বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আবারও একটি অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৪২টি আসন।
এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।
চারটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা এখনো বাকি। সেখানেও বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। আর তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। অবশ্য গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্নের গঠন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।
তারেকের নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।
সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।
তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।
আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।
১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।
বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।
এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।
খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে।
এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ হিসেবেও চিত্রিত করেছে।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।
তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, “ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।”
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।
জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান।
তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক।
ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।
২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা’ দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।
ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।
ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।”
“আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”
সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন ।
তিনি বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, “আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।
কেমন হল ভোট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন গণভোট হয়। মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই দিনভর ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যয়নি। কোনো কেন্দ্র বাতিল বা স্থগিতও করতে হয়নি।
ভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে তাদের পাঁচজনই মারা যান হঠাত অসুস্থ হয়ে। আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগ তোলে।
এনসিপি বলে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগহণ ‘সন্তোষজনক’ হলেও তারপর থেকেই সারা দেশ থেকে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কোনো কেন্দ্র ভোট স্থগিতও হয়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদও দিয়েছে তারা।
দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে পুরো ৯ ঘণ্টায় কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সে তথ্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে নাগরিকদের ‘অংশগ্রহণের আগ্রহকে ইতিবাচক’হিসাবে বর্ণনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।
সারা দেশে ইউ মিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে আমরা তথ্য গোছানোর কাজ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক দেখতে পাচ্ছি।”
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে চাননি।
তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।
“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”
রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায়’ জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
একইসঙ্গে ফল ঘোষণার পরও যেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
“তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।
“এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।
নোবেলজয়ী ইউনূস বিদায় বেলায় বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
ছবি : সংগৃহীত
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম। গতকাল রোববার দুপুরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ভিডিওটি প্রায় এক বছর আগে ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে।
৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরা ইমরান শেখ অফিস কক্ষের চেয়ারে বসে আছেন। সেবাগ্রহীতার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘মূল দলিল বিকেলে দেবেন। ফটোকপি আমার কাছে দেওয়া আছে।’
এরপর ওই সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ইমরান শেখ গুনে গুনে ১০টি ৫০০ টাকার নোট নেন। টাকা নেওয়ার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি মূল দলিল আজকে দেন। আজকে রাত্রে আবেদন করে দেব। এই সপ্তাহ তো শেষ হয়ে গেল। সামনে রোববার এসি ল্যান্ড আসবে। ইনশা আল্লাহ, দুই সপ্তাহ ক্রস (অতিক্রম) করবে না। কারণ, স্যার দ্রুত কাজ করে।’
একপর্যায়ে ইমরান শেখ সেবাগ্রহীতাকে প্রশ্ন করেন, ‘স্যারের (এসি ল্যান্ড) কথাবার্তা ভালো না? উনিও ৪০তম বিসিএসের। আমিও ৪০তম বিসিএসের। উনার কপাল ভালো, আল্লাহ উনারে ক্যাডার বানাইছে আর আমারে নন–ক্যাডার বানাইছে।’ এরপর টাকা পকেটে রেখে তিনি অন্য এক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন।
এ বিষয়ে ইমরান শেখ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি ঘুষের টাকা নয়, এটি ধারের টাকা। অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়, আবার ফেরত দিয়ে যায়। এটি ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার সময়কার ভিডিও।’ তবে যিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন, তাঁর নাম-পরিচয় জানাতে তিনি রাজি হননি।
বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদের বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে গতকাল রাতে দুই দফা কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশে ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্তের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান। তিনি জানান, এ ব্যাপারে আরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে বিধিমোতাবেক তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শূন্য কোষাধ্যক্ষ পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য অভ্যন্তরীণ শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন অভ্যন্তরীণ শিক্ষকই এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে উপযুক্ত।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবেদন করতে পারেন। তবে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন যোগ্য শিক্ষক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান।”
অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী রিমন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একজন শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। ফলে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁরাই অধিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
শিক্ষার্থীরা বলেন, কোষাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাইরের কোনো শিক্ষককে নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই ইতিবাচক হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন নোবিপ্রবির সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে কোষাধ্যক্ষ পদটি শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি এ পদে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে- এমন আলোচনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁরা আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ
সিলেটের ইতিহাসে প্রথম পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার নিয়ে চলছে নানা সংশয়ও নানা আশংকা। এ দিকে দফায় দফায় তদন্তের নামে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার নিয়ে হতাশা বেড়েছে শহীদ পরিবারে। বিচারের দীর্ধ সুত্রিতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সিলেটের সাংবাদিক সমাজও। ২ বছরে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে দেশে। ক্ষমতার মসনদে বসেছে নির্বাচিত সরকার। সেই সরকারের মেয়াদও ৬ মাস হতে চলেছে। কেবল শেষ হয়নি তুরাব হত্যার বিচার। এ মামলায় ২ বছরে অর্জন কেবল ২ জন আসামী গ্রেফতার। প্রকাশ্য পুলিশের গুলির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখনো তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে আছে সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কোর্টপয়েন্টের উত্তর পাশে ডায়বেটিক হাসপালের প্রধান গেইটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু তাহের মো. তুরাব (এটিএম তুরাব)। এরপর কেটে গেছে ২ বছর। এই সময়ে এসএমপির কোতোয়ালী থানা, পি বি আই হয়ে মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- আইসিটিতে। অপেক্ষা বাড়ছে বিচারের। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান শহীদ তুরাবের মা, স্বামী হত্যার বিচার দেখতে চান বিয়ের ৩ মাসের মাথায় প্রিয়জনকে হারানো স্ত্রী ও তুরাবের ভাই-বোনেরা।
সেদিন কি ঘটেছিলঃ ১৯ জুলাই বাদ জুমআ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার উপর নৃশংস গণহত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করে বিএনপি। তখন ন্যুনতম কোনো উত্তেজনা ছিলনা। নিত্যদিনের মতো সেদিনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিকগণ। পাশেই ছিল পুলিশের সশস্ত্র অবস্থান। হঠাৎই অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তাদের মারমুখী আচরণে বদলে যায় পরিস্থিতি। উত্তপ্ত হয়ে উঠে কোর্ট পয়েন্ট এলাকা। ঐ পুলিশের কিলিং মিশনের টার্গেটে পড়ে যান সাংবাদিক এটিএম তুরাব। পুলিশের ছুঁড়া ৯৮টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয় তুরাবের শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে জরুরী ভিত্তিতে সোবহানী ঘাটস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই আইসিইউ-তে থাকা অবস্থায় সাংবাদিক তুরাব সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।
তুরাবের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম তখন জানিয়েছিলেন, তুরাবের শরীরে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিতে তার লিভার ও ফুসফুস আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাথায়ও আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
মাত্র তিন মাস আগে লন্ডনি কন্যা বিয়ে করেছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। লন্ডন যাওয়ার সব প্রক্রিয়া এগিয়েও রেখেছিলেন। হয়তো কয়েক মাসের মধ্যে তার লন্ডন পাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় তাকে।
এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়ে তার পরিবার। লন্ডনে থাকা সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী তানিয়া ইসলাম বিয়ের তিন মাসের মধ্যে হয়ে যান বিধবা। এখনো কাঁদেন তিনি। কারণ তখন দেশে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় স্বামীর মরদেহ ও শেষ বিদায়ের দৃশ্য দেখতে পারেননি তিনি। সাংবাদিক তুরাব হত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তুরাব হত্যা মামলায় এসএমপির তৎকালীন এডিসি সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জল সিংহ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামী এখনো বাইরে থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় একই বছরের ২৪ জুলাই সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মো. আজরফ (জাবুর) এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় আট থেকে ১০ জন পুলিশকে অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু কোতোয়ালি থানা পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এরপর সেই বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মোমেনের আদালতে এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন তার ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর)। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
আদালত শুনানি শেষে মামলার এফআইআর করার নির্দেশ দেন। মামলায় ২নং আসামি এসএমপির তৎকালীন উপকমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩নং আসামি তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও ৪নং আসামি হন কোতোয়ালী থানার তৎকালীন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার তৎকালীন ওসি মঈন উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজি রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে, যুবলীগ নেতা ও সিসিকের তৎকালীন গণসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ (মো. রুহুল আমিন), এসএমপির কনস্টেবল সেলিম মিয়া, কনস্টেবল আজহার, কনস্টেবল ফিরোজ ও কনস্টেবল উজ্জ্বল। এছাড়া মামলায় ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়।
এদিকে, দীর্ঘ দুই বছরে এই মামলায় দু’জন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। গেল বছর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টে স্থানান্তর করা হয়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের পর আইসিটি কোর্টের তদন্ত টীম দফায় দফায় সিলেট সফর করেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। গেল বছরের ২০ জুলাই প্রথমবারের মতো তুরাব হত্যা মামলার দুই আসামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চাওয়া হয় রিমান্ড।
গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে চার্জশীট দাখিল করার কথাও জানিয়েছিলেন আইসিটি কোর্টের তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তাগণ। কিন্তু এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে আরও দুই বছর। সামনে চলে আসছে আরেক আগস্ট। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) কোর্টের একটি তদন্ত টীম গত সপ্তাহে সিলেট সফর করে গেছেন। তারা তুরাব হত্যা মামলার সাক্ষীদের সাথে কথাও বলছেন। এব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, আমরা তদন্তের কাজে সিলেটে এসেছি। তুরাব হত্যা মামলার বাদি ও সাক্ষীদের সাথে কথা বলেছি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বাদী সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ (জাবুর) হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। শত শত ফুটেজ, নিউজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকার পরও একের পর এক তদন্তের নামে কালক্ষেপনে আমরা বিচার নিয়ে হতাশ। প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাত্র ২ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে কোন তৎপরতা না থাকার বিষয়টি দুঃখনজক। আমরা তুরাব হত্যার বিচার চাই।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। আজ রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর কবরস্থানে গিয়ে তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের তৎকালিন সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ তুরাবের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জিয়ারত শেষে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি তুরাবের বড় ভাই আবু আজরফ মো. জাবুরসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদ সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শহীদ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি। শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরি। তিনি বলেন, আমরা সাংবাদিক তুরাবের হত্যার বিচারের দাবী জোরদার করবো। এর বিচারের হতেই হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সার্থে তুরাব হত্যার বিচার হওয়া উচিত। আমরা জানিনা এই সরকার তুরাব হত্যার বিচার করবে কিনা। তবে শেষ বিচারের দিনে অবশ্যই তুরাব ন্যায়বিচার পাবেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় তিনি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন, পরিবারের খোঁজ খবর নেন ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া প্রেস ইউনিটের দ্বিবার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার একটি রেস্টুরেন্টে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়।
নির্বাচনে সভাপতি পদে দৈনিক দেশের কণ্ঠ-এর প্রতিনিধি নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি মো. সেলিম উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধি বেলাল উদ্দীন নির্বাচিত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সুজন নাথ, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন রানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন, অর্থ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবু নাঈম মোহাম্মদ মুজিবুল করিম, নাজিম উদ্দীন, কাউছার আলম, খুরশেদ আলম এবং মঈনুদ্দিন।
নির্বাচন শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি নুরুল আলম বলেন, “লোহাগাড়ার সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, ঐক্য ও কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। একটি দায়িত্বশীল, শক্তিশালী ও গতিশীল প্রেস ইউনিট গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।”
সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, “সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল উদ্দীন বলেন, “সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সকল সদস্যের সহযোগিতায় লোহাগাড়া প্রেস ইউনিটকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও সেবামুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
পরে নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে লোহাগাড়া প্রেস ইউনিট সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক দপ্তরি কাম প্রহরীর বিরুদ্ধে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বিশাল আকৃতির শুকনো আমের গাছ টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই কেটে ফেলায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার(২৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে থাকা বিশালাকার গাছটি শ্রমিক লাগিয়ে কেটে ফেলেন ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ। তাকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় আরোও কয়েকজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ এই গাছটি কেটেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সম্পদ বা গাছ অপসারণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। গাছ কাটার কোনো মৌখিক নির্দেশও আমি দেইনি।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। আপনারা নিউজ করেন সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, টেন্ডার ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ নাগরিকদের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত কর বা ট্যাক্স না বাড়িয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৫,১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই, ২০২৬) আয়োজিত বাজেট উপস্থাপন ও সংবাদ সম্মেলনে এই বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হয়। নতুন এই বাজেটে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ২,৬২১ কোটি ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয় যে, বর্তমান অর্থবছরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো ট্যাক্স বা করের বোঝা বাড়ানো হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স রি-অ্যাসসেসমেন্ট কার্যক্রম শেষে পূর্বের ন্যায় একই কর বহাল রাখা হয়েছে। নগরীর আধুনিকায়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষে বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য খাতের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব অর্থায়ন ও সরকারি অনুদানে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া ডিপিপি প্রকল্পের আওতায় ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্মা ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে ৩৭টি নতুন যানবাহন ক্রয় এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মশা তথা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষা ও খেলাধুলার মান উন্নয়নে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ এবং ৮টি জোনে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। শহরটিকে নিজেদের মনে করে সবাই মিলে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই বাজেট বাস্তবায়নে সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।