নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে প্রতিবাদ সভা
ভুয়া, ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট মামলায় দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদ এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এসব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কতিপয় আমলার বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করায় এক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না দিয়ে সিনিয়র একজন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়।
তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকরা একযোগে ঘোষণা দেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের কলম থামবে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে। সত্যের পক্ষে কলম কখনও থামে না এই বিশ্বাসেই সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ।’
অনতিবিলম্বে নওরোজ সম্পাদককে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা বলেন, সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীকে মিথ্যা মামলায় যেভাবে নিপীড়ন করা হচ্ছে তাতে সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। এভাবে কালাকানুন করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে গণমাধ্যম তার অস্তিত্ব হারাতে বসবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
কক্সবাজারে প্রতিবাদ সভায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আবদুল্লাহ খাঁন, কক্সবাজার থেকে জানিয়েছেন, অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভায় বক্তারা নওরোজ সম্পাদকের মুক্তি দাবি করেন। দ্রুত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।
প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এম আর খোকন, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আমানুল হক বাবুল, ভোরের আকাশ জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল রিয়াদ, শাহ আমানত জেলা প্রতিনিধি অন্তর দে বিশাল, কক্সবাজার বাণীর স্টাফ রিপোর্টার মো. ফারুক, সাংবাদিক আশরাফ বিন ইউসুফ, মো আজিম, জাহাঙ্গীর, ফেরদৌস আলম প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন
মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় নওরোজ সম্পাদককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে কিশোরগঞ্জে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা ও কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক নওরোজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি ফাইজুল হক গোলাপ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল, কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম নজরুল, দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাজন আহমেদ পাপন, দৈনিক কিশোরগঞ্জ এর নিউজ এডিটর রেজাউল করিম, দৈনিক মুক্ত খবরের জেলা প্রতিনিধি রঞ্জন মোদক রনি, দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শেখ আল আজহার, ফয়জুল কবির ভুঁইয়া, দৈনিক নওরোজের হোসেনপুর প্রতিনিধি এসকে শাহীন নবাব, দৈনিক নওরোজের তাড়াইল প্রতিনিধি মুজিবুল হক চুন্নু, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি আজিজুল হক ফাহিম, আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান রিপন, কালের নতুন সংবাদ এর বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার রিতু আক্তার, রোজিনা আক্তার পলি, এমদাদুল হক, একুশে সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার সোহরাব হোসেন, জেলা প্রতিনিধি নার্গিস আক্তার মুন্নী, দৈনিক সারাদিন-এর স্টাফ রিপোর্টার আতাউর হাসান দিনার, ঢাকার ডাক জেলা প্রতিনিধি ও নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা শাওন, দিন প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান হানিফ প্রমুখ।
দিনাজপুরে প্রতিবাদ
নওরোজ পত্রিকার সম্পাদককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন ও নওরোজ পত্রিকার পাঠক সমাজের ব্যানারে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরাম, দিনাজপুর এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরামের সভাপতি এবং চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার শাহ্ আলম শাহী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ও সাপ্তাহিক দিনাজপুর এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু আহমেদ বাব্বা ও সদস্য সচিব মো. আইনুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইফুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, আল মনসুর, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুল হক তুষার, ইমরান হোসেন, ফারজানা মনি, মো. অনিক, মো. ভীম মো. রাজু, মো. হাবলু, মো. আতিউর রহমানসহ দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শুভানুধ্যায়ীরা। বক্তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিন্দা-উদ্বেগ
জাতীয় দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা-উদ্বেগ জানিয়েছে প্রেসক্লাব পীরগঞ্জ। পৌর শহরের চৌরাস্তায় প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান মানিক অবিলম্বে সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীর নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিপীড়ন সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতায় অন্তরায়।
এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্যানিটেশন মার্কেটিং সিস্টেম (স্যানমার্কস) প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে স্যানমার্কস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (৯ সেপ্টম্বর বুধবার) দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে তাদের নিজস্ব হলরূমে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিব, বিশেষ অতিথি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোঃ বাবুল আকতার, প্রকৌশলী দীপক রায়, সহকারী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন এস্টিমেটর আব্দুল মালেক।
এছাড়াও স্থানীয় স্যানিটারি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন তাঁর বক্তব্যে সেনমার্কস প্রকল্পের-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের উত্থাপিত সমস্যা ও চাহিদাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও টেকসই, কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্যান মার্কস এর কার্যক্রমের মাধ্যমে স্যানিটেশন মার্কেট আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, মানসম্মত তথ্য ও সাশ্রয়ী স্যানিটেশন পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের চাহিদাভিত্তিক স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী, ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা চোরাচালানের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে ৬৪ বিজিবি।
বুধবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ ৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় নৌকার সাথে বেধে বস্তায় করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জন আসামীসহ এযাবত কালের সর্ববৃহৎ ইয়াবা চোরাচালান আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবা আটক করেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তিগত এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে এবং চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
এ উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফিসহ মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।