দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ

ভালুকায় রাম্বুটানের আকাশছোঁয়া দাম

বিদেশি ফল রাম্বুটান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ এএম

বিদেশি ফল রাম্বুটানের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও ময়মনসিংহের ভালুকায় এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের হতাশ করছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকায় একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।


স্থানীয় বাজার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ভালুকায় রাম্বুটানের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে ফলটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের জন্য এটি এখন প্রায় বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে।


ভালুকা উপজেলার গোয়ারী এলাকায় ‘তায়েফ এগ্রো’ নামে একটি বাণিজ্যিক বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আকর্ষণীয় লাল রঙের রাম্বুটান। প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাগানটিতে রয়েছে তিন শতাধিক পরিণত গাছ। থাইল্যান্ডপ্রবাসী উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ তার চাচা মামুনকে সঙ্গে নিয়ে বাগানটির পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা করছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ বর্তমানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।


তবে বাজার ঘুরে জানা গেছে, ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ফল প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভালুকার ক্রেতাদের একই ফল কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ মূল্য। এই মূল্য পার্থক্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে তায়েফ এগ্রোর উদ্যোক্তা আশরাফ শুভ বলেন, “রাম্বুটান একটি বিদেশি ও উচ্চমূল্যের ফল। বাগান প্রতিষ্ঠা, চারা সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থা, পরিচর্যা ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বর্তমানে ফলটির উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সে কারণেই বাজারে এর দাম বেশি রয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান চাষে দীর্ঘ সময়, নিবিড় পরিচর্যা ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। আমরা মানসম্পন্ন ফল উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারিত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, ফলে বাজারমূল্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।”


আশরাফ শুভ জানান, দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে সফলভাবে রাম্বুটান চাষ সম্ভব হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


উচ্চমূল্যের কারণে রাম্বুটান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে। অনেকেই ফলটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণের প্রশংসা করলেও অতিরিক্ত দামকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


মুক্তাগাছা থেকে আসা রিপন মিয়া জানান, “রাম্বুটান দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনি সুস্বাদু। কিন্তু প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দাম হওয়ায় পরিবারের জন্য নিয়মিত কেনা সম্ভব নয়।”


আরেক ক্রেতা জানান, “দেশের অন্য জেলায় যেখানে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাম্বুটান পাওয়া যায়, সেখানে ভালুকায় প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষও সহজে এই ফল কিনতে পারবে।”


এদিকে, রাম্বুটান বাগানকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিদেশি এই ফলের বাগান দেখতে ভিড় করছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই বাগানে ঘুরতে আসছেন, ছবি তুলছেন এবং রাম্বুটান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। 


তবে বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলেও ফলের দাম শুনে অনেক দর্শনার্থী হতাশ হচ্ছেন। আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে রাম্বুটান না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।


স্থানীয়দের মতে, বাগানটি ইতোমধ্যে ভালুকার একটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ফলটির বর্তমান মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অধিকাংশ দর্শনার্থীর আগ্রহ কেবল দেখা ও ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কৃষিপণ্যের দাম যখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হয়ে যায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে সাধারণ ভোগ্যপণ্য থেকে বিলাসপণ্যে রূপ নেয়। বর্তমানে ভালুকায় প্রতি কেজি রাম্বুটানের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফলটি কার্যত নাগালের বাইরে চলে গেছে।


দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে প্রতি কেজি রাম্বুটান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে ভালুকার ক্রেতাদের প্রায় দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মূল্য বৈষম্যের একটি চিত্রও ফুটে উঠেছে। 


সচেতন ভোক্তাদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই অস্বাভাবিক মূল্য পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।


শুধু ফল নয়, ভালুকায় রাম্বুটানের চারার বাজারেও দেখা গেছে আকাশছোঁয়া দাম। স্থানীয়ভাবে প্রতিটি চারা প্রায় ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ফলগাছের চারার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ফলে অনেক শৌখিন বাগানপ্রেমী ও নতুন উদ্যোক্তা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও চারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে লাভজনক ফল হিসেবে রাম্বুটানের সম্ভাবনা থাকায় চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সীমিত সরবরাহের কারণে চারার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেকের মতে, ফলের পাশাপাশি চারার বাজারেও কৃত্রিম সংকট ও উচ্চ চাহিদার প্রভাব পড়েছে।


ভালুকা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূর জাহান বলেন, “বিদেশি ফল হলেও রাম্বুটান বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষের সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।”


তিনি আরও বলেন, “রাম্বুটান একটি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এর ব্যতিক্রমধর্মী স্বাদ, আকর্ষণীয় রঙ এবং বাজারমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে। ফলটিতে প্রচুর ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”


নূর জাহান জানান, রাম্বুটানের মোটা ও শক্ত খোসা থাকায় এটি তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করা যায়। পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে রাম্বুটান দেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


স্থানীয়দের দাবি, ফল ও চারার উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা গেলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে, দাম কমবে এবং বিদেশি এই সুস্বাদু ফলটি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে রাম্বুটান যতটা তার স্বাদ ও সৌন্দর্যের জন্য আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনায় রয়েছে এর আকাশছোঁয়া মূল্য।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম


  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্যানিটেশন মার্কেটিং সিস্টেম (স্যানমার্কস) প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে স্যানমার্কস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ (৯ সেপ্টম্বর বুধবার) দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে তাদের নিজস্ব হলরূমে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিব, বিশেষ অতিথি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোঃ বাবুল আকতার, প্রকৌশলী দীপক রায়, সহকারী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন এস্টিমেটর আব্দুল মালেক।




এছাড়াও স্থানীয় স্যানিটারি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন তাঁর বক্তব্যে সেনমার্কস প্রকল্পের-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের উত্থাপিত সমস্যা ও চাহিদাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও টেকসই, কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সভায় স্যান মার্কস এর কার্যক্রমের মাধ্যমে স্যানিটেশন মার্কেট আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, মানসম্মত তথ্য ও সাশ্রয়ী স্যানিটেশন পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের চাহিদাভিত্তিক স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এছাড়া স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী, ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

অভিনব কৌশলে নৌকা করে পাচার

কক্সবাজারে ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক


  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা চোরাচালানের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে ৬৪ বিজিবি। 




বুধবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ ৯ সেপ্টেম্বর  আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় নৌকার সাথে বেধে বস্তায় করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জন আসামীসহ এযাবত কালের সর্ববৃহৎ ইয়াবা চোরাচালান আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবা আটক করেছেন। 


তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তিগত এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে এবং চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।


এ উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।




অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফিসহ মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ সব খবর

আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।


পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।


খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।


নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’


ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।


সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।


তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।


নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।


আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।




স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।


সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।


মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। 


স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।


কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

সর্বশেষ সব খবর