• প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ এএম

ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামীণ সড়ক ধরে একের পর এক ভ্যান, ঠেলাগাড়ি ও পিকআপ এগিয়ে যাচ্ছে বাজারের দিকে। প্রতিটি গাড়িতে সাজানো জাতীয় ফল কাঁঠাল। কোথাও কৃষকের ব্যস্ততা, কোথাও পাইকারের দরদাম, আবার কোথাও শ্রমিকদের হাঁকডাক–সব মিলিয়ে কাঁঠালের মৌসুমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার হাট-বাজারগুলো।


প্রকৃতি এবার যেন ভালুকার কৃষকদের জন্য দু’হাত ভরে দিয়েছে। গাছের ডালে ডালে ঝুলছে অসংখ্য কাঁঠাল। বাজারে জমেছে ফলের স্তূপ। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, কৃষকের ঘরে এসেছে স্বচ্ছলতার বার্তা। কিন্তু এই প্রাচুর্যের আড়ালেই রয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা–ফলন বাড়লেও বাড়ছে না কৃষকের লাভ।


কারণ, উৎপাদনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা। ফলে মৌসুমের অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়। আর এই সুযোগে অনেক কৃষক বাধ্য হন কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে।


লালমাটির উঁচুনিচু ভূপ্রকৃতি, বনাঞ্চল ও শিল্পসমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে পরিচিত ভালুকা বহু বছর ধরে কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য পরিচিত। শিল্পায়নের বিস্তার ঘটলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এখনো কাঁঠাল চাষ ধরে রেখেছেন হাজারো কৃষক।


ভোর হলেই উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ড, উথুরা বাজারের চান্দের হাট, মল্লিকবাড়ী, বিরুনীয়া, কাচিনা, শান্তিগঞ্জ, পোনাশাইল ও আঙ্গারগাড়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় কাঁঠালের বেচাকেনা।


গ্রাম থেকে কৃষকরা নিয়ে আসেন তাদের বাগানের ফল। পাইকাররা আকার, মান ও পাকাভাব দেখে দরদাম করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যান।


তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভালুকায় কাঁঠালের প্রধান সমস্যা উৎপাদন নয়–সমস্যা হলো উৎপাদিত ফল ধরে রাখার সক্ষমতার অভাব। কাঁঠাল এমন একটি ফল, যা পাকলে দ্রুত বাজারজাত করতে হয়। পর্যাপ্ত ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হন।


সিডস্টোর উত্তর বাজারের ব্যবসায়ী ফালু সরকার বলেন, “ভালুকার কাঁঠালের চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার কাঁঠাল যায়। কিন্তু এবার ফলন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ী দুই পক্ষই লাভবান হতো।”


হবিরবাড়ী বাজারের আড়তদার মেহিদী মৃধা মিয়া বলেন, “অনেক বছর ধরে কাঁঠালের ব্যবসা করছি। বর্তমানে আকারভেদে ছোট কাঁঠাল ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বড় কাঁঠাল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদন অনুযায়ী কৃষকরা লাভ পাচ্ছেন না।”।”


সিলেট থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রাজু মিয়া বলেন, “কাঁঠাল কিনে পরিবহন ও বাজারজাত করতে অনেক খরচ হয়। আগের তুলনায় চাহিদা কমে যাওয়ায় লাভও কমেছে।”।”


কাচিনা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এ বছর গাছে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে। কিন্তু দাম কম থাকায় খরচ তোলা কঠিন হয়ে গেছে। সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে গাছেই ফল নষ্ট হয়ে যায়।”


কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঁঠালের মৌসুম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এই স্বল্প সময়ে সব ফল বাজারজাত করতে না পারলে কৃষকের হাতে আর কোনো বিকল্প থাকে না। অথচ কাঁঠাল থেকে জুস, চিপস, আচার, শুকনো কোয়া, বীজের গুঁড়া ও বিভিন্ন মূল্য সংযোজন পণ্য তৈরি করা সম্ভব।


ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, “ভালুকায় এবার কাঁঠালের উৎপাদন সন্তোষজনক। এ বছর ৩৮৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে, যার আনুমানিক উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯০০ মেট্রিকটন। আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন জেলি, চিপস তৈরি করা যায়। এতে কৃষকরা কাঁঠালের বাড়তি দাম পাবে।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালকে শুধু মৌসুমি ফল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তৈরি হলে একই ফল থেকে কৃষকরা মৌসুমের বাইরেও আয় করতে পারেন।


প্রতিবছর কাঁঠালকে ঘিরে ভালুকায় তৈরি হয় কোটি টাকার মৌসুমি অর্থনীতি। কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের হাজারো মানুষ এই ফলের সঙ্গে জড়িত।


তবে প্রশ্ন থেকেই যায়–যে অঞ্চলের গাছে গাছে হাজার হাজার কাঁঠাল ঝুলছে, সেই অঞ্চলের কৃষক কেন এখনো ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না?


কৃষকের ঘাম আর শ্রমে উৎপাদিত এই জাতীয় ফল যদি সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়, তবে ক্ষতি শুধু একটি ফলের নয়–ক্ষতি একটি সম্ভাবনাময় কৃষি অর্থনীতির।


সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হিমাগার, আধুনিক বাজারব্যবস্থা ও কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে ভালুকার কাঁঠাল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারে।



  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


লাইজু আক্তার

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলন্ত ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া এক গৃহবধূকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শেষে ফরিদপুর জেলার কবিরপুর চরের তীর থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই রোমহর্ষক ঘটনার শিকার ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।


জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি ‘কুমিল্লা’। ফেরিটি যখন মাঝনদীর লাল বয়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন আকস্মিকভাবে লাইজু আক্তার ফেরির পেছনের অংশ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।


ফেরি ‘কুমিল্লা’র ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, ফেরিটি যথারীতি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে হঠাৎ খবর আসে যে, এক নারী যাত্রী ফেরির পেছনের দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ফেরিটি থামিয়ে দেন এবং ঘুরিয়ে নিয়ে ওই এলাকায় সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সাথে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন।


এদিকে নদীতে প্রবল স্রোত থাকা সত্ত্বেও লাইজু আক্তার কচুরিপানার স্তূপকে আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকেন। এভাবে ভাসতে ভাসতে তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে এসে আটকে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, কচুরিপানার সাথে ভেসে চরে আটকে পড়া ওই নারীকে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিরাপদ হেফাজতে রাখেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।


দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুরের কবিরপুর চরের ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের মাধ্যমে লাইজুর জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।


উদ্ধারকৃত নারী বর্তমানে লোকমানের বাড়িতে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাকে উদ্ধার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা এরই মধ্যেই রওনা দিয়েছেন।


সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মোবাইল ফোনে স্বজনদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে তিনি চলন্ত ফেরি থেকে উত্তাল পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ পিএম

ময়মনসিংহে সিগারেটের মোড়কে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোনালী এন্টারপ্রাইজ-এর বিরুদ্ধে।


অভিযোগে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সিগারেটের মোড়কে মূল্য ৩৭০ টাকা উল্লেখ থাকলেও পরিবেশক প্রতিষ্ঠানটি খুচরা দোকানিদের কাছে প্রতি প্যাকেট ৪২০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বিক্রেতা। 


তাদের দাবি, বেশি দামে পণ্য কিনতে হওয়ায় ভোক্তাদের কাছেও বাড়তি দামে বিক্রির চাপ তৈরি হচ্ছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠান সোনালী এন্টারপ্রাইজ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪২ এএম

সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা দাবি ও অপহরণকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার চৌধুরী প্লাজায় এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ জানায়, বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী চৌধুরী প্লাজার ৫ তলায় প্রবেশ করে। পরে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করে বাড়ির মালিকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। পরে ঘটনার একপর্যায়ে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমার কোনো সন্ধান না পেয়ে বাড়ির মালিক কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কেয়ারটেকার লিমাকে জিম্মি করা অবস্থায় পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। 


পরে পুলিশও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। ঘটনার একপর্যায়ে বাড়ির কেয়ারটেকার লিমাকে রেখে পালিয়ে যায় তারা।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানো, লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ানো এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার অভিভাবককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


পত্রে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্মারকপত্র, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা এবং গত ২৩ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।


সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনার অনুলিপি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ

'জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন’


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ এএম

গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। 


শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে দুপুরে নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ শুরু হয়। 


এতে রাশেদ প্রধান আরও বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের স্থান নেই। তিনি বলেন, ঢাকা মহাসমাবেশ থেকে যদি আমরা দেখি জুলাই সনদ গণভোটের আলোকে বাস্তবায়ন হয়নি, তাহলে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। যদি তা না হয়, তাহলে ওই বিএনপি সরকার, গাদ্দার সরকারও থাকবে না। 


এতে অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই দেশে ফিরবে না৷ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ বদলে গেছে, দিল্লীর আধিপত্যবাদ এখানে ফিরবে না। পুরাতন আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না।


এলডিবি মহাসচিব কর্নেল (অব.) ওলি আহমদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ এএম

বাংলাদেশের কিংবদন্তী রাজনীতিবীদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক রাস্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় পঞ্চগড়ে দোয়া মিলাদ মহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় স্টেডিয়াম মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মরহুমের পরিবার বর্গ। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাঈম, পঞ্চগড় জেলা দায়রা ও জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ¦ায়ক এম মজিদ ও আদম সুফী বক্তব্য রাখেন। এসময়  জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাঈম সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন| ঢাকার ধানমন্ডির বিখ্যাত মসজিদ-উত-তাকওয়া (ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন)-এর খতিব ও সিনিয়র ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলাম দোয়া পরিচালনা করেন| দোয়া মাহফিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।


এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়ি নয়াবাড়ি মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়| গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন |