ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৯ এএম

আটলান্টায় সেমিফাইনালের রাতটা ছিল নিঃশ্বাসরুদ্ধ নাটক। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ স্পেন। জয়সূচক গোলটির শেষ পাসটি এসেছিল মেসির পা থেকে। ম্যাচ শেষে খেলায় না নামা জিওভান্নি লো সেলসো মেলে ধরেন একটি সাদা ব্যানার– ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। ব্যানারটি প্রথমে উঠেছিল গ্যালারির সমর্থকদের হাতেই। বিজয়ের উল্লাসের মধ্যে হঠাৎ যেন জেগে উঠল ইতিহাসের এক পুরোনো ক্ষত।


এর কয়েক দিন আগেই নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তাই ফাইনালের রাতে নিউ জার্সির গ্যালারিতে কৌতূহলোদ্দীপক এক দৃশ্য দেখা যেতে পারে। হলুদ জার্সির ভিড়ে অনেক ব্রাজিলীয় দর্শকের হাতে উঠতে পারে আকাশি-সাদা পতাকা। কেউ মেসির জন্য, কেউ দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদার জন্য, কেউ আবার ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের মহাদেশের প্রতিনিধিকে সমর্থন জানাতে।


এটি অবশ্য ব্রাজিলের সর্বজনীন অবস্থান নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও তীব্র। বহু ব্রাজিলীয় নিশ্চয়ই স্পেনকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ব্রাজিলের একটি দৃশ্যমান অংশের আর্জেন্টিনা-প্রীতিকে নিছক মেসিপ্রেম বলে দেখলে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল ও সামাজিক বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়ালে থেকে যায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিপক্ষ, কিন্তু ভূগোলের দুই অপরিচিত রাষ্ট্র নয়। তাদের মধ্যে বারো শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত। ইগুয়াসু নদী দুই দেশের সীমারেখা টেনেছে, আবার মানুষকেও যুক্ত করেছে। ফজ দো ইগুয়াসু, পুয়ের্তো ইগুয়াসু কিংবা মিসিওনেস অঞ্চলে সীমান্ত শুধু পাসপোর্টের রেখা নয়; তা বাজার, কর্মসংস্থান, পর্যটন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা ও প্রেমের পথ।


দুই পাশে রাষ্ট্রভাষা আলাদা– ব্রাজিলে পর্তুগিজ, আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ। কিন্তু সীমান্তবাসীর মুখে জন্ম নিয়েছে মিশ্র ভাষা ‘পোর্তুনিয়ল’। এই ভাষা অভিধান থেকে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাজারে দরকষাকষি করতে গিয়ে, সীমান্ত পারাপারের বাসে গল্প জমাতে গিয়ে, মাঠে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে, কখনও এক দেশের তরুণের সঙ্গে অন্য দেশের তরুণীর প্রেমে পড়ে।


ব্রাজিলীয়রা আর্জেন্টিনায় পড়তে যান, চিকিৎসা নেন, ব্যবসা করেন। আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের সৈকত, নগর ও কর্মবাজারের দিকে ছুটে যান। হাজারো পরিবারে দুই দেশের নাগরিকত্ব, ভাষা ও স্মৃতি পাশাপাশি বাস করে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গভীর হলেও তা সব সময় শত্রুতা নয়। বরং অনেকটা একই পরিবারের দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের মতো, যারা পরস্পরকে হারাতে চায়, কিন্তু বাইরের কেউ পরিবারের একজনের সামনে দাঁড়ালে অন্যজনের ভেতরে জেগে ওঠে অদৃশ্য আত্মীয়তা।


এই সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্ত। সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ সন্দেহ পেছনে ফেলে দুই দেশ আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে। পরে সেই আস্থা পথ তৈরি করে মেরকোসুরের। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়; গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।


আজও দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রাজিলের অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বাজার। আর্জেন্টিনার গম, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। আবার ব্রাজিলের শিল্পপণ্য ও বিনিয়োগ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বদলায়, মতাদর্শ বদলায়, কিন্তু নদীর স্রোত কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকের পুরোনো পথ সহজে বদলায় না।


মালভিনাস বা ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রাজিলের অবস্থান এই মহাদেশীয় আত্মীয়তার গভীরতম প্রমাণ। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার ভাষা ব্যবহার করলেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমর্থনের ইতিহাস ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়েছিল।


ফকল্যান্ড যুদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার বহু মানুষের কাছে শুধু আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সংঘর্ষ ছিল না। সেটি ছিল ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে এই মহাদেশের একটি দেশের ভূখণ্ডগত দাবির লড়াই। আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু জান্তার অপরাধ আর দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এক নয়। ব্রাজিল কূটনৈতিকভাবে এই পার্থক্য ধরে রেখেছে।


