অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধের দাবিতে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন চালকেরা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘জিপি’ নেওয়ার নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা।


রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কয়েকশ চালক উপজেলার ইভা ফিলিংস স্টেশন সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


পুলিশ ও বিক্ষোভকারী সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেট পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। অটোরিকশাগুলোকে দৈনিক ৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো। মো. দুকুল ও তাঁর দুই সহযোগী মো. রফিক ও মো. রতন নামের তিনজন এই চাঁদা তোলেন। আজ সকালে ত্রিশাল থেকে মো. ফয়সাল নামের একজন চালক অটোরিকশা নিয়ে মেডিকেল গেট এলাকায় এলে তাঁর কাছে ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন তাঁকে সেখান থেকে যাত্রী তুলতে ও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি ত্রিশালে গিয়ে অন্য চালকদের বিষয়টি জানান। সকাল ১০টার দিকে অটোরিকশার চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অতিরিক্ত চাঁদা বন্ধের দাবিতে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে ত্রিশাল থানা-পুলিশের সদস্যরা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।


বিক্ষুব্ধ চালকদের অভিযোগ, এতদিন ২০ টাকা করে ‘জিপি’ দিতে হতো, সেখানে হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত এ অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সিএনজি চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


বিক্ষোভকারী চালকেরা বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই। আগে ২০ টাকা দিতাম, এখন ৭০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আবার মাসে ১ হাজার টাকা দিতে হবে- এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।


আরেক চালক জানান, চাঁদার টাকা না দিলে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না এবং আমাদের মারধরও করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি।


সিএনজিচালক মফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা ত্রিশাল টু ময়মনসিংহ গাড়ি চালাই। গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো চাঁদা দিতে হয়নি। ১৫ থেকে ২০ দিন পর এসে আমাদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা ধরা শুরু করল। তার কিছুদিন পর এসে সেই চাঁদা ২০ টাকা করা হয়। আবার এসে বলল, ২০ টাকা দিয়ে হবে না, ৪০ টাকা দিতে হবে। এখন জাতীয় নির্বাচনের পর তারা ৭০ টাকা চাঁদা দাবি করছে এবং মাসিক ১ হাজার টাকা চাচ্ছে। চাঁদা দিতে পারলে গাড়ি নিয়ে আসতে বলছে অন্যথায় নিষেধ করে দিয়েছে। কেউ চাঁদা না দিতে পারলে তাদেরকে মারধর করা হয়। তাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।


আরেক সিএনজিচালক বলেন, ময়মনসিংহ কলেজ গেটের সামনে দুকুল নেতার নেতৃত্বে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়। আগে আমাদের কাছ থেকে ৪০ টাকা করে চাঁদা নিত। ওই চাঁদা এখন ৭০ টাকা করা হয়েছে। মাসিক ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, আমাদের নতুন সরকার তো বলেছে, দেশে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না, শপথ পড়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই চাঁদাবাজি শুরু হয়ে গেছে। আমরা স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে চলতে চাই, কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।


ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ গেট এলাকায় ৩০ টাকার বদলে আজ ৭০ টাকা দাবি করলে এ ঘটনা শুরু হয়। যারা চাঁদা তুলত, তাদের আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় আছে কি না, তা–ও জানি না। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


ওসি ফিরোজ  বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরা খতিয়ে দেখছি। ঘটনাটি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় ঘটেছে, কোতোয়ালি থানায় আমি কথা বলেছি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনগত কার্যক্রম শুরু হবে। চালকদের ক্ষোভের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। চালকদের সঙ্গে কথা বলে আমরা রাস্তার স্বাভাবিক করে দিয়েছি।




  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি এলাকায় স্পিডবোটে তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক যুবক। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মরিচাকান্দি স্পিডবোট ঘাটে এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবি করেন স্পিডবোট চালক ইমরান। এ সময় ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এত ছোট শিশুর ভাড়া না নেওয়ার পরামর্শ দিলে ইমরানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাটের টোল আদায়কারী বাবুলের ওপর হামলা করেন। পরে লঞ্চ টার্মিনালে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইমরানকে তার বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেন।


অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পূর্বপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাদিরের দোকানে বৈঠক করে প্রতিপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পক্ষের ছোট ভাই আসাদুল্লাহ পূর্বপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থান সংলগ্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হলে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান।


ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘাটের লোকজন পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় গেলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় শরীফ নামে এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি জাহাঙ্গীর আলমের তলপেটে বিদ্ধ হয়।


পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার পর মরিচাকান্দি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, “দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি বাজার এলাকায় স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে বিভাগীয় মামলাসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 


শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি জান যায় । এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হান বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত জুন মাসে একজন নারী চিকিৎসক একই হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুযোগ পেলেই তাকে কারণ ছাড়াই অফিস রুমে ডাকতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাবসহ অশালীন ইঙ্গিত করতেন। 


আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব হতে বিরত রাখা আবশ্যক। এবং তদন্তের কাজে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনায় অভিযুক্ত ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা করা হয়। 


হাসপাতালে কর্মরত ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। এটা একটি ম্যাসেজ সমাজের জন্য। আমরা যাতে আরও সচেতনভাবে আমাদের আচরণ করি। যে কোনো কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন আর নিম্নতম হোক, সকলেরই সচেতন হওয়া উচিত। কারও কোনো ক্ষতি মানুষ হিসেবে ভালো লাগবে না। বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী চলবে, এটা কারো হাতে নেই। আর এখানে আমার আলাদা কোনো বক্তব্যও নেই। তবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী, আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় যারা নিয়োজিত আছি, আমাদের সুরক্ষায় অত্যন্ত তৎপর।”


অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যোগদানের পর সঠিক সময়ে ডিউটি পালন এবং নিয়মিত হাসপাতালে না আসায় তাকে শোকজ করেছিলাম। শোকজ করেছি ১৩ তারিখ, আর সে অভিযোগ দিয়েছে ১৪ তারিখ।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলাধীন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম শহিদুল শেখের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুলাই, ২০২৬ (ইং), রোজ শুক্রবার, ভদ্র ঘাট ইউনিয়নে এই আয়োজন সম্পূর্ণ হয়।


স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ওপর আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল সামাদ মীর্জা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল আলিম খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা মরহুম শহিদুল শেখের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তাকে একজন নিষ্ঠাবান ও জনদরদী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, তাঁর শূন্যতা ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।


আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।


কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের বাবা পুলিশ কনস্টেবল শামসুল হক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

একটি ফোনকল—সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত। প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় পুলিশের টহলদল। সেই দলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও। কিন্তু তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত নিথর শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন তিনি। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটি আর কেউ নয়—তারই আদরের ছেলে, দশ বছরের তুহিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।


তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ওসি স্যার ফোন দিয়ে বলেন, “সার্কিট হাউসের দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, টহল পুলিশ নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছাও।”’ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের চোখকেই যেন নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। কে জানত নিথর শিশু আমার নিজেরই আদরের সন্তান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের এমন করুণ মৃত্যু দেখতে হবে, সেটা কখনো কল্পনা করিনি। এই কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না, কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর তো কারও হাত নেই। কী আর করব?’



অতিকষ্টে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মোহাম্মদ তুহিনের (১০) বাবা পুলিশ সদস্য শামসুল হক। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মারা যায় তাঁর ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশের একটি টহল দল। ওই দলে গাড়িচালক ছিলেন শামসুল হক।


নিহত তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের পাশেই ভাড়া বাসায় বাবা–মা ও আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। ভাইদের মধ্যে তুহিন ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে।


পুলিশের ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনার খবর পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই আমরা। চালক শামসুল হকই নিয়ে যান আমাদের নিয়ে। তবে এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটি আমাদের সঙ্গে যাওয়া গাড়ি চালক শামসুল হকের ছেলে। তখন তাঁকে কী বলে যে সান্ত্বনা দেব, ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু আমরা না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে শামসুল হককে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


রূপগঞ্জে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী


রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি


নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাবেক এমপি, জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। 


শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের দখলে রয়েছে। পাঁচ গ্রামের মানুষের অবিলম্বে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট 

প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মহসিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।


এ সময় বক্তব্য রাখেন, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।


বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। মামলা হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কথা বলতে পারে নাই।  এসব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধন শেষে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

নদী ও দেশ রক্ষায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য গাছ লাগানোর বিকল্প নেই


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বৃক্ষরোপন সংরক্ষনের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি নিয়েছিলেন তারই ধারা বাহিকতায় পঞ্চগড় জেলায় আজকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। 


আজ শুক্রবার(২৪জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ এর আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পঞ্চগড় সড়কারী অডিটোরিয়ামে এসে বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন। 


তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীর সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব রক্ষায় গাছ লাগানো আবশ্যক। 


তিনি আরও বলেন,  আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের। 


এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম চাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।