অভিযুক্ত মোঃ আমির আলী

  • প্রকাশ : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:২১ এএম

ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বরুকা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আমির আলী। সরকারি নথিতে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধ, সেনাবাহিনী গেজেট নম্বর-১৭৪৪ এবং মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৬১০০০৮১১১-এ তাঁর নাম নথিভুক্ত। পিতা মৃত ওমেদ আলী মন্ডল এবং মাতা মৃত জহুরন নেছার এই পুত্র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে বছরের পর বছর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও সুবিধা ভোগ করে আসছেন। 


কিন্তু তাঁর কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে যা বেরিয়ে আসে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে তাঁর রণক্ষেত্রের কথা, সহযোদ্ধাদের স্মৃতি, প্রশিক্ষণের বিবরণ জানতে চাওয়া সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন। কিন্তু আমির আলী বলতে পারেননি কোথায় যুদ্ধ করেছেন, কে ছিলেন তাঁর কমান্ডার, কারা ছিলেন তার সহযোদ্ধা। বারবার জিজ্ঞেস করলেও তাঁর মুখ থেকে বের হয় কেবল একটি কথা 'আমার মনে নাই'। 


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা দশকের পর দশক পরেও সেই দিনগুলোর কথা স্পষ্টভাবে মনে রাখেন, কারণ সেটি ছিল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই আমির আলীর এই সম্পূর্ণ স্মৃতিভ্রংশ স্থানীয় সচেতন মানুষদের কাছে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


বরুকা ও আশেপাশের গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমির আলী গ্রামেই ছিলেন এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেননি। তৎকালীন সময়ে তিনি এলাকায় একজন ভবঘুরে ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 


স্থানীয় প্রবীণরা আরও জানান, আমির আলী সে সময় বরুকা গ্রামের নাপিত বাড়ির পোলো যোগীর কন্যার খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। এই তথ্য যদি সত্য হয়, তাহলে একটি ফৌজদারি মামলার আসামি কীভাবে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তি পেলেন সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় কার? ১৯৭৫ সালের পরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে কিভাবে সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ভুক্ত হলেন আমির আলী, প্রশ্ন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের।


স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এবং রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে আমির আলী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নেন। বাংলাদেশে এ ধরনের জালিয়াতির নজির আগেও ঘটেছে, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ের তদন্তে শত শত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম বাতিল হয়েছে। কিন্তু আমির আলীর মতো অনেকেই এখনো তালিকায় রয়ে গেছেন বলে সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করছেন।


বর্তমানেও স্থানীয় অধিবাসীদের একটি বড় অংশ আমির আলীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ বছর ধরে অবৈধভাবে জমি দখল, সরকারি ভাতা আত্মসাৎ এবং স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। 


বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত এবং কোটি মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে। যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছিলেন, তাঁদের সম্মানের সাথে আমির আলীর মতো ভুয়া সনদধারীদের নাম এক করা সেই মহান আত্মত্যাগকে কলুষিত করে। এটি শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয় এটি জাতির ইতিহাসের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরতে হলে এই ধরনের প্রতারণার অবসান ঘটানো অপরিহার্য।


এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ড. জাহাঙ্গীর আলম মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাঁর অভিযোগে দাবি করা হয়েছে আমির আলীর গেজেটভুক্তি নতুন করে তদন্ত করা, তদন্তে ভুয়া প্রমাণ হলে গেজেট বাতিল করে তালিকা থেকে নাম অপসারণ করা, অবৈধভাবে ভোগ করা সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা ফেরত আদায় করা। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অভিযোগে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ফুলবাড়ীয়াবাসীর। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে তাঁদের দাবি সরল, যিনি সত্যিই যুদ্ধ করেছেন, সম্মান পাক তিনি আর যিনি করেননি, তাঁর নাম মুছে যাক সেই পবিত্র তালিকা থেকে।



সর্বশেষ সব খবর

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিব্রতবোধ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।


আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচনে যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে। গতকালও (শুক্রবার) আমাকে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা।’ 


তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিয়ে যারা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ নিয়ে তো এই মুহূর্তে প্রশ্ন করা ঠিক না, উচিতও না। কারণ আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনকে নিয়ে আমাদের পর্যায়ে প্রশ্ন করলে আমরা বিব্রতবোধ করি।’


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না জানিয়ে এ সময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকবে। 


তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে আগের মতো দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ধানের শীষের মতো জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচন হবে দলনিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে।


মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী–উপজেলা বিএনপি প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সমর্থিত প্রার্থী রাখার চেষ্টা করবে। এ জন্য স্থানীয় বিএনপি সংবাদ সম্মেলন বা কর্মী সভার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইউনিয়নে দলের সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবে।


তিনি বলেন, এটি দলীয় প্রার্থী বা দলীয় মনোনয়ন নয়, বরং দলীয় সমর্থন। দলকে মাঠপর্যায়ে সুসংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ একজন প্রার্থী রাখার চেষ্টা করা হবে।


কোনো ইউনিয়নে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে স্থানীয় বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অন্যজনকে অন্য কোনোভাবে দলের কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এরপরও কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থেকে গেলে এবং কেউ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বগুড়া জেলা বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।


অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব, ওসি শাহীনুজ্জামানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ সব খবর

গ্যাসের ১৫ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত গ্যাস সংযোগ এবং গ্যাসের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। 


অভিযানে ১৫টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি ১৩ জনকে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবাল (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রাধানগর, কৃষ্ণনগর ও বাঞ্ছারামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এবং পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১৫টি রেগুলেটর জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৭০০ ফুট অবৈধ প্লাস্টিক পাইপলাইন উচ্ছেদ ও জব্দ করা হয়েছে।


অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১৫টি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে ৯টি অবৈধ সংযোগে ১৭টি ডিবি, অতিরিক্ত চুলা ব্যবহারের কারণে দুটি সংযোগে অতিরিক্ত ২ ডিবি, জিআই লাইন বর্ধিত করায় ১০ ডিবি এবং আবাসিক সংযোগ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের দায়ে একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।


মোবাইল কোর্টের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে মোট ১৭টি ডিবি আবাসিক এবং ৩টি ছোট বাণিজ্যিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৭৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।


অভিযানে বিজিডিসিএলের ভিজিলেন্স বিভাগ, গৌরীপুর এরিয়া বিতরণ কার্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস কুমিল্লা, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিজিডিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, গ্যাস চুরি ও নিয়মবহির্ভূত ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ এএম


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

ভিক্ষুক পূর্ণবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি'র আওতায়  ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন  ভিক্ষুকের  মাঝে  উপকরণ হিসেবে দুইটি ভ্যান  বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার  দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ভিক্ষুকেদের মাঝে ভ্যানের চাবি তুলে দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খাইরুল ইসলাম। যার মূল্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। 


এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সারোয়ার মুর্শিদ আহমেদ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। 


জানা যায় যে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম যেমন মাদক ও  দুর্নীতিবাজ বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তেমনি তিনি ভিক্ষুকদের পূণর্বাসন , মাদক প্রতিরোধে খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন খেলাধুলার সামগ্রী। সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন মাদক,আত্মহত্যা, অনলাইন জুয়া বিরুদ্ধে ।তার এই জনসেবামূলক কর্মকান্ডের জন্য পেয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ  ইউএনওর সম্মানা ।


সর্বশেষ সব খবর

গাজীপুরে ৯ কেন্দ্রে স্বস্তিতে ৯ হাজার ৫৮০ পরীক্ষার্থী

সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে চলছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরিচালিত বিএ/বিএসএস পরীক্ষা গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত নিয়মনীতি ও সময়সূচি অনুসরণ করে এসব কেন্দ্রে মোট ৯ হাজার ৫৮০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।


বাউবি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে বাউবির বিএ/বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে মোট ২৮৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ছয়টি সেমিস্টারে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৭ জন এবং নারী পরীক্ষার্থী ১ লাখ ১ হাজার ৪৩৬ জন।


বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো হলো ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ, টঙ্গী সরকারি কলেজ, কালিয়াকৈর ডিগ্রি কলেজ, পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শ্রীপুর সরকারি কলেজ, সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ও কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ।

পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন। একই সঙ্গে নকলমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।


বাউবির গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গাজীপুরের ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।”


তিনি আরও বলেন, “বাউবি শুধু শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেক পরীক্ষার্থী।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ও বিকেলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।

গাজীপুর উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী এবং উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরীক্ষার শেষ দিন পর্যন্ত গাজীপুরের সবকটি কেন্দ্রে একইভাবে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২১ পিএম

যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুসলিম একাডেমীর ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মোল্যাকে এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর সম্মানে এক বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অবসর গ্রহণকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টরা প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে বিদায় জানান।


অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা ২০০০ সালের ১১ মে মুসলিম একাডেমীতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। তাঁর আদর্শ, জ্ঞান ও নিবেদন শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জোগাবে।


মুসলিম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লব কান্তি ঘোষ তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ এএম

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। 


পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের আটতলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম রাত সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিইউ) একটি দল ও থানা-পুলিশ ওই ভবনের আটতলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।


ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের অভিযানও চলমান রয়েছে।


এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পুলিশ জানায়, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। 


তবে এ অভিযোগের সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং বিপুলসংখ্যক আইফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেনি।

সর্বশেষ সব খবর