• প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহল দখলের চেষ্টা, বৈধ ইজারাদারদের মাছ আহরণে বাধা, চাঁদা দাবি, মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জলমহলের ইজারাদার, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা জলমহল নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


মানববন্ধনে ইজারাদার ও মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকায় পাঁচকাহনীয়া জলমহলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। মাছ চাষ ও আহরণের জন্য সেখানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।


ইজারাদার মো. ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, জলমহল ইজারা পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন তাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে জলমহল ছেড়ে দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বড়িবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন ও বিএনপি নেতা সামিউল হাসান রাব্বী অভিযোগ করেন, বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও জলমহলে জেলেদের নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইজারাদারদের লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জলমহলে থাকা একটি নৌকা ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তারা।


তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জলমহলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।


ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর শেখ বলেন, জলমহলে পাহারারত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


অভিযোগ অস্বীকার আমিনুল ইসলাম রতনের


তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন। তিনি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর কিংবা নৌকা ছিনতাইয়ের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।


আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো একটি অভিযোগও প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


ইজারাদারদের সংগঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, তিনি কোনো আইন বা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি; স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনি এ বিষয়ে অবস্থান নিয়েছেন।


প্রশাসন বলছে তদন্ত করে ব্যবস্থা


ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই বৈধ ইজারাদারকে জলমহল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা জলমহলে কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে, জলমহল দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবিসহ অভিযোগগুলোর বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


জলমহল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




পলাতক ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে বাদশা

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

আদালতে হাজিরা শেষে হাজতিদের নিয়ে কারাগারের পথে ফিরছিল পুলিশ। গন্তব্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১। পথে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে হঠাৎ বাথরুমে যাওয়ার কথা জানান এক হাজতি। পুলিশ তাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পলাতক ওই হাজতির নাম রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে বাদশা (৩০)। এ ঘটনার পর তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কারাগারের উদ্দেশে ফেরার পথে গাড়িটি কোনাবাড়ির বাইমাইল এলাকার নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে পৌঁছালে বাথরুমে যাওয়ার কথা জানান রাজা। পরে তাকে বাথরুমে নেওয়া হয়। সেই সুযোগটিই কাজে লাগান তিনি। পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন রাজা। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শুরু হয় তাকে খোঁজার তোড়জোড়।


পলাতক রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্লক-এ, ১১৭ নম্বর বাসার মোতালেবের ছেলে। ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে ‘বাদশা’ নামেও পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। 


এ ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন। 


কারা সূত্র জানায়, আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে ওই হাজতি পালিয়ে গেছেন। তাকে আবারও গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম জোরালো অভিযান চালাচ্ছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ এএম

নাটোরের লালপুর উপজেলাটি এখন দেশজুড়ে ইমো, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংসহ অনলাইন প্রতারণার এক নীরব ও ভয়ঙ্কর ট্রেন্ডিং জোনে পরিণত হয়েছে। পড়াশোনার প্রাথমিকের গণ্ডিও না পেরোনো শত শত তরুণ ও যুবক এখন এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত হয়ে রাজকীয় জীবনযাপন। 


সরজমিনে জানা গেছে, এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত তরুণদের সিংহভাগেরই দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। কিন্তু তাদের লাইফস্টাইল দেখলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। গ্রামের মেঠোপথের ধারে তারা তৈরি করেছেন আধুনিক স্থাপত্যের চোখ ধাঁধানো আলিশান বাড়ি আর প্রশাসনের ওপর নজরদারি রাখতে এসব বাড়ির বিভিন্ন সাইটে বসানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা।


শুধু তাই নয়, এই তরুণদের প্রায় সবার কাছেই রয়েছে নামী ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও স্টাইলিশ পোশাক জুতা। কোনো পরিশ্রম ছাড়া, রাতারাতি ধনী হওয়ার এই অন্ধ জগতের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের একটা বড় অংশ। আর তাদের এই রাজকীয় জীবনযাপনের পেছনের বিপুল অর্থের জোগান আসছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে থাকা লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রক্ত পানি করা রেমিট্যান্সের টাকা থেকে। প্রবাসীদের টাকাতেই মূলত গড়ে উঠছে হ্যাকারদের এই বিলাসবহুল অট্টালিকা।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাতারাতি ধনী হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে ইতিবাচক কাজে না লাগিয়ে অপরাধে রূপ দেওয়ার মানসিকতাই এর জন্য দায়ী। অল্প বয়সে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে যাওয়ার কারণে এই হ্যাকারদের অনেকেই মাদক কারবার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা হয় একজন অনলাইন প্রতারকের (ইমো হ্যাকার) সঙ্গে। তিনি জানান, এই ডিজিটাল অপরাধী চক্রের মূল টার্গেট প্রবাসীরা। তারা মূলত কয়েকটি ধাপে এই প্রতারণা চালায়। চক্রের তরুণ সদস্যরা সুন্দর কোনো মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক বা ইমো অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর টার্গেট করা প্রবাসীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শুরু হয় মিষ্টি আলাপ ও প্রেমের অভিনয়। গভীর সম্পর্কের একপর্যায়ে ভিডিও কলে কথা বলার লোভ দেখিয়ে কিংবা কোনো অ্যাপ ইন্সটল করার অজুহাতে কৌশলে প্রবাসীর মোবাইলে একটি কোড পাঠানো হয়।


ইমো অ্যাকাউন্ট সচল করার সেই ওটিপি কোডটি প্রবাসীর কাছ থেকে কৌশলে জেনে নিলেই তার ইমো অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে। এরপর শুরু হয় তাদের অর্থ হাতানো প্রবাসীর ইমো আইডি হ্যাক করার পর হ্যাকাররা তার বাংলাদেশে থাকা মা, বাবা, স্ত্রী বা ভাইয়ের আইডিতে মেসেজ পাঠায়।


প্রবাসীর কণ্ঠ বা বাচনভঙ্গি নকল করে তারা বলে— ‘আমি খুব বিপদে পড়েছি, পুলিশ ধরেছে’ কিংবা ‘হাসপাতালে আছি, জরুরি অপারেশন লাগবে, এখনই এই বিকাশ নম্বরে টাকা দাও।’ দেশের মাটিতে থাকা স্বজনরা প্রবাসীর বিপদের কথা শুনে মুহূর্তের মধ্যে হ্যাকারদের দেওয়া বিকাশ বা নগদ নাম্বারে হাজার হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।


বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম বলেন লালপুর উপজেলার লালপুর সদর, বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া, পার্শ্ববর্তী বাঘা উপজেলার বেশ কিছু এলাকা এসব প্রতারকদের ভয়ঙ্কর ট্রেন্ডিং জোনে পরিণত হয়েছে।


দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের লালন আলী বলেন, এই প্রতারকদের সিংহভাগ মাদকাসক্ত, এবং এদের কেন্দ্র করে এই এলাকাগুলোতে গড়ে উঠছে মাদক ক্রয় বিক্রয়সহ বিভিন্ন অসামাজিক অপরাধের সিন্ডিকেট।


উপজেলা নওপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব ছেলেদের বাবা কৃষিকাজ বা দিনমজুরি না দিলে এক বেলা ভাত জুটত না সেসব ছেলেদের এখন রাজকীয় বাড়ি গাড়ি খাওয়া দাওয়া এবং চলাফেরা দেখলে চোখ কপালে ওঠার মতো।


তবে একাধিক এলাকাবাসী বলেছেন, বর্তমান ওসি আসার পর তাদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছে। তাদের কাছে ওসি এখন আতংক।


লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে লালপুর থানা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত প্রায় ৫০টি অভিযান চালিয়ে ৭৬ জন হ্যাকার ও প্রতারককে গ্রেফতার করেছে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ডজন ডজন ভুয়া বা বেনামি সিম কার্ড এবং অপরাধে ব্যবহৃত আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোন।


তিনি আরও বলেন, কেবল পুলিশি অভিযান দিয়ে এই সাইবার অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। বিশেষ করে প্রবাসীদের ইমো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অজানা লিংকে ক্লিক না করা এবং ওটিপি কোড বা পাসওয়ার্ড কারো সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।


কক্সবাজারের উখিয়ায় বন বিভাগ অভিযান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে আরো ৩০ একর জমি উদ্ধার করেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে উখিয়ার রাজাপালং মধুরছড়ায় একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিভিন্ন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান দায়িত্ব গ্রহনের ২৭ দিনের মাথায় একাধিক উল্লেখযোগ্য অভিযান চালিয়ে শতাধিক একর বনভূমি দখল মুক্ত করেছেন। ইতিপূর্বে দখল মুক্ত বনভূমিতে গাছের চারা রোপন করেছেন।


আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযানে একাধিক বিটের অর্ধশতাধিক বনকর্মী অংশ গ্রহন করেন। এতে বিএনপির নেতা কর্মীরা এতে সহযোগিতা করেছেন। 




রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন বিটের বিট কর্মকর্তা,স্টাফ,ই আর টি দলের সদস্য সহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।  অভিযানে ৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আনুমানিক ৩০ একর বনভূমি জবরদখল মুক্ত করা হয়। কথিত হেডম‍্যন ইব্রাহীম ও তাঁর ভাই ওমর ফারুকের  অবৈধভাবে গড়ে উঠা বনভূমি জবর দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে নানা ভাবে বাঁধার সম্মুখীন হলে স্থানীয় ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতা কর্মীরা বনবিভাগের পাশে থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম সহজভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 


তিনি আরো বলেন, জবরদখলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


প্রেসক্লাবের ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

নাটোরের লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা ও কেক কাটা হয়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ সালাহ্ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী।


কেক কেটে প্রেসক্লাবের ১৬ বছরে পদার্পণ করা হয়। পরে নাটোরের বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক মানবজমিন ও বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি ইসহাক আলীর রোগ মুক্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল মোতালেব রায়হান, সাধারণ সম্পাদক ফারহানুর রহমান রবিন, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল রহমান পলাশ, দপ্তর সম্পাদক সাব্বির আহমেদ মিঠু, অর্থ সম্পাদক জামিলুর রহমান, আসিরুল ইসলাম, শোভন আমিন প্রমুখ।


মিথ্যা মামলা করায় বাদিকে কারাগারে প্রেরণ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে মিথ্যা মামলা করায় বাদিকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আদালতে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করায় ঠাকুরগাঁও-এর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আব্দুল হামিদ মোছা. লাবলী আক্তার নামে এক মহিলাকে অদ্য জেল হাজতে প্রেরণ করেন। 


জানা যায়, মোছা. লাবলী আক্তার (২৮), স্বামী: মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা), থানা: বালিয়াডাঙ্গী, মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২), পিতা: মো. আফতাব রহমান, গ্রাম: উত্তর পাড়িয়া (নিটালডোবা), উভয়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যা নারী ও শিশু মামলা নম্বর: ৯৩/২০২৫ হিসেবে রেকর্ড হয়। ঐ মামলার বাদি মোছা. লাবলী আক্তার অভিযোগ করেন যে, বিগত ১৪/০৩/২০২৫ ইং তারিখ আসামি মো. সাদ্দাম হোসেন তাকে নুরুল ইসলামের ভূট্টা ক্ষেতে একাকি পেয়ে তাকে জোরপূর্ব ধর্ষণ করেন। উক্ত মামলায় বালিয়াডাঙ্গী থানা তদন্ত করে অভিযোগটি মিথ্যা মর্মে রিপোর্ট দেন এবং রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, বাদিনী পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে সামাজিভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও আর্থিকভাবে ক্ষতি সাধরেন উদ্দেশ্যে ধর্ষণের মিথ্যা ঘটনা সাজাইয়া অত্র মামলাটি আনায়ন করেন। 


পরবর্তীতে বাদি মোছা. লাবলী আক্তার উক্ত তদন্ত রিপোর্টের অসম্মতিতে নারাজি দরখাস্ত আনায়ন করলে মামলাটি তদন্তের জন্য বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল পিবিআই, ঠাকুরগাঁওকে অধিতর তদন্তের আদেশ দেন। তৎপ্রেক্ষিতে পিবিআই তদন্ত করে বাদিনীর আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলিয়া রিপোর্টে উল্লেখ করেন। 


বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করে আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে মোছা. লাবলী আক্তারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৭(১) ধারায় অপরাধ আমলে নেন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন। মোছা. লাবলী আক্তার অদ্য আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

চারপাশে বাঁশের খুঁটি পুঁতে রঙিন পর্দা দিয়ে ঘেরা, প্রথমে দেখে মনে হবে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে চলছে রেলের জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে চলছে এ নির্মাণ কাজ।  


সরেজমিনে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ভাদুলিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রেলওয়ের জমিতে বাঁশের খুঁটি ও রঙিন কাপড় দিয়ে পুরোপুরি ঘিরে রাখা হয়েছে। পর্দার ভেতরে রয়েছে ইট, বালু, নির্মাণসামগ্রীসহ ভবন নির্মাণের বিভিন্ন উপকরণ। শ্রমিকরা নির্মাণ কাজ করছেন। 


সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘিরে রাখা পর্দা অপসারণ এবং নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। 


স্থানীয়রা জানান, গ্লোরিয়া বিশ্বাস মঞ্জু নামে এক প্রভাবশালী নারী এভাবে পর্দা দিয়ে আড়াল করে পাকা ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ জমিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে। 


অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের অনুমোদন, লিজের বৈধ কাগজপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি এ জমিতে নির্মাণকাজ চলছে। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারি ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।


অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চাপ্তা, ঘোনাপাড়া ও ভাদুলিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের মূল্যবান জমি বেদখল হয়ে আসছে। কোথাও নামমাত্র লিজের অজুহাতে, আবার কোথাও লিজের মেয়াদ ও শর্তকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ দখলদারি। 


অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের মাঠপর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় বেহাত হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। ফলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় রেলওয়ের মাঠপর্যায়ের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকারি জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত নিয়ম মানা প্রয়োজন। কিন্তু এখানে পর্দা দিয়ে জায়গাটি আড়াল করে কাজ করায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জমির মালিকানা, লিজের কাগজপত্র এবং নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। 


সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, জমির রেকর্ড ও লিজসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, রেলের জমি লিজ বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। লিজের শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ কিংবা নির্ধারিত এলাকার বাইরে জমি ব্যবহার করা হলে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


রেলের জমিতে ভবন নির্মাণ বিষয় গ্লোরিয়া বিশ্বাস মঞ্জুর সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার মালিকানা জমিতে ভবন নির্মাণ করছি।


সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, রেলের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতেছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসতে বলেছি এবং জমি পরিমাপ করা হবে।


এ বিষয় বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।