• প্রকাশ : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৪:৫২ এএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, যাতে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। এই তালিকায় ১৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন মনোনীত এসব নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে ডা. তাসনিম জারা, ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও দিলশানা পারুলদের মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন। তবে সামান্তা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম এখনো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে মনিরা শারমিন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে দিলশানা পারুল, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (প্রীতি), ঝালকাঠি-১ আসনে ডা. মাহমুদা আলম মিতু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ-১১ আসনে তানহা শান্তা, ঢাকা-৯ আসনে ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১২ আসনে নাহিদা সারওয়ার নিভা, ঢাকা-১৭ ডা. তাজনূভা জাবীন, ফরিদপুর-৩ আসনে সৈয়দা নীলিমা দোলা, চাঁদপুর-২ আসনে ইসরাত জাহান বিন্দু, নোয়াখালী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাগুফতা বুশরা মিশমা, খাগড়াছড়িতে অ্যাডভোকেট মনজিলা সুলতানা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন।

এদিকে পঞ্চগড়-১ আসনে মো. সারজিস আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মো. রবিউল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে, মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুর-৩ আসনে আ হ ম শামসুল মুকতাদির, দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. মো. আব্দুল আহাদ, নীলফামারী-২ আসনে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পন, নীলফামারী-৩ আসনে মো. আবু সায়েদ লিয়ন, লালমনিরহাট-২ আসনে রাসেল আহমেদ ও লালমনিরহাট-৩ আসনে মো. রকিবুল হাসান জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

রংপুর-১ আসনে মো. আল মামুন, রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মো. মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. আবু সাঈদ জনি, গাইবান্ধা-৩ আসনে মো. নাজমুল হাসান সোহাগ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ডা. আ. খ. ম. আসাদুজ্জামান, জয়পুরহাট-১ আসনে গোলাম কিবরিয়া, জয়পুরহাট-২ আসনে আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল, বগুড়া-৬ আসনে আব্দুল্লাহ-আল-ওয়াকি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. নাজমুল হুদা খান (রুবেল খান) এনসিপির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

নওগাঁ-১ আসনে কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, নওগাঁ-২ আসনে মো. মাহফুজার রহমান চৌধুরী, নওগাঁ-৩ আসনে পরিমল চন্দ্র (উরাও), নওগাঁ-৪ আসনে মো. আব্দুল হামিদ, নাটোর-২ আসনে আব্দুল মান্নাফ, নাটোর-৩ আসনে অধ্যাপক এস. এম. জার্জিস কাদির, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনজুর কাদের ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পাবনা-৪ আসনে অধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুল মজিদ, মেহেরপুর-১ আসনে মো. সোহেল রানা, মেহেরপুর-২ আসনে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার (দয়াল বাসার), যশোর-৪ আসনে মো. শাহজাহান কবীর, মাগুড়া-২ আসনে মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনে মোল্যা রহমাতুল্লাহ, খুলনা-১ আসনে মো. ওয়াহিদ উজ জামান, খুলনা-২ আসনে ফরিদুল হক, পটুয়াখালী-১ আসনে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এনসিপির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ভোলা-১ আসনে অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান, বরিশাল-৪ আসনে আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল-৫ আসনে মো. নুরুল হুদা চৌধুরী, পিরোজপুর-৩ আসনে ড. মো. শামীম হামিদী, টাঙ্গাইল-১ আসনে সাইদুল ইসলাম (শহীদ সাজিদের পরিবার), টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৫ আসনে মাসুদুর রহমান রাসেল, টাঙ্গাইল-৭ আসনে খন্দকার মাসুদ পারভেজ, জামালপুর-৪ আসনে ডা. মো. মোশাররফ হোসেন, শেরপুর-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া ও শেরপুর-২ আসনে খোকন চন্দ্র বর্মণ (আহত) এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে মো. আবু রেহান, ময়মনসিংহ-৩ আসনে কবি সেলিম বালা, ময়মনসিংহ-৫ আসনে মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ আসনে জাবেদ রাসিন, ময়মনসিংহ-৭ আসনে অ্যাডভোকেট এ. টি. এম. মাহবুব-উল আলম, ময়মনসিংহ-৯ আসনে আশিকিন আলম (রাজন), নেত্রকোণা-২ আসনে ফাহিম রহমান খান পাঠান, নেত্রকোণা-৩ আসনে প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন সিদ্দিকী (শামীম), কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আবু সাঈদ (সাঈদ উজ্জ্বল) ও কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে শেখ খায়রুল কবির আহমেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আলী নেওয়াজ, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, ঢাকা-১ আসনে মো. রাসেল আহমেদ, ঢাকা-৪ আসনে ডা. জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনে এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা-৭ তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-১১ আসনে মো. নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-১৩ আসনে আকরাম হুসাইন, ঢাকা-১৫ আসনে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস, ঢাকা-১৬ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-১৮ আসনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-১৯ আসনে ফয়সাল মাহমুদ শান্ত ও ঢাকা-২০ আসনে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।

