বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আবারও একটি অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আওয়ামী লীগহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জিতে নিয়েছে বিএনপি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তারা পাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। জুলাই অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় নতুন শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ধর্মভিত্তিক দলটি পেয়েছে ৪২টি আসন।
এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটে থাকা বিজেপি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।
চারটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা এখনো বাকি। সেখানেও বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন সংস্কার প্রশ্নে গণভোটও হয়। আর তাতে অনুমিতভাবেই ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। এই ফলের অর্থ হল, জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের সম্মতি দিয়েছেন দেশের নাগরিকরা। অবশ্য গণভোটের প্রক্রিয়া ও প্রশ্নের গঠন নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; নাগরিকরা ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।
তারেকের নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন
১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকারগঠন করেছিল তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। আর এবার তাদেরই সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি চতুর্থবারের মত দেশ শাসনের ভার নিতে যাচ্ছে।
সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে একানব্বইয়ের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি।
তার পরের তিন নির্বাচনে দুই বার সরকার গঠন করলেও মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিল একবার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে দলটি চলে গিয়েছিল শাসন ক্ষমতার বাইরে।
আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনের দুটি বর্জন করেছিল বিএনপি, একটিতে হয়েছিল ভরাডুবি। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর নতুন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে সরকারে ফেরার পথ তৈরি হয়।
১৯ বছর পর বিএনপি যখন সরকারে ফিরছে, তখন নতুন মেরুকরণে বিরোধীর আসনে নেই তাদের ৩৫ বছরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর নিবন্ধন স্থগিত থাকায় সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশ শাসন করা আওয়ামী লীগের এবার ভোট করার সুযোগ ছিল না।
বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচন সর্বোচ্চ ১৮ আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী সেই সুযোগে এবার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে বেশ। মায়ের ব্যাটন হাতে তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে বাংলাদেশের ক্ষমতা কেন্দ্রে প্রায় তিন যুগের চেনা চেহারা বদলে যাবে।
এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে তার মা, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে। প্রায় দেড় দশক টানা দেশ শাসন করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আর আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিয়েছেন।
খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনে একটা সময়ে পর্যায়ক্রমে সরকার প্রধান হয়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন যখন সরকার প্রধান হয়েছেন, অন্যজন তখন থেকেছেন বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় রাজপথে।
এক সময় তাদের বৈরি সম্পর্ককে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো ‘দুই বেগমের যুদ্ধ’ হিসেবেও চিত্রিত করেছে।
২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার জন্য তখনকার বিএনপি সরকারকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। আবার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি মামলার সাজা নিয়ে কারাগাযে যেতে হয়েছিল। পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতার কারণে তাকে একপ্রকার ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর খালেদা জিয়া পুরোপুরি মুক্ত হন, আদালতের রায়ে মুক্তি পান সাজা থেকেও।গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া যখন চিরবিদায় নেন, তার কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষিত হয়েছিল ত্রয়োদশ নির্বাচনের তফসিল।
তার মৃত্যুর পর বিএনপির এক শোকাহত কর্মী আক্ষেপ করেছিলেন, “ও আল্লাহ, আর কয়টা দিন বাঁচায় রাখতা, আমার ম্যডাম যাতে নির্বাচনটা দেইখা মৃত্যুবরণ করত।”
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি ছোটবড় দল। দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোটের মাঠে প্রার্থী ছিলেন ২০২৮ জন।
জামায়াতের একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে প্রচারের মাঝপথে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয় ২৯৯টি আসনে।
লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বিপুল সংবর্ধনায় দেশে ফিরে নির্বাচনি যাত্রায় নেমেছিলেন তারেক রহমান, যিনি মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। দেশ গঠনের ‘পরিকল্পনা’ নিয়ে দেশে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, এক্ষেত্রে দেশবাসীর সমর্থন তিনি চান।
তার দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মারা যান তার মা, খালেদা জিয়া; নির্বাচনি আমেজের মধ্যে তার এই বিদায়ে নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তারেক।
ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বিএনপি। তাদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দেয়।
২২ জানুয়ারি সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।ভোটের প্রচারে জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও ধর্মের নামে রাজনীতি করা’ দলকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলে এতদিন রাজনীতি করে আসা জামায়াতকে তিনি ভোটের প্রচারে নতুন রূপে দেখানোর চেষ্টা করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমের দল এলডিপির পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে সঙ্গী হিসেবে পাশে টেনে নেয় জামায়াত। প্রার্থী করা হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকেও।
ক্ষমতায় গেলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা জামায়াত বললেও ভোটের প্রচারের সময় নারীদের নিয়ে জামায়াত আমিরসহ কয়েক নেতার বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।
জামায়াতের আমিরও ভোটের প্রচারে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিএনপির অতীত মনে করিয়ে দিয়ে ‘দুর্নীতি ও চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোটের সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এসে বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময়কার সঙ্গীদের পাশাপাশি ‘কম-বেশি’ আরও রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে তারা দেশ পরিচালনা করতে চান।
ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহাখালী, পান্থপথ, ভাষাণটেক, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডির ২৭ নং সড়ক, সোহানবাগ ঘুরে নিজের কার্যালয়ে এসে তিনি দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘ভোটার উপস্থিতি আমি যতটুকু ঢাকা শহরে দেখেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ ভরে তার ভোট প্রয়োগ করতে যাচ্ছে।”
“আমি বিশ্বাস করি, গত দুই দিনে যেভাবে দেখেছি মানুষজন লঞ্চ, স্টিমারে, ট্রেনে, বাসে করে বিভিন্ন উৎসাহ নিয়ে দেশে ফিরে গিয়েছে, যার যার এলাকায় ফিরে গিয়েছে, ভোট দেয়ার জন্য আমরা প্রত্যাশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আজকে সেই প্রত্যাশা নিশ্চয়ই থাকবে।”
সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর জামায়াত আমির শফিকুর রহমানও সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদের কথা বলেন ।
তিনি বলেন, “এই ভোটের মাধ্যমে আগামীতে এমন সরকার গঠিত হোক, যে সরকার কোনো ব্যক্তি, পরিবার, দলের হবে না; বরং যে সরকার হবে ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার। আমরা সেই সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর বলেছিলেন, “আমরা ছোটখাটো কোনো বিষয় হলে অবশ্যই এগুলোকে ইগনোর করব। কিন্তু বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেব না এবং আমাদের যা করা প্রয়োজন, তাই করব। কারণ মানুষের ভোটের অধিকার হারিয়ে যাক, এটা আমরা কোনোভাবেই চাই না।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা। তবে নিজেদের সক্ষমতায় সরকার গঠন তো দূরে থাকা, প্রধান বিরোধী দলের আসনেও বসার সুযোগ তাদের হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এবার তারা সে সুযোগ পেতে যাচ্ছে।
কেমন হল ভোট
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এদিন গণভোট হয়। মোটাদাগে শান্তিপূর্ণভাবেই দিনভর ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যয়নি। কোনো কেন্দ্র বাতিল বা স্থগিতও করতে হয়নি।
ভোট চলাকালে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধায় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তবে তাদের পাঁচজনই মারা যান হঠাত অসুস্থ হয়ে। আরেকজনকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট তিনটি আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলার’ অভিযোগ তোলে।
এনসিপি বলে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগহণ ‘সন্তোষজনক’ হলেও তারপর থেকেই সারা দেশ থেকে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছে। ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে, আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, কোনো কেন্দ্র ভোট স্থগিতও হয়নি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটে অংশগ্রহণ করায়, দেশবাসীকে ধন্যবাদও দিয়েছে তারা।
দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে পুরো ৯ ঘণ্টায় কত শতাংশ ভোট পড়েছে, সে তথ্য এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটে নাগরিকদের ‘অংশগ্রহণের আগ্রহকে ইতিবাচক’হিসাবে বর্ণনা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস।
সারা দেশে ইউ মিশনের পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইতোমধ্যে আমরা তথ্য গোছানোর কাজ করছি। দুপুর পর্যন্ত ভোটে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণের আগ্রহ ইতিবাচক দেখতে পাচ্ছি।”
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা না করে ‘ঝুলিয়ে’ রেখেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে এখনি বিস্তারিত বলতে চাননি।
তিনি বলেন, “বেশকিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন, আমরা বুঝছি না কেন। মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে দিয়ে উধাও করে দেওয়া হল। ওনারা একটু আগে একদম প্রথম পর্যায়ের ১০টা, ১২টা ফল দিচ্ছেন।
“আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে সেখানে আমরা দেখেছি, এগিয়ে আছি। কিন্তু এটা নিয়ে লোকালি বিভিন্ন টালবাহানা করা হচ্ছে।”
রাতে ঢাকা-৮ আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায়’ জাতিকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
একইসঙ্গে ফল ঘোষণার পরও যেন রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম অব্যাহত থাকে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভোটগ্রহণ শেষে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব- এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।
“তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব।
“এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।
নোবেলজয়ী ইউনূস বিদায় বেলায় বলেন, “এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।”
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এএসপিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সরাইল থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারাও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
রাত ১০টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদের সঙ্গে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ। এ সময় পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ রহমান মুকুল, সাব্বির হোসেন , সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ জেলায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকরা তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন তারা।
