বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাংলাদেশের ‘খুব গুরুত্ব সহকারে’ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে খুব দ্রুত আলোচনা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছি।’ রোববার ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসে এয়ারবাস নিয়েও কথা বলেন তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি। আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যেকোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।’ নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।
বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার কথা সম্প্রতি এক এক্স পোস্টে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সেখানে তিনি এক নতুন চুক্তির কথা বলেন। গোর বলেন, চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদও জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।’ একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ গেছে বোয়িংয়ের ব্যাগে। তবে ইউরোপীয়দের চাপে তাদের কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও এখন উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
রোববারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক, অশুল্ক বাধা দূর এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকেও মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
ইইউয়ের পক্ষে তখন ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলা হয়েছিল। সরকার ছয় মাসে এর মধ্যে ৪৮টি দূর করেছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন; বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং রপ্তানি পণ্যের ‘ট্রেসিবিলিটি’ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে এ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আমরা তিন বছর পেছানোর জন্য আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের দুইটা—মানে এই প্রসেসের দুইটা প্রক্রিয়া আমরা শেষ করেছি, এই প্রক্রিয়ার দুইটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি ইউএন সিডিপি আর ইকোসক।
মন্ত্রী বলেন, আর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটা উত্থাপিত হলে আমরা আশা করছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্মতি পাব। এটাই তাদের সমর্থন।
রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ও বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হজের ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে সৌদি পর্বে অব্যয়িত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে সৌদি আরবে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পর যে অর্থ অব্যয়িত রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট হাজিদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হজযাত্রীদের অর্থ আমানত হিসেবে বিবেচনা করে এর যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ব্যয়ের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা সরকারের কোষাগারে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের স্বচ্ছতা আরও সুস্পষ্ট হবে।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৪ হাজার ৩৪১ জন। সৌদি আরবে হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন ও খাবারসহ বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত অর্থ ব্যয়ের পর মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা অব্যয়িত রয়েছে। এই অর্থ হজযাত্রীদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত। হজযাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের প্রতিটি খাতের ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সৌদি পর্বে প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে নির্ধারিত অর্থের পার্থক্য থেকে যে অর্থ অব্যয়িত হয়েছে, সেটিই হিসাব করে হাজিদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হজ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চিহ্নিত ৪৮টি অশুল্ক বাধা (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) সমাধান করা হয়েছে। আরও ১৩টি বাধা সমাধানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
আজ রোববার ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা নিয়ে ইইউর পক্ষ থেকে আগে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ৪৮টির সমাধান করা হয়েছে। আরও ১৩টি বিষয়ে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউর সমর্থন চাওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, ইইউ বাংলাদেশের প্রস্তাব সমর্থন করবে। ভোটে বা ভোট ছাড়া যেভাবে হোক বাংলাদেশ মনে করেন এই প্রস্তাব অনুমোদন হবে।
তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে চলতি মাসে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে ইইউর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে এফটিএ ( মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা শুরুর জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে পারে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৮ জন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৫৫ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। এসময়ে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৮৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও আসছেন। তাঁর এই সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে উত্তরের এই জেলায়। শহরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন। রং দিয়ে সাজানো হয়েছে সড়কের ডিভাইডারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁওবাসী। তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে উন্নয়ন ও নাগরিক প্রত্যাশার কথাও।
দুদিনের সফরে আজ সকালে ঠাকুরগাঁও পৌঁছানোর কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। নিজ জেলায় পৌঁছে তিনি প্রথমে শহরের গোয়ালপাড়া সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। বিকেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে জেলার সচেতন নাগরিকদের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামীকাল সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেলে বঙ্গভবনে ফেরার কথা রাষ্ট্রপতির।
গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পর থেকেই তাঁর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ উচ্ছ্বসিত। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসছেন তিনি। তাই এই সফর ঘিরে স্থানীয়দের আনন্দ-উচ্ছ্বাসও যেন বেড়েছে কয়েক গুণ।
