বরইবাগানে মোসলেম উদ্দিন
একসময় অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন মোসলেম উদ্দিন। যে টাকা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। পরে এই কাজ ছেড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আচার ও বাদাম বিক্রি শুরু করেন। তাতেও আয় তেমন হতো না। পরে জমি ইজারা নিয়ে লেবু ও মাল্টার চাষ করেন। এখন টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন টক বরইয়ের বাগান। আগাম জাতের টক বরই জীবন পাল্টে দিয়েছে মোসলেমের। এ মৌসুমে নিজের বাগান থেকে কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাভ হবে তাঁর।
দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারেননি মোসলেম। মানুষের বাড়িতে থেকে গরু-বাছুর চরিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ে করার পর সংসারের সচ্ছলতা আনতে ফেরি করে আচার ও বাদাম বিক্রির শুরু করেন। কখনো বাড়ি বাড়ি, কখনো কোনো বিদ্যালয়ের সামনে, আবার কখনো বাজারে আচার-বাদাম বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোরকমে তাঁর সংসার চলত।
২০১০ সালের দিকে ১২ বছরের জন্য ছয় একর জমি ইজারা নিয়ে প্রথমবারের মতো লেবুর চাষ শুরু করেন মোসলেম। এতে দ্রুতই তাঁর সাফল্য আসে।
লেবু থেকে টক বরই
লেবুর বাগান করে সাফল্য পাওয়ার পর নতুন করে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন মোসলেম। তাঁর মনে হলো, যে বরই দিয়ে মানুষের পছন্দের আচার তৈরি হয়, সেই বরই তিনি চাষ করবেন। বিশেষ করে টক বরইয়ের আচার নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়—বিষয়টি তাঁর ভাবনায় বেশি ছিল।
প্রথমে সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে ১০ একর জমিতে আগাম জাতের টক বরই চাষ শুরু করেন মোসলেম। পরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী গ্রামের সাতটি স্থানে আরও প্রায় ৪০ একর জমি ইজারা নিয়ে বরই চাষ করেন। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এখন তাঁর বরইয়ের বাগান। গত আগস্টের শুরু থেকে তাঁর বাগানের আগাম জাতের টক বরই বিক্রি হচ্ছে।
বাগান থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বস্তা বরই পাঠানো হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি বরই থাকে। প্রতি কেজি আগাম টক বরই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৭২ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।
৫ সেপ্টেম্বর মোসলেমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বড়ই। গাছের নিচে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন।
মোসলেম বলেন, যখন মৌসুম পুরোদমে চলে (নভেম্বর-ডিসেম্বর), তখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কম হলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। এ মৌসুমে অন্তত এক কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন।
মোসলেম বলেন, গত মৌসুমে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বরইগাছে ফুল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফলন কমে যায়। গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করলেও জমির ইজারা, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর লাভ ছিল মাত্র ছয়-সাত লাখ টাকা। তবে তাঁর আশা, এবার এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হলে তাঁর অন্তত ৩০ লাখ টাকা লাভ থাকবে।
১৫ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান
বরইয়ের বাগান শুধু মোসলেমের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। তাঁর বাগানে সারা বছর স্থায়ীভাবে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন শ্রমিক। বরই পাড়ার মৌসুমে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
বাগানের বরইয়ের বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে টক বরই কিনে থাকে। ফলে উৎপাদিত বরই বিক্রি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না বলে জানান তিনি।
ছনের ঘর থেকে তিনতলা ভবন
সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের ধুমখালী এলাকায় নিজের কেনা প্রায় এক একর জমিতে এখন মোসলেমের তিনতলা বাড়ি। যে মানুষটি একসময় সর্বোচ্চ টিনের ঘর করার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি এখন অট্টালিকায় থাকেন।
মোসলেম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলায় মানুষের বাড়িতে রাখাল থেকেছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর বাড়ি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে আচার-বাদাম বিক্রি করেন। তখন বাড়িতে দোচালা ছনের ঘর ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন দোচালা টিনের ঘর হবে। এখন তিনি তিনতলা বাড়ির মালিক। কৃষির আয় দিয়েই তিনি এ বাড়ি করেছেন।
মোসলেমের এক মেয়ে। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) শেষ করে মালয়েশিয়ার লিঙ্কন ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে এবার সখীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
বরই চাষে অন্যদেরও আগ্রহ
মোসলেমের বরইয়ের বাগান দেখে সখীপুরের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যে নতুন করে বরইয়ের বাগানও করেছেন। তিনি বলেন, বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফল হতে পারেন। এ দেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ পেশায় অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।
মোসলেমের মতে, লাভজনক ফলের বাগান করতে হলে জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও বাজারজাত—এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। আগাম জাতের বরইয়ের ক্ষেত্রে বাজারে ফল আসার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন প্রথম আলোকে বলেন, আগাম জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় ৫০ একর জমির বাগানে ঝুলে থাকা টক বরইগুলো তাই শুধু ফল নয়; মোসলেমের কাছে এগুলো তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের প্রতিচ্ছবি।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল (ফেন্সিডিলের বিকল্প)সহ মোঃ আলতাফুর রহমান (২৫) নামে এক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় উদ্ধার করা ফেন্সিবিলের সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় সিভিল সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরভিটা বিওপির হাবিলদার মোঃ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান পরিচালনার সময় নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৩৭৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলতলা নামক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক চোরাকারবারি মোঃ আলতাফুর রহমানকে আটক করে বিজিবি।
আটক আলতাফুর রহমান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেলতলা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। তার কাছ থেকে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিয়মিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধিনায়ক।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পঞ্চগড় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন পঞ্চগড়ে আগমন উপলক্ষে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশা জমির , এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্ত্রী পঞ্চগড়ে পৌঁছালে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে পঞ্চগড়ে স্বাগত জানান এবং তাঁর দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ মহকুমায় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে।
নিহত বাংলাদেশী নাম মো: আসাদুল হক (৩৮)। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল ওয়াজেদ।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চান্দেরহাট বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে একটি বাংলাদেশী চোরাকারবারি দলের ওপর বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে একজন বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে তাকে ভারতের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, নিহত আসাদুল হককে প্রাথমিকভাবে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ ৬৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে, সীমান্তে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
সূত্র: দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) মিডিয়া সেল।
ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার হরিণমারী ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সিভিল সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মলানী লজিস্টিক ক্যাম্পের একটি টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে। হাবিলদার মোঃ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৮৫/৫-এস থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হরিণমারী ঈদগাহ মাঠ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে অভিযানের সময় মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মলানী লজিস্টিক ক্যাম্পের টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল্লাহ হক (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চকসিমানন্দ বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল্লাহ হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রাইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হন আসাদুল্লাহ হক। পরে তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন নিহত হওয়ার খবর তারা শুনেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে আসাদুল্লাহ হক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।
আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহ আমানত সেতু পার হয়ে আসা একটি কাভার্ডভ্যান কলেজ বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে ইউটার্ন নেওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
মাইক্রোবাসটি উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আটজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।