ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই।


রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 


রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে 




তিনি বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।



রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে। বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।


রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।


 

চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।


মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।


মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি ইনশাআল্লাহ আমরা চালু করতে সক্ষম হবো। বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা এখানে কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক নতুন করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে।


প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড়াতে পারে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।


তরুণ সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, মাদককে বর্জন করো। লালমনিরহাটের মতো আমাদের ঠাকুরগাঁওকেও একটি মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য কাজ শুরু করো। আমি জেলা প্রশাসককে বলেছি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও বলব এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করুন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা অবশ্যই করব।


 সর্বসাধারণের জন্য বলেছেন  মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জন্ম এখানে, আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না, তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না। আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাকে আজ এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন, যাতে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি।


শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০১ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া ও কাউখালী উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুম ও ভাণ্ডারিয়া বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৃথক আয়োজনে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে।


কাউখালীতে পুরস্কার বিতরণ


কাউখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাইসুল ইসলাম।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু লেখাপড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে ক্রীড়াচর্চা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। জাতীয় পর্যায়ের এসব প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।


উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে চারটি ইভেন্টের খেলা সম্পন্ন করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।


কাউখালীতে দাবা, কাবাডি, হ্যান্ডবল ও সাঁতার- এই চারটি ইভেন্টে বালক ও বালিকা পৃথক বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার রিয়াজুল হক, ইজিএস শিক্ষা নিকেতন, রঘুনাথপুরের প্রধান শিক্ষক  তানভীর আহমেদ নাজমুছ সাকিব, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কিরণ চন্দ্র হালদার, সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান মিজান এবং প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ সিকদারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।


অন্যদিকে, ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন, প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, মনির হোসেন, যুবদল নেতা সবুজ হাওলাদারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।


ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে প্রতিবছর এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সর্বশেষ সব খবর

মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোকঃ রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৯ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে।


তিনি আরোও বলেন, বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।


আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 


রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

 

চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।


রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি।


তিনি আরও বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।


মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।


মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি ইনশাআল্লাহ আমরা চালু করতে সক্ষম হবো। বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা এখানে কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক নতুন করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে।


প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড়াতে পারে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।


তরুণ সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, মাদককে বর্জন করো। লালমনিরহাটের মতো আমাদের ঠাকুরগাঁওকেও একটি মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য কাজ শুরু করো। আমি জেলা প্রশাসককে বলেছি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও বলব এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করুন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা অবশ্যই করব।


সর্বসাধারণের জন্য বলেছেন মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জন্ম এখানে, আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না, তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না। আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাকে আজ এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন, যাতে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি।


শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৫ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।


গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ‘সমগ্র দেশব্যাপী শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’-এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ভালুকার বাস্তবায়নে এ প্রকল্পগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।


প্রকল্পের আওতায় উথুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯১ লাখ ১৫ হাজার ৫১৫ টাকা। অন্যদিকে, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩০২ টাকা ৫০ পয়সা। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন, ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু ও গুলজার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ভবন নির্মাণের ফলে উথুরা ও হবিরবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে ভূমিসেবা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, ভূমি অফিস মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাকেন্দ্র। ভালুকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষ যেন এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালুকার মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

নেপালে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি এবং অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।


আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে তাঁরা নেপালের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে একটি শোকবার্তা প্রদান করেন।


শোকবার্তায় তাঁরা সাম্প্রতিক দুর্যোগে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সুস্থতা এবং দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যকর উদ্যোগের কামনা করেন।




এ সময় তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও সুদৃঢ় হবে। নেপালের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ। মাদক থেকে দূরে থাকি, খেলাধুলার সাথে থাকি’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে স্থানীয় থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।


প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় দক্ষিণ শিয়ালকাঠী যুব সংঘকে পরাজিত করে পৌরসভা জুনিয়র একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।


খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে প্রাইজমানি তুলে দেন ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর রায়, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


আয়োজকরা জানান, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করাও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ সব খবর

‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’ শুরু

টাঙ্গাইলের চমচম যাবে বিদেশে


  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। 


শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ওই জমকালো উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।


টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁতশিল্পের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।


মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর উদ্যানকে সাজানো হয়েছে এক অপরূপ সাজে। সারিবদ্ধ ২২টি স্টলে  সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের আদি ও আসল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য পোড়াবাড়ির চমচম, রসালো রসমালাই, রসে টইটম্বুর কালোজাম এবং যুগ যুগ ধরে প্রসিদ্ধ দই-সন্দেশসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। মেলায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি। এছাড়া তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কুটির শিল্প পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।


উদ্বোধনের পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।


মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, একই ছাদের নিচে টাঙ্গাইলের খাঁটি ও বিখ্যাত সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেখার এই সুযোগ সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ইতিহাস তুলে ধরতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখছে।


আয়োজকদের মতে, এই সুইট ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি মেলা নয়; এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, কারিগর, তাঁতশিল্পী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এখানে তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের পণ্যের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই প্রাণের উৎসব আগামি ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, টাঙ্গাইল একটি ভীষণ সম্ভাবনাময় জেলা। এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা অফুরন্ত। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে- যার অন্যতম সুইট ফেস্টিভ্যাল।


তিনি জানান, এ উৎসবের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল হিসেবে শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরা, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু এ জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গর্ব। টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

সর্বশেষ সব খবর