পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:২২ এএম

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেছেন, ‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশ নতুন করে এগিয়ে যাবে। পঞ্চাশ বছর পর গবেষণা করলে দেখা যাবে- ২০২৬ সালে যাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, তার নেতৃত্বেই দেশ সামনে এগিয়েছে।’


আজ মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় পৌরসভার পুরাতন পঞ্চগড় এলাকার মনোয়ারা কনভেনশন সেন্টার চত্বরে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে নওশাদ জমির বলেন,‘বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীতে পরিচিত করেছে আমাদের শ্রমিকরা। আজ গার্মেন্টস রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে। আপনারা যদি বিদেশের বড় দোকানে যান, তিনটি পোশাকের একটি অন্তত মেইড ইন বাংলাদেশ পাবেন।’


শ্রমিকদের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাইপাস সড়কের দাবি শুধু সুবিধার জন্য নয়, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য। এটা ন্যায্য দাবি। সরকার গঠন করতে পারলে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখব।’


ট্রাক টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘এই সমস্যাটা আমি ২০০০ সাল থেকেই শুনে আসছি। সমস্যা ফেলে রাখলে সমাধান হয় না। আমাদের বসে সমাধান খুঁজতে হবে।’


স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি- বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নয়। প্রত্যেক পরিবারকে একজন করে ডাক্তার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’


এ ছাড়া শ্রমিকদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও বিনা খরচে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


সভায় নওশাদ জমিরের স্ত্রী ডা. সোনিয়া জামান খান বলেন, ‘শ্রমিকদের পাশে থাকাই আমাদের রাজনীতির মূল কথা। আপনারা ধানের শীষে ভোট দিলে আমরা আপনাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করব।’


এ সময় বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে নওশাদ জমিরের স্ত্রী ডা. সোনিয়া জামান পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহেররুল ইসলাম কাচ্চু জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জসীমউদ্দীন ইসলাম জসিম, মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আকবর আলী সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিল।  


এছাড়াও শ্রমিক সমাবেশে পঞ্চগড় সুগার মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহিম, শ্রমিকদলের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজু, সহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।  


সভা শেষে আকবর আলীর নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক শ্রমিক ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পরিত্যক্ত একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।


সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।


পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ী থানার একটি মামলার আসামি মাইন উদ্দিন মামুনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত একটি ভাঙা লাকড়ির ঘর থেকে একটি একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের উৎস এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে দুটি পদে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাকরির কথা বলে অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি। তবে নিয়োগের বিষয়টিকে বানোয়াট দাবি করে প্রধান শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ, স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যদিও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, খোদ প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার বিলের ফাইল সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বিদ্যালয়টির খালি থাকা অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনোবারই নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়নি। সম্প্রতি পরীক্ষা ছাড়াই চুপিসারে অফিস সহায়ক পদে জাহিদুল ইসলাম এবং নৈশ প্রহরী পদে পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতির ভাতিজা সবুজ ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়ক জাহিদুল ইসলাম। তবে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া সবুজ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সারা দেননি। এদিকে, গোপনে সম্পন্ন করা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্যদের। 


ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কমিটির সদস্য হিসেবে আছি। আগের নিয়োগগুলোর কথা জানতাম। কিন্তু এই দুটি পদে নিয়োগের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না, আমার কোনো স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়েছিল আপাতত কোনো নিয়োগ হবে না, পরবর্তী নতুন কমিটি আসলে তাদের মাধ্যমে হবে। পরে শুনলাম ব্যাকডেটে নাকি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে এই ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।


ভুক্তিভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের প্রথম শিকার হন গোপালঝাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর। অফিস সহায়ক পদে চাকরির আশায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হাতে কয়েক দফায় ৮ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। পরবর্তীতে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।


