ছবি : সংগৃহীত
আকস্মিক বন্যার শিকার হয়ে দুই দিন ধরে থাইল্যান্ডের একটি বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় টেবিল টেনিস দলের পাঁচ খেলোয়াড় ও কোচ।
আটকা পড়া দলের সদস্যরা হলেন রামহিম লিয়ন বম, ইমরুল কায়েস ইমন, সোনাম সুলতানা সোমা, নওরিন সুলতানা মাহি, সামান্তা হোসেন তুসি এবং দলের কোচ ও ফেডারেশনের সদস্য মো. মোহসিনুল আলম ঝিনু।
এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ম্যানেজার ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল হক সাদী এবং পুরুষ দলের শীর্ষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয় ভিন্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকায় সৌভাগ্যক্রমে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
জানা গেছে, মূলত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীরাই এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে থাই এয়ারওয়েজ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ দলের সদস্যদের এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এদিকে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন খেলোয়াড়দেরকে ভিন্ন ফ্লাইটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
কর্মচাঞ্চল্য শেষে যে বয়সে অধিকাংশ মানুষই অবসরের জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সেও তোশিসুকে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে জয়ী হচ্ছেন। ৯০ বছর বয়সী এই জাপানি বডিবিল্ডার সম্প্রতি ‘জাপান মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ৮৫-ঊর্ধ্ব বিভাগে সাতজন প্রতিযোগিকে পরাজিত করে তার ১৯তম জাতীয় শিরোপা জয় করেছেন।
এই জয়ের ঠিক আগের দিনই তিনি ৯০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। হিরোশিমার বাসিন্দা কানাজাওয়া কয়েক দশক ধরে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং সার্জিও অলিভার মতো এই খেলার কিংবদন্তিদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
১৯৩৬ সালে জাপানের শিমানে প্রিফেকচারে জন্মগ্রহণকারী কানাজাওয়া শুরুতে সাঁতারের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ১,৫০০ মিটার ফ্রিস্টাইল সাঁতারে দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এবং অলিম্পিকে জাপানের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু পেশীর সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। একপর্যায়ে তিনি বডিবিল্ডিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
তার এই সিদ্ধান্তটি পরিবারের সদস্যরা শুরুতে ভালোভাবে নেননি। বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে কানাজাওয়া বলেন, আমার মা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকলেও আমাকে সমর্থন দিয়েছিলেন, কিন্তু বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তিনি মনে করতেন তরুণদের চাকরি-বাকরি বা কাজ করা উচিত। আমি তাদের বলেছিলাম, আমি জাপানের সেরা হতে চাই, তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমার কয়েক বছর সময় লাগবে।
এরপর কানাজাওয়া নিজেকে পুরোপুরি প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করেন; কখনও কখনও তিনি দিনে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরচর্চা করতেন। কোনো জটিল বা বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার পরিবর্তে তিনি মূলত মায়ের হাতের তৈরি সাধারণ খাবারই খেতেন।
২৪ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম ‘মিস্টার জাপান’ শিরোপা জয় করেন এবং বাবা-মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তিন বছর পর তিনি আবারও এই শিরোপাটি জিতে নেন। তার এই সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে নিয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে মন্ট্রিলে আয়োজিত ‘মিস্টার ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতায় শোয়ার্জনেগার ও অলিভার পাশাপাশি কানাজাওয়াও অংশ নেন। সেই প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ স্থান অধিকার করেন এবং অলিভা বিজয়ী হন।
তবে কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং থেকে চিরতরে সরে যাননি। ত্রিশের কোঠার মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নিলেও ৫০ বছর বয়সে আবারও এই খেলায় ফিরে আসেন। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভোগা স্ত্রীকে মনোবল জোগানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেও তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী সবসময়ই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, কিন্তু তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। অবসরের পর আমি নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করেছি তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম; তাই আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম যে অসাধ্য সাধন করাও সম্ভব।
