বরইবাগানে মোসলেম উদ্দিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

একসময় অন্যের বাড়িতে রাখালের কাজ করতেন মোসলেম উদ্দিন। যে টাকা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। পরে এই কাজ ছেড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে আচার ও বাদাম বিক্রি শুরু করেন। তাতেও আয় তেমন হতো না। পরে জমি ইজারা নিয়ে লেবু ও মাল্টার চাষ করেন। এখন টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রায় ৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন টক বরইয়ের বাগান।  আগাম জাতের টক বরই জীবন পাল্টে দিয়েছে মোসলেমের। এ মৌসুমে নিজের বাগান থেকে কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লাভ হবে তাঁর।


দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারেননি মোসলেম। মানুষের বাড়িতে থেকে গরু-বাছুর চরিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ে করার পর সংসারের সচ্ছলতা আনতে ফেরি করে আচার ও বাদাম বিক্রির শুরু করেন। কখনো বাড়ি বাড়ি, কখনো কোনো বিদ্যালয়ের সামনে, আবার কখনো বাজারে আচার-বাদাম বিক্রি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোরকমে তাঁর সংসার চলত।


২০১০ সালের দিকে ১২ বছরের জন্য ছয় একর জমি ইজারা নিয়ে প্রথমবারের মতো লেবুর চাষ শুরু করেন মোসলেম। এতে দ্রুতই তাঁর সাফল্য আসে।


লেবু থেকে টক বরই


লেবুর বাগান করে সাফল্য পাওয়ার পর নতুন করে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন মোসলেম। তাঁর মনে হলো, যে বরই দিয়ে মানুষের পছন্দের আচার তৈরি হয়, সেই বরই তিনি চাষ করবেন। বিশেষ করে টক বরইয়ের আচার নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়—বিষয়টি তাঁর ভাবনায় বেশি ছিল।


প্রথমে সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্ত্তনখোলা গ্রামে ১০ একর জমিতে আগাম জাতের টক বরই চাষ শুরু করেন মোসলেম। পরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানী গ্রামের সাতটি স্থানে আরও প্রায় ৪০ একর জমি ইজারা নিয়ে বরই চাষ করেন। সব মিলিয়ে এখন প্রায় ৫০ একর জমিজুড়ে এখন তাঁর বরইয়ের বাগান। গত আগস্টের শুরু থেকে তাঁর বাগানের আগাম জাতের টক বরই বিক্রি হচ্ছে।

বাগান থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ বস্তা বরই পাঠানো হচ্ছে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে। প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৬০ কেজি বরই থাকে। প্রতি কেজি আগাম টক বরই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন ৭২ হাজার থেকে ৯৬ হাজার টাকার বরই বিক্রি হচ্ছে।


৫ সেপ্টেম্বর মোসলেমের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বড়ই। গাছের নিচে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। কেউ গাছ থেকে বরই পাড়ছেন, কেউ ঝুড়িতে তুলছেন, আবার কেউ বস্তায় ভরছেন।


মোসলেম বলেন, যখন মৌসুম পুরোদমে চলে (নভেম্বর-ডিসেম্বর), তখন প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার বরই বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কম হলেও তখন উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যায়। এ মৌসুমে অন্তত এক কোটি টাকার বরই বিক্রির আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন।


মোসলেম বলেন, গত মৌসুমে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বরইগাছে ফুল আসার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ফলন কমে যায়। গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার বরই বিক্রি করলেও জমির ইজারা, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তাঁর লাভ ছিল মাত্র ছয়-সাত লাখ টাকা। তবে তাঁর আশা, এবার এক কোটি টাকার বরই বিক্রি হলে তাঁর অন্তত ৩০ লাখ টাকা লাভ থাকবে।


১৫ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান


বরইয়ের বাগান শুধু মোসলেমের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে। তাঁর বাগানে সারা বছর স্থায়ীভাবে কাজ করেন প্রায় ১৫ জন শ্রমিক। বরই পাড়ার মৌসুমে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন।


