মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক সন্তোষে অবস্থিত মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) যন্ত্রকৌশল শিক্ষায় সূচিত হয়েছে নতুন অধ্যায়।


ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে ৪র্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম বিভাগ হিসেবে চালু হওয়া মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের কারণে অল্প সময়েই বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে।


মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশলকে প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ ও বিস্তৃত শাখা এবং ‘Mother of Engineering’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ গুরুত্ব বিবেচনায় ইউজিসি ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিভাগটি অনুমোদন করে এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।


বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, ডুয়েট, শাবিপ্রবি ও হাবিপ্রবিসহ মোট ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।


এছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আইইউটি এবং কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, আধুনিক ইঞ্জিন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা বিভাগটির শিক্ষা ও গবেষণার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে ২২ জুলাই ২০২৬ ইউজিসির অনুমোদনের মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়।


এর মাধ্যমে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি অটোমোটিভ প্রযুক্তিতেও শিক্ষার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। আধুনিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যুগোপযোগী কারিকুলামের সমন্বয়ে বিভাগটি ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই প্রত্যাশা করছেন।


দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বিভাগের যাত্রা



মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালুর পেছনে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা।


দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ)’-এর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে সাত বছর মেয়াদি ‘অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ)’ প্রকল্পের আওতায় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কাজ চলছে।


এই প্রকল্পের অধীনে বিভাগ চালুর জন্য প্রাথমিক সহযোগিতা, ল্যাব সম্প্রসারণ, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরির উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য টেক্সট বই প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।


২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত প্রকল্প বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, যা ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব গবেষণা সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যা বর্তমানে বিভাগের ল্যাবগুলোতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করছে।


যেভাবে যাত্রা শুরু



মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটির যাত্রা শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো মাভাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ ও তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনের কাছে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এরপর ২০২০ সালে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন বিভাগ খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডের সুপারিশসহ ইউজিসিতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ইউজিসি ১২/০৯/২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পে কাজ করার অনুমোদন প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডি এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই যৌথ প্রকল্পের কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।


নেতৃত্বে অধ্যাপক ইকবাল মাহমুদ


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ। মূলত তাঁর উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই মাভাবিপ্রবিতে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব হয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে প্রকল্প বিষয়ে যোগাযোগ, বিভাগ প্রতিষ্ঠা, প্রকল্প অনুমোদন, বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং প্রকল্প পরিচালনা থেকে সকল কাজেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠা করা ছিল একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার একার পক্ষে সেই চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সফলভাবে তার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে – এতেই আমি আনন্দিত।


চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সঠিক ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি, যেটা আমরা করতে পেরেছি। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের ফলে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রকল্প আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভবিষ্যতে গবেষণামূলক কার্যক্রম ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে একটি দৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি হবে।”


একাডেমিক কার্যক্রম ও ল্যাব সুবিধা


২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ (ত্রিশ) জন শিক্ষার্থীর ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বর্তমানে বিভাগটিতে তিনটি ব্যাচে ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিভাগের ১ম ব্যাচে নেপাল থেকে আগত একজন শিক্ষার্থী রয়েছে। নতুন এ বিভাগে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ল্যাব রয়েছে, যেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিদ্যমান। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড অটোমোটিভ রিসার্চ (CAAR), ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রথম গবেষণা ইঞ্জিন (ইঞ্জিন সিমুলেটর) বিভাগে সংযোজিত হয়। এরপর থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩০টিরও বেশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। প্রকল্প মেয়াদ পর্যন্ত আরও অনেক গবেষণা সরঞ্জামাদি বিভাগে যুক্ত হবে।


বর্তমানে যেসব ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা রয়েছে



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনটি ক্লাসরুম, ১০০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল, ১০০০-এর অধিক বই সম্বলিত সেমিনার লাইব্রেরি, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ (মেশিন শপ, ফেব্রিকেশন ও শিট মেটাল শপ, ওয়েল্ডিং শপ), অ্যাডভান্সড মেকানিক্স ল্যাব, মেট্রোলজি ল্যাব, ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাব, থার্মোডাইনামিক্স ল্যাব, হিট ট্রান্সফার ল্যাব, ইঞ্জিন ল্যাব, ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ল্যাব এবং CAAR (Center for Advanced Automotive Research)। এছাড়াও ভবিষ্যতে CAD মডেলিং ও সিমুলেশন কাম কম্পিউটার ল্যাব, ফ্লুইড মেশিনারিজ ল্যাব, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ল্যাব, ম্যাটেরিয়ালস টেস্টিং ল্যাব, প্রোডাকশন ল্যাব, রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ল্যাবসহ বেশ কিছু আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।




কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও সহযোগিতা কার্যক্রম এবং উচ্চ শিক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া গমন


উল্লিখিত প্রকল্পের আওতায় এবং শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিক্ষা সফরে ১০ জন করে শিক্ষার্থী মাভাবিপ্রবির মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পরিদর্শন করেন।


মূলত কালচারাল এক্সচেঞ্জ ও শিক্ষার আধুনিকায়নে তারা এ সফরে এসেছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই ১০ জন শিক্ষার্থী দশ দিনের শিক্ষাসফরে ২য় বারের মতো মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় তারা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস করা, ফুটবল ম্যাচ খেলা, বিভাগ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ ছাড়া তারা যৌথভাবে আইইউটি (Islamic University of Technology)-তে একটি এডুকেশন ভিজিটে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় আইইউটি ও বুয়েট-এর চারজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোরিয়ার সরকার প্রদত্ত GKS স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন।



বিভাগের বর্তমান অবস্থা



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন এবং ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিভাগে একমাত্র শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। ইউজিসি কিছু শিক্ষক ও টেকনিক্যাল পদের অনুমোদন দিয়েছে। সেসব পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিভাগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল মাহমুদ বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক ও ল্যাবের টেকনিক্যাল জনবলের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষে ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, চূড়ান্ত বর্ষে রিসার্চ ও থিসিস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেনিং রয়েছে। এ সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক অপরিহার্য।


এছাড়াও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিষয়ভিত্তিক কারিগরি জনবল অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাদান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কর্তৃক প্রদেয় আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতিসমূহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিভাগটি দক্ষ প্রকৌশলী ও গবেষক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।”



মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিভিন্নজনের মতামত


                                                                                                                                                             মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন,  “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”                             


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।


নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষক ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের ঘাটতিসহ স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে বিভাগের অগ্রযাত্রা যেভাবে এগিয়ে চলছে, আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারব। আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ইতোমধ্যেই এই বিভাগের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিভাগের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত। এই বিভাগের পথচলা থেমে যাওয়ার নয়; দৃঢ় প্রত্যয় ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি একদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। নতুন বিভাগের সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।”


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, “মাভাবিপ্রবিতে নবপ্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির অগ্রযাত্রা আমাকে সত্যিই আশাবাদী ও মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে বিভাগটিতে প্রয়োজনীয় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জামাদির যথেষ্ট সমৃদ্ধি রয়েছে। তবে শিক্ষক সংকট একটি সাময়িক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিভাগটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই বিভাগ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আরও সমুন্নত করবে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি। নবীন এই বিভাগের সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করছি।” 


মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, “মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগটি মাত্র তিন বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও ইতোমধ্যে শিক্ষা, পাঠদান ও একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভাগটিতে রয়েছে অত্যাধুনিক ও সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি সুবিধা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তর নিষ্ঠা, প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে বিভাগটি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রকৌশল শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”


প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কংজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. হ্যাং মুক চো বলেন, “I am truly delighted to have contributed to the establishment of the Department of Mechanical and Automotive Engineering at Mawlana Bhashani Science and Technology University. I have been providing my full support in developing the necessary laboratories and equipment and will continue to do my best to meet the department’s future needs. I also believe that the growing collaboration between the students and the Government of South Korea will open new opportunities for their future, particularly in higher education.”


নেপাল থেকে আগত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহীদ আনসারি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “Bangladesh was a completely new place for me, and since this department was also new, I felt a little nervous in the beginning. However, after coming here, all my perceptions changed. The people of Bangladesh are so friendly and welcoming that I never feel like I am living outside my own country. Moreover, this department has given me much more than I ever expected. Everyone here is very dear to me, especially our respected Chairman Prof. Dr. Md. Iqbal Mahmud Sir. I feel truly grateful and proud to be a part of the MBSTU Mechanical and Automotive Engineering family.”


বিভাগের প্রথম ব্যাচ (২০২৩-২৪)-এর শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মারুফ বলেন, “গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন এই বিভাগের ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আমার নাম ছিল প্রথম। সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমার মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ পড়ার কোনো বিশেষ ইচ্ছা ছিল না। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বিভাগের সহযোগিতার কথা শুনেই আমি এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। তবে ভর্তি হওয়ার পর বিভাগের ল্যাবগুলো দেখে আমার ভেতরে যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আজ মনে হয়, যদি আমি এই বিভাগে না পড়তাম, তাহলে হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও সুন্দর একটি অংশই মিস করতাম।


বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচ (২০২৪-২৫)-এর শিক্ষার্থী সাব্বির হাওলাদার বলেন, “শৈশব থেকেই গাড়ি ও এর প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালীর প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই আমাকে মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথে নিয়ে আসে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পর মাভাবিপ্রবির নবীন বিভাগ হওয়ায় শুরুতে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ আমাকে এই বিভাগে আসতে অনুপ্রাণিত করে। দ্বিতীয় ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখন মনে হয়, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। একটি নবীন বিভাগকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হওয়া সত্যিই গর্বের। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থী-বান্ধব নেতৃত্ব বিভাগের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে আমাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। চেয়ারম্যান স্যারের নেতৃত্বে এই বিভাগ থেকেই দেশের অটোমোটিভ শিল্প ও বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি। এমন একটি উদীয়মান বিভাগের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”


বিভাগের তৃতীয় ব্যাচ (২০২৫-২৬)-এর শিক্ষার্থী উম্মে সালমা বলেন, “মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল এন্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই ক্রমবর্ধমান পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ও উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধার মাধ্যমে আমাদের বিভাগের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অগ্রগতির পেছনে আমাদের শ্রদ্ধেয় চেয়ারম্যান স্যারের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় আমাদের বিভাগ ভবিষ্যতে প্রকৌশল ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি উৎকর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া গতিশীল করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবস্থাপনা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পাঁচ সদস্যের ‘কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দল’ (প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন টিম - পিআইটি) পুনর্গঠন করেছে।


রোববার (১ নভেম্বর) অর্থ বিভাগের বাজেট শাখা-৩ থেকে জারি করা এই সংক্রান্ত বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।


প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট


প্রজ্ঞাপনটি গত ২৮ অক্টোবর জারি করা হলেও তা রোববার প্রকাশ করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনর্গঠিত এই দলের মেয়াদ ও কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আনিছুর রহমান বালীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রধান দপ্তরসমূহে পাঠানো হয়েছে। মূলত অর্থ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ (পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট - পিএফএম) সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পিএফএম কর্মপরিকল্পনার আওতাধীন ‘কম্পোনেন্ট-২: ডমেস্টিক রিসোর্স মোবিলাইজেশন (ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউ)’ নামক কৌশলগত অংশ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই দল পুনর্গঠন করা হয়েছে।


পুনর্গঠিত টিমের সদস্যবৃন্দ


অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে আধুনিক কৌশল প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করতে এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ৫ সদস্যের এই উচ্চপর্যায় কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন:

 * দলনেতা: কাজী লতিফুর রহমান — সদস্য (চলতি দায়িত্ব) (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

 * সদস্য: মো. মনিরুজ্জামান — পরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), এনবিআর।

 * সদস্য: সিরাজুম মুনীর — প্রথম সচিব, কর অডিট, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, এনবিআর।

 * সদস্য: তারেক হাসান — প্রথম সচিব, কাস্টমস নীতি, এনবিআর।

 * সদস্য: নাজমা জ্যাবিন — দ্বিতীয় সচিব, কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এনবিআর।


মূল দায়িত্ব ও প্রত্যাশা


পুনর্গঠিত এই দলটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা (পিএফএম) কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 * দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা।

 * কাস্টমস ও কর নীতি আধুনিকীকরণ।

 * কর ফাঁকি রোধে সিআইসি ও অডিট শাখার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।

 * কাস্টমস ডিজিটালাইজেশন ও নতুন রাজস্ব নীতি প্রণয়নের কাজ ত্বরান্বিত করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি টেকসই ও স্বনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনবিআরের এই বাস্তবায়ন দল একটি কার্যকর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।


শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় গিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান জানান শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সোমবার ঢাকার বিজয়নগরে শ্রম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার। এ সময় ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত না থেকেও আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা কারখানায় ফিরে কাজে যোগ দিন। আমরা আপনাদের ন্যায্য মজুরির জন্য লড়াই করব। প্রয়োজন হলে আন্দোলনে যোগ দিতে আপনাদের ডাকব।’


তিনি বলেছেন, ‘আমরা মজুরি বোর্ডে এমনভাবে কাজ করব, যাতে আগামী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি হাতে পান। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভা করার অজুহাতে নতুন মজুরি কার্যকরে কোনো বিলম্ব হতে দেব না।’ 


বাবুল আখতার বলেন, ‘চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কিছু শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেসব শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা শুধু মজুরি–সংক্রান্ত ন্যায্য দাবি উত্থাপন বা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে আটক হয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হোক।’


তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, মজুরি বোর্ডে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করব। আমরা একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামত নিয়ে একটি সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করতে চাই।’


একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার ও মালিকপক্ষকে বলতে চাই, একটি গ্রহণযোগ্য মজুরিকাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’


এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন। আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, সুলতানা বেগম প্রমুখ।


সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলনে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে না; বরং এতে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে কারখানার মালিকেরা ক্রয়াদেশ হারাচ্ছেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করেছে কিনা, তা চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 


রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। 


ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 


সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।


  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কেমিক্যাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালিয়ে ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যালের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার এ অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে 


এনবিআর বলছে, একই সঙ্গে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ৪৫ মেট্রিক টন কেমিক্যালের হদিস দিতে না পারায় সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের গুদামে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল মজুদ পাওয়া যায়। 


তবে এসব পণ্য ক্রয়, আমদানি কিংবা বৈধভাবে মজুদ রাখার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে মজুদ করা পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়। অন্যদিকে, সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দার একটি দল। 


প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ অক্টোবর ভারত থেকে বন্ড সুবিধায় ৪৫ মেট্রিক টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট আমদানি করে। তবে সরেজমিনে আমদানি করা কেমিক্যালের মজুদ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা এসব কেমিক্যাল উৎপাদন কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।


এনবিআর বলছে, একদিকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কেমিক্যালের হদিস নেই, অন্যদিকে নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের গুদামে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল পাওয়া গেলেও সেগুলোর বৈধ কাগজপত্র নেই। এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জব্দ কেমিক্যালের প্রকৃত উৎস, আমদানি ও কেনা-বেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সরকারের কী পরিমাণ শুল্ক-কর ফাঁকি হয়েছে, তা নিরূপণে তদন্ত চলছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পোশাক খাতের অস্থিরতায় নিষিদ্ধ সংগঠনের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ইন্ধন

কিছু শিল্প মালিকও জড়িত বলে দাবি মন্ত্রীর


সচিবালয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১৮ পিএম

দেশের পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 


তিনি বলেন,‘এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত রয়েছেন বলে সরকারের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের আলোচনা চলার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ ঘটনায় জড়িত শিল্প মালিক, শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।’


সচিবালয়ে সোমবার পোশাক শিল্প মালিকদের দুটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসব শিল্প মালিক কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের তালিকা সরকারের কাছে জমা দেবেন মালিকপক্ষ। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত সন্দেহভাজন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব শিল্প মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, যারা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে কেউ সংসদ সদস্য, কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, সেসব শিল্প মালিক এই অস্থিরতার পেছনে কাজ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে এবং এর প্রমাণও রয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠনের আলোচনা চলছে। এমন একটি সময়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন কেউ কেউ। এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও কিছু শিল্প মালিক এ কর্মকাণ্ডে জড়িত। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা এমন কিছু ব্যক্তিও জড়িত, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে শ্রমিকদের কল্যাণ চান কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। বরং এর ফলে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


কারখানা বন্ধের তালিকা চেয়েছে সরকার


বৈঠকে শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু শিল্প মালিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এমন কারখানা ও মালিকদের তালিকা সরকারকে দেওয়া হবে। 


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখা শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামও দিতে বলা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, কোনো শ্রমিক কিংবা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। তবে ভুলক্রমে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিয়ে থাকলে কিংবা জড়িত থাকলে তাঁদের সেখান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমনের চেষ্টা করবে। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি কিংবা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় কেউ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।


শিল্প কারখানা বন্ধ চায় না সরকার


পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো শিল্প কারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কারখানা বন্ধ থাকুক, সেটি সরকারের কাম্য নয়। একইভাবে শিল্প খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতাও চায় না সরকার।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষা এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা জরুরি। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ এএম

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’। গত ২৭ অক্টোবর অন্ধ্রের উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। নামটি ছিল বাংলাদেশের দেওয়া। আর ‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারতই। এটি আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।


‘মুরাসু’একটি তামিল শব্দ। এর অর্থ হলো বিশাল আকারের ড্রাম বা রণঢাক জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। কোনো দুর্যোগ সম্পর্কে বা কিছু ঘোষণা করতে, সবাইকে সচেতন করতে এই বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। অনেক সময় এটিকে যুদ্ধের বাদ্য হিসেবেও ধরে নেওয়া হয়। এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকার নিতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।


আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক আজ সকালে বলেন, গতবার অর্ণব যেখানে আঘাত হেনেছিল, সেখান থেকে বেশ অনেকটা দূরে আরও উত্তরে প্রবল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে আজই।


আগের ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূল এবং দেশের নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছিল। এর পরিমাণ বেশি না হলেও তাতে কয়েক দিনের তাপপ্রবাহ কমে গিয়েছিল। তাহলে এবারের ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী?


ওমর ফারুক বলেন, অর্ণবের যেমন প্রভাব ছিল, তার চেয়ে মুরাসুর প্রভাব অনেকটাই কম হতে পারে। এতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। তবে আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে তাতে বৃষ্টি হবে, এমন সম্ভাবনা কম। আগামীকাল মঙ্গলবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা তেমন নেই। আসলে বাংলাদেশের উপকূল থেকে মুরাসুর এবারের সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল অনেকটাই দূরে।


এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গরম কমছে না। গত মাসে কয়েক দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ পিএম

তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার।


আজ রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।


বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপরও পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত করা এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।


ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’


সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ: মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।


এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।


একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।