প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। জ্বালানি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।



বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।



বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।



ফ্যাসিবাদী সংগঠনের নেতাদের বিচার তরান্বিত

মাহদী আমিন বলেন, গত এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসাধারণ অগ্রগতি দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গত মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বৃত্তি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দিয়েছে আদালত। 



মুডিস রেটিং এ ‘সুখবর’

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এ ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বাড়বে। এছাড়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসে এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যে হার, সেটা কমে এসেছে।



সাত ভাগে জনকল্যাণ উদ্যোগ

সাত ভাগে বিভক্ত করে সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।



বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।



প্রবাসী আয় বাড়ছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন।


১৬ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে পুনর্গঠন শুরু

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা দুরূহ। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটি আরও বিকশিত করবে। দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ।



স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ

মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাকে ১৮‘শতে উন্নীতকরণের বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারের নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবা ও রোগীদের তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে ন্যাশনাল ই হেলথ প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ পুনর্বহাল, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে বিগত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সারাদেশে মোট ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে সফলভাবে হাম রুবেলের টিকা প্রদান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তীব্র সংকট নিরসনে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ, ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ডে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমন্বিত তিন মাসের দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ফলে বিগত ছয় মাসে সরকারের গুদামে অতিরিক্ত দেড় লক্ষে খাদ্যশস্য মজুদ বৃদ্ধির কথা বলেন মাহদী আমিন।



সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে। সরকারের অনেক কাজের ইতিবাচক ফল এরই মধ্যে জনগণ পেয়েছে। কিছু কাজের ফল পেতে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনজীবনে স্বস্তি, শাস্তি, নিরাপত্তা বিধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে।



প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এএসএম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ, মিডিয়া সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







সর্বশেষ সব খবর

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা শুধু পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে বলে মনে করে সংগঠনটি।


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে। 


এতে বলা হয়, কুয়েটে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, আইইএম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র, ইএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান। এ ছাড়া চাকরিচ্যুত হয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি এবং অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্ত। 


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ জানিয়েছে, আমরা মনে করি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এ ধরনের চাকরিচ্যুতি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বয়কট, হুমকি-হয়রানি এবং মব সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শত শত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাক্‌স্বাধীনতা, শিক্ষকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশের পরিবর্তে ভীতি, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা ও জবরদস্তিমূলক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের কথা বলা, চর্চা করা কিংবা এসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। অথচ এসব আদর্শের পক্ষে কথা বলার কারণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীকে নানাভাবে হয়রানি, বঞ্চনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বলছে, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা ভিন্নমতের কারণে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হয়রানি, বঞ্চিত কিংবা চাকরিচ্যুত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ধরনের মব সন্ত্রাস, সামাজিক বয়কট কিংবা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কারও পেশাগত ও শিক্ষাগত অধিকার হরণ করা চলতে পারে না।


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ অবিলম্বে কুয়েটে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতি, বয়কট, সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথ মর্যাদায় স্ব স্ব পদে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি সিআইডির দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয়টি জানা যায়।


বিভাগীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে বলে বিভাগীয় নথির সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে।


একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। 


বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির ২৫ অক্টোবরের অনুমোদনের পর এ আদেশ জারি করা হয়।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার সকাল থেকে দুই এলাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। 


শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়ার কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 


সকাল থেকে আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।


আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের কারণে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শ্রমিকেরা সরে যান। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেল ৩টার দিকেও মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালশী সড়কে শ্রমিকদের অবরোধ চলছিল।


মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আশুলিয়া থেকে তিনটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে শ্রমিকদের উসকে দিতে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন তেমন ভালো নয়। শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তাঁরা অন্য কারখানার শ্রমিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। আমরা শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।’

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

অবশেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও বিতর্কিত সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 


আদেশে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।


এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি কিংবা সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি। 


পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ২২ জুন অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। 


তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, সে বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ২০ আগস্ট। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি। 


পরে প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়।সবশেষে গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

শেখ হাসিনা

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার বানোয়াট দাবি এবং ভুয়া চিকিৎসাপত্র দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত তদন্তে মামলার বাদী নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা, ঘটনার দিন তিনি কোনোভাবেই আহত হননি বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।


এ প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার মোট ৮৪ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।


গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট নথি পর্যালোচনা করে বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন এবং আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্র জানায়, এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি নির্বিচার হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটিসহ মোট নয়টি গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।


পরবর্তীতে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন তিনি।


জাল চিকিৎসাপত্রে সাজানো নাটক ফাঁস


পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাদী নূর হোসেন এজাহারের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসার যে ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, উল্লিখিত তারিখে নূর হোসেন নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি।


