত্রকোণা-২ আসনে ফাহিম রহমান খান পাঠান, নেত্রকোণা-৩ আসনে প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম), কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল) ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে শেখ খায়রুল কবির আহমেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আলী নেওয়াজ, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, ঢাকা-১ আসনে মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনে এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-১১ আসনে মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১৩ আসনে আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ আসনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৯ আসনে ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।
গাজীপুর-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, নরসিংদী-১ আসনে মো. আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নরসিংদী-৪ আসনে ডা. মো. মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর, নরসিংদী-৫ আসনে মো. নাজমুল হক সিকদার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু, রাজবাড়ী-২ আসনে সাইয়েদ জামিল (জামিল হিজাযী) জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রলয় কুমার পাল, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মো. আরিফুল দাড়িয়া, শরীয়তপুর-১ আসনে মো. আব্দুর রহমান, সিলেট-১ আসনে এহতেশাম হক, সিলেট-৩ আসনে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৪ আসনে মো. রাশেল উল আলম, মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাশ, হবিগঞ্জ-৪ আসনে নাহিদ উদ্দিন তারেক, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৩ আসনে মো. আতাউল্লাহ এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৬ আসনে নাভিদ নওরোজ শাহ, চাঁদপুর-১ আসনে আরিফুল ইসলাম, চাঁদপুর-৫ আসনে মো. মাহাবুব আলম, ফেনী-৩ আসনে মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসউদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে মহিউদ্দিন জিলানী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী সিন্টু, চট্রগ্রাম-১১ আসনে মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জুবাইরুল আলম মানিক, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মুহাম্মদ হাসান আলীম চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আবদুল মাবুদ সৈয়দ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মীর আরশাদুল হক জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে লড়বেন।
এ ছাড়া কক্সবাজার-১ আসনে মো. মাইমুল আহসাম খান, কক্সবাজার-২ আসনে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কক্সবাজার-৪ আসনে মুহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও রাঙামাটিতে প্রিয় চাকমা ও বান্দারবানে মংসা প্রু চৌধুরী এনসিপির হয়ে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক
মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ
নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের অবস্থান
এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।
সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।
ইশরাক হোসেন
প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’
শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট কি তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।