• প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ এএম

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ২০২৬

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম

দ্বিতীয় ইনিংসে ১১০ রান তুললেই ৩টি উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরেও সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে আপাতত চালকের স্বাগতিকেরাই। উইকেট থেকে বোলাররা যথেষ্ট সুবিধা পাচ্ছেন। এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হবে।


আগের দিনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূর, আজ ব্যাটিংয়ে আবারও হতাশ করেছে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের চেয়ে ৪৬ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। বাংলাদেশ লিড পায় ৪৬ রানের।


পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন বাবর আজম। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ এক ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে বাকি ব্যাটসম্যানদের কেউ তাঁকে ওই অর্থে দীর্ঘ সঙ্গ দিতে পারেননি। শেষ দিকে সাজিদ খান ৩৮ রানের একটা ক্যামিও কিছুটা ব্যবধান কমিয়েছে দুই দলের রানের।


দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুটা করেছিল দারুণ আগ্রাসী মেজাজে। বিশেষ করে মাহমুদুল হাসান শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। দৃষ্টিনন্দন কিছু শটে দ্রুত রান তুলে ম্যাচটা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই আলগা শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে আসেন এই ওপেনার।


দিনের একদম শেষভাগে এসে আউট হন মুমিনুল হকও। মাহমুদুলের পর মুমিনুলের এই বিদায় পাকিস্তানের বিষণ্ণ মুখে কিছুটা হলেও হাসির রেখা ফুটিয়ে তুলেছে।


মুমিনুলের আউটে শেষ হলো দিন


খুররম শেহজাদের বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন মুমিনুল। দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হলো এর পরপরই। ৬০ বলে ৩০ করে ফিরলেন মুমিনুল। বাংলাদেশ দিন শেষ করল ১১০/৩ স্কোর নিয়ে। লিড ১৫৬ রানের।


৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে না করতেই ফিরে যান অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ৭ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে তামিম ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংসকে মেরামত করার দায়িত্ব নেন মাহমুদুল হাসান জয় এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। দু’জনের ৭৬ রানের দুর্দান্ত এক জুটি বাংলাদেশের লিডকে তর তর করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।


শুধু তাই নয়, ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় হাফ সেঞ্চুরিরও দেখা পেলেন। ২২ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটা ৬ষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। দুটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তার নামের পাশে। ৫৮ বল খেলে ১০ বাউন্ডারিতে হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু হাফ সেঞ্চুরির পর ইনিংসটাকে খুব বেশিদূর নিতে পারেননি। ৫২ রান করে আউট হয়ে যান তিনি। এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেট হারিয়ে ৯৪। লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রান। 


এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসে ২৬ রান রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন মাত্র ৪ রান। আউট হয়েছেন খুররম শাহজাদের বলে। দলীয় ১৫ রানের মাথায় গালিতে সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম।


দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনেই সমান ৪টি করে পাকিস্তানের ৮টি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশের বোলাররা। চা বিরতির পর বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করছে স্বাগতিকরা ২৩২ রানে। ফলে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ৪৬ রানের। ২৮ বলে ৩৮ রান করেন সাজিদ খান।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৩ পিএম

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দলের জয়রথ ছুটেই চলছে। চায়নিজ তাইপে ও পাকিস্তানের পর এবার কাজাখস্তানকেও হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আগামীকাল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন সারিকা রিমন। অন্য দুটি গোলের একটি করেছেন মোসাম্মত লিমা, অন্যটি লিজা আক্তার।


চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই কাজাখস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সারিকা। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিজা। প্রথম কোয়ার্টারেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।


দুই গোল হজম করার পর কাজাখস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কয়েকটি আক্রমণও তৈরি করে তারা। তবে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কাজাখস্তান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।


চতুর্থ কোয়ার্টারে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই সুযোগে আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। ৪৬ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন লিমা। এরপর ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সারিকা। তাতে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।


এবারই দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়ে নবম হয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।


দশ দলের এই টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং। অন্যদিকে এলিট পুলে স্বাগতিক চীনের সঙ্গে রয়েছে জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।

চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল এবং এলিট পুলের পাঁচ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর চ্যালেঞ্জার পুলের চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা দল দুটি খেলবে নবম-দশম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ফুটবলার কাভান সুলিভান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।


দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।


এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।


এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।


এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


নেইমার জুনিয়র

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

চোটের দুর্ভাগ্য যেন পিছুই ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের। ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় চার থেকে আট সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


গত বৃহস্পতিবার কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলার সময় উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। পরদিন মেডিকেল পরীক্ষায় তার ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২বি চোট ধরা পড়ে। এই ধরণের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। 


সান্তোসে ফেরার পর থেকেই ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ছেন নেইমার। গত বছরের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকে বাম উরু, একই ডান রেক্টাস ফেমোরিস, বাম হাঁটুর মেনিস্কাস এবং ডান কাফে একাধিকবার চোটে পড়েছেন তিনি। সবশেষ চোটের আগে ও বিশ্বকাপ চলাকালীনও কাফের সমস্যায় ভুগেছিলেন।


সান্তোস কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, চোট পাওয়ার পর কখনই দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেননি নেইমার; বরং বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে সর্বোচ্চ অনুমিত সময়ের চেয়েও বেশিদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তাই এবারও দলের প্রাণভোমরার চিকিৎসায় কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না ক্লাবটি।


ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা সান্তোসের জন্য এটি বিশাল ধাক্কা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাসিওনালের বিরুদ্ধে পরবর্তী লিগ ম্যাচ ছাড়াও কোপা সুদামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালেও দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ক্লাবটিকে।


এদিকে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের পাশাপাশি আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে সান্তোস। ডান গোড়ালির মচকে যাওয়ার কারণে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। আরেক ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়ালের বাম উরুর বাইসেপস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২এ টিয়ার ধরা পড়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

টানা দুই ম্যাচে হারের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে ডাগআউটে থাকছেন না কোচ জেরার্ড জোন্স। সিরিয়ার কাছে বড় হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।


বৃহস্পতিবার তাসখন্দে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছেও ২-০ গোলে হেরেছিল ইয়াং টাইগার্সরা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ার পর জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। 


বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে ই-মেইল পাঠিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেডারেশন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


জোন্সের জায়গায় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে থাকবেন। এমনিতে জোন্সের আচার আচরণ নিয়ে বাফুফে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অহেতুক নেতিবাচক কথাবার্তা বিপাকে ফেলেছিল।


জোন্সের বিদায়ের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও বাফুফের পক্ষ থেকে মিশুকে জানানো হয়েছে। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দলের অবস্থান করা হোটেল থেকেও জোন্সকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জোন্সের বকেয়া ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা পরিশোধ করবে বাফুফে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের গন্তব্যে ফেরার জন্য তার বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করবে ফেডারেশন।


যুব দলের দায়িত্বে জোন্সকে নিয়োগের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা জটিলতায় পড়েছিল বাফুফে। বেতন নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। ঢাকায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। এমনকি উজবেকিস্তানে মিশুকে দলের সঙ্গে না নেওয়ার ব্যাপারে জোন্স অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাফুফের মধ্যস্থতায় দুজনই উজবেকিস্তানে যান। তবে জোন্সের আপত্তির কারণে মিশু প্রথম দুই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। সিরিয়ার বিপক্ষে হারের পর অবশ্য জোন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ফেডারেশন।


ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার পর মিশু বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সব সময়ই মর্যাদার। আমাদের জন্য টুর্নামেন্ট প্রায় শেষই। গাণিতিক কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যদিও। আমরা ভারতের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’


আজ রিকভারি সেশন করবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান সময় বিকেল ৪টায় আতিকুর রহমান মিশুর অধীনে অনুশীলনে নামবে দলটি। ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে বাংলাদেশের বাছাইপর্বের অভিযান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২০ পিএম