তাই লো সেলসোর হাতে মালভিনাসের ব্যানার নিছক একটি বিতর্কিত ফুটবল-মুহূর্ত নয়। এর ভেতরে আছে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ডবধ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ স্মৃতি। ব্রাজিলীয়দের একাংশের আর্জেন্টিনা-সমর্থনের গভীরেও তাই ইউরোপের বিপরীতে মহাদেশীয় সংহতির একটি নীরব সুর কাজ করতে পারে।


ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ, আর্জেন্টিনা স্পেনের। দুই সমাজই গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদ, আফ্রিকীয় দাসত্ব, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও পরবর্তী অভিবাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের জাতিগত বিন্যাস এক নয়, কিন্তু উভয়ের জাতীয় পরিচয়ই মিশ্র। তাদের ঐক্য একই জাতিগোষ্ঠীতে নয়, বরং মিশ্রণের অভিজ্ঞতায়।


সাম্বা ও ট্যাঙ্গোর তাল আলাদা, কিন্তু দুটিই উঠে এসেছে বন্দরনগর, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসন, প্রেম ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকে। ব্রাজিলের ‘জোগো বনিতো’ আর আর্জেন্টিনার ‘লা নুয়েস্ত্রা’ও এক নয়, কিন্তু দুই দর্শনই ফুটবলকে নিছক শক্তি ও কৌশলের বাইরে নিয়ে গেছে। ইউরোপ ফুটবলকে শৃঙ্খলা দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা দিয়েছে ড্রিবল, কল্পনা, রাস্তার ফুটবল ও ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার সৌন্দর্য।


এই সমর্থনের সবচেয়ে মানবিক কারণ অবশ্য মেসি। পেলে ও ম্যারাডোনার পর দক্ষিণ আমেরিকা এমন একজন খেলোয়াড় পেয়েছে, যাকে জাতীয় সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তিনি আর্জেন্টাইন, কিন্তু তাঁর প্রতিভার উত্তরাধিকার পুরো মহাদেশের। তাঁর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল বহু ব্রাজিলীয়র কাছেও একটি যুগের বিদায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যকে হারিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। আবার বাইরের পৃথিবী দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখলে তারা পরস্পরের সাফল্যের মধ্যেই নিজেদের মর্যাদা খুঁজে পায়। এ সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে জটিল, শত্রুতার চেয়ে গভীর। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, ঈর্ষা আছে, ইতিহাসের ক্ষত আছে; আবার আছে সীমান্ত পেরোনো প্রেম, বাণিজ্য, একই নদীর জল এবং একই মহাদেশের স্মৃতি।


রোববার রাতে ব্রাজিলের যে দর্শক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে তুলবেন, তিনি নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না। তিনি শুধু স্বীকার করবেন, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীটিই তাঁর সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। হলুদ-সবুজ জার্সির নিচে হৃদয়টা তখনও থাকবে ব্রাজিলের, শুধু তার একটি অলিন্দে বাজতে থাকবে বুয়েনস এইরেসের ছন্দ।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ পিএম

ম্যান সিটি ৫ : ১ এইকে এথেন্স


লিভারপুল ৪ : ৩ ভিয়ারিয়াল


চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। আগে সিটির কথা। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে।


ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।


ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। এবার পেলেন একসঙ্গে তিন গোল!


বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত।


অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল।


ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। এর মাশুল দিতে হয় শুরুতেই। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।


দুই গোল হজম করার পর ঘুম ভাঙে লিভারপুলের। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।


কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ বানিয়ে দেন এনগুমোহা। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।


শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের সমর্থকদের। শেষ রক্ষা হয়নি। ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।

সর্বশেষ সব খবর

শারজাহতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের সঙ্গে পরামর্শ করছেন পেসার হাসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের ভেতরে একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সোমবার সকালের টিম মিটিংয়ে খোলামেলা কথা বলে তার একটা সমাধান করা গেছে বলে জানান কোচ ফিল সিমন্স। মিটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্রিকেটারদের দিক থেকে। এই প্রতিশ্রুতি টিম মিটিংয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়ার সামনে এসে আশার কথা শোনাননি দলীয় প্রতিনিধিদের কেউই। সোমবারের ভিডিও বার্তায় কোচ সিমন্স জোর দেন ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়ার ওপর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কোচের মন্ত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচ ভেন্যু শারজাহতে পৌঁছে ওপেনার তানজিদ হাসান সাহস নিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে পারেননি আজ আফগানদের হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চান ত্রিদেশীয় সিরিজের। তবে বাংলাদেশ যে জয়ের জন্যই খেলবে, এতে সন্দেহ নেই। আর সে জয় হতে হবে যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়ে।


সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিতে যাওয়ায় কিছু সমীকরণের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর রান তাড়া করতে হলে ৮.৩ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করতে পারলে ৪১ রানে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ফাইনালে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নপূরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে ম্যাচ জিততে টসেও পেতে হবে জয়। যাতে করে শারজাহ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দেন তানজিদ, ‘আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, আমরা যদি একই মানসিকতা নিয়ে, দেশের বাইরেও একই প্রস্তুতি, সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়ে যদি খেলতে পারি, একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়। তো ইতিবাচক কিছু হবে সামনে।’ 


বাংলাদেশ সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন লিটন দাস। টাইগারদের সে স্বপ্নে প্রথম আঘাত করে জিম্বাবুয়ে। এতে সুতায় ঝুলছে স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। আফগানিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে হারাতে পারলে স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। আর হেরে গেলে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। অভীষ্ট লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে আজ সামর্থ্যের চূড়ান্ত দিয়ে খেলতে হবে তানজিদদের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– উজাড় করে দিতে হবে তিন বিভাগে। তাই ব্যাটার তানজিদ জোর দেন ধারাবাহিকতার ওপর, ‘আমার কাছে মনে হয়, ধারাবাহিকতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে। আর মানসিকতা, এই দুটোর সমন্বয় যখন আমাদের ভালো হবে, তখন আমরা চাপের পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে পারব।’ 


আবুধাবিতে ২৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দেয়। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ‘মুস্তাফিজ ও আমাকে কেন ব্যাটিংয়ে যেতে হবে এতগুলো ব্যাটার থাকতে।’ তাসকিনের দাবির সঙ্গে একমত তানজিদ। তিনি চান ব্যাটাররা ভালো ক্রিকেট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করুক। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে এ মুহূর্তে জয় পাওয়া কঠিন। কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। ২০২৪ সালে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে লিটন দাসদের। এ ছাড়া এ দুই দল ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১১টি করে জিতেছে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে ফেভারিটের তকমা জয়ের ছন্দে থাকা আফগানিস্তানের। 


বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। এক দিন অনুশীলনও করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান জুটি বাঁধতে পারেন ওপেনিংয়ে। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সৌম্য সরকারকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী মিরাজকে নিয়ে সাজাতে হত পারে ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি চার বোলারের তিনজন পেসার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় হাসান মাহমুদ খেলতে পারেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ পিএম

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই পরাশক্তির রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বাজি মাত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে লামিনে ইয়ামালের বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচে যখন ২-২ সমতা, ঠিক তখনই ৮১তম মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন ভিতিনিয়া। বক্সের বাইরে বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার এক শটে বল জালে পাঠান গত বছরের ব্যালন্ ডি'অর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এই পর্তুগিজ প্লেমেকার।


এরপর শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইসের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। এই জয়ে চলতি আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ফরাসি ক্লাবটি।


এর আগে বার্সেলোনা অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই বছরের ব্যালন্ ডি'অরের অন্যতম দাবিদার লামিনে ইয়ামাল বার্সার হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান। 


ম্যাচে পিএসজিকে প্রথম এগিয়ে নিয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। পরে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার চাভি এস্পার্ত গোল শোধ করলে আবারো এগিয়ে যান স্বাগতিকরা; দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা এরনান্দেস। এই হারে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে পড়বে না বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের উড়ন্ত সূচনা নিয়ে ফরাসি রাজধানীতে পা রেখেছিল কাতালানরা। সেই জয়রথ থামলেও গোল বন্যা থামেনি। ইয়ামালের গোলটি ছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সার ৫০তম গোল।


অন্যদিকে পিএসজি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে উসমান দেম্বেলে ও খিচা কভারাতসখেলিয়ার চোট। ব্যালন্ ডি'অর জয়ী দেম্বেলে ও জর্জিয়ান উইঙ্গার কভারাতসখেলিয়া মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে।


তাদের চোট কতটা মারাত্মক তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স ও পুরো দলের ছন্দে থাকার ওপর ভর করে সহজেই নকআউট পর্বে ওঠার আভাস দিচ্ছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।


গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল দুই দলের ১৪তম সাক্ষাৎ। তবে বার্সেলোনার জন্য চলতি সপ্তাহে এটিই হয়তো সবচেয়ে বড় ম্যাচ নয়; কারণ আগামী রবিবার লিগায় মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে স্প্যানিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে হারাতে পারলে লা লিগায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বার্সা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ এএম

ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়। 


তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। 


প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। 


আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।


সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩১ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

ক্রিকেট মাঠে কতভাবেই না বেঁচে যান ব্যাটসম্যান! তবে এবার যা ঘটল, তা একটু অন্য রকম। স্টাম্প ভেঙে দিয়েও ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারলেন না বোলার। আর এর পেছনে দায়ী একটি তোয়ালে! কাল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে।


আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়েছিলেন ব্রায়ান বেনেট। কিন্তু সাজঘরে ফেরার বদলে তিনি পেয়েছেন নতুন জীবন। কারণ, বল করার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল!


কী ঘটেছিল?


ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারের। বল করছিলেন ওমরজাই। তাঁর বল সরাসরি আঘাত হানে বেনেটের স্টাম্পে। বোলার-ফিল্ডারদের উদ্‌যাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।


কিন্তু বেনেট দাবি করেন, বল খেলার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল। আর এতে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন।


আম্পায়ার এহসান রাজা লেগ আম্পায়ার ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই আসে সিদ্ধান্ত-ডেড বল! অর্থাৎ, বোল্ড হয়েও আউট হলেন না বেনেট।


আইনে কী বলা আছে?


আইসিসির ছেলেদের ওয়ানডে খেলার প্লেয়িং কন্ডিশনের ২০.৪.২.৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিংবা বল খেলার সময় কোনো শব্দ, নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্ত হলে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করতে পারেন। সেই বিভ্রান্তির উৎস মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে।


বেনেটের ক্ষেত্রে ওমরজাইয়ের রানআপের সময় তোয়ালে পড়ে যাওয়াকে ব্যাটসম্যানের মনোযোগে ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বোল্ড হওয়ার পরও তাঁকে ফিরে যেতে হয়নি সাজঘরে।


তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিল ভিন্নমত। একজনের মতে, বেনেটের উচিত ছিল বল খেলার আগেই সরে যাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, ব্রায়ান বেনেটের স্ট্রোক খেলার আগে সরে যাওয়া উচিত ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শট খেলেছেন, বোল্ড হয়েছেন, এরপর বিষয়টি তুলেছেন।’


অন্য ধারাভাষ্যকার অবশ্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে তোয়ালে পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। শেষ কয়েক সেকেন্ডে তোয়ালে পড়ে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। বেনেট বিষয়টি আম্পায়ারকে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, বাস্তববুদ্ধির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’


এভাবে বেঁচে গিয়েও বেনেট কাল ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৩১ রানে ম্যাচের ১৩তম ওভারে আউট হন। তাঁর দল জিম্বাবুয়েও হারে ১৫৮ রানে।

সর্বশেষ সব খবর

এক মাস নিষিদ্ধ রোনালদো, সঙ্গে জরিমানা

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ঘোষণা


ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শাস্তির মুখে পড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো আর্থিক জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। সোমবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম গোল ডটকম।


গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল। নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে পুরো সময় সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয় ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। রোনালদোর দাবি ছিল, কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে অন্তত আধা ঘণ্টা মাঠে খেলানোর পূর্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে কোচের বিষয়টি খোলাসা করার কথা থাকলেও তা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।


পর্তুগিজ অধিনায়ক কোচের এমন আচরণের প্রতিবাদে ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে দলের চলমান অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে আকস্মিকভাবে বেরিয়ে যান। তবে কোচ জর্জ জেসুস রোনালদোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেন। যদিও ভবিষ্যতে রোনালদোর দলে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি।


পরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে দলের সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং দলকে ফেলে আসার ভুল স্বীকার করে তিনি জানান, একজন আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ওপর আরও কঠোর দৃষ্টি থাকা স্বাভাবিক এবং এই আচরণের দায় কোনো শাস্তি ছাড়া শেষ হতে পারে না। ফলে যেকোনো আইনি শাস্তি মাথা পেতে নিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে আবারও ফেরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।


পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের তদন্তে রোনালদোর বিরুদ্ধে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে জ্যোতির্বিদ্যাসম বেতনের তুলনায় তাঁর ওপর আরোপিত ২৫৫ ইউরোর জরিমানাটি প্রতীকী হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই নিষেধাজ্ঞা রোনালদোর দল ছাড়ার দিন অর্থাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকরের (ব্যাকডেটেড) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হতে পারে। 


তবে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার দিনগুলো চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে কি না এবং এটি কোন কোন ম্যাচ ও কার্যক্রমে কার্যকর হবে, তা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনো পুরোপুরি খোলাসা করা হয়নি।


পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিতর্কের ইতি টানার পর ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে পুনরায় জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহী। আগামী ১৪-১৫ নভেম্বর পর্তুগাল তাদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। সেই ম্যাচের আগে রোনালদো জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পান কি না, সেদিকেই এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর।

সর্বশেষ সব খবর