রুমিন ফারহানা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ এএম

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় গা ভাসিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সোমবার (২৯ জুন) রাতে ব্রাজিল দলকে শুভকামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তিনি। মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচকে সামনে রেখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, "All the Best Team Brazil"। তবে শুভকামনার সেই পোস্টের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পোস্টে ব্যবহৃত একটি ছবি নিয়ে।


ছবিতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানার সঙ্গে ব্রাজিলের জার্সি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল। ছবি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।


নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ছবিটি কবে তোলা হয়েছে এবং কীভাবে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের দুই সংসদ সদস্য একসঙ্গে ব্রাজিলের জার্সি হাতে ছবি তুললেন। আবার অনেকে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে মন্তব্য করছেন।


এদিকে এস এম ফয়সলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এ ধরনের কোনো ছবি তোলার বিষয়ে অবগত নন। ফলে ছবিটির সত্যতা নিয়ে আরও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি- এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা আনুষ্ঠানিক যাচাই সামনে আসেনি। একইভাবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।


একটি সাধারণ বিশ্বকাপ শুভেচ্ছা পোস্ট শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছবিটি বাস্তব নাকি প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই।












































































































































































































































সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ এএম

বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। 


পোস্টে জাইমা লিখেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সঙ্গীত এবং শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা এবং কোডিং পর্যন্ত নানা বিষয়ে তাদের অসাধারণ অর্জন রয়েছে। তাদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার জন্য তারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।


বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে বলেন,  কিন্তু তাদের অনেকের অল্প বয়সেই বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কারো ওপর পরিবারের দায়িত্ব। ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হয়। আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় না।


জাইমা লিখেন, কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা নিজের সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব পালন সহজ নয়।


তাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর আমি আমাদের রোল মডেলদের কথা ভাবছিলাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা লিখেন, আমাদের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে? কারা তাদের দেখায় যে জীবনে কত কিছু অর্জন করা সম্ভব? পথ কঠিন হয়ে গেলে কারা তাদের সাহস দেয়?


পোস্টে রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি হতে পারেন এমন একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না। এমন একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনা দেখেন। এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান। কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, "আমিও এটা করতে পারব।"


তিনি বলেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আমাদের তরুণদের সব সময় বাংলাদেশের বাইরেই তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি এমন অনেক অনুপ্রেরণীয় মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তারা এমন মানুষ, যাদের গল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুজে পেতে পারে। আমি আশা করি, সামনে এমন আরও অনেক মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে।


সবশেষে জাইমা লিখেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়তই আমাদের চারপাশে দেখতে পাই। আসল প্রশ্ন হলো যে, যখন তাদের আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি কি?


তবে শুধু অনুপ্রেরণা দেওয়াই যথেষ্ট নয় জানিয়ে জাইমা বলেন, আমাদের এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশ করতে পারবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা কোনো নতুন দক্ষতা শেখার জন্য একজন শিক্ষার্থীর যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভর করতে না হয়। পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে আমাদের মধ্যে থেকে আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।


আমরা অনেকেই হয়তো বুঝতে পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহও তার মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে। সামান্য একটু সহানুভূতি বা বিশ্বাসও একটি তরুণ জীবনকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কথিত এক বক্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’।


এখন পর্যন্ত এটি একটি ফেইসবুক পেইজ। আনুষ্ঠানিক কোনো সাংগঠনিক আকার এই ‘পার্টি’ পায়নি। তবে অনেকেই এ পেইজের সঙ্গে ভারতের শাসকদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিল দেখছেন। টানা ভারি বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজ থেকে দিনভর সেই আন্দোলনের ‘আপডেট’ দেওয়া হয়েছে এবং ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।


সোমবার মধ্যরাতে ব্যাক্তিগত ব্লগের ক্যাটাগরিতে খোলা এই পেইজে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ফলোয়ার ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ শ ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়।


দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্লোগানেও ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি ঘুরে ফিরে এসেছে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’–শিক্ষার্থীদের মুখের এমন স্লোগান শোনা গেছে উত্তরা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পর্যন্ত।


কোত্থেকে এল এই স্লোগান? ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামটিইবা কোথা থেকে এল?


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও টেপ ছড়িয়েছে, যেখানে একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে পুরুষটি কথা বলে যাচ্ছিলেন এবং নারীটি তাকে বার বার ‘স্যার’ ‘স্যার’ বলছিলেন।


এক পর্যায়ে পুরুষকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।”


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।


তবে সারা দিনের পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট, শিক্ষামন্ত্রীর ওই কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেইজটির জন্ম। পেইজের বায়োতে লেখা হয়েছে, “আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।”


এর আগে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের 'তেলাপোকা' ও 'পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করার পর এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ সূচনা হয়।


ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নামকে ট্রল করে গড়ে ওঠা ওই প্ল্যাটফরম কয়েকদিনের মধ্যে লাখো অনুসারী জুটিয়ে নেয়।


বাংলাদেশে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র পেছনে কারা আছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও ফলোয়ারের তালিকায় এনসিপির কয়েকটি আঞ্চলিক শাখা এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির ভেরিফায়েড পেইজের নাম দেখা গেছে।


পেইজের একটি পোস্টে শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, “জনাব মিলন সাহেব, এই ‘ফার্মের মুরগীরা’ রাস্তায় না নামলে আপনার মতো ওয়াটারমিলনের আজ মন্ত্রী হওয়া হতো না। আপনি আপনার ওই চেয়ারের সম্মানটুকু ধরে রাখতে টোটালি ব্যর্থ। তাই হাঙ্কিপাঙ্কি বাদ দিয়ে সসম্মানে গদি থেকে নেমে যান।”


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও শিক্ষামন্ত্রী মিলনের পদত্যাগ দাবি করছেন।


সায়েন্সল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রে যেতে পারেনি। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”


বিএএফ শাহীন কলেজের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে। উনি অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা বন্ধ। উনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।


“পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে যখন গতকাল সমালোচনা চলছে, তখন একটা ভিডিওতে দেখলাম উনি টেলিফোনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগি বলে সম্বোধন করছেন। উনি কেন আমাদের ফার্মের মুরগি বলবেন? উনার এ বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি:সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে দেশের সাত জেলায় বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। পানিবন্দি রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবারের সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বন্যায় গৃহহারা পরিবারকে পাকা ঘর দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।


রোববার (১২ জুলাই) দেশের জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ ঘোষণা করা হয়।


ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, এবারের বন্যায় গৃহহারা ৩০০ পরিবারকে দুই কক্ষের ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর দেবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।


এদিকে, এখন পর্যন্ত বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়।


রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।


মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।


এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। পানিবন্দি রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ পরিবারের সদস্য। দুর্গত মানুষের জন্য খোলা হয়েছে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।


জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে মারা গেছেন ২৮ জন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।


চট্টগ্রামে মারা গেছেন ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন।


সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চট্টগ্রামে। জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ পরিবার। কক্সবাজারেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া যায়।


মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার, চাল, নগদ অর্থসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন‍্য।’


এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর ১টার দিকে তিনি সিলেটের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করে বিমানবন্দরের দিকে রওনা দেন। পরে দুপুর ২টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, সোমবার (২২জুন) বিকেল ৫টার দিকে তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব ছাড়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিদায়ী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।


জানা গেছে, নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) সরকার মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে। আজই তার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬, সময় : ৮:২২ এএম
  • আপডেট : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬, সময় : ৮:২২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : বুধবার ০৩ জুন, ২০২৬, সময় : ৮:২২ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিনের ব্যবধানে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এক তরুণী। হিজাব পরে মঞ্চে ড্রামস বাজানোর দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই তাকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।


কেউ প্রশংসা করেছেন তার দক্ষতার, কেউ আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তার উপস্থিতি ও পারফরম্যান্স দেখে। ভাইরাল হওয়া সেই তরুণীর নাম নাজিয়া সামান্থা।


সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজিয়া জানান, সংগীতের সঙ্গে তার সম্পর্ক আজকের নয়। ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে গিটার, ভায়োলিন ও ড্রামস শেখা শুরু হয় তার। পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতাতেই ধীরে ধীরে সংগীতচর্চার জগতে প্রবেশ করেন তিনি।


নাজিয়া বলেন, ড্রামস তার কাছে শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং এটি তার দীর্ঘদিনের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। হিজাব পরার সিদ্ধান্ত যেমন তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ, তেমনি ড্রামস বাজানোও তার ব্যক্তিগত পছন্দ ও শখের বিষয়।


এই যাত্রায় পরিবারের অবদানও স্মরণ করেছেন তিনি। নাজিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকে বাবা-মা সবসময় তার পাশে থেকেছেন। বিশেষ করে বাবার উৎসাহ ও প্রশিক্ষণই তাকে সংগীতের জগতে নিয়ে এসেছে।


তিনি বলেন, ‘মিউজিক লাইনে আসা আমার বাবার মাধ্যমে। ছোট থেকে বাবা আমাকে গিটার, ভায়োলিন, ড্রামস সবকিছুই শিখিয়েছে। ওভাবেই মিউজিকের সঙ্গে আমার ইনভলভ হওয়া।’


তবে হজ পালনের পর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে জানিয়ে নাজিয়া বলেন, ‘লাস্ট ইয়ার, ২০২৫ সালে আমি হজ করি। হজের আগপর্যন্ত আমি ড্যান্সও করতাম, রিং ড্যান্স করতাম। হজের পরে আমি সবকিছুই ছেড়ে দিই। কিন্তু ড্রামসের প্রতি আমার আলাদা একটা টান আছে।’


ভাইরাল হওয়ার গল্পটিও ছিল বেশ আকস্মিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের একটা ব্যান্ড আছে, নবজাত। ওদের সঙ্গেই আমি টুকটাক বাজাই। ওদের একটি প্রোগ্রামে আমি র‌্যান্ডমলি ড্রাম বাজাই। বাজানোর পর হঠাৎ করে দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’


নাজিয়া বলেন, ‘আমরা ক্লাসে ছিলাম। আমার এক বন্ধুকে ওর ব্যান্ড মেম্বার জাওয়াদ কল করে বলে, একটা শো আছে, তুমি আসো। পরে আমরা সবাই যাই। সেখানে একজন টিচার আমাকে চিনতে পারেন। উনি বলেন, ‘তুমি তো পারো, তুমি একটু বাজাও তো।’ ওইভাবেই আমি স্টেজে উঠি। জাস্ট জ্যামিং করতেছিলাম। জ্যামিং করতে করতে ওরা গান ধরে ফেলে। নরমালি ওভাবে আমি বাজিয়ে দিই। তারপর হঠাৎ দেখি এটা খুব ভাইরাল হয়ে যায়।’


সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভাইরাল হওয়ার পর প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে নাজিয়াকে। বিশেষ করে হিজাব পরে ড্রামস বাজানো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। তবে এসব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।


নাজিয়ার মতে, মানুষের মন্তব্য সবসময়ই থাকবে। কিন্তু নিজের বিশ্বাস ও পছন্দের জায়গা থেকে তিনি যা করছেন, তা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। যারা ইতিবাচকভাবে তাকে সমর্থন করছেন, তাদের ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

নেট দুনিয়ায় ভাইরাল ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৮:৫৪ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটি সংলাপ—রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওকে প্রথমে অনেকেই বাস্তব কোনো কবিরাজের বক্তব্য ভেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি সম্পূর্ণ একটি অভিনীত চরিত্র।



ভাইরাল হওয়া এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঈমান আলী। তিনি কোনো বাস্তব কবিরাজ নন, বরং একজন পেশাদার কনটেন্ট অভিনেতা। লালমনিরহাট থেকে প্রায় দুই দশক আগে গাজীপুরে এসে বসবাস শুরু করেন তিনি এবং বর্তমানে সেখানেই থাকেন।



জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী ঈমান আলী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে আসছেন। সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব ভিডিওতে ‘কবিরাজ’ চরিত্রে তার অভিনয় মুহূর্তেই দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। বিশেষ করে তার সংলাপ বলার ভঙ্গি, চোখের অভিব্যক্তি এবং নাটকীয় উপস্থাপন “রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক”—এই অংশটিকে ভাইরাল করে তোলে।


ভিডিওটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে। অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাধারণ ব্যবহারকারীও এখন এই সংলাপ ব্যবহার করে নতুন ভিডিও তৈরি করছেন।


ঈমান আলী নিজেও জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ অভিনয় এবং দর্শকদের বিনোদনের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো বাস্তব কবিরাজ নন এবং ভবিষ্যতেও অভিনয়ের মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে যেতে চান।


স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই একটি সংলাপই তাকে রাতারাতি দেশজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর