ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল (ফেন্সিডিলের বিকল্প)সহ মোঃ আলতাফুর রহমান (২৫) নামে এক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় উদ্ধার করা ফেন্সিবিলের সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধীনস্থ নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় সিভিল সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাগরভিটা বিওপির হাবিলদার মোঃ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান পরিচালনার সময় নাগরভিটা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ৩৭৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেলতলা নামক স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক চোরাকারবারি মোঃ আলতাফুর রহমানকে আটক করে বিজিবি।
আটক আলতাফুর রহমান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেলতলা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে। তার কাছ থেকে ২৭১ বোতল ভারতীয় ফেন্সিবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান বন্ধে বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিয়মিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর অধিনায়ক।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পঞ্চগড় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন পঞ্চগড়ে আগমন উপলক্ষে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশা জমির , এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্ত্রী পঞ্চগড়ে পৌঁছালে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে পঞ্চগড়ে স্বাগত জানান এবং তাঁর দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। এ সময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ মহকুমায় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে।
নিহত বাংলাদেশী নাম মো: আসাদুল হক (৩৮)। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল ওয়াজেদ।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চান্দেরহাট বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে একটি বাংলাদেশী চোরাকারবারি দলের ওপর বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালায়। এতে একজন বাংলাদেশী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে তাকে ভারতের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, নিহত আসাদুল হককে প্রাথমিকভাবে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ ৬৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে, সীমান্তে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
সূত্র: দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) মিডিয়া সেল।
ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার হরিণমারী ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সিভিল সোর্স ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মলানী লজিস্টিক ক্যাম্পের একটি টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে। হাবিলদার মোঃ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে টহলদলটি রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৮৫/৫-এস থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হরিণমারী ঈদগাহ মাঠ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল ও ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে অভিযানের সময় মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মলানী লজিস্টিক ক্যাম্পের টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল্লাহ হক (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর সীমান্তের চকসিমানন্দ বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুল্লাহ হক পীরগঞ্জ উপজেলার ইন্দ্রাইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হন আসাদুল্লাহ হক। পরে তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন নিহত হওয়ার খবর তারা শুনেছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে আসাদুল্লাহ হক সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।
আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহ আমানত সেতু পার হয়ে আসা একটি কাভার্ডভ্যান কলেজ বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে ইউটার্ন নেওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
মাইক্রোবাসটি উখিয়া থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছিল। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত আটজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালকসহ দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ডঃ মো তাজুল ইসলাম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন অনুষদের অধীনে সফলভাবে পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম।
গত ১৩ আগস্ট ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডঃ মো. তাজুল ইসলামের গবেষণার বিষয় ছিল "বাংলাদেশে মান্ধাতা আমলের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা: বিকল্পের সন্ধানে " এবং ইংরেজিতে: "[Archaic Quandary of Criminal Justice System in Bangladesh: Quest for the Alternative"।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক এর তত্ত্বাবধানে এই গবেষণা কর্মটি তিনি সম্পন্ন করেন। ডঃ তাজুল ইসলামের এই গবেষণায় "বাংলাদেশে ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় অতি পুরাতন ফৌজদারী আইন তথা ২০০ বছরের পুরনো ব্রিটিশদের তৈরি আইনকে আরও সময়োপযোগী করে দ্রুত মামলা বিচার নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয় কিছু পরিবর্তন ও বিকল্পের সন্ধান করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। তাতে করে বিদ্যমান পুরাতন ফৌজদারী আইনসমূহ আন্তর্জাতিক বেস্ট প্রাকটিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে দেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় আমুল সংস্কার আনা যায় তা সূচারুরুপে আলোকপাত করা হয়েছে।
গবেষণার মৌখিক পরীক্ষায় (Viva-voce) দেশী-বিদেশী খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক প্রতিক্রিয়ায় এই অর্জনের জন্য পরম করুণাময়, তাঁর শিক্ষক, গবেষক দল এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে তিনি এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।উল্লেখ্য, বর্তমানে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে কর্মরত আছেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০০ সালে এসএসসি ও ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ২০০৬ সালে এলএলবি (অনার্স) ও ২০০৭ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও ক্রিমিনাল জাস্টিস বিভাগ থেকে মাস্টার্স এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ থেকে বিশেষ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে প্রথমবারেই ৩য় বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ‘সহকারী জজ হিসেবে খুলনা জেলা জজশীপে যোগদান করেন। অতঃপর পদোন্নতি পেয়ে ‘সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকায় এবং যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে ঠাঁকুরগাঁও, মেহেরপুর এবং ঝিনাইদহ জেলা জজশীপে কর্মরত ছিলেন।
এছাড়া তিনি ‘অতি: জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা জজশীপেও কাজ করেছেন। ইতোপূর্বে এ বিচারক যে আদালতেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজেকে পরিচয় দেন। মামলাজট কমাতেও বেশ সক্ষম হয়েছেন। যশোরে বদলির আগে তাজুল ইসলাম ছিলেন কুষ্টিয়ার অতি: জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি ২০২২ সালে ৫৫টি হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করে তিনি রেকর্ড গড়েন।
তিনি ২০০৮ সালে সহকারি জজ হিসেবে বিচারকের কর্মজীবন শুরু করা ডঃ মো. তাজুল ইসলাম স্বপ্ন দেখেন মামলাজট মুক্ত বিচার বিভাগ। স্বপ্ন দেখেন কীভাবে বিচারপ্রার্থী জনগণকে অতিদ্রুত ন্যায়বিচার দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তাঁর স্বপ্ন একদিন মামলাজট মুক্ত বিচার বিভাগ হবেই। তাঁর বিচারিক কাজ দেখেছেন এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য, স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুরূপে আইনানুযায়ী পালনে সদাসচেষ্ট বিচারক।
তিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে মামলাজট ও ন্যায়বিচার প্রদানের স্বপ্নের বীজ বুনে দেন হাজারো আইন শিক্ষার্থীর মনোজগতে। মানুষকে আইন বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। উদার, মানবিক ও অত্যন্ত সরল জীবন-যাপনকারী ডঃ মো. তাজুল ইসলাম তারুণ্য এবং বিজ্ঞতার মিশেলে একজন চমৎকার গুণী মানুষও। তাঁর সততা, দেশপ্রেম, পরিশ্রম ও দ্রুত মামলা নিস্পত্তিতে তার উচ্চ মানসিকতা দেশের ৪৪ লাখ মামলাজটের মধ্যে কিছুটা আশার আলো হিসেবে প্রতিভাত হয়। মা-বাবার ৭ ছেলে ও ১ মেয়ের সংসারে তার অবস্থান অষ্টম। বাবা আবুল হোসেন (রাহেমাহুল্লাহ), অধ্যাপক (অব.) আর মা জামিলা বেগম (রাহেমাহাল্লাহ), গৃহিনী।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। স্ত্রী জনাবা ফেরদৌসী আক্তার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’র ইংরেজি বিভাগে ‘সহকারী অধ্যাপিকা’ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ২ কন্যা এবং ১ পুত্র সন্তানের জনক। কর্মব্যস্ততার ফাঁকে তিনি বই পড়া, গবেষণা, লেখালেখি আর পরিবারকে নিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ইতোপূর্বে তার লিখিত ‘সাংবিধানিক আইনের সহজপাঠ’, শিশু আইনের উপরে Juvenile Delinquency in Bangladesh: Identifying the causes with prevention and Rehabilitation এবং ‘বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা: স্বাধীনতার ৫০ বছর’ শিরোনামে ৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। শিশু আইনের উপরে লিখিত বইটি বিশ্বের মোট ৯টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।তাছাড়াও তিনি আইন গবেষক ও কলামিস্ট হিসেবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সমসাময়িক বিষয় ও আইন নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে থাকেন।