প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দুটি গুরুতর অসংগতি তুলে ধরেন। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সব সময় হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন, কিন্তু নূর হোসেনের দাখিলকৃত নথিটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত ক্যাশ মেমো নম্বরটি যাচাই করে দেখা যায় সেটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক ভিন্ন রোগীর নামে বরাদ্দ। এছাড়া যে পেশেন্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল, তা ছিল জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী অন্য এক ব্যক্তির।


এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গেজেটেও নূর হোসেনের নামের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদী বাস্তবে আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে আহত হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এ মামলা করেছেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সময়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আট আসামিকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নতুন করে কাউকে এ মামলার এজাহারের ভিত্তিতে সরাসরি আটক করা হয়নি।


তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।


মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উক্যমং রাখাইন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

পাসের হার ২২ বছরে সর্বনিম্ন

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪২ পিএম

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৬ দশমিক ২ শতাংশ।


এর আগে ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। এই হিসাবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।


এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনও এবারের মতো বাজে ফল আর হয়নি।


আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বরাবরের মতই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএস করেও উচ্চমাধ্যমিকের ফল জানা যাচ্ছে।


চব্বিশের অভ্যুত্থান ঘিরে সার্বিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের অধীনে খাতা দেখার ধরন বদলে যাওয়ায় গতবার মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকেও পাসের হারে ধস নামে।


এবার এসএসসিতে পাসের হার আরও কমে হয় ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফল এল।


ফলাফলে এমন ধসের পেছনে নির্মোহভাবে খাতা দেখা এবং শিক্ষার্থীদের শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখার কথা বলছে সরকার।


ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, “আমাদের নির্বাচিত সরকারের আয়োজিত প্রথম এই এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় আমরা নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছি।


“প্রত্যেকের খাতায় যে পরীক্ষা যেভাবে দিয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চাইছি এবং এই প্রথমবারের মতন থাকছে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষা।”


অকৃতকার্যদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি।


আর শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ফলাফলে এভাবে নিচের দিকে নেমে আসা কখনও কাম্য নয়।


“ঘাটতি আমাদের শিখন পদ্ধতিতে রয়েছে, অভিভাবকদের রয়েছে, পরিবেশ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে, সেটাকে আমাদেরকে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং এটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে-এটাই আমাদের দায়িত্ব।”


এ ঘাটতি পূরণের জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


খাতা পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “খাতা দেখায় স্বচ্ছতার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং অসঙ্গতি পাওয়া গেলেই সেগুলি নিয়ে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তারা রি-এক্সামিন করতে পারে। তখন আগামী দিনে কী হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারব।”


এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষায় ফলাফলে অনেক পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য এসেছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫ হাজার জন ফেল থেকে পাস করেছে। আর ৩ হাজার ৭৯ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল।


এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না সেটা আমরা দেখি।


“তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে- এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কি-না, সেই বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।”


গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্ধারিত দিন সকালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সারতেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলের প্রতিবেদন তুলে দিতেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন ওই অনুষ্ঠানে।


সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকতা সারার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট ও মোবাইলে ফল জানার সুযোগ মিলত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের বিস্তারিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফল প্রকাশের সেসব আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।


এবারের ফল


এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়।


তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস করেছে। সার্বিক পাসের হার ৫২.১২%


নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।


মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন।


কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯.৪৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৬ জন।


সার্বিকভাবে ছাত্রদের মধ্যে পাসের হার ৪৭.৭৫%, ছাত্রীদের মধ্যে পাস করেছে ৫৬.৩১%


জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী।


ফল মিলবে যেভাবে


বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার্থীরা https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।


প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইএন দিয়ে ফল ডাউনলোড করতে পারবে। আর পরীক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।


এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থী। এর জন্য HSC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের তিন অক্ষরের নাম, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আবার স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখতে হবে। এরপর 16140 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। যেমন- HSC DHA 123456 2026 লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে।


উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন


পুনর্নিরীক্ষণসহ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইনে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।


এর জন্য ওয়েবসাইটে (https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) গিয়ে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ ও বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। তারপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে মোবাইল নম্বর চাইবে, যে নম্বরে পুনঃনিরীক্ষণের ফল এসএমএস করা হবে।


পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।


প্রতিটি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে ফি গুনতে হবে। দ্বিপত্রের বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।


প্রয়োজনে ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে।

সর্বশেষ সব খবর