প্রতিযোগিতায় ফেরার সাত বছর পর কানাজাওয়া একটি ‘মাস্টার্স বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ জয় করেন। ৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পরও তিনি ছয়টি ‘ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স’ শিরোপা জিতেছেন, যা তার কয়েক দশকব্যাপী দীর্ঘ ক্রীড়াজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কানাজাওয়া তার দীর্ঘ কর্মক্ষম জীবনের বড় কৃতিত্ব দেন তার পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতিকে। তিনি বলেন, আগে আমি দিনে ছয়বার প্রোটিন শেক পান করতাম, কিন্তু এখন তা কমিয়ে তিনবারে এনেছি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এত বেশি তরল খাবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে তিনি হিরোশিমায় অবস্থিত নিজের জিমে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করেন। পাশাপাশি তিনি শরীরকে সেরে ওঠার (রিকভারি) জন্য পর্যাপ্ত সময় দেন এবং রাতে প্রায় সাত ঘণ্টা করে ঘুমান। তিনি বলেন, ভারোত্তোলনের ব্যায়ামের ধকল কাটিয়ে উঠতে এখন আগের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাই ব্যায়ামের প্রতিটি সেটের মাঝে আমি যথাযথ বিশ্রাম নিই।
ছবি : সংগৃহীত
এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকিতে শুরুতে হোঁচট খেলেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পর এবার ইন্দোনেশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে লাল-সবুজের দল। আজ শনিবার জাপানের কাওয়াসাকি জুকো স্টেডিয়ামে পুল ‘এ’-র ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ।
১১তম মিনিটে আমিরুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। ৩১তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আমিরুল। পাঁচ মিনিট পর রাসেল মাহমুদ জিমির গোলে ব্যবধান ৩-০ হয়। শেষ কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে একটি গোল শোধ করে ইন্দোনেশিয়া।
তবে আওউলিয়া আল আরদের সেই গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় জয়। প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং জাপানের কাছে ৬-১ গোলে হারের পর শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। চার ম্যাচে দুই জয় নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ সোমবার, প্রতিপক্ষ ভারত। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে ভারত।
গ্রুপের পরের ধাপে যেতে বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ বলে কথা! আর্জেন্টিনায় উন্মাদনা তো তুঙ্গেই থাকবে। সেই উন্মাদনা এতটাই যে বিক্রি শুরুর পরপরই ক্রাশ করে টিকিট কেনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। শেষ পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কম সময়ে সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটির টিকিট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায়। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল ‘ডেপোরটিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিক্রি শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েন লাখো সমর্থক। অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারেনি সাইটটি।
অনেকের সামনে ভেসে ওঠে, টিকিট কিনতে তাঁদের আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় নানা অভিযোগ। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এত দীর্ঘ ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হবে!
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’-ও টিকিট কেনার এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। ভার্চ্যুয়াল কিউতে ঢোকার ৭০ মিনিট পরও তাদের সামনে একই বার্তা ছিল। সেখানে জানানো হচ্ছিল, টিকিট কেনার সুযোগ পেতে আরও এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হবে।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৫ হাজার। তবে সব আসনের টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়া হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) স্পনসর ও সহযোগীদের জন্যও টিকিট বরাদ্দ রাখে। ফলে সাধারণ সমর্থকদের জন্য টিকিটের সংখ্যা ছিল আরও কম।
‘ওলে’ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে এক সমর্থক এক্সে স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। তিনি ভার্চ্যুয়াল লাইন পেরিয়ে টিকিট কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তখনো শুধু ওপরের সারির কিছু আসন বাকি ছিল। সেসব টিকিটের দাম ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার পেসো, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬ হাজার টাকা।
এর মাত্র ১৩ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ২৮ মিনিটে, আরেক ব্যবহারকারী জানান, সব টিকিট শেষ। তখনো অনেক সমর্থক ওয়েবসাইটে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার বার্তা দেখছিলেন।
টসের সময় দুই দলের অধিনায়ক
মিষ্টি রোদের সঙ্গে সবুজের আবাহন। করোগি স্পোর্টস পার্ক সুন্দর্যে শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। অথচ নাগোয়ার এই চোখ ধাঁধানো গ্রাউন্ডে রংহীন বাংলাদেশের মেয়েরা। ব্রোঞ্জ পদকের স্বপ্নভঙ্গ নিগার সুলতানা জ্যোতিদের।
এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে সারোয়ার ইমরানের দল। এই হারে গত আসরের অর্জিত ব্রোঞ্জ পদকটি এবার হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের ১৪৬ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৪ রান।
