সাত বছরের শিশু ইরা ও দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

‘বাবা, দুপুরে আসার সময় আমার জন্য কমলা নিয়ে আসিও’— বাবার কাছে এটুকুই ছিল সাত বছরের শিশু ইরার শেষ আবদার। মেয়ের সেই আবদার মেটাতে দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম আধা কেজি কমলা কিনে বাড়িতে ফেরেন। পরম মমতায় কমলার খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো একটি পাত্রে সাজিয়ে রেখেছিলেন, যাতে মেয়ে এসেই খেতে পারে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ইরা আর বাড়ি ফেরেনি। প্রিয় ফলটি পাত্রেই পড়ে রইল, কিন্তু তা মুখে তোলার জন্য ইরা আর কোনোদিন ফিরবে না।


গত রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সীতাকুণ্ড ইকো পার্কে শিশু ইরার ওপর চলে নরপিশাচ বাবু শেখের বর্বরতা। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে, ইকো পার্কে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় পড়ে আছে ইরা।


এ খবর শোনামাত্রই রিকশাচালক বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা রোকেয়া বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। চার সন্তানের মধ্যে তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক মনিরুল সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের আবদার মেটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু আদরের ছোট মেয়েকে শেষবার কমলা খাওয়াতে না পারার আক্ষেপ এখন তার আজীবনের সঙ্গী।


বড় বোন জান্নাতুল ইশা ইসফা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার বোনকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। সারাক্ষণ ওর সঙ্গে খুনসুটি আর ঝগড়া করতাম। এখন কে আমাকে ‘আপু’ বলে ডাকবে? কার সঙ্গে আমি ঝগড়া করব? ওর স্মৃতিগুলো আমি কীভাবে ভুলব?


শোকার্ত মা রোকেয়া বেগম তার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন।


গত রোববার দুপুরে ইকো পার্কে গলাকাটা অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করে স্থানীয় যুবকরা। প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার তার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার গভীর রাতে শ্বাসনালীতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।


মঙ্গলবার জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক বাবু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের হেফাজত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।






ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার জেরে সাত শিক্ষককে ওএসডির পর সংযুক্ত কলেজে বদলি ঠেকাতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 


এসময় বদলি হওয়া এক শিক্ষক আন্দোলন বন্ধ করতে অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করেন।


এসময় তারা ক্যাম্পাসে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সমাধান, শিক্ষাকদের বদলি স্থগিতসহ বিভিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন।




শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষকদের বদলি নয়, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই’, ‘৭ শিক্ষকের অপরাধ কী, জবাব চাই’, ‘শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা করুন’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, কলেজের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষকদের বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।


শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমাদের কোনো কোনো বিভাগে ২-৩ জন শিক্ষক রয়েছে। এদের মধ্যে থেকে হঠাৎ করে বিনা কারণে শিক্ষকদের বদলি করা হলে ওই বিভাগে শিক্ষার মান তলানিতে নেমে যাবে।


তারা আরও বলেন, শুধু মহিলা কলেজ নয়, পুরো কুমিল্লা নগরীতেই জলবদ্ধাতার সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার দিন ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতায় শিক্ষকদের কোনো হাত নেই। তাহলে কেন তাদের বদলি করা হবে। আমরা এই বদলি মানি না। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শুধু মহিলা কলেজ নয়, আন্দোলন কুমিল্লাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।


ক্যাম্পাসে আন্দোলনের এক পর্যায়ে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলির আদেশ পাওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ করতে বলেন। 


এসময় তাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সরকারি চাকরি করি, তোমার আমার চাকরিটা খাইও না, আমি তোমাদের কাছে মাফ চাই। বদলি আমার চাকরির অংশ। তোমাদের কাছে অনুরোধ।’


এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কর্মসূচির ব্যানারটি হাতে নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে কান্না করতে করতে শিক্ষার্থীদের হাত ধরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


এবিষয়ে কুমিল্লা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজ ইচ্ছায় আন্দোলন করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর আমি আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।


৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। 


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে খেয়ার মাহমুদপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের প্রতিহত করে বিজিবি। পরে বিএসএফ ওই ৯ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।


এদিকে, পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


নওগাঁয় মানববন্ধন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন নওগাঁর শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গেটে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 


মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘উই স্ট্যান্ড উইথ ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’, ‘পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নিশ্চিত করো, করতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীর ওপর সহিংসতা, বন্ধ করো, করতে হবে’, ‘জাস্টিস ফর ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। 


মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রাহাদ হাসান আকাশ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হায়ালিল, হাসিন আলমাস সমিত, মোঃ রাফিউল, মোঃ সোলেমান, সাগর হোসেন, তৌফিজুজ্জামান প্রমুখ।


রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, ‘আমরা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নই; শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সংহতি জানাতেই আজ একত্রিত হয়েছি। ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বলপ্রয়োগের আমরা নিন্দা জানাই এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি ও অনিয়ম দ্রুত সংস্কার করতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে মেধা, পরিশ্রম ও সততার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘উপমহাদেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বসন্ত শুরু হয়েছে। চলমান আন্দোলন তারই একটি ধারাবাহিকতা। আমরা আমাদের ভারতীয় শিক্ষার্থী বন্ধুদের যৌক্তিক আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছি।’


শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য আনা বাইসাইকেল মানসম্মত কিনা তা চালিয়ে পরীক্ষা করেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য দেশের বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের লেখাপড়া সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা এবং উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।


শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টায় এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল আর দু:স্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে এসব কথা বলেন। 


শুক্রবার সকালে এমপি “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতিত)” শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮২ শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল ও ৫৫ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে এডিপির অর্থায়নে বকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৪ শিশুশিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন করেন। এমপি বিতরণের জন্য আনা বাইসাইকেল চালিয়ে সেগুলো মানসম্মত কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমপির সাইকেল চালানোর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এসব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক,  প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, এমপির প্রতিনিধি সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতি আরা, সাবেক ছাত্রনেতা অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু, বকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়িতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লায়লা নাজনিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হান্নান, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস সাজু, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু, সাংবাদিক বরুণ মজুমদার, সাংবাদিক আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।#





আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে জাবেদ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা, মাদকদ্রব্য বেচাকেনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে জাবেদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজুবলি গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ ওই বাড়ির আবুল মিয়া ও ছালেয়া খাতুন দম্পতির ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ২৪ জুলাই জাবেদের মা ছালেয়া খাতুন (৬৮) স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের কাছে ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, জাবেদ ও তার সহযোগী পিচ্চি মাসুদ (৩৭) ও সুমন (৩৪) তাদের বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা ও আইনবিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।  


অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৭ মে রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে ছালেয়া খাতুন ও তার স্বামীকে মারধর করে আহত এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, জাবেদের বিরুদ্ধে তার মায়ের একটি অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক ও মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।


সালাহউদ্দিন সরকার

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০৬ পিএম

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-২) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন সরকারকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য শর্ত সরকার নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।


বর্তমানে সালাহউদ্দিন সরকার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক রাজনীতি ও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত।


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি দেশব্যাপী অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল। দলীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন সরকারও একই ধরনের অনিয়মের শিকার হন।


সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গাজীপুর-২ আসনে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বৈধ প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।


স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করীম রনির বিজয় নিশ্চিত করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।


আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সংগ্রামে সালাহউদ্দিন সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিক সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, শ্রমিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ নিয়োগকে শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।