ছবি : সংগৃহীত
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে যতই ঝড় উঠুক, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না পর্তুগালে। দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালও নিশ্চিত করেছে দলটি। পর্তুগালের জয়ের নায়ক গনসালো রামোস। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে তার গোলে নিশ্চিত হয় জয়। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ৪’-এ শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১২, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্কের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে তারা।
অথচ কয়েক দিন আগেও পর্তুগালের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফুটবল নয়, রোনালদো। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর গত সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ মহাতারকা। তাকে ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার ডেনমার্ককে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এবার নরওয়ের বিপক্ষেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল তারা। পোর্তোতে অবশ্য শুরুটা পর্তুগালের পক্ষে ছিল না। ৩৬ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। বক্সের বাইরে থেকে তার নিচু হয়ে আসা ভলি ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না পর্তুগাল গোলরক্ষকের।
তবে দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান জোয়াও ক্যানসেলো। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট নরওয়ের জালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আইয়ারের গোল যদি ছিল দারুণ, ক্যানসেলোর জবাব ছিল আরও দুর্দান্ত।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন রামোস। জোয়াও ফেলিক্সের হেড করা বল তার দিকে এলে পায়ের পেছনের অংশ দিয়ে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস না দেখালেও জয় ও কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করাটাকেই বড় করে দেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস, 'নরওয়েকে হারাতে অনেক বেশি কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন।'
তিনি আরও বলেন, 'ডেনমার্কের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, এবার তেমন পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় এবং কোয়ালিফিকেশন। এই দলটির ওপর আমার অনেক বিশ্বাস ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে চারটি জয় পাব, হয়তো এতটা আশা করিনি।'
জয় পেলেও ম্যাচের শেষটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না পর্তুগালের জন্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে লাল কার্ড দেখেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। হলুদ কার্ড দেখার পর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে থাম্বস আপ দেখানোয় সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘এ৪’-এর আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। কার্ডিফে ডেনমার্ককে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট কিক থেকে গোল করে ডেনমার্ককে জয় এনে দেন রাসমুস হইলুন্দ।
গ্রুপ ‘এ২’-এ সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। ৩১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন টেউন কুপমেইনার্স। চার মিনিট পরই সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান ১৮ বছর বয়সী মিহাইলো স্ভেটকোভিচ, জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
৭২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তিজানি রেইন্ডার্সের বাড়িয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান জশুয়া জির্কজি। এই জয়ে গ্রুপে গ্রিসের সঙ্গে সমান পয়েন্টে থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ডাচরা।
অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে জার্মানির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে গ্রিস। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল জার্মানির, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। নতুন কোচের অধীনে চার ম্যাচে এটি জার্মানির মাত্র একটি জয়।
গ্রুপ ‘বি৩’-এ কসোভোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়া। আর আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচও শেষ হয়েছে একই ব্যবধানে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘ডি২’-এ লিথুয়ানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে আজারবাইজান। গ্রুপ ‘ডি১’-এ অ্যান্ডোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মাল্টা।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মাঠে অনুশীলনে লিওনেল মেসি
আর একটি ম্যাচ। এরপরই সমাপ্তি ঘটছে ঝলমলে স্বর্ণালী একটি অধ্যায়। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সুপারস্টার লিওনেল মেসি বিদায়ী ম্যাচটি খেলবেন বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে। বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এই মহাতারকা। নিজ দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচের আগে শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনে নেমেছেন তিনি।
জাতীয় দলের খবর অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকেই আর্জেন্টিনা দল কোচিং স্টাফদের অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে। বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সোমবার শেষবারের মতো অনুশীলনে নামবে তারা। ম্যাচের আগে মেসি এবং কোচ স্কালোনি উভয়েই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিজ দেশের জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচে বিশেষ ডিজাইন করা জার্সি পরবেন মেসি। যা খেলা শেষে তার ব্যক্তিগত ট্রফি ও পুরস্কারের সংগ্রাহশালায় শোভা পাবে। আকাশী-সাদা রঙের এই জার্সির ঠিক মাঝখানে থাকবে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার সূর্য এবং তার নাম ও নম্বর থাকবে সোনালী রঙে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আগেই বিদায় জানিয়েছিলেন মেসি। তবে ঘরের মাঠে বিদায়টা রাঙাতে শেষ ম্যাচের আয়োজন করে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছেছেন দুই দিন আগে। শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। এরপর রোববার বুয়েনস এইরেসে ফিরে যোগ দিয়েছেন এএফএ অনুশীলন মাঠে। এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুশীলন ক্যাম্পে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পৌঁছানোর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। রোজারিওতে দুই দিন কাটানোর পর আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বুয়েনস আইরেসে পৌঁছান, যাতে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
এদিকে মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করতে তাঁর সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সব সদস্যকে এ ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিডিও বার্তায় এএফএ সভাপতি বলেন, ‘লিওনেল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর আমরা কাতারে তাঁর সঙ্গে খেলা ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সদস্যকে পরিবারসহ এ ম্যাচে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা স্মরণীয় উপলক্ষ হতে চলেছে।’গত বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এরপর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সুপারস্টার।
নিজের ফেসবুক পেজে অবসরের কথা জানিয়ে মেসি বলেন, ‘ফাইনালের পর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা হৃদয়ে প্রচণ্ড কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, এখনই সরে দাঁড়ানোর সময়। আমি শপথ করে বলতে পারি, সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তা নয়; এর আগেও জাতীয় দলের এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি।’
জাতীয় দলের হয়ে দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবলের মাধ্যমে যেন আপনারা আর্জেন্টাইন হওয়ার জন্য গর্ববোধ করেন, সেই চেষ্টা সবসময় করেছি।’
অবসরের সিদ্ধান্তের কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর খুব বেশি সময় বাকি নেই, একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি এমন একটি অধ্যায়, যা আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলে থাকা আমি ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসব। আমি নিজেকে পুরোপুরি উজাড় করে দিয়েছি। এখন আর দেওয়ার মতো কিছু নেই। তাছাড়া পেছন থেকে দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা জাতীয় দলে থাকার যোগ্য।’
লিওনেল মেসি
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। গত শুক্রবার নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি।
বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন মেসি। বাংলাদেশ সময় ৭ অক্টোবর বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
আর্জেন্টাইন সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী ম্যাচ খেলতে স্ত্রী, তিন ছেলে ও মাকে নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছেছেন মেসি। দ্রুতই আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ মহাতারকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জাতীয় দলের সতীর্থ ও কোচিং স্টাফরা।
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলারকে বিদায় জানাতে এরই মধ্যে সতীর্থরা বিশেষ একটি ভিডিও তৈরি করেছেন। সে ভিডিওতে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব পাওয়া কুতি রোমেরো বলেছেন, মেসিকে তিনি কতটা ভালোবাসেন, সেটা কখনও ভাষায় প্রকাশ করতে পারেননি বলে তাঁর মনের মধ্যে একটা আক্ষেপ থেকে যাবে। মেসির পরামর্শেই তাঁকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে জানান রোমেরো।
মেসিকে ছাড়া প্রথম ম্যাচে গত বৃহস্পতিবার বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আজ রোববার ভোরে বুরকিনা ফাসোর জালে ৭ গোল দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ
বলটি ব্যাটে লেগেছিল, নাকি প্যাডে? নিউ চণ্ডীগড়ে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হওয়ার পর এই আলোচনাটা থেকে গেছে। আর এই আলোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ। গতকাল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে তিনি ছিলেন থার্ড আম্পায়ার। তাঁর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান শেরফান রাদারফোর্ডকে আউট দেওয়া হয়।
কী হয়েছিল
ঘটনাটি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে। ৩৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হয়ে বল করছিলেন নামান ধীর। তাঁর করা বলটি কাট করতে যান রাদারফোর্ড। বলটি উইকেটকিপার লোকেশ রাহুলের হাতে গেলে ক্যাচের আবেদন করে ভারত। মাঠের আম্পায়ারও আউট দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন রাদারফোর্ড।
রিপ্লেতে বল ব্যাটের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি স্পাইক দেখা যায়। এরপর বিষয়টি যায় তৃতীয় আম্পায়ার বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার কাছে। রিপ্লে দেখে তিনি মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তবে সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না রাদারফোর্ড। তিনি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের অসন্তোষও জানান। মাঠ ছাড়েন ক্ষুব্ধ অবস্থায়।
যা নিয়ে বিতর্ক
রিপ্লেতে আরেকটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন। বল ব্যাটের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একই সঙ্গে ব্যাট ও প্যাডের সংস্পর্শ দেখা যায়। ফলে স্পাইকটি ব্যাটে বল লাগার কারণে তৈরি হয়েছিল, নাকি ব্যাট প্যাডে লাগার কারণে—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে বল ও ব্যাটের মধ্যে একটা ফাঁক ছিল।
বিষয়টি নিয়ে তখন ধারাভাষ্যকার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ইয়ান বিশপও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাদারফোর্ড মোটেও খুশি ছিলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল, ব্যাট বলের বদলে প্যাডে লেগেছিল। তৃতীয় আম্পায়ারের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন বিশপ। তিনি বলেন, ‘তৃতীয় আম্পায়ার বলেছেন, ব্যাট ও বলের মধ্যে কোনো ফাঁক তিনি দেখতে পাননি। এটা ইন্টারেস্টিং।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এই যেমন সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্ত এক্সে লিখেছেন, ‘রাদারফোর্ড আউট ছিলেন না। টিভি আম্পায়ার কীভাবে বল আর ব্যাটের এজের মধ্যে কোনো ফাঁক দেখেননি, তা আমি বুঝতে পারছি না—যেখানে একই টিভিতে আমরা সবাই স্পষ্ট দেখেছি, সেখানে ফাঁক ছিল। স্নিকোতে যে শব্দটি ধরা পড়েছিল, সেটি ছিল ব্যাট প্যাডে লাগার। বাজে সিদ্ধান্ত।’
রাদারফোর্ডের আউট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ৪৮.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় পায়।
এ জয়ে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ভারত।
কাভান সুলিভান
অভিষেক হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে দিলেন কাভান সুলিভান। দেশটির ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা এখন তিনি। শনিবার রাতে মেক্সিকোর বিপক্ষে তিনি গোল করেছেন। তখন তার ছিল বয়স ১৭ বছর ৫ দিন।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে গোলটি আসে। মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেলের একটি পাস ধরে ফেলেন সুলিভান। এরপর দারুণ এক চিপে বল গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান। এই গোলে যুক্তরাষ্ট্র ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। মেক্সিকো কনকাকাফ অঞ্চলে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
কয়েক দিন আগেই রেকর্ডটি গড়েছিলেন সতীর্থ মাথিস আলবার্ট। মঙ্গলবার চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর ১৩১ দিন। সুলিভান সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
রেকর্ড গড়া সুলিভানের নতুন কিছু নয়। ১৭তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে তিনি পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শুরুর একাদশে নামেন। ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনিই যুক্তরাষ্ট্র দলের সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্ত খেলোয়াড়।
ক্লাব পর্যায়েও তিনি ইতিহাস গড়েছেন। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই একাডেমির খেলোয়াড় মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে এমএলএসে অভিষেক করেন। উত্তর আমেরিকার কোনো শীর্ষ লিগে এত কম বয়সে কেউ নামেননি। ফ্রেডি আদুর ২০ বছরের পুরোনো রেকর্ড তিনি ভেঙে দেন। আদু ২০০৪ সালে ১৪ বছর ৩০৬ দিন বয়সে অভিষেক করেছিলেন।
এ মৌসুমে ইউনিয়নের হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন সুলিভান। সে কারণেই এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্র দলে ডাক পেয়েছেন। শেষ আট এমএলএস ম্যাচেই তিনি ছয়টি গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন। তার পারফর্ম্যান্সে ভর করে ফিলাডেলফিয়া টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থেকেছে। এটি ক্লাবের রেকর্ড।
সেপ্টেম্বরে তিনি এমএলএসের মাসসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। এই সম্মান পেতে তিনি লিওনেল মেসিসহ অনেককে পেছনে ফেলেন। সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার জেতার রেকর্ডও এখন তার। সেপ্টেম্বরে মাত্র চার ম্যাচে তার গোলে অবদান ছিল নয়টি। চারটি গোল, পাঁচটি অ্যাসিস্ট।
এই মাসেই তিনি আদুর আরেকটি রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৬ বছর বা তার কম বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড ছিল আদুর। সুলিভান ১৩ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো এফসির বিপক্ষে ম্যাচে ১১তম অবদান রেখে সেটি পেছনে ফেলেন। আগের রেকর্ড ছিল ১০।
দুর্দান্ত খেলেছেন বেলিংহ্যাম ও কেইন
হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা জোড়া গোল করেছেন। জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্থনি গর্ডন ও মর্গান রজার্সও গোলের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সব মিলিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে উয়েফা নেশনস লিগে দারুণ জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। রিজেকার মাঠে শনিবার (৩ অক্টোবর) টমাস টুখেলের দল শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। এই জয়ে নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে প্রথম তিন ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় হলো দুটি। টুখেল দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়।
ম্যাচের মাত্র অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অভিষেক শুরুর ম্যাচ খেলতে নামা অ্যালেক্স স্কটের নিখুঁত পাস থেকে বল পান বেলিংহ্যাম। এরপর তার দারুণ থ্রু-পাসে বল পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন।
২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহ্যাম। ২৭ পাসের দুর্দান্ত এক আক্রমণের শেষে সাকার ক্রস ঠিকভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছায়নি। তবে অ্যান্থনি গর্ডন মাঝআকাশে বল নিয়ন্ত্রণ করে আবার বক্সে পাঠান। সেখান থেকে বেলিংহ্যাম পায়ের ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন। ৩৯ মিনিটে ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোলটি করেন গর্ডন। জ্যারেল কুয়ানসাহর নিখুঁত ক্রসে ছয় গজ দূর থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ চার ম্যাচে এটি গর্ডনের চতুর্থ গোল।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও গোলের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার বক্সে দুর্দান্তভাবে ঢুকে পড়ে বেলিংহ্যাম বল বাড়িয়ে দেন সাকার দিকে। সেখান থেকে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন আর্সেনাল উইঙ্গার। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
বিরতির পরও ক্রোয়েশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখে ইংল্যান্ড। ৫৩ মিনিটে আবারও গোল করেন কেইন। অ্যান্ডারসনের ক্রসের দিকে ছুটে গিয়ে স্লাইডিং ফিনিশে বল জালে পাঠান বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। ৬৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাকা। কেইনের পাস থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগের আরেকটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই গোল করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে ইংল্যান্ডের সপ্তম গোলটি আসে মর্গান রজার্সের পা থেকে। বেলিংহ্যামের পাস পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচকে কাটিয়ে বল জালে পাঠান বদলি হিসেবে নামা রজার্স।
গোল করেই থেমে থাকেননি বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের সাত গোলের মধ্যে তিনটিতেই সরাসরি সহায়তা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। পুরো ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
এই জয়ে নেশনস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নেয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্যে থাকতে পারলেই আগামী মার্চে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে তারা।
টিকেটের চড়া দামের কারণে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামের গ্যালারি পুরোপুরি পূর্ণ না হলেও, বড় জয় নিয়ে নিজেদের এশিয়া সফর সফলভাবে শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ভারতকে। যদিও কাঙ্ক্ষিত মন ভোলানো ফুটবল উপহার দিতে পারেনি সেলেসাওরা, তবে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য আর ঐতিহ্যের ব্যবধান ঠিকই মাঠে ফুটিয়ে তুলেছে তারা। অন্যদিকে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াইয়ের ম্যাচে আশাব্যঞ্জক উন্নতির ছাপ রেখেছে ভারতীয় দলও।
শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন উদীয়মান তারকা এস্তেভাঁও। এরপর আক্রমণ শানিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরোয়ার্ড পেদ্রো। ভারতের ডিফেন্ডাররা প্রথমার্ধে কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের তারকাখচিত আক্রমণভাগের সামনে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই গোলে এগিয়ে থেকে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় কার্লো আনচেলত্তির দল।
বিরতির পর খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিলিয়ানরা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দেন সামুয়েল লিনো। ভারতের ফুটবলাররা মাঝেমধ্যে কিছু ভালো আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।