রাস্তায় বসে পড়লেন এনসিপির নেতারা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৬ পিএম

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। 


বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।


সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। ‘বাহ্‌ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।




গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন।


এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। 


ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। 


এরপরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা।


কামাইছড়া এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে সন্ধ্যা সাতটা পাঁচ মিনিটে প্রেস ব্রিফিং করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গতকাল হবিগঞ্জে হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ–মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বার বার পুলিশ বাধা দিচ্ছে। 


শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়, গতকালের ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হয়নি।





  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কোম্পানি-সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের জামিন লাভের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের বাসিন্দারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী মামলার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান।


স্থানীয়দের বক্তব্য, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তাদের দাবি, আদালত থেকে জামিন লাভের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।


স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলু, কাজী দাউদসহ আরও কয়েকজন। তাদের সমর্থকদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাবেন।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।


এদিকে, মামলাকে ঘিরে দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার বিষয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মতামত দেন। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা বা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত নয়। তাদের মতে, অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণ এক বিষয় নয়; একটি মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।


বক্তারা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দোষমুক্ত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সাংগঠনিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা বা পুনর্বহালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


তবে এ বিষয়ে উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি বহিষ্কৃত হয়েছেন বা পুনরায় দলীয় পদে বহাল হয়েছেন—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য দলীয় নথি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত।


স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, এতে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ৩৩ বেত্রাঘাত, গলায় জুতার মালা পরানো এবং নাকে খত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের জিরুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ (৪২) গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জ্যাঠাদের জানালে মঙ্গলবার রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


ডমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটু বলেন, মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বাবাকে ডেকে আনা হয়। দুই পক্ষের কথা শুনে সালিশী বৈঠকে ৫-৬ সদস্যের একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। পরে তাদের সিন্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, "বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

বিয়ের দিন বরের বাড়িতে এসে হাজির হন দুই তরুণী। তাদের একজন নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। ওই তরুণীর উপস্থিতির পর বিয়ে ভেঙে যায়। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫)। আর এরপরই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে দাবি স্থানীয়দের।


বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।


স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়।


বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিকেল ৩ টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই তরুণী এসে উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার। তিনি নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। অন্যজন তার মামাতো বোন।


তরুণীর দাবি, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা একসঙ্গে ছিলেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। তবে হেলাল মিয়া মোবাইল বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় তাদের বিয়ে হয়নি।


তরুণী জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং পূর্বের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


এ ঘটনা বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়েটি আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরপক্ষ বাড়িতে ফিরে আসে।


স্থানীয়দের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। রাত ১১টার দিকে নিজ বসতঘরের পূর্ব পাশে সাইদুল ইসলামের পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস দেন তিনি।


পরে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা স্বামীকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।


পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা দুই তরুণীকে হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

বরগুনায় মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগে এক বাদীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং খালাসপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


গতকাল গবুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বরগুনার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ইকবাল মাসুদ এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকতার হোসেন।


দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোশারফ হোসেন ওরফে হারুন অর রশীদ। তিনি বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামের সেকান্দার আলীর ছেলে। মামলায় খালাসপ্রাপ্ত আসামি একেএম শহিদুল ইসলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সালনা বাজার এলাকার বাসিন্দা।


আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর মোশারফ হোসেন বামনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একেএম শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তার ছেলেকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে শহিদুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা নিলেও বিদেশে পাঠাননি এবং অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।


দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপিত না হওয়ায় আসামি একেএম শহিদুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে অভিমত দেন।


পরে গত ২০ জুলাই আদালত বাদীকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে আত্মগোপনে থাকেন।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৫০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী আদালত মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে খালাসপ্রাপ্ত একেএম শহিদুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।


এ বিষয়ে চীফ জুডিসিয়াল আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকতার হোসেন বলেন, মামলায় বাদীর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বাদীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিয়েছেন। এবং শুনানির সময়ে বাদি উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেয়া হয়েছে।


বিআরটিসি বাসের চাপায় শিক্ষক আ ত ম ইউসুফ নিহত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৮ পিএম

নওগাঁয় অটো চার্জারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে দ্রুতগামী বিআরটিসি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আ ত ম ইউসুফ (৪৫) নামে এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। তিনি নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। 


আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 


নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালে প্রতিদিনের মত ইউসুফ তার স্কুটি মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে কর্মস্থল জয়পুরহাটে যাচ্ছিলেন। শহরের দয়ালের মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে তিনি রাস্তার মাঝে ছিটকে পড়ে যান। এসময় বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে শহরের মুক্তির মোড়ের দিকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


সুধারাম মডেল থানা, নোয়াখালী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদের মারধরে একই পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল।


আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়মা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, বুধবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের তাজু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে একদল ডাকাত বাড়ির প্রধান গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে সোনাপুরের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন ফরহাদের ঘরের দরজা কোরাবাড়ি দিয়ে খুলে ঘরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে হাত-মুখ বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে ঘরে থাকা নগদ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং আড়াই থেকে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।


এসআই সায়মা সুলতানা আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।