সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৫১ এএম

আর এক সপ্তাহ পরে বয়স হবে ৩৯। বেশির ভাগ ফুটবলারের ক্যারিয়ারের এপিটাফ লেখা হয়ে যায় এর অনেক আগেই। কিন্তু নামটি যখন লিওনেল মেসি, সাধারণ হিসাবের গণ্ডিতে তো তাকে আটকে রাখা যায় না! এই বয়সেও নতুন ইতিহাস লিখলেন তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক উপহার দিয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসেও গোলের তালিকায় পৌঁছে গেলেন চূড়ায়। অধিনায়কের অবিস্মরণীয় দিনটিতে বড় জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা।


বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ক্যানসাস সিটিতে ম্যাচের সপ্তদশ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। ৬০তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলকিপার লুকা জিদানের উপহার লুফে নিয়ে তিনি ব্যবধান বাড়ান। ৭৬তম মিনিটে আরেকটি দারুণ গোলে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।


এ দিন মাঠে নেমেই ইতিহাসে নাম লেখা হয়ে যায় তার। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার তিনিই। আর্জেন্টিনার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছুঁয়ে ফেলেন ম্যাচ খেলার ডাবল সেঞ্চুরিও। পরে উপলক্ষটি রাঙান তিনি ঐন্দ্রজালিক পারফরম্যান্সে।


১৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় স্পর্শ করলেন তিনি সাবেক জার্মান ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসাকে।


২০০৬ সালের ১৬ জুন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার হয়েছিলেন তিনি ১৮ বছর ৩৫৮ দিন বয়সে গোল করে। ঠিক ২০ বছর পর আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলস্কোরারও তিনি।


ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটেই ছিল দারুণ নাটকীয়তা। লড়াইটা তখন ছিল সমানে সমান। চতুর্থ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের দুর্বল হেড সহজেই ধরে নেন আলজেরিয়ার গোলকিপার লুকা জিদান। পরের মিনিটেই মার্তিনেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে জিদারে পাশ দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়ান মেসি। ধারাভাষ্যকার চিৎকার করে ওঠেন মেসির নামে। কিন্তু তার কণ্ঠ মিইয়ে আসে রেফারির বাঁশি শুনে, “স্বপ্নের মতো শুরু হতে পারত আর্জেন্টিনার…।” হতে পারত, কিন্তু হয়নি। কারণ, মেসি ছিলেন অফসাইড।


দুই মিনিট পর সেই অভিজ্ঞতা হয় আলজেরিয়ার। বক্সের একটু বাইরে থেকে আর্জেন্টিনার তিনজনের মধ্য থেকে চোখধাঁধানো পাস বাড়ান ফারিদ এল মেলালি শেইবি। সেই বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এহমেদ কেন্দুসি মাজা। কিন্তু তাদের আলজেরিয়ানদের উল্লাসের পর ভিএআর রেফারি জানান অফসাইডের সিদ্ধান্ত। মাজার বাড়িয়ে ধরা বাঁ হাতটুকু ছিল শুধু অফসাইড!


ম্যাচের প্রথম বৈধ গোলের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তদশ মিনিটেই মেসির জাদুর ঝলক। রদ্রিগো দে পল মাঝমাঠ থেকে বল বাড়ান মেসির দিকে। বল দিয়ে দ্রুত একটু এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের গোলা ছোড়েন তিনি। গোলকিপার জিদানের কিছু করার ছিল না। উড়ন্ত ডাইভ দিয়েও বলের নাগাল পাননি তিনি।


বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার পঞ্চম গোল এটি, ১৯৬৬ আসর থেকে এখনও পর্যন্ত যা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। ২০০৬ বিশ্বকাপে মেসির অভিষেক আসর ছিল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের শেষ বিশ্বকাপ। ২০ বছর পর সেই মেসি নিজের শেষ বিশ্বকাপে গোল করলেন জিদানের ছেলের বিপক্ষে।


আগে গোল হজম করে বিশ্বকাপে কখনোই জিততে পারেনি আলজেরিয়া। আগের ছয়টি তারা হেরেছে, জিতেছে দুটি। এরপর বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন বিরতির পর একটু গুছিয়ে ওঠে আলজেরিয়া।


৩৭তম মিনিটে প্রায় ৪০ মিটার দূর থেকে ফ্রি কিকে সরাসরি গোলের চেষ্টা করেন মেসি। কিন্তু বল চলে যায় বেশ ওপর দিয়ে।


