নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে প্রতিবাদ সভা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১০:২১ এএম

ভুয়া, ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট মামলায় দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদ এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এসব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কতিপয় আমলার বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করায় এক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না দিয়ে সিনিয়র একজন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। 

তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকরা একযোগে ঘোষণা দেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের কলম থামবে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে। সত্যের পক্ষে কলম কখনও থামে না এই বিশ্বাসেই সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ।’

অনতিবিলম্বে নওরোজ সম্পাদককে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা বলেন, সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীকে মিথ্যা মামলায় যেভাবে নিপীড়ন করা হচ্ছে তাতে সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। এভাবে কালাকানুন করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে গণমাধ্যম তার অস্তিত্ব হারাতে বসবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-

নওরোজ সম্পাদকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা

.



কক্সবাজারে প্রতিবাদ সভায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

আবদুল্লাহ খাঁন, কক্সবাজার থেকে জানিয়েছেন, অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভায় বক্তারা নওরোজ সম্পাদকের মুক্তি দাবি করেন। দ্রুত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এম আর খোকন, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আমানুল হক বাবুল, ভোরের আকাশ জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল রিয়াদ, শাহ আমানত জেলা প্রতিনিধি অন্তর দে বিশাল, কক্সবাজার বাণীর স্টাফ রিপোর্টার মো. ফারুক, সাংবাদিক আশরাফ বিন ইউসুফ, মো আজিম, জাহাঙ্গীর, ফেরদৌস আলম প্রমুখ।



কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় নওরোজ সম্পাদককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে কিশোরগঞ্জে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা ও কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক নওরোজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি ফাইজুল হক গোলাপ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল, কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম নজরুল, দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাজন আহমেদ পাপন, দৈনিক কিশোরগঞ্জ এর নিউজ এডিটর রেজাউল করিম, দৈনিক মুক্ত খবরের জেলা প্রতিনিধি রঞ্জন মোদক রনি, দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শেখ আল আজহার, ফয়জুল কবির ভুঁইয়া, দৈনিক নওরোজের হোসেনপুর প্রতিনিধি এসকে শাহীন নবাব, দৈনিক নওরোজের তাড়াইল প্রতিনিধি মুজিবুল হক চুন্নু, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি আজিজুল হক ফাহিম, আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান রিপন, কালের নতুন সংবাদ এর বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার রিতু আক্তার, রোজিনা আক্তার পলি, এমদাদুল হক, একুশে সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার সোহরাব হোসেন, জেলা প্রতিনিধি নার্গিস আক্তার মুন্নী, দৈনিক সারাদিন-এর স্টাফ রিপোর্টার আতাউর হাসান দিনার, ঢাকার ডাক জেলা প্রতিনিধি ও নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা শাওন, দিন প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান হানিফ প্রমুখ।

কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন


দিনাজপুরে প্রতিবাদ

নওরোজ পত্রিকার সম্পাদককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন ও নওরোজ পত্রিকার পাঠক সমাজের ব্যানারে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরাম, দিনাজপুর এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরামের সভাপতি এবং চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার শাহ্ আলম শাহী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ও সাপ্তাহিক দিনাজপুর এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু আহমেদ বাব্বা ও সদস্য সচিব মো. আইনুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইফুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, আল মনসুর, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুল হক তুষার, ইমরান হোসেন, ফারজানা মনি, মো. অনিক, মো. ভীম মো. রাজু, মো. হাবলু, মো. আতিউর রহমানসহ দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শুভানুধ্যায়ীরা। বক্তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।


ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিন্দা-উদ্বেগ 

জাতীয় দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা-উদ্বেগ জানিয়েছে প্রেসক্লাব পীরগঞ্জ। পৌর শহরের চৌরাস্তায় প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান মানিক অবিলম্বে সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীর নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিপীড়ন সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতায় অন্তরায়। 

এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। 




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।


সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।


তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।


নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।


আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।




স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।


সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।


মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। 


স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।


কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।


আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। 


বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।




অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।


রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে  রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। 


ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।


আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।


সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।


ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।


বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন। 


সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। 


দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন। 


সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।


এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।

সর্বশেষ সব খবর