লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু মেসি নয়, ওই সময় আর্জেন্টিনা দলসহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, ফিফার কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীকে একাধিক হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদনের কিছু অংশ ফাঁস হয়েছে। 


স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’ ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বকাপজুড়ে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা দলসহ কয়েকটি দলের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া পুলিশের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বড় হামলার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচকে ঘিরে। এক ব্যক্তি ফোন করে হুমকি দিয়ে দাবি করেন, তিনি ও আরও দুজন ঘরে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। পাশাপাশি জর্ডান দলের সদস্য এবং পুলিশকেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে মেসিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।


আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে হত্যা করবেন। একই দিন অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করেন, স্টেডিয়ামের ভেতরে তিনটি ময়লার স্থানে বোমা রাখা হয়েছে।


নিরাপত্তা বাহিনী কোনো হুমতিকেই হালকাভাবে নেয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ ও এফবিআইকে তদন্তে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কো-অপারেশনের (আইপিসিসি) সহায়তাও নেওয়া হয়। ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হুমকিই ছিল মেসিকে কেন্দ্র করে। তবে আর্জেন্টিনা দল, অন্যান্য দলের খেলোয়াড়, ফিফা কর্মকর্তা, রেফারি ও পুলিশ সদস্যদেরও হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছিল।


মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। ফিফার এক কর্মী জানান, সন্দেহজনক এক ব্যক্তি রোনাল্ডো কখন, কোথায় থাকবেন—এমন তথ্য জানতে চেয়েছিলেন। যদিও ওই ব্যক্তি সরাসরি কোনো হুমকি দেননি, বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়।


বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে রোনাল্ডোর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজনকেও নিরাপত্তার কারণে দূরে রাখা হয়। হিউস্টন, টরন্টো ও মায়ামিতে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এক পর্যায়ে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি পর্তুগাল দলের হোটেলেও ঢুকে পড়েন। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল, তা ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


বিশ্বকাপ চলাকালে ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছিল। একাধিকবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


এদিকে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেক্সিয়ঁর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। ওই ম্যাচের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন রেফারি ও কর্মকর্তাও হুমকিমূলক ই-মেইল ও বার্তা পেয়েছিলেন বলে ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।



সর্বশেষ সব খবর

মেসি ও তার বাবা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি আর নেই, এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে বেশ কিছু গণমাধ্যমে। যেখানে বেশিরভাগই সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়েকে। সংবাদ মাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে রোজারিও শহরের একটি ক্লিনিকে মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।


তবে খবরটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। লিওনেল মেসি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে হোর্হে মেসির মৃত্যুর বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী খবরটি সামনে এলেও, এটিকে এখনই নিশ্চিত মৃত্যু সংবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া সেই গুঞ্জনের পর মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল। ফলে হোর্হে মেসিকে ঘিরে নতুন করে একই ধরনের খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে সংশয়।


বিশ্বকাপে মেসিকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল


এবার অবশ্য আর্জেন্টিনার অন্যতম পরিচিত সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।


লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে হোর্হের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। মেসি যখন কিশোর বয়সে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলতেন, তখন তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হোর্হে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


পরবর্তীতে মেসির ইউরোপযাত্রার সময়ও ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় যান হোর্হে। মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের নানা সিদ্ধান্ত ও পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান ব্যক্তি।


হোর্হে মেসি ও সেলিয়া কুচিত্তিনির চার সন্তানের মধ্যে লিওনেল ছাড়াও রয়েছেন রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। ছেলের বিশ্বজোড়া খ্যাতির আড়ালে থাকা হোর্হে খুব বেশি গণমাধ্যমে আসতেন না। বিভিন্ন সময়ে দেয়া অল্প কিছু সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে করা পোস্টের মাধ্যমেই তাকে দেখা গেছে।


বিশ্বকাপের সময়ও মেসির পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই গ্যালারিতে দেখা গেছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে মেসির পরিবারের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা চোখে পড়ে। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানদের দেখা গেলেও জর্জের উপস্থিতি তেমনভাবে সামনে আসেনি।


এমন পরিস্থিতিতেই নতুন করে তার মৃত্যুর খবর সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে আগেরবারও একই ধরনের গুজব ছড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবারও সতর্ক থাকা জরুরি। আপাতত হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরের সূত্র হিসেবে রয়েছে ইনফোবায়ের প্রতিবেদন। মেসি পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কোনো নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। 


তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।


সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। 


আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’


ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’ 


প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।

সর্বশেষ সব খবর

সাকিব আল হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৮ পিএম

সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি দুই বছর ধরে নিজ দেশ থেকে নির্বাসনে রয়েছেন। 


রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজেও অংশ নিতে চান তিনি।


২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবই করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’


সাকিব বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে ফিরতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে খুব বেশি দেরি করতে চান না। সাকিব বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছি। কিন্তু বয়স তো আর আমার পক্ষে নেই। তাই অবসর নেওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে চাই না।’


সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তার ভাষ্য, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে দুবাইয়ে নেমে জানতে পারেন, বাংলাদেশে আর যেতে পারবেন না। সেখান থেকেই তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।


সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটা আজও জানি না। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।’


সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নতির কথাই বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।


শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।’


বর্তমানে নিজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর একটি মামলা। যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন আমি টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলাম।’


তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ জব্দ আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।


সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি। 


দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতি দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ আলমগীর কবির। 


তার বিশ্বাস, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আরও কয়েকজন সম্ভাবনাময় পেসার উঠে আসছেন, যারা সামনে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


সোমবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আলমগীর বলেন, ‘বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারকে দেখেছেন। যদিও গতির দিক থেকে নাহিদ এখনো আলাদা বলেই মনে করেন তিনি।’


আলমগীর বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ দলে দেখেছি, ১৯ দলেও দেখেছি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও দেখলাম। বেশ কয়েকজন ভালো বোলার আছে। নাহিদ হয়তো আলাদা। ওর গতি গড গিফটেড। ওই পেস এখনও কেউ পায়নি। তবে ভালো ভালো বোলার আছে।’


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে নাহিদকে না পাওয়ায় সমর্থকদের হতাশাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন এই কোচ। তার মতে, যে কোনো দলই নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে পরিকল্পনা করে এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। প্রতিটি দেশেই সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে সবাই পরিকল্পনা করে। আমরা রানার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ও ভালো করলে দল ভালো করবে।’


এদিকে দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরা পেসার এবাদত হোসেনকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন আলমগীর। তার বিশ্বাস, ইনজুরি থেকে ফেরার পর আগের ছন্দ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।


এবাদতকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অফ ফর্মে না ঠিক। ও তো ইঞ্জুরিতে ছিল, এখন কামব্যাক করেছে, একটু তো মাথায় ইঞ্জুরির ব্যাপারটা থাকবেই। সময় দিলে আগের ছন্দে ফিরে আসবে।’

সর্বশেষ সব খবর

জিনেদিন জিদান

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!


আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ। 


কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে। 


ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!

সর্বশেষ সব খবর

রোনালদো–জর্জিনা

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।


এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।


স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।


আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।


বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।


সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।


বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।

সর্বশেষ সব খবর