৩৯তম মিনিটে কাছ থেকে নেওয়া শেইবির শট ফেরান এমি মার্তিনেস। পরের মিনিটেই শেইবির হেড বাইরে চলে যায়।


প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আনিস হাজ মুসা বক্সের ভেতর দুজনকে কাটিয়ে বর বাড়ান মাঝখানে। সেখানে একজনের পায়ে লেগে গতি হারানো বল সহজেই মুঠোয় নেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার মার্তিনেস।


একদম শেষ সময়ে ফ্রি কিক থেকে আলিক্সেস মাক আলিস্তেরের হেড উড়ে যায় গ্যালারিতে।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হয় একটু ঢিমেতালে। ৫১তম মিনিটে বক্সের মাথা থেকে মেসির শট ওপর দিয়ে চলে যায়।


দুই মিনিট পর মেসির চমৎকার পাস থেকে লাউতারো মার্তিনেসের শট ফিরিয়ে দেন জিদান। মেসির সেই গোলের পর ম্যাচে প্রথমবার লক্ষ্যে বল রাখতে পারে আর্জেন্টিনা।


৬০তম মিনিটে বক্সের অনেক বাইরে থেকে মাক আলিস্তেরের গড়ানোর শট শুয়ে পড়ে ঠেকালেও নিরাপদ করতে পারেননি জিদান। বরং বল পেয়ে যান সামনেই ফাঁকায় থাকা মেসি। আলতো টোকায় বল জালে জড়ান তিনি। তার ক্যারিয়ারের সহজ গোলগুলির একটি।


ধারাভাষ্যকাররা আলোচনা করছিলেন, এত কিছু অর্জন করলেও বিশ্বকাপে এখনও হ্যাটট্রিক নেই মেসির। এসব আলোচনার মধ্যেই ৬৫তম মিনিটে দারুণভাবে বল নিয়ে ছোটেন। ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে উত্তেজনা, “এটিই কী সেই মুহূর্ত….!”


কিন্তু না, মেসির বাঁ পায়ের আরেকটি গোলা দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন জিদান।


সেই মুহূর্তটি আসে একটু পরই। পাল্টা আক্রমণে নিকো গন্সালেরে কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ঠিক মাথা থেকে দারুণ এক গড়ানো শটে জিদানকে পরাস্ত করেন তিনি।


৭৯তম মিনিটে তুলে নেওয়া হয় তাকে। গোটা গ্যালারি উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাকে।


ম্যাচের বাকি সময়ে আর তেমন কিছু হয়নি। মেসিময় ম্যাচে আরও কিছু হওয়ার প্রয়োজনও নেই!





সাদমান ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

সাদমান ইসলামের প্রত্যাশিত সেঞ্চুরিটি হয়ে গেল দ্রুতই। এরপরই প্রত্যাশিত ধসের পালা। শুরুটা করলেন জশুয়া বিশপ। জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দিলেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার। এরপর দৃশ্যপটে জোমেল ওয়ারিক্যান। তার বাঁহাতি স্পিনে ধসে পড়ল বাংলাদেশের ইনিংস।


মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে বেশ ভালো অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ। দিনের খেলা শেষে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন বরেছিলেন, অন্তত ৪০০ রান করতে চান তারা। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনেই সেই আশার মৃত্যু্। ৪০০ তো দূরের কথা, ৩০০ রানের কাছেও যেতে পারেনি তারা। ওয়ারিকানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভুল লাইনে খেলার মাশুল দিয়ে একের পর এক উইকেট দিয়ে আসেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ দিন আর মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই শেষ বাকি ৭ উইকেট। বড় সম্ভাবনা জাগিয়েও ইনিংস থেমে যায় মোটে ২৭২ রানে।


বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়ে ৫৩ রানে ৫ উইকেট পান ওয়ারিক্যান। ২৬ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ ৫ উইকেট, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।সকালে শুরুটা ছিল আনন্দময়। সেঞ্চুরির জন্য এক রানের অপেক্ষায় থাকা সাদমান দ্বিতীয় বলে পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। এরপরই হারিয়ে ফেলেন মনোযোগ। বিশপের বলের লেংথ পড়তে ভুল করে ১০৫ রানে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ওপেনার।


পরের ওভারে তাওহিদ হৃদয়কে বোল্ড করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন বিশপ। এতে অবশ্য বোলারের কৃতিত্বের চেয়ে ব্যাটসম্যানের দায়ই বেশি। ফুল লেংথ ডেলিভারিতে অহেতুক স্লগ করার চেষ্টায় স্টাম্প এলোমেলো হতে দেখেন আগের দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান।


ততক্ষণ পর্যন্ত বিশপকে সঙ্গ দেওয়ার ভূমিকা পালন করেন ওয়ারিক্যান। ৮৩তম ওভারের শুরুতে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচ ওভার শুধু দুই প্রান্তে পেস আক্রমণ চালায় তারা। এরপর বল তুলে দেওয়া হয় ওয়ারিক্যানের হাতে।


নতুন স্পেলে ফিরে সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ওয়ারিকানের। তার তার ফ্লাইট ও ড্রিফটে বিভ্রান্ত হয়ে ভুল লাইনে ব্যাট পেতে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বল চলে যায় স্টাম্পে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না নিজের পরিণতি।


মিরাজের বিদায়ে শুরু হয়ে শেষের ধস। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এতে ওয়ারিক্যানের সঙ্গে অবদান রাখেন দুই পেসার জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ। শর্ট বলের পরিকল্পনায় শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের কঠিন পরীক্ষা নেন পেসাররা। আঙুলে চোটও পান এই কিপার-ব্যাটার।


পরপর দুই ওভারে নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে ফিরিয়ে দেন জোসেফ। বাকি থাকা দুই উইকেট নিতে সময় নষ্ট করেননি ওয়ারিক্যান। পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৫ উইকেট পূর্ণ হয় ওয়ারিকানের। দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা নিয়ে বোলিং শুরু করবেন ৩৪ বছর বয়সী স্পিনার।


লিটন অপরাজিত রয়ে যান ৩৪ রানে।


ওয়ারিক্যানের ৫ উইকেটের ৪ জনই ছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে ৭ উইকেট নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বাঁহাতি স্পিনার। এ নিয়ে চারবার বাঁহাতি স্পিনারদের কাছে ইনিংসে ৭ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। সবগুলোই ২০২২ সালের পর।


হামজা চৌধুরী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

ইসরায়েলের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজায় মানবেতর জীবনযাপন করা শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলার সেখানকার শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন।


নিজের ফেইসবুক পেইজে এ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন হামজা। ভালোবাসার ইমোজি ব্যবহার করে প্রথম লাইনে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গাজার শিশুদের জন্য আমরা ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।”


এই তহবিল সংগ্রহে সাহায্য করা নুজুম স্পোর্টসকে আলাদাভাবে প্রশংসা করেছেন হামজা।


“যারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দান করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন এবং অবদান রেখে এটিকে সফল করে তুলেছেন, তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ নুজুম স্পোর্টসকে, যারা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিয়ে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।”


এই অর্থ গাজার শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় কাজে লাগানো হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেছেন হামজা।


“সংগৃহীত এই অর্থ 'চিলড্রেন নট নাম্বারস'-এর অবিশ্বাস্য কাজে সহায়তা করবে, যারা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে গাজার শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। এই শিশুদের অনেকের জন্যই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা হলো চিকিৎসার জন্য তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) করা। সংগৃহীত সমস্ত অর্থ সেইসব শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরে ব্যবহৃত হবে, যাদের এটি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।”


“খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি অত্যন্ত বিনীত ও কৃতজ্ঞ; তবে আমি জানি যে এত বিশাল কষ্টের সামনে এটি একটি সামান্য অবদান মাত্র। এখনও অনেক কিছু করা বাকি, তবে প্রতিটি প্রচেষ্টা-তা যতই ছোট হোক না কেন-একটি পরিবর্তন আনতে পারে।”


“আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনদের কষ্ট দূর করে দিন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দান করুন এবং তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি নিয়ে আসুন।”


আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টে লাল-সবুজের জার্সিতে খেলার জন্য এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের আসার কথা রয়েছে ৮ বা ৯ নভেম্বর। ক্লাবের ব্যস্ততা থাকায় ভুটানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির মা ইউলালিয়া মারজেত্তি মারা গেছেন। বুধবার দেশটির পুজাতো শহরে নিজের বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইউলালিয়া। আর্জেন্টিনার ক্রীড়ামাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এ খবর জানিয়েছে।


রোজারিওর রেডিও টু জানিয়েছে, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্বামী অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে পুজাতোতেই বসবাস করতেন ইউলালিয়া। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।


তিন সন্তানের জননী ইউলালিয়াদ। তার তিন সন্তান লিওনেল, মাউরো ও কোরিনা। তাদের মধ্যে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন করান। আর কোরিনা রোজারিওর কাছের ফুনেস এলাকায় ‘স্কালা বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করেন।মায়ের সঙ্গে স্কালোনির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচি থেকে সময় পেলেই মাকে দেখতে পুজাতোতে ছুটে যেতেন তিনি। মায়ের অসুস্থতা নিয়েও একসময় প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ।


২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ১-০ গোলে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন স্কালোনি। সেদিন তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তার সেই বক্তব্যে মায়ের অসুস্থতার বিষয়টিও সামনে এসেছিল।


ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও দায়িত্ব চালিয়ে যান স্কালোনি। পরের বছর তার অধীনেই কাতার বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায় আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয়ের পরও মাকে স্মরণ করেছিলেন তিনি।সেই সময় আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেছিলেন, কোপা আমেরিকার শিরোপা তিনি মাকে উৎসর্গ করতে চান। কয়েক দিন আগে মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তার মা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন স্কালোনি। এবার সেই মাকে হারানোর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও জন্মশহর পুজাতোতে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫


নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০৭ পিএম

বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে জয়ের পর এবার নকআউটেও জয় পেল বাংলাদেশের কিশোররা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে সিশেলসকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের প্লেট-পর্বের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।


আজারবাইজানের বাকুতে আজ বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলায় ২৮তম মিনিটে রাতুলের গোলে এগিয়ে যায় দল। 


তবে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে সমতায় ফেরে সিশেলস। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের। সেখানে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা।


এই জয়ে প্রতিযোগিতায় ছয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছিল দলটি। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর বুরুন্ডির কাছে ২-০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় দল।


বাছাইপর্বের সেই জয়ের ধারাবাহিকতা নকআউটেও ধরে রাখল বায়েজিদ-রাতুলরা। সিশেলসকে হারানোর পর এবার শেষ ষোলোতে নতুন প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসিকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় এই আয়োজনে আর্জেন্টাইন মহাতারকার অনুপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও এর পেছনে বড় কোনো বিতর্কের খবর নেই। 


বরং সাম্প্রতিক ব্যস্ত সফরসূচি ও বিশ্রামের প্রয়োজনেই লন্ডনের অনুষ্ঠানে যাননি ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড।


ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল ব্যালন ডি’অরের এবারের আসর। তবে পুরস্কারটির ৭০তম বার্ষিকীর এই আয়োজনেও দেখা যায়নি মেসিকে। 


সম্প্রতি স্পেনে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ২৪ অক্টোবর নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-০ গোলের হারেও মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।


পরপর ভ্রমণের ধকলের পর আবার ইংল্যান্ডে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম ও দলের ব্যস্ত সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছেন মেসি। তাই এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল না।


ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় মেসি। ক্যারিয়ারে ১৭ বার মনোনয়ন পেয়ে আটবার জিতেছেন এই পুরস্কার। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তার হাতে উঠেছে সোনালি বল। এই পুরস্কার জয়ের সংখ্যায় তার ধারেকাছে নেই আর কেউ।

২৫ বছর পর ইংলিশ তারকার হাতে ব্যালন ডি’অর

পারফরমেন্সের স্বীকৃতি পেলেন কেইন


হ্যারি কেইন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ এএম

ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার। 


অন্যদিকে, মেয়েদের বিভাগে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস।


সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। ৩৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের হাতে এবার ব্যালন ডি’অর তুলে দেন দুইবারের এই পুরস্কারজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো।


কেইনের এই অর্জনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেলেন কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়। এর আগে সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন।


সব মিলিয়ে কেইন হলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার। এর আগে ১৯৫৬ সালে পুরস্কারটির প্রথম আসরে বিজয়ী হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এরপর ১৯৬৬ সালে স্যার ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এই সম্মান অর্জন করেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো হ্যারি কেইনের নাম।


মেয়েদের ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। অনুষ্ঠানে তার নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মাইকেল ওয়েন। পুতেয়াসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে অনুষ্ঠানস্থল।


বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডার এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো পুরস্কারটি জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন তিনি।