ফ্লাট উইকেট। যেখানে আগের ম্যাচগুলোতে হয়েছে রান উৎসব। তাই টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা। তার এ সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমান করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার শাওয়াল জুলফিকার এবং গুল ফিরোজা। ওপেনিংয়ে ৪৬ রান যোগ করেন তারা। ফিরোজাকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রো এনে দেন নাহিদা আক্তার। তার সঙ্গে স্বর্না আক্তার, মেঘলা, রিতু মনির অসাধারন বোলিংয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্কান। এক পর্যায়ে ৬৭ রাত তুলতেই ৫ উইকেট হারায় তারা। বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে অসাধারন পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশ চলে আসে চালকের আসনে।
এক সময় মনে হয়েছিল এক’শ রানের মধ্যে পাকিস্তানকে আটকে ফেলতে পারবে বাংলার মেয়েরা। কিন্তু অধিনায়ক ফাতিমা একাই বদলে দেন ম্যাচের দৃশ্যপট। বাংলাদেশের স্পিনার এবং পেসারদের সব প্রচেষ্টা বিফল হয়ে যায় ফাতিমার অসাধারন ইনিংসের কাছে। কখনো মাটি কামড়িয়ে আবার কখনো বা ওভার বাউন্ডারিতে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি। তাকে ভালো সঙ্গ দেন আলিয়া রিয়াজ। ষষ্ঠ উইেকেট এ দুজন মিলে যোগ করেন ৬৭ রান।
বিপজ্জনক এই জুটি ভাঙ্গেন রিতু মনি। তার স্পিনে পরাস্ত হওয়া আলিয়াকে স্ট্যাম্পিং করেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ২৫ রান করেন তিনি। অন প্রান্তে ফাতিমা ছিলেন দুর্দান্ত। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার এবং ৩টি ছয়ের সৌজন্যে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদা, স্বর্না এবং রিতু মনি সমান ২টি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেট বলে ১৪৬ রানের টার্গেট খুব একটা বেশি ছিল না। তবে ইনিংসের সূচনাটা বাংলাদেশের ভালো হয়নি। দলীয় ১২ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন জুরাইরা ফেরদৌস। ওড়িয়ে মারতে গিয়ে সায়েরা জেবিনের অসাধারন ক্যাচে আউট হন ওপেনার দিলারা আক্তার। মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। দিলারার মতো একই ভাবে মারতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সুবহানা মুস্তারি। ব্যাটসম্যানদের আত্নাহুতিতে ২০ রানে হারায় ৩ উইকেট। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ২৫ রান।
টি২০ অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচে খেলতে নামা নিগার সুলতানার দিকে তাকিয়ে ছিলো সবাই। চতুর্থ উইকেটে শারমীন আক্তারের সঙ্গে ৪৭ রানের জুটিও গড়েন। কিন্তু এই জুটিটা ছিল মন্থর। সময়ের দাবি মেটানো ইনিংস খেলতে পারেননি দু’জনের কেউই। নেট রান রেট কমাতে গিয়ে আয়েশা জাফলের বলে লেগ বিফোর জন জ্যোতি। আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে করেন ২৫ রান। বাংলাদেশেও চলে যায় ব্যাকফুটে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আর কোনো ব্যাটার অতিমানবীয় ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৬ রান আসে সুপ্তার ব্যাট থেকে।
ছবি : সংগৃহীত
সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলের খোলনলচে পাল্টে ফেলার খবর শুনে নাকি অবাক হয়েছিলেন বাবর আজম। তার সেই কথা শুনে অবাক ওয়াসিম আকরাম। পাকিস্তানের অধিনায়ককে খোঁচা মেরে এই কিংবদন্তির অভিমত, এত বড় ঘটনা সম্পর্কে জানা না থাকলে অধিনায়ক হয়ে লাভটা কী!
সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের ওই ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় বিশ্বক্রিকেটে। পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে হাসাহাসি পড়ে যায় চারপাশে।
লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর কোচ সারফারাজ আহমেদ, বোলিং কোচ উমার গুল এবং দলের ৭ ক্রিকেটারকে সিরিজের মাঝপথেই দেশে ফিরিয়ে নেয় তার নজিরবিহীনভাবে। সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে কোচের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় পরের টেস্টের জন্য।
দলের ওই পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়ক বাবর পরে বলেন, তিনি নিজেও এটা জানতেন না, তার কাছেও ছিল নতুন খবর। অনেক পরে জেনেছেন তিনি।
বাবরের সেই মন্তব্য নিয়েই এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ওয়াসিম। ম্যানচেস্টারে একটি অনুষ্ঠানে আরেক কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসের পাশে বসে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক আঙুল তুললেন বর্তমান অধিনায়কের দিকে।
“আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না এবং আমি ভুলও হতে পারি। তবে আমার মনে হয়, বাবরের উচিত হয়নি আবার অধিনায়কত্ব নেওয়া। এই সবকিছুই অপ্রয়োজনীয় ছিল। তৃতীয় টেস্টে আমি বার্মিংহামে ছিলাম, যতটা মনে পড়ে, টসের সময় বাবরকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনার সাতজন ক্রিকেটারকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোচ ও বোলিং কোচকে ফেরত পাঠাো হয়েছে। আপনি কি মনে করেন?’
সে তখন বলেছে, ‘আমার কোনো ধারণা নেই।’ তাহলে তুই কি এখানে ছোলা বেচতে এসেছিস?”
২৫ টেস্ট ও ১০৯ ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া ওয়াসিমের মতে, অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বাবর। “একজন ক্রিকেটার বা ব্যক্তি হিসেবে কারও নেতা বা অধিনায়ক যদি তার পাশে না থাকে, তাহলে সে শতভাগ দিতে পারে না। আমার মতে, দ্বিতীয় টেস্টের পর তার বলা উচিত ছিল যে, শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে খেলবে সে।”
তিন বছর পর গত জুলাইয়ে পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্বে ফেরেন বাবর। এই দফায় তার অধিনায়কত্বে চার টেস্টের তিনটিতে হেরেছে দল।
ভারতের কাছে ফের হার বাংলাদেশের
পাহাড়ের কোল ঘেসে তৈরি করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। স্টেডিয়ামের চার পাশে সবুজায়ন। দেখলেই শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। মাঠের ভেতরে বিচ্ছিন্ন আকারে নয়টি গ্যালারি। বেসবলের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন ক্রিকেটের রুপে এই মাঠ। চিরসবুজের এই গ্রাউন্ডে রংহীন বাংলাদেশের মেয়েরা।
এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে কোনো বিভাগেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। ১১৪ রানের বিশাল পরাজয়ে গেমসে স্বর্ন জয়ের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের। আগামীকাল ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে সারোয়ার ইমরানের দল। সর্বশেষ এশিয়ান গেমসেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ।
মেয়েদের ক্রিকেটে ভারত যেন বাংলাদেশের জুজু। এ মাসে দুবাইতে হওয়া নারী এশিয়া কাপেও ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরেছিল। এবার মঞ্চটা এশিয়ান গেমসের, সেখানেও শেষ চার থেকে বিদায় লাল সবুজের দলটির। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা ভারত ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় শেফালি ভার্মার সেঞ্চুরিতে ভর করে। এই শেফালি ভার্মা এশিয়ান কাপেও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছিলেন। সেমিফাইনালের সেই ম্যাচে অবশ্য তাকে তিনবার জীবন দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এদিন অবশ্য নিখুত ব্যাটিং করেন তিনি। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন তিনি।
বাংলাদেশের পেসার আর স্পিনাররা কোনোভাবেই আউট করতে পারেননি তাকে। ৪৯ বলে ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকা শেফালির ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার এবং ৯টি ছয়ের সৌজন্যে। স্টেডিয়ামে যে কয়েক’শ দর্শক এসেছেন, তার বেশিরভাগই ভারতের জন্য গলা ফাটিয়েছেন। ভার্মা শতক করার পর গ্যালারিতে গর্জন ওঠে। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা, মেঘলা, রাবেয়া এবং নাহিদা একটি করে উইকেট নেন।
করোগি স্পোর্টস পার্কের এই পিচ ব্যাটিং বান্ধব। আগের সেমিফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭৭ রান করেও হেরেছিল পাকিস্তান। তাই ভারত প্রায় ২’শ রান করলেও বাংলাদেশের ব্যাটিংটা ভালো হলে জমতো লড়াই।
ভারত যেভাবে দুর্দান্ত সূচনা করেছিল, বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার এবং জুরাইরা ফেরদৌস তা করতে পারেননি। রানের খোতা খোলার আগেই নন্দিনি শর্মার বলে আউট হন জুরাইরা। ৪ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সুবহানা মুস্তারিও থিতু হতে পারেননি। সাজঘরে ফিরেন মাত্র ৪ রান করে।
৯ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শুরুতেই পড়ে যায় চাপে। কয়েকটি বাউন্ডাারি এবং ওভার বাউন্ডারি মেরে সেই চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন দিলার এবং নিগার সুলতানা জ্যোতি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে চারানিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে গদের হাতে বন্দি হন নিগার। ৯ বলে ৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়কের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাটা অব্যাহত আছে।
প্রথম পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩৯ রান। অথচ ভারত পাওয়ার প্লেতে করে ৭২ রান। এখানেই ম্যাচের বড় ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায়। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে দ্বীপ্তি শর্মার বলে আউট হয়ে যান বাংলাদেশের ইনিংসে ভরসা হয়ে ওঠা দিলারা। ৪টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ২৩ বলে ২৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ১০ ওভারে বাংলাদেশ করে ৫৩ রান, ঠিক এই অবস্থায় ভারতের রান ছিল ৯৭।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্রটা এবার আইচি নাগোয়াতে ফুটে ওঠেছে। দিলারা, শারমীন আক্তার এবং সুলতানা খাতুন ছাড়া কোনো ব্যাটারই দুই অংকের স্কোর করতে পারেননি। ভারতের স্পিন-পেসে আটকা বাংলাদেশের মেয়েরা গুড়িয়ে যায় ৮১ রানে।