সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৬ এএম

৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে সেনেগাল। এরপর ঘটলো একের পর এক নাটকীয়তা। তিন মিনিটের ব্যবধানে বেলজিয়াম শোধ করে দিলো গোল দুটি। ২-২ গোলে সমতা, এরপর খেলা গড়ালো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। এখানেও সমতাতেই শেষ হতে যাচ্ছিল।কিন্তু আচমকা বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দিয়ে দিলেন রেফারি। যদিও বিতর্কিত ভিএআরের সাহায্য নিয়েছেন তিনি। অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টিটা দিয়েই সেনেগালের বিদায় ঘণ্টা নিশ্চিত করে দেওয়া হয়। এরপর স্পট কিক নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সারেন শুধু তিলেমান্স।


শ্বাসরূদ্ধকর এবং নাটকীয় ম্যাচে আফ্রিকান সিংহ সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে গেলো বেলজিয়াম। বিদায় হয়ে গেলো সেনেগালের।


নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল টাইব্রেকারই ভাগ্য নির্ধারণ করবে, তখন ১২৫তম মিনিটে ইউরি তিলেমান্সের পেনাল্টির গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।


শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনেগালের হাতে। প্রথমার্ধে তারা বেলজিয়ামকে কার্যত চেপে ধরে। ১৪ মিনিটে ইসমাইলা সার পোস্টে বল মারেন, এরপর ২৫ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে। সাদিও মানের দারুণ ক্রসে সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্রুততম সময়ে বল জালে ঠেলে দেন হাবিব দিয়ারা।


বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি সেনেগাল। ৫০ মিনিটে দিয়ারার সামনে সহজ সুযোগ এলেও তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। তবে এক মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসমাইলা সার। মুসা নিয়াখাতের দীর্ঘ পাস বুকে নামিয়ে অসাধারণ ভলিতে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ক্রিস্টাল প্যালেস ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল, যা ১৯৯০ সালে রজার মিলার পর এক বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে তাকে ভাগ বসায়।


২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেলজিয়াম কোচ একের পর এক পরিবর্তন আনেন। বিরতিতেই মাঠে নামানো হয় রোমেলু লুকাকুকে। এরপর ডোদি লুকেবাকিও, দিয়েগো মোরেইরা ও থমাস মুনিয়েরকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন তিনি।


শেষ পর্যন্ত সেই পরিবর্তনের সুফল আসে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে। ৮৬ মিনিটে মুনিয়েরের ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান লুকাকু। বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে নেমে এটি ছিল তার তৃতীয় গোলের অবদান।


এরপর মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ৮৯ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ভাসানো ক্রসে গোলরক্ষক এদুয়ার্দ দিয়াওকে হারিয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন ইউরি টিলেমান্স। ২-২ সমতায় ফিরেই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় বেলজিয়ানরা।


অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলায় বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সেনেগালও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, আর বেলজিয়াম ক্রমাগত ক্রস ও লং বলের মাধ্যমে সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যায়।


ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে। ১১৮ মিনিটে দিয়েগো মোরেইরার ক্রস থেকে লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লাগে। একই আক্রমণে টিলেমান্সকে বক্সে ফেলে দেন লামিন কামারা। প্রথমে রেফারি খেলা চালিয়ে দিলেও ভিএআরের পর মনিটরে দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।


পেনাল্টি নেওয়ার আগে সেনেগালের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ, ধস্তাধস্তি ও দীর্ঘ বিরতিতে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে ওঠে। তবে সব চাপ সামলে ১২৫তম মিনিটে টিলেমান্স ডান দিকের উপরিভাগে নিখুঁত শটে গোলরক্ষক দিয়াওকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই অতিরিক্ত সময়ে সর্বশেষ মুহূর্তে করা জয়সূচক গোলগুলোর একটি।


শেষ বাঁশি বাজার আগে সেনেগাল আর ফিরতে পারেনি। শেষ সুযোগে এমবায়ের শট কোর্তোয়ার হাতে জমা পড়ে, এরপরই শেষ হয় রুদ্ধশ্বাস লড়াই।


পুরো ম্যাচে দীর্ঘ সময় সেনেগালই ছিল সেরা দল। তারা সুযোগ তৈরি করেছে বেশি, আক্রমণেও ছিল ধারালো। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে অভিজ্ঞতার জোরে ম্যাচে ফিরে আসে বেলজিয়াম। লুকাকুর গোল, টিলেমান্সের জোড়া গোল এবং শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি—সব মিলিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে ইউরি গার্সিয়ার দল। অন্যদিকে দারুণ ফুটবল খেলেও শেষ মুহূর্তের হতাশায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো সাদিও মানেদের।








  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ফুটবলার কাভান সুলিভান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।


দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।


এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।


এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।


এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


নেইমার জুনিয়র

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

চোটের দুর্ভাগ্য যেন পিছুই ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের। ডান উরুর পেশিতে চোট পাওয়ায় চার থেকে আট সপ্তাহ (প্রায় দুই মাস) মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


গত বৃহস্পতিবার কোপা দো ব্রাজিলের ম্যাচে পালমেইরাসের বিপক্ষে খেলার সময় উরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন নেইমার। পরদিন মেডিকেল পরীক্ষায় তার ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২বি চোট ধরা পড়ে। এই ধরণের ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হতে সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগে। 


সান্তোসে ফেরার পর থেকেই ঘন ঘন ইনজুরিতে পড়ছেন নেইমার। গত বছরের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাবে ফেরার পর থেকে বাম উরু, একই ডান রেক্টাস ফেমোরিস, বাম হাঁটুর মেনিস্কাস এবং ডান কাফে একাধিকবার চোটে পড়েছেন তিনি। সবশেষ চোটের আগে ও বিশ্বকাপ চলাকালীনও কাফের সমস্যায় ভুগেছিলেন।


সান্তোস কর্তৃপক্ষের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, চোট পাওয়ার পর কখনই দ্রুত মাঠে ফিরতে পারেননি নেইমার; বরং বেশিরভাগ সময়ই তাঁকে সর্বোচ্চ অনুমিত সময়ের চেয়েও বেশিদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। তাই এবারও দলের প্রাণভোমরার চিকিৎসায় কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না ক্লাবটি।


ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রেলিগেশন বা অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা সান্তোসের জন্য এটি বিশাল ধাক্কা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাসিওনালের বিরুদ্ধে পরবর্তী লিগ ম্যাচ ছাড়াও কোপা সুদামেরিকানার কোয়ার্টার ফাইনালেও দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ক্লাবটিকে।


এদিকে পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারের পাশাপাশি আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে সান্তোস। ডান গোড়ালির মচকে যাওয়ার কারণে ইন্টারন্যাসিওনালের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার লুকাস ভেরিসিমো। আরেক ফরোয়ার্ড আলভারো বারেয়ালের বাম উরুর বাইসেপস ফেমোরিস পেশিতে টাইপ ২এ টিয়ার ধরা পড়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

টানা দুই ম্যাচে হারের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। তবে সেই ম্যাচে ডাগআউটে থাকছেন না কোচ জেরার্ড জোন্স। সিরিয়ার কাছে বড় হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।


বৃহস্পতিবার তাসখন্দে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছেও ২-০ গোলে হেরেছিল ইয়াং টাইগার্সরা। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়ার পর জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাফুফে। 


বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে ই-মেইল পাঠিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেডারেশন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


জোন্সের জায়গায় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে থাকবেন। এমনিতে জোন্সের আচার আচরণ নিয়ে বাফুফে বেজায় অসন্তুষ্ট ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অহেতুক নেতিবাচক কথাবার্তা বিপাকে ফেলেছিল।


জোন্সের বিদায়ের পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। এ বিষয়ে দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও বাফুফের পক্ষ থেকে মিশুকে জানানো হয়েছে। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দলের অবস্থান করা হোটেল থেকেও জোন্সকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জোন্সের বকেয়া ও অন্যান্য আর্থিক পাওনা পরিশোধ করবে বাফুফে। পাশাপাশি নিজের পছন্দের গন্তব্যে ফেরার জন্য তার বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করবে ফেডারেশন।


