আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগে যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।


বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ন্যস্ত করা হয়েছে।


পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।


জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। 




মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যন্ত্রকৌশল শিক্ষায় সূচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে ৪র্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম বিভাগ হিসেবে চালু হওয়া মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের কারণে অল্প সময়েই বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলকে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তৃত শাখা এবং ‘Mother of Engineering’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ গুরুত্ব বিবেচনায় ইউজিসি ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগটি অনুমোদন করে এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।



বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট, শাবিপ্রবি ও হাবিপ্রবিসহ মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইইউটি এবং কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, আধুনিক ইঞ্জিন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়। এর মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অটোমোটিভ প্রযুক্তিতেও শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের সমন্বয়ে বিভাগটি ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই প্রত্যাশা করছেন।



দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বিভাগের যাত্রা

মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা। দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ)’-এর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সাত বছর মেয়াদি ‘অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)’ প্রকল্পের আওতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের অধীনে বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক সহযোগিতা, ল্যাব সম্প্রসারণ, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য টেক্সট বই প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা বর্তমানে বিভাগের ল্যাবগুলোতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে।



যেভাবে যাত্রা শুরু

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির যাত্রা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো মাভাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের কাছে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এরপর ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভাগ খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশসহ ইউজিসিতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ইউজিসি ১২/০৯/২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই যৌথ প্রকল্পের কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।




নেতৃত্বে অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ

মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ। মূলত তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বিষয়ে যোগাযোগ, বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রকল্প অনুমোদন, বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং প্রকল্প পরিচালনা থেকে সকল কাজেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠা করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার একার পক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে – এতেই আমি আনন্দিত।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যেটা আমরা করতে পেরেছি। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের ফলে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হবে।”




একাডেমিক কার্যক্রম ও ল্যাব সুবিধা

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ (ত্রিশ) জন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিভাগের ১ম ব্যাচে নেপাল থেকে আগত একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন এ বিভাগে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদ্যমান। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমোটিভ রিসার্চ (CAAR), ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথম গবেষণা ইঞ্জিন (ইঞ্জিন সিমুলেটর) বিভাগে সংযোজিত হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টিরও বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। প্রকল্প মেয়াদ পর্যন্ত আরও অনেক গবেষণা সরঞ্জামাদি বিভাগে যুক্ত হবে।




বর্তমানে যেসব ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে

মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনটি ক্লাসরুম, ১০০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল, ১০০০-এর অধিক বই সম্বলিত সেমিনার লাইব্রেরি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ (মেশিন শপ, ফেব্রিকেশন ও শিট মেটাল শপ, ওয়েল্ডিং শপ), অ্যাডভান্সড মেকানিক্স ল্যাব, মেট্রোলজি ল্যাব, ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাব, থার্মোডাইনামিক্স ল্যাব, হিট ট্রান্সফার ল্যাব, ইঞ্জিন ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ল্যাব এবং CAAR (Center for Advanced Automotive Research)। এছাড়াও ভবিষ্যতে CAD মডেলিং ও সিমুলেশন কাম কম্পিউটার ল্যাব, ফ্লুইড মেশিনারিজ ল্যাব, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস টেস্টিং ল্যাব, প্রোডাকশন ল্যাব, রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ল্যাবসহ বেশ কিছু আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।




কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা কার্যক্রম এবং উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গমন

উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় এবং শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিক্ষা সফরে ১০ জন করে শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন। মূলত কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও শিক্ষার আধুনিকায়নে তারা এ সফরে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই ১০ জন শিক্ষার্থী দশ দিনের শিক্ষাসফরে ২য় বারের মতো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় তারা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করা, ফুটবল ম্যাচ খেলা, বিভাগ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে আইইউটি (Islamic University of Technology)-তে একটি এডুকেশন ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় আইইউটি ও বুয়েট-এর চারজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোরিয়ার সরকার প্রদত্ত GKS স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।




বিভাগের বর্তমান অবস্থা

মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিভাগে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। ইউজিসি কিছু শিক্ষক ও টেকনিক্যাল পদের অনুমোদন দিয়েছে। সেসব পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



বিভাগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক ও ল্যাবের টেকনিক্যাল জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, চূড়ান্ত বর্ষে রিসার্চ ও থিসিস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং রয়েছে। এ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক অপরিহার্য। এছাড়াও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিষয়ভিত্তিক কারিগরি জনবল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কর্তৃক প্রদেয় আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতিসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভাগটি দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”




মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিভিন্নজনের মতামত                                                                                                                                                                                    মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন,  “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”                             



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।



নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “মাভাবিপ্রবিতে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির অগ্রযাত্রা আমাকে সত্যিই আশাবাদী ও মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদির যথেষ্ট সমৃদ্ধি রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকট একটি সাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিভাগটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। নবীন এই বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করছি।” 




মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে শিক্ষা, পাঠদান ও একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ও সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি সুবিধা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তর নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভাগটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”


প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো বলেন, “I am truly delighted to have contributed to the establishment of the Department of Mechanical and Automotive Engineering at Mawlana Bhashani Science and Technology University. I have been providing my full support in developing the necessary laboratories and equipment and will continue to do my best to meet the department’s future needs. I also believe that the growing collaboration between the students and the Government of South Korea will open new opportunities for their future, particularly in higher education.”



