গবেষণাগারে সাইদুল আলম চৌধুরী
ছেলেবেলা থেকেই ইলেকট্রনিকসের প্রতি টান। চট্টগ্রামের সেন্ট প্ল্যাসিডস উচ্চবিদ্যালয় কিংবা হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে যখন ছাত্র ছিলেন, তখন গণিত ও বিজ্ঞান একটু বাড়তি মনোযোগ দিয়ে পড়তেন সাইদুল আলম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে ভর্তির পর ঝোঁকটা আরও বাড়ে।
সেই সাইদুল আলমই চুয়েটের গণ্ডি পেরিয়ে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া, আর বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে গবেষণা করছেন।
এখন তাঁর কাজের বিষয় ‘স্মার্ট পাওয়ার বক্স’। এটি এমন এক বাক্স, যার মধ্যে মুঠোফোন, ইয়ারবাড, স্মার্ট ওয়াচসহ নানা ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেভাবেই রাখা হোক, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হয়ে যাবে। কোনো নির্দিষ্ট সকেট মেলানোর ‘টেনশন’ নেই, তার বয়ে নেওয়ার ঝামেলা নেই। বলা যায়, একধরনের ‘ওয়াই–ফাই চার্জিং’ পদ্ধতি।
বাক্সের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা রেজোন্যান্ট কয়েলগুলো ত্রিমাত্রিক জায়গায় অর্থাৎ বাক্সের ভেতরের পুরো জায়গায়ই সমানভাবে ম্যাগনেটিক ফিল্ড (চৌম্বক ক্ষেত্র) তৈরি করে, আর যন্ত্রগুলো তার প্রয়োজনমতো শক্তি টেনে নেয়। অতিরিক্ত তাপ বা ওভারলোড, সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এই বাক্সের ভেতরে।
দেশেই হয়তো চাকরি করতে পারতেন সাইদুল আলম। পারিবারিক নিরাপত্তাও ছিল। তবে মাথায় ঘুরত একটি প্রশ্ন, কেন যন্ত্রগুলো এমনভাবে কাজ করে? অন্যভাবে কি করা যায়? এই প্রশ্নই তাঁকে ঠেলে দেয় আন্তর্জাতিক গবেষণার মাঠে।
২০১৯ সালের শুরুর দিকের কথা। বহু ই–মেইল, কোটেশন, প্রত্যাখ্যান ও অপেক্ষার পর অবশেষে মেলে সুযোগ। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শীর্ষ গবেষণাগারে পিএইচডি করার অনুমতি পান। দেশ ছাড়ার মুহূর্তে মা–বাবা বলেছিলেন, ‘চেষ্টা করে যাস।’ নতুন ভাষা, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, সব মিলিয়ে শুরুটা কঠিনই ছিল। কিন্তু গবেষণাগারে পা রাখতেই সাইদুল বুঝতে পেরেছিলেন, এই সেই জায়গা, যেখানে তিনি পৌঁছাতে চেয়েছিলেন, যেখানে মিলতে পারে তাঁর মাথায় খেলে যাওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর।
কোরিয়ায় কাটানো চার বছর সাইদুলের জীবন বদলে দেয়। দেখতে পান, ‘ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্রান্সফার’ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খুব সহজ অথচ প্রযুক্তিগতভাবে জটিল একটি বিষয়। আর এই জায়গায়ই হয়ে ওঠে তাঁর গবেষণার বিষয়।
কীভাবে চার্জিং আরও সুবিধাজনক করা যায়? যন্ত্রটি নড়াচড়া করলেও কীভাবে ‘পাওয়ার লস’ কমানো যায়? কীভাবে চার্জারের রেজোন্যান্স নিজে থেকেই মিলে গিয়ে সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সাইদুল উদ্ভাবন করেন নতুন ধরনের রিসিভার আর্কিটেকচার ও স্বয়ংক্রিয় টিউনিং অ্যালগরিদম। তাঁর এই কাজ শুধু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিতই হয়নি, দুটি মার্কিন পেটেন্টের ভিত্তিও তৈরি করেছে। পিএইচডি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন ‘এক্সিলেন্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’। কোরিয়ায় বিদেশি গবেষকদের মধ্যে এই সম্মাননা বিরলই বলতে হয়।
এই অর্জনের সুবাদেই নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব অকল্যান্ডে জায়গা করে নেন সাইদুল। বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনোভেটিভ ওয়্যারলেস পাওয়ার রিসার্চ’ গ্রুপটি অনেক বছর ধরেই ‘কন্ট্যাক্টলেস চার্জিং’ নিয়ে কাজ করছে, বলা যায় সারা বিশ্বকেই পথ দেখাচ্ছে। সেখানে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দেন সাইদুল আলম। উদ্ভাবন করেন ‘স্মার্ট পাওয়ার বক্স’। তাঁর এ গবেষণায় অনুদান দিয়েছে ‘ওয়ারউইক অ্যান্ড জুডি স্মিথ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ডোমেন্ট ফান্ড’। সুপারভাইজার অধ্যাপক আইগু প্যাট্রিক হু’র সহযোগিতা ও গবেষণাগারের দলগত কাজই সাহস জুগিয়েছে, জানালেন তিনি।
সাইদুল বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল এমন কিছু উদ্ভাবন, প্রতিদিন যা ব্যবহার করবে মানুষ। যে প্রযুক্তি চোখে ধরা পড়বে না, কিন্তু সুবিধা এনে দেবে। গবেষণাগারে স্মার্ট পাওয়ার বক্সের প্রোটোটাইপ অর্থাৎ প্রাথমিক একটি মডেল আমরা বানিয়েছি। কার্যকারিতাও পরীক্ষা করেছি। ফলাফল আশানুরূপ। আমার স্বপ্ন, একদিন ঘরের আসবাবের মতো সাধারণ হয়ে যাবে এই স্মার্ট পাওয়ার বক্স।’
বিদেশে বসে কাজ করলেও সাইদুলের চিন্তায় বাংলাদেশ থাকে সব সময়। ভবিষ্যতে দেশে আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ডিভাইস, স্মার্ট হাসপাতাল ও স্মার্ট হোম নিয়ে কাজ করতে চান। সাশ্রয়ী প্রযুক্তি বানিয়ে দেশেই কিছু করার তাঁর প্রবল ইচ্ছা।
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে তারহীন প্রযুক্তি হবে ভবিষ্যতের এক নতুন অধ্যায়। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান সাইদুল আলম।
ফোন হাত দিয়ে ধরে না রেখে কল থেকে শুরু করে তারবিহীর হেডফোনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরামদায়ক করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তির জুড়ি মেলা ভার। তবে আধুনিক প্রযুক্তির এ সুবিধার যেমন কমতি নেই তেমনই এর কিছু নেতিবাচক দিক বা ঝুঁকিও রয়েছে।
বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তিগত ডেটা বা তথ্য মূল্যবান উপাদান হয়ে উঠেছে তখন সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অন্য কোনো ডিভাইসের সঙ্গে পেয়ারিং বা যুক্ত হওয়ার আগে ব্লুটুথের ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে এর মানে এই নয় যে, হ্যাকাররা ফাঁকফোকর গলে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে না।
ফিটবিট ও এ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী অন্যান্য হার্ডওয়্যারে এক বিশেষ ব্লুটুথ ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ওপেন-সোর্স অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এসব ত্রুটির মাধ্যমে ক্ষতিকর চক্র ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডিকোড করা যায়, যা বড় বিপদের কেবল ছোট একটি ইঙ্গিত।
এ ছাড়া, ‘ইনসিনুয়াটর’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ‘আইরোহা’ভিত্তিক হার্ডওয়্যারে এমন এক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে, যা ব্লুটুথ রেঞ্জের মধ্যে থাকা সাইবার আক্রমণকারীদের গোপনে আলাপ আড়ি পেতে শোনা ও ফোন নম্বর, কনট্যাক্ট ও কল হিস্ট্রির মতো ব্যক্তিগত ডেটা চুরির সুযোগ পায়।
ব্লুটুথ নিরাপত্তার কিছু সেরা উপায়
কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে পারেন। যার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে ব্যবহার শেষে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা। এর ফলে ব্যবহারকারীর ডিভাইস হ্যাকারদের নজরদারিতে থাকার সময়সীমা কমে যায় ও ‘ব্লুব্যাগিং’ বা ‘ব্লুস্নারফিং’-এর মতো কাছাকাছি সংযোগের সুযোগ নিয়ে ডিভাইস হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
পাশাপাশি, ব্লুটুথ মোড ‘ডিসকভারিবল’ বা সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে ‘হিডেন’ বা লুকানো মোডে সেট করে রাখা উচিত, যা অপরিচিত বিভিন্ন ডিভাইসকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
যারা রেন্টাল কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়িতে ফোন কানেক্ট করেন বা বর্তমান গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের অবশ্যই গাড়ি হস্তান্তরের আগে ফোন আনপেয়ার করা ও গাড়ি থেকে সব ব্যক্তিগত ডেটা মুছে ফেলার কাজটি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া, ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো’র মতো ভেহিকুলার সিস্টেমে ব্লুটুথ ব্যবহারের জন্য ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই উভয় সংযোগেরই প্রয়োজন, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির জন্ম দিয়েছে।
