মোস্তাফিজুর রহমান।
আইপিএলে আসন্ন আসরে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে খেলবেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
আগামী মার্চের শেষে শুরু হয়ে দুই মাস ধরে চলবে এই টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতা শুরুর দুই মাস আগে বিব্রতকর কারণে শিরোনামে আইপিএল। মোস্তাফিজকে খেলালে মাঠ ভাঙচুরের হুমকি দিয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের শহর উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতারা।
এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতাকে বয়কটের দাবি জানানো হয়েছে। উজ্জয়িনীর রিনমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান উপাসক মহাবীর নাথ জানান, বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে মাঠে নামালে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে কলকাতাকে।
নিউজ ১৮ তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, ‘বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে নিয়ে ম্যাচ হতে দেবে না তপস্বী যোদ্ধারা, তারা মাঠে ঢুকে ভাঙচুর চালাবে।’
মোস্তাফিজ কলকাতার হয়ে ঠিক কতদিন আইপিএলে খেলতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছিলেন, ‘মোস্তাফিজকে যে ডিপার্টমেন্ট দেখে সেটা ক্রিকেট অপারেশন্স, আমার থেকে তারা ভালো বলতে পারবে। তারপরও এ ব্যাপারটা আমি আলোচনা করব। আইপিএলের সময় কি কি সিরিজ আছে। কোথায় তাকে বাংলাদেশের জন্য দরকার, কোথায় দরকার নাই এটা অপারেশন্স চিন্তা করবে।’
তবে আইপিএলের পুরো মৌসুমে মোস্তাফিজের খেলা নিয়ে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন- আগামী বছরের এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ওই সিরিজে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত
একবার, দুবার নয়, চার চারবার জীবন পেলেন শেফালি ভার্মা। এরপর যা হওয়ার, হলো তা-ই। ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই। অভাবনীয় কিছু তারা করতেও পারেনি।
অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।
দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান তারা। গ্রুপে রানার্স হওয়ায় সেই এড়ানো হয়ে ওঠেনি। নিগারের দল পারেনি চমকপ্রদ কোনো গল্প লিখতে। ৪০ রানের জয়ের উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ আটকে যায় ১০৯ রানে। গত এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
৬ ও ১১ রানে জীবন পেয়ে শেফালি ফিফটি করেন ৩৫ বলে। এরপর রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান আবার। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৪০ বলে ৬৪ রান করে। ২২ বছর বয়সেই তার টি-টোয়েন্টি ফিফটি হয়ে গেল ২০টি! ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসের পর চার ওভার আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।
ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।
ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে। আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি।
পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।
১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে।
তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।
এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।
হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার। শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।
দেড়শ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। ম্যাচ জমিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত রান। কিন্তু হয় উল্টো। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২৬।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটি উইকেট মেডেন নেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাাহিক বোলার শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে আউট করে। ১৮ বল খেলে বাংলাদেশের ওপেনার করতে পারেন কেবল ১৪ রান।
আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে করেন মোটে ২১ রান।
ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। পরের ব্যাটাররাও পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। তিনে নেমে সোবহানা মোস্তারি ১৮ রান করতে বল খেলেন ২৪টি। একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও অধিনায়ক নিগার ১৭ বলে করেন ১৯।
স্বর্ণার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান দলকে কোনোরকমে একশ পার করায়। কিন্তু রান তাড়ায় একবারও মনে হয়নি, জয়ের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (মান্ধানা ২, শেফালি ৬৪, প্রাতিকা ২০, হারমানপ্রিত ২৪*, চিরা ২১, দীপ্তি ১৩, ফুলমালি ০; মারুফা ৪-০-৪০-১, সুলতানা ৩-০-৩০-২, নাহিদা ৪-০-২৫-১, রাবেয়া ৪-০-২২-১, ফাহিমা ৪-০-২১-০, স্বর্ণা ১-০-১০-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (জুয়ায়রিয়া ১৪, দিলারা ২১, সোবহানা ১৮, নিগার ১৯, স্বর্ণা ২২*, শারমিন ১, ফাহিমা ১৪, রাবেয়া ০; ক্রান্তি ২-০-১৩-০, নান্দিনি ২-০-১০-২, শ্রী চারনি ৪-১-১৪-১, শেফালি ৪-০-২৫-০, প্রেমা ৪-০-২১-১, দীপ্তি ৪-০-২৬-৩ )।
ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।
বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক।
বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে নতুন ভূমিকায় খেলিয়ে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন কোচ হানসি ফ্লিক। প্রথাগত সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ঘাটতি পূরণে রাফিনিয়াকে আক্রমণের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন জার্মান এই কোচ। আর তাতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
লা লিগার প্রথম চার ম্যাচেই ছয় গোল করেছেন রাফিনিয়া। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেয়েনোর্ডের বিপক্ষে করেছেন আরও দুই গোল। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সে তিনি উঠে এসেছেন লা লিগার গোলদাতাদের শীর্ষে।
রাফিনিয়ার এমন পরিবর্তনে অবাক হননি তার সাবেক কোচ ভিটর কাম্পেলোস। ইউরোপে রাফিনিয়ার প্রথম কোচদের একজন এই পর্তুগিজ কৌশলবিদের অধীনে ভিক্টোরিয়া গিমারেজের রিজার্ভ দলে খেলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
কাম্পেলোসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে পোর্তো বি দলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে রাফিনিয়াকে প্রথমবারের মতো মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয়েছিল। তখনই তাঁর মধ্যে এই পজিশনে খেলার প্রয়োজনীয় গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।
বিশেষ করে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলে রাফিনিয়ার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। একের পর এক ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গোল করার ক্ষমতা তখনই নজরে এসেছিল কাম্পেলোসের।
এক দশক পর বার্সেলোনায় রাফিনিয়ার দুর্দান্ত সূচনা দেখে সেই পুরোনো কোচ মনে করছেন, সেন্ট্রাল-ফরোয়ার্ড পজিশনটি স্থায়ীভাবে নিজের করে নেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর।
রাফিনিয়ার এই সম্ভাব্য রূপান্তরকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারের সঙ্গে তুলনা করেছেন কাম্পেলোস। রোনালদোও ক্যারিয়ারের শুরুতে মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেললেও পরবর্তীতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ফরোয়ার্ড ও আক্রমণের প্রধান অস্ত্রে পরিণত করেছিলেন।
তাঁর মতে, রাফিনিয়াও একই ধরনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন। উইংয়ে খেললেও কিংবা আক্রমণের কেন্দ্রে থাকলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বার্সেলোনার হাই-প্রেসিংয়েও নেতৃত্ব দেন এই ব্রাজিলিয়ান।
ফ্লিকের কৌশলগত সিদ্ধান্তে রাফিনিয়া এখন শুধু একজন উইঙ্গার নন; বরং বার্সেলোনার আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা। গোল করার পাশাপাশি তাঁর গতি, পরিশ্রম ও প্রেসিং দক্ষতা দলটির আক্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
ফলে সময়ের সঙ্গে রাফিনিয়া যদি স্থায়ীভাবে সেন্টার-ফরোয়ার্ডের ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে বার্সেলোনায় তাঁর ক্যারিয়ারে এটি হতে পারে বড় এক পরিবর্তন যেমনটি একসময় হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে।
মেহেদী হাসান মিরাজ
ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএলে) নিজের অভিষেক দারুণভাবে রাঙিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারির্সের হয়ে বৃহস্পতিবার বল হাতে মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিংয়ে ভালো করতে না পারলেও বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন মিরাজ।
এদিকে মিরাজের পাশাপাশি জ্বলে উঠেছেন দলটির অধিনায়ক ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার তুলে নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। এই দুই স্পিনারের বোলিং ঘূর্ণিতে সেন্ট লুসিয়া কিংস ১১৯ রানে গুটিয়ে যায়। জবাবে ব্যাটিংটা ভালো হয়নি গায়ানার। তবুও জয় পেতে সমস্যা হয়নি তাদের।
কোয়েন্টিন স্যাম্পসনের ১১ বলে ৩৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে ৪ উইকেটে ম্যাচ জেতে গায়ানা। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ইমরান তাহির। ৮ ম্যাচে এটি তাদের সপ্তম জয়। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের শীর্ষে।
মিরাজ দ্বিতীয়বার গেছেন সিপিএল খেলতে। এর আগে তাকে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স দলভুক্ত করেছিল। কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এবার গায়ানা তাকে মোহাম্মদ নবীর রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দলে নেয়। প্রথম সুযোগেই নিজের সামর্থ্যের জানান ভালোমতো দিয়েছেন।
বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে জন ক্যাম্পেবেলের উইকেট নেন মিরাজ। এগিয়ে এসে অফস্পিনারের বল উড়াতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন ক্যাম্পবেল। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে মিরাজ ফেরান কেমল সেভরি ও চারিথ আসালাঙ্কাকে। এরপর আর কোনো উইকেট না পেলেও সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন মিরাজ। তার ৪ ওভার শেষ হয় ১৩ রান দিয়ে। উইকেট পেয়েছেন ৩টি। যেখানে ১৩ বল ছিল ডট।
এদিকে ইমরান তাহির ৪৭ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন। ১৭ রানে ৫ উইকেট নেন এই লেগ স্পিনার। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত আসরে এটি তার ষষ্ঠ ফাইফার। টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক ৫ উইকেট বা তার বেশি উইকেট নেয়ার তালিকায় ইমরান আছেন দুই নম্বরে। ৭ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন ডেভিড ভিসে।