যুব দলের দায়িত্বে জোন্সকে নিয়োগের পর থেকেই তাকে ঘিরে নানা জটিলতায় পড়েছিল বাফুফে। বেতন নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে তার সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে। ঢাকায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা যায়। এমনকি উজবেকিস্তানে মিশুকে দলের সঙ্গে না নেওয়ার ব্যাপারে জোন্স অনড় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাফুফের মধ্যস্থতায় দুজনই উজবেকিস্তানে যান। তবে জোন্সের আপত্তির কারণে মিশু প্রথম দুই ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারেননি। সিরিয়ার বিপক্ষে হারের পর অবশ্য জোন্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল ফেডারেশন।


ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার পর মিশু বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ সব সময়ই মর্যাদার। আমাদের জন্য টুর্নামেন্ট প্রায় শেষই। গাণিতিক কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যদিও। আমরা ভারতের বিপক্ষে তিন পয়েন্টের জন্য খেলব।’


আজ রিকভারি সেশন করবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তান সময় বিকেল ৪টায় আতিকুর রহমান মিশুর অধীনে অনুশীলনে নামবে দলটি। ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে বাংলাদেশের বাছাইপর্বের অভিযান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২০ পিএম

শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা থেকে সরেই গেল মেয়েদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। ২০২৭ সালে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হবে ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ছয় দল ও ভেন্যুর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


আগামী বছর প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) হারিয়েছে আয়োজকস্বত্ব। তবু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে থাকছে শ্রীলঙ্কা। কারণ, নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ছয় দল অংশ নেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ৬ জুলাই কাট অফ ডেটে র‍্যাঙ্কিংয়ের ছয় নম্বরে ছিল বলেই লঙ্কানরা থাকছে এই টুর্নামেন্টে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশগ্রহণ করা অন্য পাঁচ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় দুই মাস আগের আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছিল আট ও দশ নম্বরে।


এমনকি নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হতে পারত বাংলাদেশেই। কিন্তু আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত—এই তিন দেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। গত পরশু আইসিসি বোর্ড ভারতকে আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, ‘২০২৭ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করবে। প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের সেরা দলগুলোকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের একটি প্রতিযোগিতা উপহার দিতে পারবে।’


আগামী বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম মৌসুম। মুম্বাইয়ের ব্র্যাবোর্নের ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ভাদোদারা—এই দুই ভেন্যুতে হবে আইসিসির এই ইভেন্ট। ব্র্যাবোর্নে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় ভারতীয় নারী দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি নারী প্রিমিয়ার লিগের (ডব্লুপিএল) প্রথম মৌসুম আয়োজন করেছিল। ২০২৫ ডব্লুপিএলেও এখানে কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ভাদোদারাতেও ডব্লুপিএলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আইসিসি রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ করা কোনো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেয় না। রূপান্তরকরণ কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসএলসির প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাগুলোতেও অংশ নিচ্ছেন না। এই কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বোর্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। অথচ এই নির্বাচনী ব্যবস্থাই সংস্কার করা এবং সামগ্রিকভাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সংবিধান সংশোধন করাই ট্রান্সফরমেশন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশটির আইন অনুযায়ী এসব পরিবর্তন কেবল সংসদের মাধ্যমে করা সম্ভব।


তিন বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কা কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজনের অধিকার হারাল। ২০২৩ সালে বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২৪ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেটি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়।


আয়োজকস্বত্ব হারানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেও বাদ পড়ার উপক্রম হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। কারণ, ৩০ আগস্টের র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয় ও সাত নম্বরে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। গতকাল হালনাগাদের পর এক ধাপ এগিয়ে শ্রীলঙ্কা ছয়ে উঠে এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে সাত নম্বরে। যদিও দুই জনেরই সমান ২৩১ রেটিং পয়েন্ট। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এবারও আট ও দশ নম্বরে অবস্থান করছে।


লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন। হাতে লেখা আবেগঘন বার্তা ও ভিডিওর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছেন রোজারিওর মহাতারকা। 


তবে মেসির বিদায়ের সঙ্গে নতুন একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি এবার কার গায়ে উঠবে?


২০০৯ সালের ২৮ মার্চ ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন মেসি। সেদিন ৪-০ গোলের জয়ে জাতীয় দলের হয়ে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয় তার। এরপর প্রায় দুই দশক ধরে ১০ নম্বর জার্সি মানেই হয়ে উঠেছিল মেসি।


মেসির বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই সেই জার্সির উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবশ্য তার অনুপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ফুটবলারকে ১০ নম্বর পরে মাঠে নামতে দেখা গেছে।


২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে মেসির অনুপস্থিতিতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এর আগে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জার্সি গায়ে খেলেছেন আনহেল কোরেয়া। ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৪-১ গোলের বড় জয়েও ১০ নম্বর ছিল তার গায়ে। চিলির বিপক্ষে ম্যাচে এই জার্সি পরেছিলেন পাওলো দিবালা। 


তবে মজার বিষয়, এদের কেউই ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চূড়ান্ত দলে ছিলেন না। ফলে মেসির স্থায়ী উত্তরসূরি হিসেবে কারও নাম এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।


আর্জেন্টিনা দলে নিয়মিত থাকা কয়েকজন অবশ্য ক্লাব পর্যায়ে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে পরিচিত। ইন্টার মিলানের লাউতারো মার্তিনেজ, লিভারপুলের অ্যালেক্সিস ম্যাকআলিস্টার ও কোমোর নিকোলাস পাজ। তিনজনই ক্লাব ফুটবলে ১০ নম্বর পরে খেলেছেন।


এ ছাড়া রদ্রিগো ডি পল রেসিং ও উদিনেজেতে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন। বোকা জুনিয়র্সে এই নম্বরে খেলেছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। থিয়াগো আলমাদা ভেলেস সার্সফিল্ড ও আটলান্টা ইউনাইটেডে ১০ নম্বর পরেছেন। রোসারিও সেন্ট্রালে জিওভানি লো সেলসো এবং আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ও ফিওরেন্তিনায় নিকোলাস গঞ্জালেসের গায়েও ছিল এই জার্সি।


তবে জাতীয় দলের ১০ নম্বর আর ক্লাবের ১০ নম্বর এক বিষয় নয়। মেসির দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে এই জার্সি নেওয়ার সঙ্গে বাড়তি চাপ ও প্রত্যাশাও থাকবে। তাই নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ভাবতে হবে বেশ কয়েকটি দিক।


সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরবর্তী ফিফা উইন্ডোতেই মিলতে পারে প্রথম ইঙ্গিত। মেসির পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি শেষ পর্যন্ত কার গায়ে ওঠে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১২ পিএম

নারী এশিয়া কাপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে নাহিদা আক্তারের দারুণ স্পেলের সঙ্গে মারুফা আক্তারের কার্যকর বোলিংয়ে মাত্র ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া।


বাংলাদেশের দেয়া ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ আগ্রাসী ছিল ইন্দোনেশিয়ার। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিংয়ে প্রথম দিকে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় বাংলাদেশকে।


তবে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। মারুফা আক্তারের পরপর দুই আঘাতে ইন্দোনেশিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি প্রতিপক্ষ।


ইন্দোনেশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।


বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। মারুফা আক্তার পান ২ উইকেট।


সোমবার (৩১ আগস্ট) দুইাবয়ে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। শুরুতেই ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরার পর দলের হাল ধরেন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।


দুজন মিলে যোগ করেন ৪০ রান। ২৭ রান করে দিলারা ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর সোবহানা এগিয়ে নেন ইনিংস। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করে তিনিই হন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক।


শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। মাত্র ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি।


নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান তোলে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার হয়ে আরিয়ানি নেন ৩ উইকেট। ৭১ রানের বড় জয়ে এশিয়া কাপের অভিযান শুরু হলো বাংলাদেশের। আগামী রোববার একই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের দল।


সংক্ষিপ্ত স্কোর


বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৯/৮

সোবহানা ৪০, স্বর্ণা ৩১*, দিলারা ২৭; আরিয়ানি ৩/২৮।


ইন্দোনেশিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৫৮/১০

মারিয়া ১২, প্যাঙ্গেসতুতি ৯; নাহিদা ৩/১৫, মারুফা ২/৬।


ফল: বাংলাদেশ ৭১ রানে জয়ী।