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে সরেই গেল মেয়েদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০২৭ সালে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হবে ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় দল ও ভেন্যুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


আগামী বছর প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) হারিয়েছে আয়োজকস্বত্ব। তবু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ছয় দল অংশ নেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।


এমনকি নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতে পারত বাংলাদেশেই। কিন্তু আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত—এই তিন দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত পরশু আইসিসি বোর্ড ভারতকে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করবে। প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের একটি প্রতিযোগিতা উপহার দিতে পারবে।’


আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। ব্র্যাবোর্নে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ভারতীয় নারী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি নারী প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লুপিএল) প্রথম মৌসুম আয়োজন করেছিল। ২০২৫ ডব্লুপিএলেও এখানে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভাদোদারাতেও ডব্লুপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আইসিসি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ করা কোনো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয় না। রূপান্তরকরণ কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসএলসির প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাগুলোতেও অংশ নিচ্ছেন না। এই কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। অথচ এই নির্বাচনী ব্যবস্থাই সংস্কার করা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংবিধান সংশোধন করাই ট্রান্সফরমেশন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশটির আইন অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কেবল সংসদের মাধ্যমে করা সম্ভব।


তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।


আয়োজকস্বত্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। কারণ, ৩০ আগস্টের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয় ও সাত নম্বরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। গতকাল হালনাগাদের পর এক ধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কা ছয়ে উঠে এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে সাত নম্বরে। যদিও দুই জনেরই সমান ২৩১ রেটিং পয়েন্ট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এবারও আট ও দশ নম্বরে অবস্থান করছে।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। হাতে লেখা আবেগঘন বার্তা ও ভিডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছেন রোজারিওর মহাতারকা। 


তবে মেসির বিদায়ের সঙ্গে নতুন একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি এবার কার গায়ে উঠবে?


২০০৯ সালের ২৮ মার্চ ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন মেসি। সেদিন ৪-০ গোলের জয়ে জাতীয় দলের হয়ে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয় তার। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে ১০ নম্বর জার্সি মানেই হয়ে উঠেছিল মেসি।


মেসির বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই সেই জার্সির উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য তার অনুপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ফুটবলারকে ১০ নম্বর পরে মাঠে নামতে দেখা গেছে।


২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতিতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এর আগে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জার্সি গায়ে খেলেছেন আনহেল কোরেয়া। ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৪-১ গোলের বড় জয়েও ১০ নম্বর ছিল তার গায়ে। চিলির বিপক্ষে ম্যাচে এই জার্সি পরেছিলেন পাওলো দিবালা। 


তবে মজার বিষয়, এদের কেউই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দলে ছিলেন না। ফলে মেসির স্থায়ী উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।


আর্জেন্টিনা দলে নিয়মিত থাকা কয়েকজন অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে পরিচিত। ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্তিনেজ, লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাকআলিস্টার ও কোমোর নিকোলাস পাজ। তিনজনই ক্লাব ফুটবলে ১০ নম্বর পরে খেলেছেন।


এ ছাড়া রদ্রিগো ডি পল রেসিং ও উদিনেজেতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। বোকা জুনিয়র্সে এই নম্বরে খেলেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। থিয়াগো আলমাদা ভেলেস সার্সফিল্ড ও আটলান্টা ইউনাইটেডে ১০ নম্বর পরেছেন। রোসারিও সেন্ট্রালে জিওভানি লো সেলসো এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও ফিওরেন্তিনায় নিকোলাস গঞ্জালেসের গায়েও ছিল এই জার্সি।


তবে জাতীয় দলের ১০ নম্বর আর ক্লাবের ১০ নম্বর এক বিষয় নয়। মেসির দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে এই জার্সি নেওয়ার সঙ্গে বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশাও থাকবে। তাই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ভাবতে হবে বেশ কয়েকটি দিক।


সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরবর্তী ফিফা উইন্ডোতেই মিলতে পারে প্রথম ইঙ্গিত। মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি শেষ পর্যন্ত কার গায়ে ওঠে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।