গাজীপুর-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল, নরসিংদী-১ আসনে মো. আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নরসিংদী-৪ আসনে ডা. মো. মামুনুর রহমান জাহাঙ্গীর, নরসিংদী-৫ আসনে মো. নাজমুল হক সিকদার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আহমেদুর রহমান তনু, রাজবাড়ী-২ আসনে সাইয়েদ জামিল (জামিল হিজাযী) জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রলয় কুমার পাল, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে মো. আরিফুল দাড়িয়া, শরীয়তপুর-১ আসনে মো. আব্দুর রহমান, সিলেট-১ আসনে এহতেশাম হক, সিলেট-৩ আসনে ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, সিলেট-৪ আসনে মো. রাশেল উল আলম, মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রীতম দাশ, হবিগঞ্জ-৪ আসনে নাহিদ উদ্দিন তারেক, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৩ আসনে মো. আতাউল্লাহ এনসিপির হয়ে এমপি পদে লড়বেন।

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৬ আসনে নাভিদ নওরোজ শাহ, চাঁদপুর-১ আসনে আরিফুল ইসলাম, চাঁদপুর-৫ আসনে মো. মাহাবুব আলম, ফেনী-৩ আসনে মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, নোয়াখালী-৬ আসনে আব্দুল হান্নান মাসউদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে মহিউদ্দিন জিলানী, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে মো. রিয়াজুল আনোয়ার চৌধুরী সিন্টু, চট্রগ্রাম-১১ আসনে মোহাম্মদ আজাদ দোভাষ, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জুবাইরুল আলম মানিক, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মুহাম্মদ হাসান আলীম চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আবদুল মাবুদ সৈয়দ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মীর আরশাদুল হক জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য পদে লড়বেন।

এ ছাড়া কক্সবাজার-১ আসনে মো. মাইমুল আহসাম খান, কক্সবাজার-২ আসনে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, কক্সবাজার-৪ আসনে মুহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও রাঙামাটিতে প্রিয় চাকমা ও বান্দারবানে মংসা প্রু চৌধুরী এনসিপির হয়ে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।



সর্বশেষ সব খবর

দুইদিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় তিনি নেপালে পৌঁছেছেন। এর আগে রোববার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।


তার ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে অবগত হওয়াই এ সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা শোনা, দুর্গত এলাকায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে।


সফরকালে মামুনুল হক স্থানীয় আলেম-উলামা, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।


দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তারা।


মামুনুল হকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা শায়খ সালেহ আহমাদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।


দুদিনের সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামুনুল হকের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩০ পিএম

সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট পার হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। 


আজ শনিবার (৫ আগস্ট) শাপলা চত্বরে ১১ দলের উদ্যোগে ছয় দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।


খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘খলিফা উমর (রা.) একবার খেলাফতকালে মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তাদের আচরণ কেমন হবে। তখন বশীর ইবনে সাদ (রা.) দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আপনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তীরকে যেভাবে সোজা করে ছেড়ে দেওয়া হয়, উম্মতে মুসলিমাহ সেভাবেই আপনাকে সোজা করে দেবে। তখন উমর (রা.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেছিলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, মুসলিম জাতির মধ্যে খলিফাকে সঠিক পথে রাখার মতো মানুষ দিয়ে ভরপুর করে রেখেছেন।’


মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করা হয়, ছয় মাস যেতে পারেনি, আমরা কেন কঠোরতা অবলম্বন করছি? আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘যে জাতি উমর (রা.) এর মতো মানুষকেও ভুল করলে ছাড় না দেওয়ার শপথ নেয়, সেই জাতির মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চান, শুরুতে হাতে ধরে, পায়ে ধরে বলবো। এরপরও যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হন, তাহলে ঘাড় ধরতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেছে। শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সোয়া ৮টার পর বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।


লং মার্চে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষপর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।


মতিঝিলের সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের নেতারা।


জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।


এর আগে ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে লংমার্চের ৬ দফা এক দফায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


নাহিদ ইসলাম বলেন, যতই বাধা আসুক না কেন, আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রামেই পৌঁছাবে ইনশা আল্লাহ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকায় সবাই একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য। আমাদের এই লংমার্চ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।


এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। ফলে আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের লংমার্চ নয়, এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো, যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।


ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।


লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

শুক্রবার রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর র‌্যালিতে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক’- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ধারণা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন, অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।


সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।’


তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব।’


বাংলাদেশের সংবিধানে সবার ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না, এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’


‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’


ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’


মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’


মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।


সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।


অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য একক কর্মসূচির পাশাপাশি ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে থাকবে দলটি। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চায় তারা।


এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জোটগতভাবে রাজপথে থাকা এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো-এই তিন দিকে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়ে জনমত গঠন করাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য।


সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে। 


এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।


এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তাঁরা। এর পরের কর্মসূচি পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজন হলে মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।


১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে। তবে দলটির নেতারা স্বীকার করছেন, বড় পরিসরে এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা এনসিপির এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সে কারণে আপাতত ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে মিলেই রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।


একই সঙ্গে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন চলছে। সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করাও দলটির লক্ষ্য।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। 


দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন এবং ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলেও দলের উপস্থিতি বাড়াতে চায় তারা।


বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয় গত ১৭ আগস্ট। এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনসিপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সেখানে কথা বলেন দলের নেতারা। এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে এনসিপি।


দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী দল সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও সীমিত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 


তবে সরকারের প্রথম ছয় মাস পার হওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি এই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চায়। সে জন্য সংসদে বক্তৃতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে এনসিপি।

সর্বশেষ সব খবর