গায়ানার বোলিং যতটা আলো ছড়িয়েছে, ব্যাটিং ততটাই হতাশ করেছে। ওপেনিংয়ে গ্লেন ফিলিপসের ৩৭ ও শেষ দিকে স্যাম্পসনের ১ চার ও ৫ ছক্কায় সাজানো ৩৭ ইনিংসে গানায়া শুরুরু ধাক্কা সামলে অনায়েস জয় তুলে নেয়। মিরাজ পাঁচে নেমে ৪ বলে ১ রান করেন। স্পিনের চেজের বল সুইপ করে স্কয়ার লেগে আসালাঙ্কার হাতে ক্যাচ দেন।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মিরাজদের পরবর্তী ম্যাচ ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল
এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা আর রাবেয়া খান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের ওপর ভরসা করেছিল টাইগ্রেসরা। সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন দুজনই। একজন দায়িত্ব নিলেন ব্যাটিংয়ে। আরেকজন ছড়ি ঘুরালেন বলহাতে। তাদের দারুণ নেপূণ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান করেছিল। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মোটে ৬৯ রান করতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাইগ্রেসরা জয় পেয়েছে ৩৪ রানের।
‘বি’ গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আর সমান ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে গেল বাংলাদেশ। যেখানে আগে থেকেই নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য অপেক্ষা করছে ভারত।
আগের দুই ম্যাচের মতো আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ব্যাটিংটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যর্থ হয়েছেন টপঅর্ডার ব্যাটাররা। এরপর নিজের কাধে দায়িত্ব তুলে নেন চলমান এশিয়া কাপে প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা। তার ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
স্বল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের শুরুটা ভালো হয়নি। টাইগ্রেস পেসার মারুফা আক্তারের তোপের মুখে পড়ে স্বাতিকরা। ১৩ রানের মধ্যেই টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে ফেরত পাঠান তিনি। ওপেনার ঈশা ওজা (৪ বলে ২) আর তিন নম্বরে নামা সামাইরা ধারনিধারকা (১৯ বলে ৮) ফিরে যান মারুফার শিকার হয়ে।
এরপরই নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিক ব্যাটারদের চোখে সরষে ফুল দেখান প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া রাবেয়া খান। এই লেগস্পিনারের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আরব আমিরাতের কোনো ব্যাটার। মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার রিনিথা রাজিথ (১২ বলে ৫) আর হেনা হটচান্দানিকে (১৯ বলে ১৮) ফিরিয়ে কোমড় ভেঙে দেন আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনের। পরে ধরেন আরও এক শিকার।
আরবে আমিরাতের পুরো ইনিংসে মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পোঁছাতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে বাকিরা সবাই ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটেই। থেমেছে ৬৯ রানেই।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন রাবেয়া খান। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার আর নাহিদা আক্তার। একটি করে উইকেট গেছে সুলতানা খাতুন আর ফাহিমা খাতুনের ঝুঁলিতে।
এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুরুটা প্রত্যাশা মতো না হলেও শেষদিকে শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে একশ পেরোয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন শারমিন আক্তার। ৩১ বলে ৩৮ রান করে দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। শারমিন আক্তার ১৮.৫ ওভারে ৯৭ রানের মাথায় আউট হন। তার বিদায়ের পর শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান মিলে ইনিংস শেষ করেন। নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ১৬ রান করে। অন্য প্রান্তে রাবেয়া খান ৪ বলে করেন ৩ রান।
শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৩৩ রান, যেখানে হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। ফলে শেষ দিকে কিছুটা গতি পেয়ে ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রান।
আমিরাতের বোলারদের মধ্যে জানানি থিরুক্কুমারান সবচেয়ে সফল। ১ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট। হিনা হটচান্দানির ৪ ওভারে এসেছে ১৯ রান, তবে কোনো উইকেট পাননি।
লামিনে ইয়ামাল
স্বপ্নের মতো একটি বছর কেটেছে লামিনে ইয়ামালের। টিনএজ এ ফুটবলার কদিন আগে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন লা লিগা। এ দুই অর্জনের জন্য ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এর পরও তাঁর একটি স্বপ্ন নাকি এখনও অপূর্ণ। সেটা হলো ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা। আজ ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ডাচ ক্লাব ফেনুয়ার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার অভিযান শুরু করবেন ইয়ামাল।
আসরের টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও আজ মাঠে নামছে। ঘরের মাঠে আজ তাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। গতবারের ফাইনালিস্ট আর্সেনালও শুরু করছে আজ। ইতালির ক্লাব নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে মিকেল আর্তেতার দল। আজ রাতের বিগ ম্যাচটা হবে অ্যানফিল্ডে। স্বাগতিক লিভারপুলের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
বার্সা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল ১১ বছর আগে। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ– এই ত্রয়ীর নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। বর্তমান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে ২০২৫ সালে সেমিফাইনাল ও গত বছর কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ‘ভেরি স্পেশাল’ মর্যাদা দিয়েছেন ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সী এ তারকা এই ট্রফি জিততে মরিয়া চেষ্টা করবেন বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘এই বছর জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে যা কিছু করেছি তার জন্য ভীষণ গর্বিত। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ক্লাবের হয়ে লা লিগা জিতেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আসলে চাওয়ার নেই।’ এরপরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি, ‘এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা আমার কাছে ভেরি স্পেশাল। সবকিছু জেতা হয়েছে। শুধু এটাই বাকি।’ এ কথাতেই বোঝা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিয়ে কতটা সিরিয়াস এ টিনএজার।
বার্সার কোচও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে মরিয়া, ‘প্রতিটি বড় ক্লাব এই ট্রফি নিয়ে স্বপ্ন দেখে। কারণ এটাই সেরা টুর্নামেন্ট। এই ট্রফি জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। তবে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’ ইয়ামালেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এই জার্মান কোচ। এই স্প্যানিশ মাঠে সময়টা ভীষণ উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি, ‘লামিনে হলো এমন একজন ফুটবলার, যে কিনা মুহূর্তের মধ্যে একটি ম্যাচ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটা দুর্দান্ত বিষয়। প্রতিদিন আপনি দেখতে পাবেন সে মাঠে কতটা উপভোগ করছে ফুটবল। আমার জন্য তাকে এভাবে দেখতে পারাটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।’
লিভারপুল-অ্যাথ. মাদ্রিদ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা অ্যানফিল্ডে। আন্দোনি ইরাওলার অধীনে আজ প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে নামছে লিভারপুল। তাদের প্রতিপক্ষ অভিজ্ঞ দিয়াগো সিমিওনির অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ঘরোয়া লিগে দুই দল এখনও সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ম্যাচে লিভারপুল ২-০ গোলে জিতলেও আগের দুই ম্যাচে ড্র করেছে।
আর আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজের দলবদল নিয়ে তিক্ত সময় পার করা অ্যাথলেটিকো তো লা লিগায় গত শনিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই দলের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে লিভারপুল। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি জিতেছে লিভারপুল ও দুটি জিতেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। তবে আজ ম্যাচ অ্যানফিল্ডে বলেই কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে অলরেডরা।
সিটির জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিরও নতুন শুরু। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক সেই পুরোনো একজনই। আর্লিং হলান্ড।
নতুন মৌসুমে সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর তাঁর সামনে কাজটা কঠিনই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ খুব একটা দেখা গেল না। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সিটি। আর শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন হলান্ড। তবে প্রথমার্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়েছেন । পরে আবারও নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করেছেন জোড়া সেভে। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না পেলেও সিটি তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিল, পোর্তোর দুর্গে ধাক্কা আসছে।
বিরতির পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ডের হেড। খুব জোরালো ছিল না শটটি, কিন্তু কস্তাকে ভুল পায়ে ফেলে বল গড়িয়ে গেল নিচের কোণায়। ১-০।
গোল খেয়ে যেন ঘুম ভাঙল পোর্তোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। উল্টো সিটির রক্ষণেও দেখা দেয় অস্বস্তি। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন। অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হতে পারত। পরে তাঁর একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।
তবু শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ। কারণ রাতটা ছিল হলান্ডের।
যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন তিনি। ২-০। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলও হয়ে গেল ৫৯টি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লেগেছিল অনেক বেশি ম্যাচ, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে।
সিটির হয়ে এটিই ছিল তাঁর ১৬৭তম গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে গেলেন তৃতীয় স্থানে।
ম্যাচ শেষে হলান্ড বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’
আর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর উপলব্ধি, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’