সাংবাদিকদের বক্তব্য ও মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন নবনিযুক্ত প্রশাসক এম এ মজিদ। তিনি পঞ্চগড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় এম এ মজিদ বলেন, “জেলা পরিষদ সবার জন্য উন্মুক্ত। জেলার মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই। এ কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে জেলা পরিষদে এসে তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের প্রতিবেশী এবং পূর্বপরিচিত।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল ইসলাম বাড়ী থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ী ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির নম্বর ২৬৬। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল।
এরই মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাসুদ মিয়ার বাড়ীর পূর্ব পাশে একটি সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে থাকা পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহটি নিখোঁজ মফিদুল ইসলামের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ মিয়া জানিয়েছেন—৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয় বলে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
এরপর মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহতের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক যাচাই করা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ থানার এ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি (জিপি) এ্যাড. অসীম কুমার মন্ডল ও তার বিলাসবহুল অট্টালিকা। ছবিঃ নওরোজ॥
সাতক্ষীরায় সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি.) অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ ক্যাডার এবং পরবর্তীতে নাম লেখান খুলনা মহানগর আ'লীগের সদস্য ফরমেও, তবুও এখনো সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কিভাবে সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে উপরি মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অনেকেই। এমন একটি অভিযোগের কপি নওরোজ এর হাতে পৌঁছে।
অভিযোগে দেখা যায়, তিনি রাজনৈতিক পদ পদবী গোপন করে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ করে পকেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বর্তমানে তার রাজনৈতিক পরিচয় ফাঁস হওয়ায় তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান অভিযোগে।
লিখিত অভিযোগে আরোও উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল অতীতে ছাত্রলীগ এবং গত ০৮ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১১ সালেও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য ফরম পূরণ করেন।
একজন ফ্যাসিস্টের দোসর ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এখনো কিভাবে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় সেই অভিযোগে।
এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে নওরোজ প্রতিনিধি পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ড মুন্সীপাড়ায় এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কৌঁসুলি হওয়ার পর ৪ তলা বিশিষ্ট বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন।
বাড়ীতে আশ্রয় দিতে দেখা গেছে আশাশুনি উপজেলার আ'লীগ নেতা ও বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তার পালাতক পরিবারের সদস্যদেরকেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে এমনকি গ্রামেও তিনি ইতিমধ্যেই ক্রয় করেছেন প্রায় (২৫-৩০) বিঘা জমি। তার এই হঠাৎ উত্থান নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী সহ সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গণে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কিছু হাইব্রিড বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে সাতক্ষীরা জেলার সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর অসীম কুমার মণ্ডল সরকারের পক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন মামলায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে পারেননি বরং রাষ্ট্রকে ঠকিয়ে নিজের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এমনকি সরকারি মামলায় আপস বা সোলে ডিক্রির কারণে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন একাধিক নিরপেক্ষ আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আকবর আলী জানান, অসীম কুমার মন্ডল একজন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং তার তেমন কোন সহায় সম্পত্তি কিছুই ছিল না বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এই টাকার রহস্য উন্মোচন করা সহ তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য উর্দ্ধতন নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নূরুল আমিন মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়টি ১০০% সত্য বলে স্বীকার করেন এবং তাঁর নিয়োগের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের অতীত, সরকারি মামলায় তাঁর ভূমিকা এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলার ফলাফল সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্তব্যরত কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কে তার ব্যবহৃত মোবাইল +৮৮০ ১৭১২-৬৪৯১৮২ নাম্বারে ০৬:০৫ মিনিটে কল করলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সকল তথ্য প্রমাণ সহ অডিও এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী পর্বে তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা হবে।
চলবে....
আটোয়ারী উপজেলা বিএনপি নেতা মতিয়ার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে দেখতে ইবনে সিনা হাসপাতালে ছুটে যান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
হাসপাতালে গিয়ে তিনি মতিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অসুস্থ মতিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে।