ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার মেরিন ড্রাইভ এলাকার পাঁচ তারকা একটি হোটেলের সুইমিং পুলে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ইনানী সৈকতে ‘হোটেল বে-ওয়াচ’ নামের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই পর্যটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গোসলে নেমেছিলেন।
পুলিশের ধারণা, হৃদ্রোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ওই পর্যটকের নাম মিরাজ আহমদ (৩৮)। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুইমিং পুলে গোসলে নামার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্ত্রী-সন্তানসহ দুই দিনের ভ্রমণে গত সোমবার মুন্সিগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে আসেন মিরাজ আহমদ। এরপর তাঁরা ইনানীর বে–ওয়াচ হোটেলে ওঠেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সুইমিং পুলে গোসল করতে নামেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন মিরাজ আহমদ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরাজ আহমদ আগে থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ বিষয়ে উখিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ আজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টের বিদায়ের পর একটি পক্ষের গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে ব্যবসা ও মূল অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অসম্মানিত করেছে। এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকার সঠিক পথে আগাচ্ছে, মূল অপরাধীদের রেখে চার্জশিট দিচ্ছে।
বুধবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে শিখাচ্ছে দেশপ্রেমের বয়ান।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি খুব ব্যাথিত জুলাই যোদ্ধারা। এতো সকালে আমরা তাদের ভুলে যেতে বসেছি। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি, যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন৷
এর আগে নানা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি টাউনহল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও নিহতেদের পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি।
এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু।
পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফুর রহমান, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান খান লাভলু, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মোল্লা, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী নুর হাসান প্রমূখ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু বলেন, "গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। দেশ যেন আর কখনও স্বৈরশাসনের পথে ফিরে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।"
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতন সহ্য করেছেন, আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি। অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই তাদের দমাতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।পরিশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় দিনাজপুরের জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের স্মারক। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া গণআন্দোলন ক্রমে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে বিস্তৃত হয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে বহু মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
সেই আত্মত্যাগ, গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়কে স্মরণ করতেই প্রতিবছর জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া এবং স্মরণ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নীরব শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট সারা দেশে সরকারী ছুটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সংবাদপত্র অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান দিবসে টাঙ্গাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও গণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (বুধবার, ৫ আগস্ট) সকালে ১১ দলীয় ঐক্য জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের শহিদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান এবং শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন দিতে হবে।
পরে শহীদ মিনার থেকে একটি গণ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। মিছিলে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন। বুধবার (৫ আগস্ট) সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাঁধন, সরকারি সা’দত কলেজ ইউনিট, বিভাগীয় জোন-০১, টাঙ্গাইল এর সহযোগিতায় এই উদ্যোগে পাঠাগারের শতাধিক পাঠক-সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নারী-পুরুষ, যুবক, বয়স্কসহ নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে নিজেদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্তদান এবং জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। অনেকেই প্রথমবারের মতো নিজেদের রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পেরে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পেইনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বাতিঘর আদর্শ পাঠগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহান, জাহিদ হাসান, মোঃ রাকিব হোসেন, মোঃ মাহবুব হাসান, আমিনুল ইসলাম অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান, কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন, রেজওয়ান শরিফ, তনয় বিশ্বাস প্রমুখ।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া কলেজ শিক্ষার্থী মাহবুবা সোহা বলেন, ‘আগে কখনো রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়নি। এখানে এসে বিনামূল্যে নিজের রক্তের গ্রুপ জানতে পারলাম। পাশাপাশি রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কেও জানতে পেরেছি।’
রক্তের গ্রুপ জানতে আসা প্রবীন ব্যক্তি জহের আলী বলেন ‘এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এলাকার অনেকেই নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতেন না। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার বিনামূল্যে সেই সুযোগ করে দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছে। আমরা তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
কথা সাহিত্যিক কামরুল মোজাহীদ বলেন ‘প্রত্যেক মানুষের নিজের রক্তের গ্রুপ জানা উচিত। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি জরুরি সময়ে নিরাপদ রক্ত সংগ্রহও সহজ হবে।’
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, "আলোকিত সমাজ গড়তে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার এর শুভ উদ্যোগের পাশে সবসময় থাকবো।"
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার সময় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় রক্তের গ্রুপ না জানার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হয়, যা জীবনঝুঁকির কারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের এই প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকবে।’
উল্লেখ্য, “এসো বই পড়ি নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে ধারণ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক, সমাজ ও পরিবেশ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।