সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ রয়েছে সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র। যার ফলে সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমের সাথে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে রীতিমত ‘নরক যন্ত্রণা’ ভোগ করতে হচ্ছে সিলেট বাসীকে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের কুমারগাওয়ে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিস্টদের।
নগরের জিন্দাবাজার এলাকার দর্জি ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামত কাপড় ডেলিভারি দিতে পারছি না। সারাদিনেও একটা পেন্ট সেলাই করা যায় না। এ কারণে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। আমাদের খেয়ে বাঁচাই দায় হয়ে ওঠেছে। টিলাগড় এলাকার গৃহিনী সালেহা আক্তার বলেন, দিনের চেয়ে রাতে বেশি লোডশেডিং হয়। ফলে বাচ্চাকাচ্চারা পড়ালেখা করতে পারে না। স্কুলের হোম ওয়ার্ক করে নিতে পারে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলও খারাপ হবে।
গ্রাহকরা জানান, সিলেটে দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন।
গতকাল রোববার রাতে সিলেট নগরের জালালাবাদ এলাকা থেকে এক ব্যাক্তি ফোন করেই তার প্রশ্ন- ‘ভাই, আমরা বাঁচতাম কিলা?’
তিনি জানান, সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত তিনবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। প্রতিবার গেলে ঘন্টাখানেক পরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়।ওই ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই গরমে অবস্থা খারাপ। তার উপর ঘন্টায় ঘন্টায় লোেশেডিং। ঘরে বাচ্চাকাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বড়রাও থাকতে পারছে না। এমন অভিযোগ সিলেটের প্রায় সব বাসিন্দার। এমনিতেই সিলেটে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। তবে গত ২/৩ ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, ৩/৪ দিন ধরে কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে এই কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একারণে লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে। ভোল্টেজ ঠিক রাখতে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাল্বে সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। আগামীকাল বিদেশ থেকে নতুন বাল্ব আসবে। এরপর তা মেরামত করা হবে। তবে এতে কতদিন সময় লাগবে তা আমার জানা নেই।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে ৬০ মেঘাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় চাহিদা ছিল ২৫৫ মেঘাওয়াট। ১৯০ মেঘাওয়াটের মতো সরবরাহ পেয়েছি। বাকীটুকু লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিংও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে কুমারগাও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলে এতো লোডশেডিং হতো না বলে দাবি এই কর্মকর্তার।
চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আনা দুটি চালানে প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন সন্দেহজনক পণ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস নথিতে এক চালানে পান মসলা ও জর্দা এবং অন্য চালানে প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী ও বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থ এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।
গতকাল রোববার চালান দুটি শনাক্ত করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা। তবে পাউডারজাত পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পর এর প্রকৃত পরিচয় জানা যাবে।
সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, চালানের কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে অথৈ এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ২০ সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্য দুটি আমদানি দেখানো হয়।
প্রথম চালানে ৪৭৩ প্যাকেজে ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চিউইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি। রোববার কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় চালানে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। এর ঘোষিত ওজন ছিল ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি। কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।
সিআইআইডি জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃত পরিচয় এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাউডারজাত পদার্থের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সিলেট বিভাগের বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত শনিবার সিলেটের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের হলরুমে সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বিচারকদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে Monitoring Committee for Subordinate Courts-এর সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মোঃ আতাবুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তারা তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেট বিভাগের চার জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।
বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়েছে
আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি কমিটি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান আজ সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে সাসপেন্ড করেছি। এখানে যারা ছিল, গাড়ির ড্রাইভারসহ পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে বাথরুমের কথা বলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পালিয়ে যায় ‘পিচ্চি রাজা’।
কারা সূত্র বলছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজিরার জন্য রোববার সকালে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাকে ফের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে রাজা বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে। আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য তাকে একটি বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
পলাতক রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্লক-এ, ১১৭ নম্বর বাসার মোতালেবের ছেলে। ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে ‘বাদশা’ নামেও পরিচিত তিনি।
‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ; অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যে রংপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস, ২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সোমবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর জেলা প্রশাসন, সনাক ও টিআইবি, রংপুর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে এখনো সাধারণ মানুষের একটি বড়ো অংশ অবগত নন। তাই এই আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকদের মূল দায়িত্ব। সংবাদ পরিবেশনের আগে তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে, যাতে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ গুজব বা অপতথ্য ছড়ালে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এসময় সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ রাখার আহ্বান জানান ।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রমিজ আলম বলেন, ডিজিটাল যুগে সরকারি সেবা ও তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ওয়েবসাইট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রতিবেদন ও অন্যান্য সরকারি তথ্যসূত্রে নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব তথ্য সহজ ও সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে রংপুর টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আলমগীর কবির তথ্য অধিকার আইন ও রংপুর জেলার সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট হালনাগাদ-সংক্রান্ত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ এবং তথ্য অধিকার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে র্যালি
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিতে নেতৃত্ব দেন টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আফজাজুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক ডা. ফারহানা আক্তার।
র্যালিটি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)-সহ যুবদল নেতা সানজিত আহমেদ মিথুন এবং সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
এ সময় চিকিৎসকরা জানান, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা এবং সময়মতো প্রতিষেধক টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
“জীবনকে গড়ে তুলতে হলে নিজেকে চোখ মেলে স্বপ্ন দেখতে হবে। যে স্বপ্ন হবে দেশের জন্য এবং দশের জন্য। যে স্বপ্ন নিজেকে যেমন সমৃদ্ধ করবে, ঠিক তেমনি নিজের সমাজের তরুণদের সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবে। একা ভালো থাকা যেমনি সুখের নয়, তেমনি সমাজের প্রতিটি মানুষকে সাথে নিয়ে ভালো থাকাটাই আসল সুখ। তাই বর্তমান প্রজন্মের জীবনমান উন্নয়নে তরুণ উদ্যোক্তাদের দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এবং সংগ্রাম কর্তৃক বাস্তবায়িত ও আয়োজিত (Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভায় ১৬টি ট্রেডে শিক্ষানবিশ নির্বাচনের লক্ষ্যে আগত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিকেএসএফ’র রেইস প্রকল্পের উপ প্রকল্প সমন্বয়কারী এস এম খালেদ মাহফুজ এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন- “অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সকলের সম্মিলিত সহযোগীতা দরকার। আর সকলের সহযোগিতাই পরবে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করতে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ উদ্যেক্তা সৃষ্টি করতে সহায়তা করতে পারে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগ্রাম প্রধান কার্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত এ আউটরিচ সভায় বরিশাল বিভাগ’র অন্যতম এনজিও সংগ্রাম (সংগঠিত গ্রামোন্নয়ন কর্মসূচি) এর নির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মুনীর হোসেন’র সভাপতিত্বে ও প্রকল্পটির কো-অর্ডিনেটর মুনরিুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংগ্রাম’র প্রতিষ্ঠাতা চৌধূরী মোহাম্মদ মাসুম, সংগ্রাম কার্যনির্বাহী পরিষদ’র সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, বরগুনা প্রেসক্লাব’র সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, বরগুনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)’র অধ্যক্ষ এস এম সুলতান মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বরগুনা’র উপপরিচালক মোঃ জাকির হোসেন প্রমূখ।
এসময় বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুণ ও তরুণীদের ট্রেড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা হবে শিক্ষাণবিশ উদ্যোক্তা। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, কর্মসংস্থান তৈরি ও স্বল্প ইন্টারেস্টে ব্যবস্থা করা হবে লোন। যে অর্থ দিয়ে বাস্তবে রূপ নিবে জাগ্রত সেই স্বপ্নগুলো।