বাগানের বরইয়ের বড় ক্রেতা হলো বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান। প্যাকেটজাত আচার তৈরির জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে টক বরই কিনে থাকে। ফলে উৎপাদিত বরই বিক্রি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় না বলে জানান তিনি।

ছনের ঘর থেকে তিনতলা ভবন


সখীপুরের গজারিয়া ইউনিয়নের ধুমখালী এলাকায় নিজের কেনা প্রায় এক একর জমিতে এখন মোসলেমের তিনতলা বাড়ি। যে মানুষটি একসময় সর্বোচ্চ টিনের ঘর করার স্বপ্ন দেখতেন, তিনি এখন অট্টালিকায় থাকেন।


মোসলেম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলায় মানুষের বাড়িতে রাখাল থেকেছেন। ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর বাড়ি বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরি করে আচার-বাদাম বিক্রি করেন। তখন বাড়িতে দোচালা ছনের ঘর ছিল। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন দোচালা টিনের ঘর হবে। এখন তিনি তিনতলা বাড়ির মালিক। কৃষির আয় দিয়েই তিনি এ বাড়ি করেছেন।


মোসলেমের এক মেয়ে। তাঁকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের মধ্যে একজন ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) শেষ করে মালয়েশিয়ার লিঙ্কন ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। ছোট ছেলে এবার সখীপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।


বরই চাষে অন্যদেরও আগ্রহ


মোসলেমের বরইয়ের বাগান দেখে সখীপুরের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ ইতিমধ্যে নতুন করে বরইয়ের বাগানও করেছেন। তিনি বলেন, বেকার তরুণ-তরুণীরা বরই চাষ করে সফল হতে পারেন। এ দেশের মাটি বরই চাষের জন্য খুবই উর্বর। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে এ পেশায় অবশ্যই সফল হওয়া সম্ভব।

মোসলেমের মতে, লাভজনক ফলের বাগান করতে হলে জাত নির্বাচন, পরিচর্যা ও বাজারজাত—এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়। আগাম জাতের বরইয়ের ক্ষেত্রে বাজারে ফল আসার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ।


সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মন প্রথম আলোকে বলেন, আগাম জাতের টক বরই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে মোসলেম সফলতা অর্জন করেছেন। সখীপুরের মাটি বিভিন্ন ধরনের ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাঁদের চাষাবাদে সহযোগিতা করতে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


প্রায় ৫০ একর জমির বাগানে ঝুলে থাকা টক বরইগুলো তাই শুধু ফল নয়; মোসলেমের কাছে এগুলো তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের প্রতিচ্ছবি।





  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি ট্রাক ও একটি মোবাইল ফোনসহ মোঃ সবুজ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার রায়পুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীন দিহানগর বিওপির একটি টহলদল এ অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাণীশংকৈল থানা হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন এক মাদক পাচারকারী।


এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টহলদল সম্ভাব্য এলাকায় অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন ট্রাকটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রাকটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবির টহলদল ধাওয়া করে ঝাড়পাড়া এলাকা থেকে ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকে থাকা ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন এবং মোঃ সবুজকে আটক করা হয়।


আটক মোঃ সবুজ ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোঃ সহিবর রহমান। উদ্ধার করা ইয়াবা, ট্রাক ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক জব্দমূল্য ৭২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।


আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদান করে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক চোরাচালান দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে। মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

রাজধানী ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি’র  চারজন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদ কর্মী এবং পর্যাপ্ত পুলিশ বলের সহায়তায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


​বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর উচ্ছেদকৃত মালামাল ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।


​ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম সরাসরি উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শন করেন এবং গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন।


​পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তারা কেবল সেখানেই বসতে পারবেন। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা হবে এবং মূল রাস্তায় কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।"


​হকারদের সতর্ক করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে  সতর্ক করার পাশাপাশি হকার সংগঠনের নেতাদের সাথেও একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পরও পুনরায় বসে পড়ায় এখন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নিয়ম অমান্য করে বসলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।" এই উচ্ছেদ ও দখলমুক্তকরণ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


​অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ আমিনুল ইসলাম।


​পথচারীদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে।


খুলনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০৪ পিএম

নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর খুলনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম।


সভায় বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), খুলনা জেলার সভাপতি তরিকুল ইসলাম, মহানগর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মুন্না, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি খান জাহিদ হোসেন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সারোয়ার রহমান এবং বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মল্লিক প্রমুখ।


অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরটিএ, খুলনার উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ।


এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সড়ক এখনো পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে ওঠেনি। সড়ক অনিরাপদ থাকার পেছনে বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়নের অভাব অন্যতম। তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গিয়ে আমরা অনেক মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদ তৈরি করছি।কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় যেন সড়ক অনিরাপদ হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মোটরসাইকেল চালকদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।


খুলনা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা কালেক্টরেট ভবনের সামনে সড়কে একটি রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি থাকায় আজ বুধবার খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসটি পালিত হয়।


ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ময়মনসিংহের ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন। 

 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় জামিন দেন।

 

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার দিন ধার্য ছিল। তার পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন। ওই দিন দুপুরেই আদালতের হাজতখানা থেকে তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

 

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ অক্টোবর। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

 

ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

 

পরবর্তী সময়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আজ বুধবার শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এক যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


ভুক্তভোগী যুবক (৩৫) নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি শ্যালিকাকে (২১) বিয়ে করেন। তাঁরা জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আপন দুই বোনকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ধর্মে ‘একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই’—উল্লেখ করে বদলগাছীতে তাঁরা যে বাসায় ভাড়ায় থাকতেন, সেই বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের ক্ষোভের মুখে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দুই স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল রাতে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন ওই যুবক।


প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ওই যুবকের শ্বশুরবাড়িতে আসার খবর জানাজানি হলে রাত ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—অভিযোগ করে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।


এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলা এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে আছেন অনেক মানুষ। যুবককে একজন ধরে রেখেছেন। অন্য এক নারী তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতে দেখা যায়। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই যুবককে কেউ কেউ মারধর করেন।


ভুক্তভোগী যুবকের শ্বশুর বলেন, তাঁর দুই মেয়ে ও জামাতা গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁর বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে গ্রামের কিছু লোক বাড়িতে এসে তাঁদের নানাভাবে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তাঁরা তাঁর জামাতা ও মেয়েদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেন। তাঁরা এখন এক আত্মীয়র বাড়িতে উঠেছেন।


ভুক্তভোগী যুবকের সঙ্গে তাঁর দুই স্ত্রীর একাধিক টিকটক ভিডিও আছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ওই যুবকের মুঠোফোন নম্বরে কল করলেও বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই স্ত্রীর কারও সঙ্গেও কথা বলা যায়নি।


ইসলামের বিধান অনুসারে একসঙ্গে আপন দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না বলে জানান নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকলে এবং তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। কিন্তু প্রথম স্ত্রী মারা গেলে কিংবা তাঁর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে।


ফেসবুকে ভিডিও দেখে ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে হেনস্তার বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নিহত শাকিল ইসলামের জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিরা এমপির প্রতি উত্তেজিত হয়ে পড়েন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৩ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার সময় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের উদ্দেশে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তিনি শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুর বাবা ও নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের এমপি। 


স্থানীয়রা জানান, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম বাংলাদেশ মেডিকলে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাতে মারা যান। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুরের বিলচলন সামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 


জানাজায় এমপি আব্দুল আজিজ অংশ নিয়ে নিহত শাকিলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিতেই উপস্থিত মুসল্লিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে জানাজা শেষ করেই তিনি ফিরে যান।


এদিকে শাকিল ইসলামের জানাজা শেষে চাচকৈড় বাজারে আমেরিকা প্রবাসী রাসেল হোসাইনের রাস শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। 


রাসেল হোসাইন অভিযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকেই একটি মহল বিভিন্নভাবে এটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। শাকিলের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মহল সেই সুযোগ নিয়েছে বলে দাবি তার। এ ঘটনায় তার প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, শপিংমল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


জানাজায় জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।