ভুক্তভোগী মো. আলমগীর বলেন, আমি অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য জমি জমা বিক্রি করে এবং ধার-দেনা করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলাম। আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছিল চাকরি আমারই হবে। এমনকি আবেদনের সুবিধার জন্য প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে আমার ভোটার আইডি কার্ডে বয়সও কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারি, আমার চেয়েও বেশি টাকার বিনিময়ে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির নামে আমার সাথে চরম প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। 


চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান। তার দাবি, আট লাখ নয়, চাকরির কথা বলে আলমগীরের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ও আমি আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে যাদেরকে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আলমগীরকে পাওনা টাকা লাভসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই টাকার ভাগ শিক্ষা অফিসসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্টদেরও দিতে হয়েছে।


তবে নিয়োগ ও লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান। তাঁর দাবি, নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়াচ্ছে।


প্রধান শিক্ষকের এই দাবিকে পুরোপুরি অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফ-উজ-জামান সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি নিজেই অফিসে এসে ওই দুই পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিল পাঠানোর সুপারিশ করেছিলেন। 


এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব অনলাইন আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই বেতন-ভাতার বিলের আবেদন পাঠানো হয়েছে। তাই এই নিয়োগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগের নামে এমন জালিয়াতি ও অর্থ লেনদেনের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।


এ এবি এম আব্দুল কাদের

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ পিএম

নওগাঁয় শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এ এবি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর পক্ষে এক ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। জাল সনদে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। 


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ বি এম আব্দুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। কিছু দিন পর ওই মাদ্রাসায় আলিম শাখা খুলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছর ৩ জুলাই মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজল্যুশন করে তাঁকে বিধি বহির্ভূতভাবে আলিম শাখায় আরবি প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে। 


সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালে আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সনদ যাচাইয়ের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠান। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ওই বছর ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদ দুটি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে ইস্যু করা নয়। তাঁর সনদে উল্লিখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা।


অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকতার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে আব্দুল কাদের নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 


অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ বি এম আব্দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘জাল সনদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সনদের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। এসব বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেব।’

নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকতা করলে কাজী হওয়া যাবে না এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট বিধি নাই।’


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিষয় : নওগাঁ


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১৪ পিএম

আরবের মরুভূমির খেজুর গাছ এখন দোল খাচ্ছে পাবনার মাটিতে। যেসব উন্নত জাতের খেজুর একসময় শুধু মধ্যপ্রাচ্যের বাগানেই দেখা যেত, সেগুলোই এখন ফলছে আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম হিরোর বাগানে। শুরু করেছিলেন মাত্র চারটি চারা দিয়ে। তিন বছরের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বিদেশি খেজুর বাগানে। প্রতিদিনই বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন কৃষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।


২০২২ সালে সদর উপজেলার গয়েশপুর এলাকার একজন উদ্যোক্তার কাছ থেকে চারটি খেজুরের চারা সংগ্রহ করে নিজের জমিতে রোপণ করেন সাইফুল ইসলাম হিরো। মাত্র ১৬ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। সে সময় অনেকেই দেশের আবহাওয়ায় বিদেশি খেজুর চাষ সম্ভব নয় বলে তাঁকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু নিয়মিত পরিচর্যা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন।


বর্তমানে সাইফুল ইসলামের ৩৩ শতাংশ বাগানে প্রায় ৬০টি খেজুরগাছ রয়েছে। সেখানে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুর চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে আজওয়া, মরিয়ম, মেডজুল, সুক্কারি, ওয়ারহিছ ও বড়ই জাত উল্লেখযোগ্য। অনেক গাছে ইতোমধ্যে ফল এসেছে। আবার বেশ কয়েকটি গাছে উন্নতমানের সাকার হয়েছে, যা থেকে নতুন চারা তৈরি করা সম্ভব।


বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে খেজুরের থোকা। দৃশ্যটি যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো খেজুর বাগানের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বাগানটি দেখতে আসছেন। অনেকে চাষের খুঁটিনাটি জেনে নিজেরাও বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।


কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি খেজুরের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে উন্নতমানের সাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিরোর বাগানের অনেক গাছে এখন সাকার উৎপন্ন হচ্ছে। এসব সাকার থেকে নতুন গাছ তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশে বিদেশি খেজুর চাষ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। বর্তমানে মরিয়ম জাতের একটি চারার বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বিদেশি খেজুর চাষকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।


কৃষক সাইফুল ইসলাম হিরো জানান, চলতি বছর আবাদে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অতিবৃষ্টি না হলে প্রতিটি গাছে তিন কেজি খেজুর হবে। বিক্রি করলে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই বলেছিলেন, এই দেশে বিদেশি খেজুর হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। নিয়মিত পরিচর্যা করেছি, বিভিন্ন উৎস থেকে খেজুর চাষের প্রযুক্তি শিখেছি। এখন আমার বাগানে ফল এসেছে। প্রতিদিনই মানুষ বাগান দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিদেশি খেজুর চাষ করতে চাই। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদেরও সহযোগিতা করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশি খেজুর চাষে ধৈর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিচর্যা করলে সফল হওয়া সম্ভব।’


উপজেলার একদন্ত ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলি খাতুন বলেন, বিদেশি খেজুর চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, মাঠ পর্যায়ে তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করা হচ্ছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, আটঘরিয়ার মাটি ও জলবায়ু উন্নত জাতের বিদেশি খেজুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। সাইফুল ইসলাম হিরোর মতো উদ্যোক্তারা অন্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছেন। লাভজনক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ পিএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। গতকাল রোববার দুপুরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ভিডিওটি প্রায় এক বছর আগে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে।


৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরা ইমরান শেখ অফিস কক্ষের চেয়ারে বসে আছেন। সেবাগ্রহীতার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘মূল দলিল বিকেলে দেবেন। ফটোকপি আমার কাছে দেওয়া আছে।’


এরপর ওই সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ইমরান শেখ গুনে গুনে ১০টি ৫০০ টাকার নোট নেন। টাকা নেওয়ার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি মূল দলিল আজকে দেন। আজকে রাত্রে আবেদন করে দেব। এই সপ্তাহ তো শেষ হয়ে গেল। সামনে রোববার এসি ল্যান্ড আসবে। ইনশা আল্লাহ, দুই সপ্তাহ ক্রস (অতিক্রম) করবে না। কারণ, স্যার দ্রুত কাজ করে।’


একপর্যায়ে ইমরান শেখ সেবাগ্রহীতাকে প্রশ্ন করেন, ‘স্যারের (এসি ল্যান্ড) কথাবার্তা ভালো না? উনিও ৪০তম বিসিএসের। আমিও ৪০তম বিসিএসের। উনার কপাল ভালো, আল্লাহ উনারে ক্যাডার বানাইছে আর আমারে নন–ক্যাডার বানাইছে।’ এরপর টাকা পকেটে রেখে তিনি অন্য এক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।


এ বিষয়ে ইমরান শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, এটি ধারের টাকা। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, আবার ফেরত দিয়ে যায়। এটি ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়কার ভিডিও।’ তবে যিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন, তাঁর নাম-পরিচয় জানাতে তিনি রাজি হননি।


বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদের বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে গতকাল রাতে দুই দফা কল করা হলেও তিনি ধরেননি।


ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্তের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান। তিনি জানান, এ ব্যাপারে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে বিধিমোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৮ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শূন্য কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য অভ্যন্তরীণ শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন অভ্যন্তরীণ শিক্ষকই এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে উপযুক্ত।


আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


মানববন্ধনে ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবেদন করতে পারেন। তবে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান।”


অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী রিমন বলেন, ‌‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একজন শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। ফলে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁরাই অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’


শিক্ষার্থীরা বলেন, কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাইরের কোনো শিক্ষককে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই ইতিবাচক হবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন নোবিপ্রবির সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোষাধ্যক্ষ পদটি শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি এ পদে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে- এমন আলোচনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁরা আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।