এ তারবিহীন সুবিধা এড়িয়ে চলা এর একটি সমাধান হতে পারে ও ফোনের অ্যান্ড্রয়েড অটো সেটিংস থেকে ‘স্টার্ট অ্যান্ড্রয়েড অটো অটোমেটিক্যালি’ অপশনটি ‘নেভার’ করে দিয়ে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ঠেকানো সম্ভব।
আইফোন ব্যবহারকারীদেরও ফোনের ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারের দিকে বিশেষ নজর রাখা উচিত। ফিচারটি ফোনের মাইক্রোফোন থেকে এয়ারপডস, হিয়ারিং এইড বা সমর্থিত হেডফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সাহায্য করে।
এ সেটিংটি ব্লুটুথ ব্যবহার করে ফলে তা ব্লুব্যাগিং আক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ফিচারটি বন্ধ রাখতে ফোনের ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’ সেটিংসে গিয়ে ‘লাইভ লিসেন’ অপশনটি অফ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্লুটুথ প্রযুক্তির নতুন ত্রুটি ও সুরক্ষার উপায়
দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতাও সামনে আসছে। ব্লুটুথ নির্ভর বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে নিয়মিত নিরাপত্তা রিপোর্টগুলোর ওপর নজর রাখা জরুরি।
কারণ, বিভিন্ন নির্দিষ্ট ডিভাইসে আলাদা ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। ওয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, বেলজিয়ামের ‘কেইউ লিউভেন ইউনভার্সিটি’র গবেষকরা ১৭টি ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ অডিও ডিভাইসে বড় ধরনের ত্রুটির সন্ধান পেয়েছিলেন।
গবেষকদের ভাষ্য, হ্যাকাররা কেবল ডিভাইসের মডেল নম্বর জানা মাত্রই ব্যবহারকারীর লাইভ লোকেশন ডেটা ট্র্যাক করতে ও তাদের গোপন আলাপে আড়ি পেতে শুনতে পেরেছিল।
এ ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা ‘হইস্পারপেয়ারডটইইউ’ টুলটি প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ডিভাইসটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা যাচাই করে নিতে পারেন।
ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষায় ও ব্লুটুথ হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু মৌলিক সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লুটুথ বন্ধ রাখা।
এ ছাড়া, ‘ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট’ বা এফসিসি’র প্রস্তাবিত বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চললে ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটার সুরক্ষা বহুলাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে টেক প্রাইভেসি নিয়ে সচেতনতা ও এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পরিষেবার পরিধি যেভাবে দ্রুত বাড়ছে তাতে এসব সাধারণ পদক্ষেপ অনুসরণ করা মানসিক শান্তি ও উন্নত সুরক্ষার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন জটিলতা বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে অনেক প্রতিষ্ঠানও নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এসব প্রতারণা রোধে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ফেসবুক।
সম্প্রতি এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করার জন্য বিনা মূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তবে এই ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই সেলফি ভিডিও যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এ ব্যাপারে টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, ফেসবুকের এই ভেরিফায়েড বেজ দেখাবে যে- ফেসবুক প্রোফাইলের ব্যবহারকারী প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষ কিনা। কিন্তু মেটার সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস এই মেটা ভেরিফায়েডের থেকে ভিন্ন। এটি চালু করা হচ্ছে শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য।
ফ্রিতে ফেসবুক আইডি ভেরিফায়েড করার নিয়ম:
মেটার এই নতুন ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে নিজের সেলফি ভিডিও ধারণ করতে হবে। ভিডিওটি ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট মালিকের ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হবে।
কারা পাবেন এই ভেরিফায়েড ব্যাজ:
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব হলো―ব্যবহারকারীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের রেকর্ড বা ইতিহাস থাকা যাবে না। এসব প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন- প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিংয়ে।
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এআইয়ের মাধ্যমে এখন সহজেই ভুয়া ছবি-ভিডিও, ভুয়া পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ফলে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তবে ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু হলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, তিনি যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ওই ব্যক্তি বাস্তবে মানুষ কি না।
তবে মেটা এটি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না। পরিষেবাটি কেবল ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণস্বরূপ। এ জন্য অনলাইনে কোনো ধরনের লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এছাড়াও মেটা জানিয়েছে, ধাপে ধাপে চালু করা হবে এই ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজ। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে চালুর পর ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও চালু করা হবে পরিষেবাটি। তবে প্রথমে কোন দেশে চালু হবে, সেটি এখনো জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
জীবনের নানা ব্যস্ততা ও ঝক্কি-ঝামেলায় মনোযোগ ধরে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। নিজের জীবনেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার এ প্রবণতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ সমস্যার সমাধানে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে স্টার্টআপ কোম্পানি ‘অ্যাটলাস’। আশপাশের বিভ্রান্তি ঠেলে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা যাদের জন্য কঠিন তাদের স্বস্তি দিতে বাজারে আসছে নতুন পরিধানযোগ্য যন্ত্র।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, কানের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকা ‘অ্যাটলাস ১.০’ নামের সেন্সরটি মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও শারীরিক সংকেত বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে কোন মুহূর্তে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ঠিক কতটা নিবদ্ধ ছিল।
সেন্সরটি কানের পেছনে আঠালো প্যাডের সাহায্যে ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে, যা একাধারে ব্যবহারকারীর মস্তিষ্কের তরঙ্গ, ত্বকের ইলেকট্রোডার্মাল ক্রিয়া, শারীরিক নড়াচড়া ও গলার স্বরের ধরন বা ভয়েস সিগনেচার রেকর্ড করে।
পরে নিজস্ব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে এসব ডেটা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ হয় ঠিক ওই মুহূর্তে মানুষের মনোযোগ ও মস্তিষ্কের কার্যসক্ষমতা কোন দিকে নিবদ্ধ ছিল।
সহজভাবে বললে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থেকেও আপনার মন অন্য কোনো উদ্বেগে ডুব দিয়েছিল কি না সেটি ধরে ফেলবে এই নতুন প্রযুক্তি।
আপাতত কেবল আইওএস ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য এ অ্যাপটি খুললেই জানা যাবে আপনি কতটা মনোযোগী, মানসিক চাপে কেমন পারফর্ম করছেন বা মানসিক চাপ থেকে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছেন।
এরপর দিনের কোন সময়ে কী করছিলেন তা অ্যাপে নথিভুক্ত করে নিজেই বুঝতে পারবেন কোনটি ভালো ছিল আর কোনটি নয়।
এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের সেরাটা বের করে আনে তা শনাক্ত করা, যাতে ভবিষ্যতে সেসব অভিজ্ঞতা সামলানো আরও সহজ হয়।