নেপাল থেকে আগত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীদ আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “Bangladesh was a completely new place for me, and since this department was also new, I felt a little nervous in the beginning. However, after coming here, all my perceptions changed. The people of Bangladesh are so friendly and welcoming that I never feel like I am living outside my own country. Moreover, this department has given me much more than I ever expected. Everyone here is very dear to me, especially our respected Chairman Prof. Dr. Md. Iqbal Mahmud Sir. I feel truly grateful and proud to be a part of the MBSTU Mechanical and Automotive Engineering family.”



বিভাগের প্রথম ব্যাচ (২০২৩-২৪)-এর শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মারুফ বলেন, “গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন এই বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার নাম ছিল প্রথম। সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমার মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পড়ার কোনো বিশেষ ইচ্ছা ছিল না। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভাগের সহযোগিতার কথা শুনেই আমি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তবে ভর্তি হওয়ার পর বিভাগের ল্যাবগুলো দেখে আমার ভেতরে যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ মনে হয়, যদি আমি এই বিভাগে না পড়তাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর একটি অংশই মিস করতাম।



বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ (২০২৪-২৫)-এর শিক্ষার্থী সাব্বির হাওলাদার বলেন, “শৈশব থেকেই গাড়ি ও এর প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালীর প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই আমাকে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে আসে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পর মাভাবিপ্রবির নবীন বিভাগ হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ আমাকে এই বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করে। দ্বিতীয় ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখন মনে হয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। একটি নবীন বিভাগকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়া সত্যিই গর্বের। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্ব বিভাগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আমাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে এই বিভাগ থেকেই দেশের অটোমোটিভ শিল্প ও বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি। এমন একটি উদীয়মান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”



বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ (২০২৫-২৬)-এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিভাগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অগ্রগতির পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।


নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ এর সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনের ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ পিএম

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ এর সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেখানে নৌকা স্থগিত রেখে সংসদ নির্বাচনের ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, একক প্রার্থীতে থাকবে ‘না’ প্রতীক। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ইসির সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্বাচনে ১২০টি প্রতীক সংরক্ষিত থাকছে। 



এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো- আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, ড্রেসিং টেবিল, ঢেঁকি, তারা, ফুলের মালা, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কলার ছড়ি, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুঁড়ে ঘর, কুড়াল, কুমির, কুলা, কেটলি, কোদাল, খেজুর গাছ, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, চিরুনি, চেয়ার, ছড়ি, ছাতা ও জগ।




নির্ধারিত অন্য প্রতীকগুলো হলো- জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, থালা, দাঁড়িপাল্লা, দালান, দেওয়াল ঘড়ি, দোতলা বাস, দোয়াত কলম, দোলনা, ধানের শীষ, নোঙ্গর, নৌকা (স্থগিত), পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, প্রজাপতি, ফুলের ঝুড়ি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বেবী টেক্সি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মাথাল, মিনার, মোটরগাড়ি (কার), মোটরসাইকেল, মোড়া, মোবাইল ফোন, মোমবাতি, মোরগ, সিংহ, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, সোফা, হরিণ, হাঁস, হাত (পাঞ্জা), হাতঘড়ি, হাতপাখা, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হুক্কা, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক ও ‘না’ প্রতীক।




ইসির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (প্রেসিডেন্টস্‌ অর্ডার নম্বর ১৫৫ অব ১৯৭২) এর আর্টিকেল ৯৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর নিম্নরূপ অধিকতর সংশোধন করল। উপরিউক্ত বিধিমালার বিধি-৯ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-বিধি (১) প্রতিস্থাপিত হবে। যথা- এই বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০ এর দফা (১) এর অধীন, স্থগিতকৃত প্রতীক ব্যতীত, নির্ধারিত প্রতীকগুলো থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে, যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে।



এতে আরও বলা হয়, তফসিল-১ এর ফরম-১ এর তৃতীয় অংশের (মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা) ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলোর পর ‘এবং প্রার্থী অথবা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত হবে। পাশাপাশি প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামার সংযুক্তি-১ এর ক্রমিক নম্বর ৩(খ) এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশের ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে।



সংযুক্তি-১ এর ক্রমিক নম্বর ৩(গ) এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য সন্নিবেশিত হবে, যথা- ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য: অভিযুক্ত বলিতে ওই আসামিকে বুঝাইবে যাহার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ (চার্জ) গঠিত হয়।’ এবং ক্রমিক নম্বর ১০ এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য সন্নিবেশিত হবে, যথা- ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরিউক্ত ছকের ক্রমিক ২, ৩ ও ৪ এ উল্লিখিত যথাক্রমে, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে।





ইলেকট্রিক ট্রেন (ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।


একনেকের সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জয়দেবপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ-একটা প্রকল্প পাশ হয়েছে...ইলেকট্রিক ট্রেনের ব্যবস্থা। এটা কমিউটার ট্রেনের মতো। এর সাথে মেট্রোরেলের একটা সাদৃশ্য আছে। তবে এটা ট্র্যাডিশনাল ট্র্যাকের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।


জোনায়েদ সাকি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেছে, বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে চলবে কি না। বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন ও কমিউটার ট্র্যাক লাইনের স্পিডে পার্থক্য হবে। তবে কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো স্পিডে যাবে না। এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। ১৬০ কিলোমিটার বেগে চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, এটা তৈরি করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, ইলেকট্রিক ট্রেনের ট্র্যাক তৈরির কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ এগিয়ে গেছে।



একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদনও এই সভায় দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়বলে জানিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। 



 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রো রেল যেভাবে চলে এটাও সেভাবে চলবে। তবে এটা ট্রেডিশনাল ট্রেন লাইন ট্র্যাকের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। এই প্রকল্প পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’

তি

নি আরো বলেন, ‘এটা সফল হলে এখানে একটা ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন হবে। তার জন্য ট্র্যাক তৈরি করার প্রকল্প আছে। অনেকের প্রশ্ন—বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে এটা চলবে কিনা।


সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০

বিদ্যমান ট্র্যাক লাইনের যে স্পিড ওঠে, আর এই কমিউটার ট্রেনের যে স্পিড হবে—দুয়ের মধ্যে একটু পার্থক্য হবে।’


জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তবে এই কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো ৩০০ কিলোমিটার পার আওয়ার—এ রকম স্পিডে যাবে না, এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০। এই ১৬০ কিলোমিটার চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, সেটা তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে এগিয়ে গেছে।’


তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের প্রকল্প সম্পন্ন হলে এই ট্র্যাক লাইনে কমিউটার ট্রেন প্রায় ১৬০ গতিতে চলবে, যেমনটা মেট্রো রেল চলে।’



#

ক্যাপশন

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি


‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৮ পিএম

চলচ্চিত্রকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। আজ বুধবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।



তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।



সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’



চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’



অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের সোনালি দিনগুলোর তুলনায় আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়তো হয়ে ওঠেনি। তাই শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।’



চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী।



তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম, যারা বাংলা সিনেমার সেরা সময়গুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটাতে এবং এর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।



অনুভূতি প্রকাশ করে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতাম। এখান থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই আমি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছি।’



চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য গুণী ব্যক্তিত্ব ও নির্মাতাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চলচ্চিত্র পরিচালক ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকের। 



অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এছাড়া সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি-সহ অনুষ্ঠানে দেশবরণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।







প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। জ্বালানি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।



বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।



বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।



ফ্যাসিবাদী সংগঠনের নেতাদের বিচার তরান্বিত

মাহদী আমিন বলেন, গত এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসাধারণ অগ্রগতি দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গত মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বৃত্তি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দিয়েছে আদালত। 



মুডিস রেটিং এ ‘সুখবর’

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এ ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বাড়বে। এছাড়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসে এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যে হার, সেটা কমে এসেছে।



সাত ভাগে জনকল্যাণ উদ্যোগ

সাত ভাগে বিভক্ত করে সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।



বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।



প্রবাসী আয় বাড়ছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন।


১৬ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে পুনর্গঠন শুরু

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা দুরূহ। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটি আরও বিকশিত করবে। দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ।



স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ

মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাকে ১৮‘শতে উন্নীতকরণের বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারের নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবা ও রোগীদের তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে ন্যাশনাল ই হেলথ প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ পুনর্বহাল, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে বিগত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সারাদেশে মোট ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে সফলভাবে হাম রুবেলের টিকা প্রদান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তীব্র সংকট নিরসনে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ, ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ডে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমন্বিত তিন মাসের দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ফলে বিগত ছয় মাসে সরকারের গুদামে অতিরিক্ত দেড় লক্ষে খাদ্যশস্য মজুদ বৃদ্ধির কথা বলেন মাহদী আমিন।



সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে। সরকারের অনেক কাজের ইতিবাচক ফল এরই মধ্যে জনগণ পেয়েছে। কিছু কাজের ফল পেতে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনজীবনে স্বস্তি, শাস্তি, নিরাপত্তা বিধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে।



প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এএসএম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ, মিডিয়া সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






এহসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। 


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।


নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ তার নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 


তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে এ দেশের মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখেই তিনি কাজ করতে চান। সবার সম্মিলিত সংযোগ ও সক্রিয়তায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি এই জাদুঘরকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


মাদারীপুরে জন্মগ্রহণকারী এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন এবং নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যেও তার উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’, এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার প্রকাশনা রয়েছে।