জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ে সড়ক বানাচ্ছে আর্মি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ এএম

দুর্গম, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। আজ সোমবার ব্রিগেডের অধীনে একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। 


সড়ক নির্মাণ শুরুর আগে জঙ্গল সলিমপুর আলিগরের তিন কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের স্থান পরিদর্শন করেন লে. কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।  


তিনি বলেন, ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মিত হবে। আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


এখনও প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। 


তিনি বলেন, দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি।


জঙ্গল সলিমপুর কয়েক দশক ধরে দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ ও দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এ অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। নিজের দখল বজায় রাখতে তিনি একটি সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলেন। 


পরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে ওঠে সেখানে।


১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মার্চ সেখানে অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। 


অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। পরে এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এদিকে ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশ ও র‍্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে। 


তবে এর আগে তারা সেখানে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়কও কেটে ফেলে।



সর্বশেষ সব খবর

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠেনোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  


গ্রেপ্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে গত মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।


ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


তিনি হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর ও নেতাদের উপর হামলার সমালোচনা করে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ। আমরা যা দেখছি, দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’’


তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার সেটা চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করছে।”


এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৮ পিএম

ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “সংবিধানের আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। আমরা একটা অভাগা জাতি, যে অবস্থায় আছি। এই শিকলটা আমাদের ভেঙে দিতে হবে এবং এই শিকল ভাঙ্গার জায়গাটাতে প্রথমেই সংবিধানে আঘাত করতে হবে। 


বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় আপনার, আমার, সন্তানের, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই। কেন নাই? এটা আপনারা একটু গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন, কেন সংস্কারটা প্রয়োজন।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় এনসিপি নেতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ। দয়া করে, জুলাইয়ে আমাদের ১৪০০ ভাই চলে গিয়েছে, এই বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন। সে জায়গা সাস্ট ভূমিকা পালন করবে।”


সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবেন কোন সমাবেশে যাবেন, কোন সমাবেশে যাবেন না। কার পক্ষে ভোট দিবেন, কার পক্ষে দিবেন না। কিন্তু কথা বলতে গেলে, আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দিবে, প্রশাসন এসে বাধা দিবে নিরাপত্তার নামে- এটা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না।


“এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কপি করলে, শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে এইটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে। ফলে যদি নতুন কৌশল আনতে পারেন সেটা আপনাদের জন্য সুবিধার হবে।”


নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন দিনের রাজনীতি নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, ছিল, থাকবে। কিন্তু আমরা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব। যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে।”


অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।

সর্বশেষ সব খবর

আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্ৰামে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে ও কিশোরগঞ্জ এরিয়া ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে উক্ত সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।




আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আইরিন বেগমের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা সমবায় অফিসার জাকিয়া ফারহানা। আরোও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী বেগম, কোষাধক্ষ্য লক্ষ্মী রানী রায়।


অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ এপির প্রোগ্রাম অফিসার জন কেনেডি ক্রুশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম সংক্ষেপে জানান।


উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান সমিতির সদস্যের মাঝে নিম গাছের চারা বিতরণ করেন এবং দুইজন সদস্যকে সমিতির ঋণ বাবদ ২টি ছাগল বিতরণ ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কোম্পানি-সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের জামিন লাভের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের বাসিন্দারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী মামলার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান।


স্থানীয়দের বক্তব্য, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তাদের দাবি, আদালত থেকে জামিন লাভের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।


স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলু, কাজী দাউদসহ আরও কয়েকজন। তাদের সমর্থকদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাবেন।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।


এদিকে, মামলাকে ঘিরে দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার বিষয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মতামত দেন। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা বা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত নয়। তাদের মতে, অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণ এক বিষয় নয়; একটি মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।


বক্তারা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দোষমুক্ত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সাংগঠনিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা বা পুনর্বহালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


তবে এ বিষয়ে উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি বহিষ্কৃত হয়েছেন বা পুনরায় দলীয় পদে বহাল হয়েছেন—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য দলীয় নথি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত।


স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, এতে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ৩৩ বেত্রাঘাত, গলায় জুতার মালা পরানো এবং নাকে খত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ (৪২) গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জ্যাঠাদের জানালে মঙ্গলবার রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


ডমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটু বলেন, মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবাকে ডেকে আনা হয়। দুই পক্ষের কথা শুনে সালিশী বৈঠকে ৫-৬ সদস্যের একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পরে তাদের সিন্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, "বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সর্বশেষ সব খবর