ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে টিকিটের প্রথম দফার উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়েছে। সেখানে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা) রাখছে ফিফা। পুনর্বিক্রয় বা ‘রিসেল’ বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনা করলে ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। অথচ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর পক্ষ থেকে বিশ্বকাপের বিড–বুকে জানানো হয়েছিল, ফাইনালে টিকিটের সর্বোচ্চ দাম হবে ১ হাজার ৫৫০ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা)।


গত ডিসেম্বরে যখন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অফিশিয়াল সমর্থকগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তখন সর্বোচ্চ দাম ছিল ৮ হাজার ৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা)। গত বুধবার যখন সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সেই দাম আরও বেড়ে যায়। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে গ্যালারির সেরা আসনের টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।


২০২৬ বিশ্বকাপে টিকিটের প্রকৃত মূল্যকাঠামো বোঝা বেশ কঠিন। কারণ, ফিফা কখনোই তাদের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা মূলত ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে টিকিটের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।


টিকিটের এমন আকাশচুম্বী দামের কারণে গত বছরের শেষ দিকে অনেকেই একে ফুটবলভক্তদের সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বলেছিলেন। যদিও গত ডিসেম্বরে ফিফা মাত্র ৬০ ডলার মূল্যের কিছু স্বল্পমূল্যের টিকিটের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো টিকিটের উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হওয়ার পর চড়া দামের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এল।


ফাইনালে টিকিটের দাম বেড়েছে ৩৮ শতাংশ


আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল আগামী ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।


ফাইনালসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের টিকিটের দাম আসলে কত, তা নিশ্চিতভাবে বলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, ফিফা কখনোই টিকিটের দামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা কোন ক্যাটাগরিতে কতটি টিকিট আছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি।


ফিফার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট ঘেঁটে বর্তমানে কী ধরনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোর দাম কেমন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে আরও দামি কোনো টিকিট আছে কি না, কিংবা তুলনামূলক সস্তা ক্যাটাগরির টিকিট বেশি সংখ্যায় ছাড়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো উপায় নেই।


এখন পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তাতে গত ডিসেম্বরের তুলনায় এবারের উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ১০ হাজার ৯৯০ ডলারের টিকিটের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও দাম বেড়েছে।


দ্বিতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৫ হাজার ৫৭৫ ডলার থেকে ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮০ ডলারে (প্রায় ৯ লাখ টাকা)।


তৃতীয় ক্যাটাগরি: টিকিটের দাম ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার (প্রায় ৭ লাখ টাকা)।


শেষ মুহূর্তের টিকিট বিক্রি শুরুর আগে ফিফা কোনো পূর্বঘোষণা দেয়নি যে কোন ম্যাচের টিকিট কত দামে পাওয়া যাবে। বিবিসি জানিয়েছে, যাঁরা টিকিট কিনতে পেরেছেন, তাঁরা দেখেছেন যে শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচ এবং নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোর টিকিটের দাম অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মটি আবার চালু হয়েছে। সেখানে টিকিটের দাম আরও আকাশচুম্বী। বিবিসি জানিয়েছে, একজন বিক্রেতা তাঁর একটি টিকিটের জন্য ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) দাবি করেন।


টিকিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রযুক্তিগত বিভ্রাট


গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল লাইনে যুক্ত হয়। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া আটটার দিকে সেই লাইনে দাঁড়ানোর পর শুরুতে একটি ‘হোল্ডিং মেসেজ’ দেখা যায়। রাত ৯টায় সেটি পরিবর্তিত হয়ে একটি লাল বৃত্তে পরিণত হয় এবং লেখা ওঠে: ‘অলমোস্ট দেয়ার’ বা ‘প্রায় কাছাকাছি’।


রাত ১০টার দিকে পর্দায় একটি ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) শুরু হয়। যখন দেখাচ্ছিল, লাইন আর মাত্র দুই মিনিটের, ঠিক তখনই সময় হঠাৎ বেড়ে ১৫ মিনিট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ মেলে, তখন হাজার হাজার সমর্থকের মতো বিবিসিকেও পড়তে হয় কারিগরি জটিলতায়।


শুরুতেই যাঁরা লগইন করেছিলেন, তাঁদের ভুল করে ‘পিএমএ টিকিট’ (প্লে-অফ জয়ী দলের সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত) দেওয়া হয়। সেখানে ঢোকার পর দেখা যায়, একটি কোড চাওয়া হচ্ছে। সমর্থকেরা ভুল বুঝতে পারলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। তাঁদের আবার নতুন করে লাইনের শেষে দাঁড়াতে হয়। এর ফলে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর টিকিট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় অনেকেরই।


ফিফা এই ভুলের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, রাত ১০টার মধ্যেই লিংকগুলো ঠিকঠাক কাজ করা শুরু করে। নতুন করে লাইনে দাঁড়ানোর পর টিকিটের মূল পাতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে ৬ ঘণ্টা ১৪ মিনিট।


গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৩৫টির টিকিট সেখানে দেখায়। তবে বিবিসির প্রবেশের সময় ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ডের কোনো ম্যাচ কিংবা নকআউট পর্বের কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। আয়োজক দেশগুলো বাদে শীর্ষ ১০টি বাছাই দলের মধ্যে কেবল নেদারল্যান্ডসের একটি ম্যাচের টিকিট তখন অবশিষ্ট ছিল।


টিকেটের দাম শুরু হয়েছে ১৪০ ডলার থেকে, যা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত দেখা গেছে। প্রদর্শিত টিকিটের গড় মূল্য ছিল ৩৫৮ ডলার। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮৫ ডলার দেখা যায়, যদিও ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের তুলনায় এই টিকিটের পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য।


করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজের আওতায় ইংল্যান্ড–পানামা ম্যাচের একটি বিলাসবহুল স্যুইটের দাম দেখা গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার। ২৪টি টিকিটসহ খাবার ও পানীয়ের এই প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ পড়ছে ৫ হাজার ২০০ ডলার।


ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে, কিক-অফের আগপর্যন্ত যেকোনো সময় নতুন টিকিট ছাড়া হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের টিকিট দেখা যায়, যার মধ্যে ৬টি ছিল কেবল হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সঙ্গীদের জন্য। বিতর্কিত বিষয় হলো, ফিফা এবার হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের সহকারীদের জন্য কোনো বিনা মূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা রাখেনি। তাঁদের পুরো দাম দিয়েই টিকিট কিনতে হচ্ছে এবং আসনগুলোও পাশাপাশি হবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।


এখনো সবচেয়ে বেশি টিকিট পড়ে আছে ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের। এই ম্যাচের ১ হাজার ৪০৬টি প্রথম ক্যাটাগরির টিকিট প্রতিটি ২ হাজার ৭৩৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ম্যাচেরও ৮৪৬টি টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে।


পুনর্বিক্রয়ের বাজারে দাম ১ কোটি টাকা


গত বৃহস্পতিবার ফিফার অফিশিয়াল ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয়ের প্ল্যাটফর্মটি আবারও উন্মুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম এখানে চড়া হবে। মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, সেখানে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনর্বিক্রয় করা নিষিদ্ধ।


ফিফার এই প্ল্যাটফর্মে যে কেউ টিকিট কেনার পর তা নিজের ইচ্ছেমতো দামে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করতে পারেন। তবে এগুলো মূলত বিক্রেতাদের চাওয়া দাম, যা নিশ্চিত করে না যে টিকিটগুলো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে।


প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পরপরই বিবিসি স্পোর্ট দেখেছে, ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার। এমনকি সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দামও ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা)।


ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। মাত্র ৬০ ডলারের একটি টিকিট সেখানে ১ হাজার ৪৯৯ ডলারে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আবার যে টিকিটের প্রকৃত দাম ৪৪৫ ডলার, সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৬ হাজার ডলার। এই মূল্যের ওপর ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষ থেকেই ১৫ শতাংশ ফি কেটে রাখবে।


‘ফিফার টিকিট বিক্রিতে আরও এক কলঙ্ক’


টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ফিফা যেভাবে সামলাচ্ছে, তা সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। টিকিটের কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যতালিকা না থাকা এবং বিক্রির আগপর্যাপ্ত তথ্য না দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।


ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বস্থানীয় টমাস কনক্যানন বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ‘পুরো বিষয় যেন একটা বড় রহস্য। সমর্থকেরা আসলে বুঝতেই পারছে না তাঁরা এখন কী করবে।’ কনক্যানন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ফিফার টিকিট বিক্রির ইতিহাসে এটি আরেকটি বড় কলঙ্ক। টুর্নামেন্টজুড়েই এমনটা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।’


কনক্যাননের মতে, সব খরচ মিলিয়ে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ দেখতেই একজন সমর্থকের কয়েক হাজার পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ১৬ লাখ টাকা) বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে। কনক্যানন বলেন, ‘জীবনে হয়তো একবারই বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ আসে। অনেকের জন্য এটি ছিল সেই সুযোগ, কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে তারা আর যেতে পারবে না।’





নেইমার

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

বিশ্বকাপে ব্যর্থ অভিযান শেষে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার, করেছেন জোড়া গোলও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের তিনি উচ্ছ্বসিত রাখতে পারলেন অল্প কিছুক্ষণই। ড্রেসিংরুমে সতীর্থের সঙ্গে বিতর্কের খবর, অনুশীলন মাঠে গিয়ে কিছু না করেই কাউকে না জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা।


শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলন ছিল সান্তোসের। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। তবে মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই বেরিয়ে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।


অনুশীলন না করার এ ঘটনা ঘটে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।


বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নেমে যাওয়ার পথে। এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে তর্কাতর্কিও হয় দুজনের মধ্যে।


ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমারই সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।


অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’


আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’


সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই বারবার সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।


তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ পিএম

উত্তর আমেরিকার ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ এমএলএস অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী ২৯ জুলাই উত্তর ক্যারোলাইনার শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকান লিগ লিগা এমএক্স-এর অল-স্টার দলের মুখোমুখি হবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার দল। 


তবে এবারের ম্যাচে থাকছেন না ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি।


বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ধকলপূর্ণ মৌসুমের পর ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের নীতিমালার আওতায় মেসি ও তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে অল-স্টার ম্যাচের দল থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।


মেসি ও ডি পলের অনুপস্থিতিতে এবং ইনজুরি ও ক্লাব পরিবর্তনের কারণে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের জায়গায় অল-স্টার স্কোয়াডে ৪ জন নতুন ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। দলে নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে হিউস্টন ডায়নামোর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গুইলহার্মে নিজের অভিষেক মৌসুমে আটটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে সবার নজর কেড়েছেন। 


এছাড়া শিকাগো ফায়ারের ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল চলতি মৌসুমে পাঁচটি গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের আন্দ্রেস কুবাসও মাঝমাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই অল-স্টার দলে ডাক পেয়েছেন।


মেসি ও ডি পল ছাড়াও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন আরও দুজন ফুটবলার। মেক্সিকান ক্লাব সিএফ মনতেরেতে যোগ দেওয়ায় দলে নেই হুগো কুইপার্স। আর শরীরের নিচের অংশের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তরুণ ডিফেন্ডার এমবেকেজেলি এমবোকাজি।


এমএলএস অল-স্টার ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোয়াড:


গোলরক্ষক: ম্যাক্সিম ক্রাপো, ম্যাট ফ্রিজ, ব্রায়ান শোয়াক


ডিফেন্ডার: ম্যাক্স আরফস্টেন, লুকাস হেরিংটন, রিচি লারিয়া, অ্যান্থনি মারকানিচ, স্টিভেন মোরেইরা, ড্যানিয়েল মুনি, অ্যান্ডি নাজার, জ্যাকসন রেগান, টিম রিম.


মিডফিল্ডার: সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার, পেপ বিয়েল, ইয়ানিক ব্রাইট, আন্দ্রেস কুবাস, এভান্দার, কার্লেস গিল, জেভিয়ার গোজো, হানি মুখতার, থমাস মুলার, অ্যাশলে ওয়েস্টউ। 


ফরোওয়ার্ড: অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার, গুইলহার্মে, জুলিয়ান হল, সন হিউং-মিন, পিটার মুসা, স্যাম সুরিডজ, ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল।


ব্রাজিল ফুটবল দল

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

ভারত সফরে যেতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। কলকাতায় তারা প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন ব্রাজিল।


ম্যাচ আয়োজনে ভারতীয় সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ), এমন তথ্যও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।


সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালেই ভারতীয় প্রতিনিধি ও সিবিএফের মধ্যে এই প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়। মূলত বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল উন্মাদনা নজর কেড়েছে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলেসাওদের নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ার পরই সেখানে ম্যাচ খেলার আগ্রহ তৈরি হয় ব্রাজিলের।


ইএসপিএন ব্রাজিল তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, সূচি অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময়ে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ব্রাজিলের। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত।


২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপরই তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা থাকলেও শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা এগোচ্ছে।


ম্যাচটি কলকাতায় আয়োজিত হলে তা শহরটির সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেনসে খেলে গিয়েছিলেন তিনবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।


২০২৬ বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অভিযান শেষ হয়েছে চরম হতাশায়। নকআউট পর্বের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটাই ব্রাজিলের দ্রুততম বিদায়।


টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি চারটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা ব্রাজিলকে তাই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হতাশায়। প্রীতি ম্যাচ দিয়ে সেই ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরুর পরিকল্পনা করছে সেলেসাওরা।


ইয়ুর্গেন ক্লপ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ এএম

হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের পর জার্মানি জাতীয় দলকে পুরনো বিধ্বংসী রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার তুলে দেওয়া হলো ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। চার বছরের চুক্তিতে স্বদেশি এই অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ানকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। শুক্রবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে সংস্থাটি তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল।


বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক কোচ ক্লপ স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ইউলিয়ান নাগেলসমানের। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন নাগেলসমান। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিস্ময়করভাবে বিদায় নেওয়ার পর এবারও ব্যর্থতার সেই ধারা বজায় থেকেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।


দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্লপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় ফুটবল দলের মতো খুব কম বিষয়ই আমাদের জার্মানদের এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আর এই দিকটিই আমার কাছে দায়িত্বটিকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে।’


এতদিন রেড বুলের ‘গ্লোবাল হেড অফ সকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তারকা কোচ যোগ করেন, ‘বিগত দেড় বছরে রেড বুলে যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা আমার হয়েছে এবং (ডিএফবির সঙ্গে) এই চুক্তিটি সম্ভব করতে তারা যে উদারতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন আমি জার্মান ফুটবলের এই বিশেষ দায়িত্বটির দিকে তাকিয়ে আছি, যা আমরা বিনয় ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করব। এমন একটি দল গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যারা একে অপরের জন্য লড়বে, ফুটবলকে উপভোগ করবে এবং যার পেছনে আমাদের দেশের মানুষ পূর্ণ আস্থা নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।’


নতুন দায়িত্বে ক্লপের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন পিটার ক্রাভিৎজ, পেপ লিন্ডারস ও জার্মানির সাবেক খেলোয়াড় স্ভেন বেন্ডার। এছাড়া, ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক ডিফেন্ডার পার মার্টেসাকারকে স্পোর্টস ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডিএফবি। আন্দ্রেয়াস রেটিগের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি সই করেছেন তিনি।


জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ জানান, শুরু থেকেই ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ক্লপ, ‘আমাদের অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা হয়েছে। প্রথম থেকেই ক্লপই ছিলেন আমাদের জন্য আদর্শ সমাধান। ডিএফবির সবাই আমরা একমত ছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। ক্লপের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, সঠিক সময়ে সঠিক মানুষটিকেই আমরা পেয়েছি।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ এএম

বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালো।


ফিনালিসিমা হলো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন (উয়েফা ইউরো বিজয়ী) ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন (কোপা আমেরিকা বিজয়ী) দলের মধ্যকার আন্তঃমহাদেশীয় শিরোপা লড়াই। 


সর্বশেষ ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।


মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই ম্যাচটি কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়াম কিংবা দুই দেশের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব এলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।


তবে মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের বিষয়ে নতুন করে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতার সরকার ইতোমধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছে।


যদিও এ বিষয়ে এখনো উয়েফা কিংবা কনমেবলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


উল্লেখ্য, ফিনালিসিমা স্থগিত হওয়ায় ভাগ্যের পরিহাসে দুই দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেই মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচে এর কিছুক্ষণ আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে শেষ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।


বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হারের পর সম্ভাব্য ফিনালিসিমা ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিশোধের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করতে।


সূত্র: ওয়ার্ল্ড সকার টক 


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ এএম

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? কেন লিওনেল মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের সবকিছু ভুলে যেতে বলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি ভিডিওতে মেসির বলা কথায় এসব প্রশ্নের উদ্রেক করছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। যা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের শঙ্কা ড্রেসিংরুমে অবশ্যই কিছু একটা হয়েছিল। যার প্রভাব মাঠে পড়েছিল বলেই তাদের বিশ্বাস। না হলে পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা দলটি ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোস্টে একটি শটও নিতে পারবে না? আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। 


টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’ এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। আলোড়ন তুলেছে মেসির পরের কথাগুলো, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেসি কথাগুলো বলার সময় তাঁর সতীর্থরা সবাই শান্ত ছিল। প্রশ্নটা এখানেই, মেসি কী ভুলে যেতে বলছিলেন তখন?


৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার কী ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট না হলেও ফাইনালের আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রতিপক্ষ স্পেন তাদের বিরুদ্ধে রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলে। এসব নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া এবং কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ডমিঙ্গেজ মেসি-মার্তিনেজদের কিছু বলেছেন কিনা, তা নিয়ে একটা শঙ্কা রয়েছে।


আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফাইনাল শুরুর আগে এ দুজনকে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।


আর ফাইনালের আগে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি, যা সত্যিই বিস্মিত করেছে। কিছু ঘটনায় কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফুটবলে, বিশেষ করে এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনও অনুমোদন করা উচিত নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।’ 


নিউইয়র্কের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। ফাইনালে রেফারিং নিয়ে তেমন বিতর্ক না হলেও শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ বাধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফিফা।