ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক সংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে পনের বছর বয়সি এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার হয়। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলের আশেপাশের ক্ষেতজুড়ে যেন ধস্তাধস্তির চিহ্ন। চার-পাচটি ক্ষেতে উঠতি ধানের চারাগুলোকে এমনভাবে মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যেন কেউ বা কারা এর উপর দিয়ে ছোটাছুটি করেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, ঘাতকের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ওই কিশোরী ক্ষেত জুড়ে ছোটাছুটি করেছে। বিধ্বস্ত ক্ষেতে যেন ফুটে উঠেছে কিশোরীর প্রাণে বাঁচার শেষ লড়াইটুকু।
জগৎপুর গ্রামের ওই সড়কের যেখান থেকে কিশোরীর লাশ পাওয়া যায় সেখান থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার পাশেই ধানক্ষেত থেকে জব্দ করা হয় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও। উদ্ধার করা হয় একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, বাসের টিকেট। এছাড়া উদ্ধার হওয়ার জামার দেখেই কিশোরীকে সনাক্ত করেন তার বাবা।
বৃহস্পতিবার বিকালে ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, “সকালবেলা ধানক্ষেত দেখে মনে হয়েছে সেখানে কেউ ধস্তাধস্তি করেছে। আমরা এসে দেখলাম মেয়েটার মাথা ও শরীরটা কাদার নিচে ছিল। শুধু পিঠটুকু দেখা গেছে। মুরুব্বিরা ধরতে নিষেধ করেছে তাই আমরা কাছে যাইনি। একটু দূরেই সিএনজিটা পড়েছিল।”
ভোরবেলা যখন লাশ উদ্ধার হয় তখন সেখানে ছিলেন একই এলাকার মো. হাসান। তিনি বলেন, “এসে দেখি যে সিএনজিটা উল্টে আছে রাস্তার পাশে। তারপর আমরা কয়েকজন এটাকে উঠাই। ঘণ্টা খানেকপর আমরা বুঝতে পারলাম পাশের ক্ষেতে একটি মেয়ে পড়ে আছে।
“এরপর আমরা ৯৯৯ কল দেই। এরপর পুলিশ আসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। মেয়েটির গলায় দড়ির মত কিছু দিয়ে বাধা ছিল। আর তার শরীরটা উপুড় করা ছিল। ”
লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বলেন, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেচানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ওসি।
লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিলেন বাবাকে
ওই কিশোরী কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। যদিও তিনি ক্লাসে অনিয়মিত ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোরে হলেও বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা শহরেই থাকতেন।
কিশোরীর বাবা বলেন, তার মেয়ে রোববার কুমিল্লা শহরেই তার বান্ধবীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সময় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবী বাসাতেই আছে বলে জানিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মেসেজ এবং লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে সে জানায় তাকে এসে নিয়ে যাবার জন্য।
তবে তখন তিনি ঘুমন্ত থাকায় মেসেজটি দেখতে পাননি। পরে ভোরবেলা যখন মেসেজ দেখেন, তখন লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পান।
তবে সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, পরিবার জানিয়েছে শহরে বান্ধবীর বাসায় যাবার কথা বলে ওই কিশোরী বের হয়। কিন্তু পুলিশের তদন্তে এসেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়, পরদিন কুমিল্লা ফেরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়।
পরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর থেকে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
সর্বশেষ দেখা যায় নুরজাহান হোটেলের সামনে
এদিকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক বারোটায় ঢাকামুখী একটি বাস থেকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার নুরজাহান হোটেলের সামনে নামেন ওই কিশোরী।
এ সময় তার পরনে একটি গোলাপি রঙের জামা ছিল। কাঁধের একপাশে ব্যাগ ঝুলানো অবস্থায় দেখা যায় তাকে। বাস থেকে নেমে তিনি হোটেলের পশ্চিম পাশের স্টেশনারি দোকানগুলোর দিকে যান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের সামনের একটি দোকানে গিয়ে হাত থেকে কোনো একটি জিনিস দোকানদারকে দেখিয়ে কিছু জানতে চান। পরে ওই দোকানদারকে অন্য দিকে নির্দেশ করতে দেখা যায়। পরে কিশোরী ওই দোকান থেকে সরে অন্য পাশে যান।
এর আধা ঘণ্টা পরের আরেক সিসিটিভির ভিডিওতে আনুমানিক সোয়া ১২টায় ওই কিশোরীকে নূরজাহান হোটেলের এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
এরপর তাকে দেখা গিয়েছে এমন কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি পুলিশ।
সদর দক্ষিণ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, যেহেতু কিশোরীর মরদেহের কিছুটা দূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে হোটেল নূরজাহানের সামনে থেকেই তিনি সিএনজি ভাড়া করে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও সিএনজি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া ময়নাতদন্তের পর কিশোরী লাশ দাফনের জন্য রাতে যশোর নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ঝাটিকা অভিযানে হানিট্রাম্প, মাদক, সন্ত্রাসী সহ সকল অপর্কমের মুল হোতা জাহেদুল ইসলাম ওরফে লাল ভাই (২৭) কে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান এর নেতৃত্বে সকল অফিসার ফোর্স এর ঐকান্তিক চেষ্টায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কালীকাপুর গ্রামের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আশা হয়। পরে তাকে ১৪৩/১৮৬/২২৪/৩৫৩/১১৪/১৮৯/৩০৭/৩৩২ এর ধারায় জিজ্ঞাসা বাদ শেষে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় আদালতের মাধ্যেমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, তাকে অনেকদিন থেকেই আমরা খুজতেছি পাচ্ছি না। আজকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। সে আটোয়ারীতে হানিট্রাম্প, মাদক, সন্ত্রাসী সহ সকল অপর্কমের মুল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। আমরা পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করি।
‘প্রোটিন, যা শক্তি জোগায় এবং সুরক্ষা করে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহনে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’—স্লোগানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোঃ হারুন অর রশীদ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান এন্টারপ্রাইজ ও খান মৎস্য খামারের মালিক বাহালুল কবির খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরোশ এন্টারপ্রাইজের খায়রুল হাসান কাঞ্চন, চেয়ারম্যান এগ্রো ফিশারিজ অ্যান্ড পোলট্রি খামারের মো. রাসেল, লালমোহন ডিম ঘরের মো. জসিম, উপজেলার বিভিন্ন খামারি এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের টেকনিশিয়ান ফয়জুল্লাহ, বিপ্লব কুমার দত্ত ও টিকাদানকারী এনায়েতসহ অনেকে।
আলোচনা সভায় ডিমের পুষ্টিগুণ, মানবদেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ এবং সুস্থ জীবনযাপনে ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ায় মীরগড় এলাকায় স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
বর্তমানে করতোয়া নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু দিয়ে দুই পাড়ের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়। বর্ষাকালে ও ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু নির্মাণ হলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কৃষকরা সহজে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারবেন। পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের দ্রুত উপজেলা ও জেলা সদরের হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমও সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাঠের সেতু দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের সময় অনেক সমস্যা হয়। নতুন সেতু নির্মাণের খবর আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। সেতুটি হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
আরেক সুবিধাভোগী আসিম উদ্দিন বলেন, “এই সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যাবে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পঞ্চগড় শহরে যাতায়াতও সহজ হবে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
প্রকল্প অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মীরগড় এলাকায় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী বলেন, “মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে এ সড়কে যানবাহন চলাচল ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।”
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আবারও তৎপর হচ্ছে জেলা প্রশাসন। টিকিটে থাকা নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এর আগেও দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে রেল স্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে টিকিট যাচাই শুরু করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই উদ্যোগ আর কার্যকর থাকেনি। তিনি সিলেট থেকে বদলি হওয়ার পর যাত্রীদের টিকিট যাচাই কার্যক্রম পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ফলে টিকিট দখলে নেয় দালাল ও কালোবাজারিরা।
সম্প্রতি টিকিট কালোবাজারি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে করা মামলাটির (সিআর মামলা ০১/২০২৬) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে। গত ১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছায়।
এ ঘটনায় ফের আলোচনায় আসে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ে নানা অসংগতি পায় জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নামের অমিলও ধরা পড়ে।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম না মিললে কোনো যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে টিকিট ও পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিট ও এনআইডির তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। নিয়মটি কার্যকর করার আগে যাত্রীদের তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর থেকে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি নিজেও পরিচয় যাচাই করবেন এবং স্টেশনে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন - প্রবাসীদের বিমানবন্দর সেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রলি হস্তান্তর করেন তিনি।
এসময় মন্ত্রী আরো বলেন -পৃথিবী যতদিন থাকবে, সমস্যা ততদিন থাকবে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত আট মাসে ধাপে ধাপে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ করছে। এছাড়াও সপ্তাহে একদিন প্রবাসীদের সমস্যার কথা শুনতে সিলেট-চট্টগ্রাম ডিসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, মালেশিয়া পাঠানোর নামে যে সব এজেন্সি প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এছাড়া প্রবাসী করিডোর- প্রবাসী ব্যাংকসহ নানা খাতের সেবা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ অনুষ্ঠানে ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর নির্মাণ করা হবে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু। নতুন এই সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সুরমা পাড়ে গিয়ে সেতুটির সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় কিন ব্রিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথা সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘কিন ব্রিজের সক্ষমতা বাড়াতে আমরা কাজ করব। পাশাপাশি সুরমা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই সেতু নির্মাণ হলে সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। পাশাপাশি কিন ব্রিজের উপর থেকে চাপ কমবে।’
তিনি আরও বলেন, নতুন সেতু নির্মাণ হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সিলেটের আকর্ষণ আরও বাড়বে। এর ফলে সিলেটের পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি দেশের কাছে সিলেটের সুনাম আরও উজ্জ্বল হবে।
এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার সকালে একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে আনের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সফরকালে তিনি সিলেটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।