তবে রাষ্ট্রপতির কাছে রয়েছে ঠাকুরগাঁওবাসীর নানা প্রত্যাশা। জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ চান তারা। একই সঙ্গে তাঁর সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলবে বলেও প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রঙের ছোঁয়ায় যেমন বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র, তেমনি নতুন প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন জেলার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা। রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। দলমতনির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি।’
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আছি।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার ফার্মগেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে এক বাইকচালককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পরেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তেজগাঁও থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকী উপলক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
ওসি বলেন, “খামারবাড়ি মোড়ে পুলিশ মোতায়েন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে আসা এবং জনসমাগমের কারণে খামারবাড়ি মোড় থেকে ফার্মগেটের দিকে যেতে সড়কের বাম পাশের লেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ডান পাশের লেন হয়ে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার লেনটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর তার কার্যালয় থেকে বিজয়সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর প্রবেশের পরেই মোড় থেকে বাম দিকের লেনে ওই বাইকার প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত সার্জেন তাকে থামিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে বাইকসহ ওই যুবককে হেফাজতে নেয় তেজগাঁও থানা পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি মনিরুজ্জামান।
তিনি আরো বলেন, “ওই যুবক আমাদের বলেছে, বাম পাশের লেন বন্ধের বিষয়টি সে জানত না।”
ইতোমধ্যে ওই যুবকের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড যাচাই করেছে পুলিশ, তবে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। তারপরেও জিজ্ঞাসাবাদ ও সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে তার বিষয়ে ‘পরবর্তী সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কথা বলেছেন ওসি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ এখন একটি ‘স্ট্রং ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নতুন সরকারের বয়স প্রায় ছয় মাসের মতো হয়েছে; কিন্তু প্রথম দিন থেকেই আমরা এই নীতি বাস্তবায়ন করেছি-যাতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের সমস্ত পররাষ্ট্র সম্পর্কের মাঝে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। আপনি বেইজিং বলুন, ওয়াশিংটন বলুন, মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরব বলুন কিংবা রাশিয়া বলুন- প্রত্যেকের সঙ্গে আমাদের চমৎকার ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদসহ অন্যান্য শক্তিশালী দেশের সঙ্গে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই একটি গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ তৈরি হয়েছে।’
গত ২ জুন জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজি এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন। এই প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে জয় পেলাম। সেখানে বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও দৃশ্যমানতা অনন্য উচ্চতায় গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনও দেখেছেন টু-প্লাস-টু প্রস্তাব দিয়েছে; যা দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ, তা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি এসেছে। তিনি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি (ট্রাম্প) চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন- তিনি বিশ্বাস করেন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের জনগণ একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের (ব্রাইট ফিউচার) দিকে এগিয়ে যাবে।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আমাদের হাজারটা সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ থাকুক না কেন, আলাপ-আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং এটাই রাখা উচিত। স্বাভাবিকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন ছিল; আমি নিজেই সে প্রশ্ন উত্থাপন করে পরিষ্কার করছি; ভারতের সঙ্গে আমরা এমনভাবেই যোগাযোগ চাই-তারা আমাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আমাদের গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ প্রয়োজন। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে।’
মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী পক্ষ গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। আজ বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে অবদান রাখছে। শান্তিরক্ষায় আমরা বিশ্বমানের অভিজ্ঞ এবং আমাদের রয়েছে অত্যন্ত দক্ষ ও সুশৃঙ্খল সশস্ত্র বাহিনী। ফলে এই পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি বিশ্বের আগ্রহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে যদি আমরা শান্তি বজায় রাখতে পারি, তবে মুসলিম বিশ্বের যেকোনো উদ্যোগে কেন পারবো না? অবশ্যই পারবো। সেই দিক থেকেও আলোচনা এগিয়ে চলছে; দেখা যাক, কী অগ্রগতি হয়। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, বাংলাদেশ সেখানেই যাবো।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানের এই অত্যন্ত অস্থির ও পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায়-একটি জোটে থাকলে যে অন্য জোটে অংশগ্রহণ করা যাবে না, বিষয়টি মোটেই তেমন নয়। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হলে পররাষ্ট্রনীতিকে অত্যন্ত নমনীয় ও গতিশীল হতে হবে। কোনো ধরনের একগুঁয়েমি বা অনমনীয়তা (রিজিডিটি) দিয়ে জাতীয় স্বার্থ হাসিল করা সম্ভব নয়। যতক্ষণ আপনার মূল দর্শন সুরক্ষিত থাকে- আর আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ)। জনগণের কল্যাণ এবং দেশের সার্বভৌম জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবো।’
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে। মাঝে-মধ্যে এয়ারবাসও কিনবো। এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে এটা কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রফতানি হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।