ভয়েস সিগনেচার ধারণ করায় যারা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের জন্য আশার কথা হচ্ছে ‘অ্যাটলাস ১.০’ ব্যবহারকারীর কোনো কথা বা আলাপ রেকর্ড করে না। এর বদলে কোনো মুহূর্তে ব্যবহারকারী কেমন মানসিক অবস্থায় আছেন তা বুঝতে কথা বলার সক্রিয়তা ও ধরন বিশ্লেষণ করে যন্ত্রটি।
একেবারে শুরুর দিকে থাকায় ‘অ্যাটলাস ১.০’ কারো জীবনের লক্ষ্য বুঝতে ঠিক কতটা কার্যকর হবে তা জানার উপায় নেই। তবে, যারা দৈনন্দিন জীবনে সামান্যতম উন্নতিতেও নজর দেন সেই গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটির অগ্রিম বুকিং নেওয়া শুরু করেছে কোম্পানিটি।
ডিভাইসটি কিনতে খরচ পড়বে ৫০০ ডলার। সেন্সর ও আঠালো প্যাড নিয়মিত সচল রাখতে প্রতি মাসে গুনতে হবে আরও ৩০ ডলারের সাবস্ক্রিপশন ফি।
প্রতীকী ছবি
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন চার্জে বসিয়ে রেখে সকালে চার্জার খোলা অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু ফোন ১০০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সেটি কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের সংযোগে থাকে, তাহলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে উত্তরটি কিছুটা ভিন্ন।
বর্তমান স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে এর চার্জিং সিস্টেম প্রয়োজন অনুযায়ী কারেন্ট সরবরাহ কমিয়ে দেয় বা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরেও ব্যাটারিতে একইভাবে লাগাতার বিদ্যুৎ ঢুকতে থাকে না। তাই রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন ‘ওভারচার্জ’ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়।
১০০ শতাংশ চার্জে দীর্ঘক্ষণ থাকা কি ভালো?
ওভারচার্জ না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারিতে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে ধীরে ধীরে রাসায়নিক অবক্ষয়ের হার বাড়তে পারে। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতায় পড়ে।
ফলে কয়েক মাস বা বছর ব্যবহারের পর দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা তাৎক্ষণিক ‘ওভারচার্জ’ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য কিছুটা দ্রুত কমে যাওয়া।
চার্জ দেওয়ার সময় গরম হচ্ছে কি না, নজর রাখুন
ব্যাটারির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ করা উচিত নয়। এসব জায়গায় ফোনের চারপাশে বাতাস চলাচল কম থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না। তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে শক্ত, সমতল এবং খোলা জায়গায় রাখাই নিরাপদ অভ্যাস।
ফোনের ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচার কাজে লাগান
ব্যাটারির আয়ু ধরে রাখতে এখন অনেক স্মার্টফোনেই বিশেষ চার্জিং ফিচার দেওয়া হয়। ফোনভেদে এর নাম হতে পারে অপটিমাইজড চার্জিং, অ্যাডাপটিভ চার্জিং অথবা ব্যাটারি প্রোটেকশন।
এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ফোনকে ১০০ শতাংশে আটকে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পুরো চার্জ করে। ফলে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে।
তাহলে রাতে চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে?
আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় রাতভর চার্জে লাগিয়ে রাখলে ফোন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমনটা সাধারণত নয়। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়ানো এবং ফোনে থাকা অপটিমাইজড চার্জিং বা ব্যাটারি প্রোটেকশনের মতো ফিচার চালু রাখা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, চার্জ দেওয়ার সময় ফোন যেন অতিরিক্ত গরম না হয় এবং সেটি যেন বালিশ বা কম্বলের নিচে চাপা না থাকে। এতে নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন ভালো রাখার সুযোগ বাড়ে।
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে নতুন বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল
অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারকারীর অনলাইন গোপনীয়তা ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল। এর মধ্যে রয়েছে এনক্রিপ্টেড ক্লায়েন্ট হ্যালো (ইসিএইচ), স্থানীয় নেটওয়ার্ক সুরক্ষা, সার্টিফিকেট ট্রান্সপারেন্সি ও মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে ডিফল্টভাবে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার সুবিধা। গত বৃহস্পতিবার এসব সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে গুগল।
নতুন সুবিধাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এনক্রিপ্টেড ক্লায়েন্ট হ্যালো বা ইসিএইচ। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগের গোপনীয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, সেই তথ্য নেটওয়ার্ক পর্যায় থেকে আড়াল করতে ইসিএইচ কাজ করবে। ফলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা নেটওয়ার্কে নজরদারি করা কেউ সহজে জানতে পারবেন না, ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করছেন।
গুগলের ব্রাম বনে ও শুয়াইবো হুয়াং বলেন, ইসিএইচ ব্যক্তিগত ডিএনএসের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহারকারী কোন ডোমেইনে যাচ্ছেন, সেই তথ্যও গোপন রাখবে। এর ফলে ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ বা একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন হবে। ওয়েবসাইটের নাম সংযোগের শুরুতেই এনক্রিপ্ট করা থাকায় ইসিএইচ সমর্থনকারী ওয়েবসাইট ও অ্যাপের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সেবাদাতা বা অন্য কোনো নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক সহজে ব্যবহারকারীর গন্তব্য শনাক্ত করতে পারবেন না।
গুগলের জিগস বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসিএইচ একটি গোপন এনক্রিপশন কি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম আড়াল করে। এই তথ্য শুধু সংশ্লিষ্ট গন্তব্যের ওয়েবসাইটই উন্মুক্ত করতে পারে। তবে এখনো সব ওয়েবসাইটের সার্ভারে ইসিএইচ সমর্থন চালু হয়নি।
ইসিএইচ সমর্থন করে না, এমন ওয়েবসাইটের কারণে যাতে ব্যবহারকারীর সংযোগ আলাদাভাবে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ ইসিএইচ গ্রিজের সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু থাকবে। এই সুবিধা ইসিএইচ সমর্থন না করা ওয়েবসাইটেও এলোমেলো ও ভুয়া ইসিএইচ তথ্য পাঠাবে। ফলে নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করে কোন সংযোগ ইসিএইচ সুরক্ষা ব্যবহার করছে আর কোনটি করছে না, তা আলাদা করা কঠিন হবে। ইসিএইচ প্রযুক্তি একেবারে নতুন নয়। গুগল ক্রোমের ১১৭ সংস্করণ ও মজিলা ফায়ারফক্সের ১১৮ সংস্করণে এরই মধ্যে এই সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ ইসিএইচের সুরক্ষা শুধু নির্দিষ্ট ব্রাউজারে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো অপারেটিং সিস্টেমে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নির্মাতারাও ইসিএইচের সুবিধা কাজে লাগাতে পারবেন। গুগলের ওপেন সোর্স এইচটিটিপি ও এইচটিটিপি/২ ক্লায়েন্ট ওকেএইচটিটিপির মূল লাইব্রেরিতে ইসিএইচ সমর্থন যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতারা তাদের তৈরি অ্যাপের নেটওয়ার্ক সংযোগেও এই নিরাপত্তার সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ লোকাল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো অ্যাপ লোকাল নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইস খুঁজতে বা সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে চাইলে এখন ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে। ফলে একই ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে থাকা স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে অ্যাপের অননুমোদিত সংযোগের ঝুঁকি কমবে।
এ ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এ সার্টিফিকেট ট্রান্সপারেন্সি বা সিটি সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু থাকবে। এই ব্যবস্থায় ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা সনদ প্রকাশ্য নিবন্ধনে নথিভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যায়। এর ফলে ভুয়া বা অননুমোদিত নিরাপত্তা সনদ ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগে আড়ি পাতার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হবে।
মোবাইল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা বাড়াতেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল অপারেটররা চাইলে গ্রাহকদের জন্য ডিফল্টভাবে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে পারবে। এতে আধুনিক নেটওয়ার্ক থেকে পুরোনো ২জি নেটওয়ার্কে জোর করে সংযোগ নামিয়ে আনার মাধ্যমে চালানো ‘ডাউনগ্রেড’ হামলার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি ভুয়া মোবাইল টাওয়ার বা ‘এসএমএস ব্লাস্টার’ ব্যবহার করে কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে ক্ষতিকর খুদে বার্তা পাঠানো কিংবা তথ্য সংগ্রহের সুযোগও কমবে। ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সুবিধা অ্যান্ড্রয়েডে আগেও ছিল। অ্যান্ড্রয়েড ১২ থেকেই ব্যবহারকারীরা চাইলে ফোনের হার্ডওয়্যার পর্যায়ে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ১৪–এ এই ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকা ডিভাইসে ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রশাসকদের।
তবে অ্যান্ড্রয়েড ১৭–এর নতুন ব্যবস্থাটি আরও স্বয়ংক্রিয়। যেসব মোবাইল অপারেটর এই সুবিধা চালু করবে, তাদের গ্রাহকদের ডিভাইসে ২জি নেটওয়ার্ক ডিফল্টভাবে বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যবহারকারীকে নিজে থেকে কোনো সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে না। গুগলের মতে, এই ব্যবস্থা পুরোনো ২জি নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি এসএমএস ব্লাস্টারের মতো হামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
সূত্র: দ্য হ্যাকারনিউজ
প্রতীকী ছবি
দোকানে পেমেন্ট, রেস্তোরাঁর মেনু দেখা, ওয়েবসাইট খোলা কিংবা কোনো পণ্যের বিস্তারিত তথ্য জানা প্রতিদিনের নানা কাজে কিউআর কোড এখন আমাদের সঙ্গী। ফোনের ক্যামেরা দিয়ে কয়েক মুহূর্ত স্ক্যান করলেই প্রয়োজনীয় তথ্য সামনে চলে আসে। দেখতে অবশ্য মনে হয়, ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরের সমষ্টি। কিন্তু এই সামান্য জায়গার মধ্যেই কীভাবে এত তথ্য রাখা সম্ভব? এর পেছনে রয়েছে বেশ চমকপ্রদ একটি ডিজিটাল প্রযুক্তি।
কিউআর কোড কী?
কিউআর কোডের পূর্ণরূপ কুইক রেসপন্স কোড। এটি মূলত দ্বিমাত্রিক বা ২ডি বারকোডের একটি ধরন। প্রচলিত বারকোডে যেখানে মূলত একদিকে তথ্য সাজানো হয়, কিউআর কোডে তথ্য দুই দিকেই আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এই কারণেই একই জায়গার মধ্যে সাধারণ বারকোডের তুলনায় অনেক বেশি ডেটা রাখা সম্ভব হয়। কিউআর কোডের কালো ও সাদা ছোট ছোট ঘরগুলোকে বলা হয় মডিউল। এই মডিউলগুলোর নির্দিষ্ট বিন্যাসের মধ্যেই ডিজিটাল তথ্য প্রকাশ পায়।
কোডের প্রতিটি অংশের রয়েছে আলাদা কাজ
কিউআর কোডের পুরো নকশাটি এলোমেলো নয়। এর বিভিন্ন অংশ স্ক্যান করার সময় আলাদা আলাদা ভূমিকা পালন করে।কোডের তিনটি কোণে থাকা বড় বর্গাকার চিহ্নগুলোকে বলা হয় পজিশন মার্কার। স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা স্ক্যানার এই চিহ্নগুলোর সাহায্যে কিউআর কোডের অবস্থান ও দিক শনাক্ত করতে পারে। ফলে কোডটি উল্টো, বাঁকা কিংবা কিছুটা কাত হয়ে থাকলেও সেটিকে সঠিকভাবে পড়া সম্ভব হয়।
এছাড়া রয়েছে টাইমিং প্যাটার্ন, যা কিউআর কোডের ছোট মডিউলগুলোর অবস্থান এবং তাদের মধ্যকার বিন্যাস বুঝতে স্ক্যানারকে সহায়তা করে। আর যে অংশটিতে মূল তথ্য সংরক্ষিত থাকে সেটি হলো ডাটা এরিয়া। কোনো ওয়েবসাইটের লিংক, লেখা, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডাটা এখানে রাখা যেতে পারে।
কালো-সাদা ঘরে কীভাবে তথ্য ঢোকে?
এখানেই রয়েছে কিউআর কোডের আসল প্রযুক্তি। কোনো লেখা বা লিংককে সরাসরি ছোট ছোট কালো-সাদা ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয় না। প্রথমে সেই তথ্যকে নির্দিষ্ট ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করা হয়। কম্পিউটার ডাটাকে মূলত বাইনারি পদ্ধতিতে অর্থাৎ ০ এবং ১ হিসেবে প্রক্রিয়া করে। কিউআর কোড তৈরির সময় এই ডেটাকে নির্দিষ্ট নিয়মে সাজিয়ে কালো ও সাদা মডিউলের প্যাটার্নে রূপ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, চোখে যে অসংখ্য ছোট বক্স দেখা যায়, সেগুলো আসলে ডিজিটাল তথ্যের একটি বিশেষ সাংকেতিক বিন্যাস।
ফোন কীভাবে কিউআর কোড পড়ে?
স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় ক্যামেরা প্রথমে পুরো কোডটির ছবি নেয়। এরপর সফটওয়্যার কোডের বিভিন্ন চিহ্ন শনাক্ত করে তার অবস্থান, দিক এবং মডিউলের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে। এরপর কালো-সাদা প্যাটার্ন থেকে বাইনারি ডেটা উদ্ধার করা হয়। সেই ডেটাকে আবার ব্যবহারযোগ্য তথ্যে রূপান্তর করে ফোনের স্ক্রিনে দেখানো হয়। তাই একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে ওয়েবসাইট খুলে গেলে আসলে কয়েকটি ধাপে কাজটি সম্পন্ন হয় ক্যামেরায় কোড ধরা, প্যাটার্ন শনাক্ত করা, ডেটা ডিকোড করা এবং শেষ পর্যন্ত সেই তথ্য ব্যবহারকারীর সামনে তুলে ধরা।
কোডের কিছু অংশ নষ্ট হলেও কেন কাজ করে?
কিউআর কোডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ইরোর কারেকশন। এর ফলে কোডের একটি অংশ দাগ পড়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেটি স্ক্যান করা সম্ভব হয়। কিউআর কোড তৈরির সময় মূল ডাটার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত তথ্যও রাখা হয়। স্ক্যান করার সময় কোডের কোনো অংশ থেকে তথ্য পাওয়া না গেলে এই অতিরিক্ত ডাটার সাহায্যে হারানো অংশ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা যায়। তবে কতটা ক্ষতি হলেও কিউআর কোড কাজ করবে, তা নির্ভর করে ব্যবহৃত ইরোর কারেকশনের মাত্রার ওপর।
কতটা তথ্য রাখা যায়?
কিউআর কোডের ধারণক্ষমতা নির্দিষ্ট একটি সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। কোডের আকার, ডাটার ধরন এবং ব্যবহৃত সেটিংসের ওপর এর ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। সর্বোচ্চ আকারের কিউআর কোডে প্রায় ৭ হাজার সংখ্যাসূচক অক্ষর রাখা সম্ভব। আর অক্ষর, সংখ্যা ও বিভিন্ন চিহ্নের সমন্বয়ে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি ক্যারেক্টার সংরক্ষণ করা যায়। তবে ডাটার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউআর কোডের আকারও বড় এবং প্যাটার্ন আরও ঘন হয়ে যায়।
কোথায় কোথায় ব্যবহার হয়?
বর্তমানে কিউআর কোডের ব্যবহার শুধু ওয়েবসাইটের লিংকে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দোকান বা রেস্তোরাঁয় পেমেন্টের পাশাপাশি খাবারের মেনু দেখতেও কিউআর কোড দেখা যায়।
এ ছাড়া পণ্যের প্যাকেট, বিজনেস কার্ড, পোস্টার, ব্রোশিওর, ইভেন্টের টিকিট এবং বিভিন্ন প্রচারমূলক উপকরণেও এটি ব্যবহার করা হয়। কোনো ভিডিও, ওয়েবপেজ বা অনলাইন পরিষেবায় দ্রুত পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও কিউআর কোড বেশ কার্যকর।
এমনকি ওয়াই-ফাইয়ের নাম ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করার ক্ষেত্রেও কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ছোট্ট কালো-সাদা নকশা দেখতে সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে তথ্যকে সংকেত আকারে সাজানো এবং মুহূর্তে তা পড়ে ফেলার বেশ উন্নত প্রযুক্তি।