ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে 'তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার' শিরোনামে এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।   


ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ শীর্ষ নেতারা।


এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহারে রয়েছে-


১. জুলাই সনদের যে দফাগুলো আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।


২. জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত সব মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে।


৩. ধর্মবিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং জাতি-পরিচয়ের কারণে যেকোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নকে প্রতিহত করতে স্বাধীন তদন্তের এখতিয়ার সম্পন্ন মানবাধিকার কমিশনের একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে।


৪. মন্ত্রী, এমপিসহ সব জনপ্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাৎসরিক আয় ও সম্পদের হিসাব, সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দের বিস্তারিত 'হিসাব দাও' পোর্টালে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ ও হালনাগাদ করা হবে।


৫. আমলাতন্ত্রে ল্যাটেরাল এন্ট্রি বৃদ্ধি করা হবে এবং স্বাধীন পদোন্নতি কমিশনের মাধ্যমে সরকারি চাকরির শতভাগ পদোন্নতি হবে পার্ফরমেন্সভিত্তিক। পে-স্কেল মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি তিন বছরে হালনাগাদ করা হবে এবং পে-স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।


৬. বিভিন্ন কার্ডের ঝামেলা ও জটিলতা দূর করতে এনআইডি কার্ডকেই সব সেবা প্রাপ্তির জন্য ব্যবহার করা হবে।


৭. জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা বীমা ও পেনশন নিশ্চিত করে শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।


৮. টিসিবির বিদ্যমান এক কোটি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে ট্রাকে লাইনে দাঁড়িয়ে নয়; বরং নিবন্ধিত মুদি দোকানে ব্যবহারযোগ্য করা হবে।


৯. সুনির্দিষ্ট বাড়ি ভাড়া কাঠামো তৈরি ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা ওয়াকফ সুকুক ভিত্তিতে সামাজিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।


১০. গরিব ও মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা কমিয়ে, কর ফাঁকি বন্ধ করে কর-জিডিপি ১২ শতাংশে উন্নীত করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হবে এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।


১১. পরিকল্পিতভাবে এলডিসি উত্তরণের জন্য আগাম এফটিএ সিইপিএ করা হবে। রপ্তানি বৈচিত্র্য ও নতুন শিল্প গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক খাত (ব্যাংকিং, ইন্সুরেন্স ও পুঁজিবাজারে) শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস, কঠোর আইন, সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাহার নিশ্চিত করা হবে।


১২. স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে, ৯৯৯-এর মতো হটলাইন চালু ও জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।


১৩. মুদ্রাস্ফীতি ছয় শতাংশে নামানো হবে। ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর অর্থনৈতিক ডেটা প্রকাশ বন্ধ করা হবে, রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করে জনগণের সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হবে।


১৪. ভোটাধিকারের বয়স হবে ১৬ এবং তরুণদের কণ্ঠকে প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করতে 'ইয়ুথ সিভিক কাউন্সিল' গঠন করা হবে।


১৫. আগামী পাঁচ বছরে দেশে এক কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসএমই খাতে ক্যাশফ্লোভিত্তিক ঋণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, নিবন্ধন খরচ হ্রাস ও প্রথম পাঁচ বছরের করমুক্তি নিশ্চিত করা হবে।


১৬. সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্লেসমেন্ট, ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী গড়ে তোলা হবে।


১৭. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে বিদ্যমান সব ধরনের শিক্ষার মাধ্যম ও পদ্ধতিগুলোর একটি যৌক্তিক সমন্বয় করা হবে। শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন ও পাঁচ বছরে ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে।


১৮. উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সংযোগ স্থাপন করতে স্নাতক পর্যায়ে ছয় মাসের পূর্ণকালীন ইন্টার্নশিপ বা থিসিস রিসার্চ বাধ্যতামূলক করা হবে।


১৯. প্রবাসী গবেষকদের সিনিয়রিটি ও ল্যাবের জন্য এককালীন ফান্ডিং দিয়ে রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করা হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার জন্য একটি ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার তৈরি করা হবে।


২০. হৃদরোগ, ক্যান্সার, ট্রমা, বন্ধ্যত্ব ও জটিল অস্ত্রোপচারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা জোন গড়ে তোলার মাধ্যমে বিদেশে মেডিকেল ট্যুরিজমের বিকল্প তৈরি করা হবে।


২১. দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সার্বজনীন জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্য জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স ও প্রি-হসপিটাল ইমার্জেন্সি সিস্টেম গঠন করা হবে, যেখানে ইমার্জেন্সি প্যারামেডিক রেসপন্স টিম সংযুক্ত থাকবে। সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট গড়ে তোলা হবে। প্রতি জেলা হাসপাতালে অন্তত একটি অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত আইসিইউ ও সিসিইউয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।


২২. প্রত্যেক নাগরিকের জন্য এনআইডিভিত্তিক ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড এবং কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে সব নাগরিককে ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


২৩. নারীর ক্ষমতায়ন বাড়াতে নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে নারী প্রতিনিধিদের সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে, যার সংখ্যা রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস করা হবে।


২৪. সব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বেতনে ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ও এক মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকারি কর্মক্ষেত্রে ঐচ্ছিক পিরিয়ড লিভ চালু করা হবে এবং ডে-কেয়ার সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হবে।


২৫. উপজেলা-ভিত্তিক বিকেন্দ্রীকৃত কাঠামোতে স্যানিটারি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় নারীবান্ধব স্বাস্থ্য সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সরকারি স্কুল ও কলেজে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়া হবে।


২৬. একটি 'ডায়াস্পোরা ডিজিটাল পোর্টাল' (ওয়ান-স্টপ সার্ভিস) গড়ে তোলা হবে, যেখানে পাসপোর্ট, এনআইডি, জন্মনিবন্ধন, কনস্যুলার সেবা, বিনিয়োগ ইত্যাদি সবকিছু অনলাইনে করা যাবে। বিমানবন্দর ও দূতাবাসে হয়রানি এবং দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর মনিটরিং চালু করা হবে।


২৭. প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণের বিপরীতে বিনিয়োগ ও পেনশন সুবিধা এবং বিমানে 'রেমিটমাইলস' নামে ট্রাভেল মাইলস দেওয়া হবে।


২৮. প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভোটাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।


২৯. ঢাকা ও চট্টগ্রামে একক কর্তৃপক্ষের আওতায় সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা করা হবে এবং মালবাহী ট্রেন বাড়িয়ে সড়কপথে ট্রাকের চাপ কমানো হবে।


৩০. দূষণকারী ইটভাটা বন্ধ, পরিচ্ছন্ন যানবাহন ও সবুজ প্রযুক্তি নিশ্চিত করা হবে। পাঁচ বছরে বিদ্যুতের অন্তত ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন ও সরকারি ক্রয়ে ৪০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকল চালু করা হবে।


৩১. দেশের সব শিল্পকারখানায় ইটিপি (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং এর ব্যয় কমাতে কর ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। শিল্পদূষণ, নদী-খাল দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।


৩২. এনআইডিভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরাসরি ক্যাশ ব্যাকের মাধ্যমে সার, বীজ ও যন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিক্রয় কেন্দ্র, মাল্টিপারপাস কোল্ড স্টোরেজ ও ওয়্যারহাউজ স্থাপন করে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয় নিশ্চিত করা হবে।


৩৩. দেশীয় বীজ গবেষণা, সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে। খাদ্য ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।


৩৪. ভারতের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনা, অসম চুক্তিসহ সব বিদ্যমান ইস্যুতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আদালতে যাওয়া হবে।


৩৫. দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মানবিক সমাধান ও আসিয়ানে যুক্ত হয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা হবে।


৩৬. সশস্ত্র বাহিনীর জন্য রেগুলার ফোর্সের দ্বিগুণ আকারের রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করা হবে। পাঁচ বছরে সেনাবাহিনীতে একটি ইউএভি ব্রিগেড গঠন ও মাঝারি পাল্লার অন্তত আটটি সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি অধিগ্রহণ করা হবে।




দুইদিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় তিনি নেপালে পৌঁছেছেন। এর আগে রোববার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।


তার ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে অবগত হওয়াই এ সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা শোনা, দুর্গত এলাকায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে।


সফরকালে মামুনুল হক স্থানীয় আলেম-উলামা, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।


দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তারা।


মামুনুল হকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা শায়খ সালেহ আহমাদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।


দুদিনের সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামুনুল হকের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩০ পিএম

সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট পার হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। 


আজ শনিবার (৫ আগস্ট) শাপলা চত্বরে ১১ দলের উদ্যোগে ছয় দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।


খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘খলিফা উমর (রা.) একবার খেলাফতকালে মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তাদের আচরণ কেমন হবে। তখন বশীর ইবনে সাদ (রা.) দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আপনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তীরকে যেভাবে সোজা করে ছেড়ে দেওয়া হয়, উম্মতে মুসলিমাহ সেভাবেই আপনাকে সোজা করে দেবে। তখন উমর (রা.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেছিলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, মুসলিম জাতির মধ্যে খলিফাকে সঠিক পথে রাখার মতো মানুষ দিয়ে ভরপুর করে রেখেছেন।’


মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করা হয়, ছয় মাস যেতে পারেনি, আমরা কেন কঠোরতা অবলম্বন করছি? আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘যে জাতি উমর (রা.) এর মতো মানুষকেও ভুল করলে ছাড় না দেওয়ার শপথ নেয়, সেই জাতির মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চান, শুরুতে হাতে ধরে, পায়ে ধরে বলবো। এরপরও যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হন, তাহলে ঘাড় ধরতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপবে না।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৪ এএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ‘লং মার্চ’ শুরু করেছে। শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সোয়া ৮টার পর বিশাল গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।


লং মার্চে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষপর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।


মতিঝিলের সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জোটের নেতারা।


জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।


এর আগে ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে লং মার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লং মার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।


এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে লংমার্চের ৬ দফা এক দফায় পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


নাহিদ ইসলাম বলেন, যতই বাধা আসুক না কেন, আমাদের এই লংমার্চ চট্টগ্রামেই পৌঁছাবে ইনশা আল্লাহ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকায় সবাই একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লংমার্চের যাত্রা শুরু করেছি, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য। আমাদের এই লংমার্চ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লংমার্চ। এই লংমার্চ যারা তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে লংমার্চ।


এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই লংমার্চ। ফলে আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লংমার্চ কোনো ১১ দলের লংমার্চ নয়, এই লংমার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লংমার্চ। আমরা লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো, যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে এই লংমার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে ১১ দলীয় জোট।


ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরুর আগে সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় উদ্বোধনী সমাবেশ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।


লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে।


শুক্রবার রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর র‌্যালিতে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক’- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই ধারণা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন, অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু হওয়া জন্মাষ্টমী উপলক্ষে র‌্যালিতে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।


সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে কেউই যেন নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন। সবাই নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, এই দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন।’


তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সব নাগরিক মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করবেন। কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব।’


বাংলাদেশের সংবিধানে সবার ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না, এ কথাও সংবিধানে বলা হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের কর্তাদের স্বাধীনতা ও উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’


‘আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।’


ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা সচরাচর “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি “সাম্প্রদায়িক” শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’


মন্ত্রী তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—“সবার আগে বাংলাদেশ”। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই সবার আগে বাংলাদেশি। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’


মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।


সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।


অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মিছিলটি পলাশী মোড় (ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন) থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ জন্য একক কর্মসূচির পাশাপাশি ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে থাকবে দলটি। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোবরে চার বিভাগ অভিমুখে লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবিগুলো তুলে ধরতে চায় তারা।


এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সংসদে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা, জোটগতভাবে রাজপথে থাকা এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো-এই তিন দিকে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়ে জনমত গঠন করাই এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য।


সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে। 


এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে।


এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তাঁরা। এর পরের কর্মসূচি পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। প্রয়োজন হলে মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।


১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে। তবে দলটির নেতারা স্বীকার করছেন, বড় পরিসরে এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা এনসিপির এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সে কারণে আপাতত ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে মিলেই রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।


একই সঙ্গে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন চলছে। সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করাও দলটির লক্ষ্য।


আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। 


দলটির নেতারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন এবং ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলেও দলের উপস্থিতি বাড়াতে চায় তারা।


বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস বা ১৮০ দিন পূর্ণ হয় গত ১৭ আগস্ট। এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এনসিপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সেখানে কথা বলেন দলের নেতারা। এসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে এনসিপি।


দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী দল সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় আন্দোলনের পরিবর্তে সংসদীয় আলোচনা ও সীমিত কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 


তবে সরকারের প্রথম ছয় মাস পার হওয়ার পর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও জনসম্পৃক্ত বিষয় নিয়ে সংসদ ও রাজপথে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।


জানতে চাইলে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি এই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চায়। সে জন্য সংসদে বক্তৃতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে এনসিপি।