'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদার উন্নয়নে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত শিক্ষক দিবস পালন করা হয়।
রনচন্ডী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আশরাফ উজ জামান সরকার।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরো বলেন, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত প্রশিক্ষণ নিঃসৃত করা প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ মর্যাদা না পেলে মেধাবীদের এই পেশায় ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের স্মরণ করেছেন।
শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা ও ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (Win Cerex সিরাপ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
তবে অভিযানে কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য ২১ হাজার ২৫০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩১৯/৩-এস থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পূর্ব বনগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টা ৪০ মিনিটে একই ব্যাটালিয়নের অধীন এনায়েতপুর বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩২৩/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দ্বীপনগর এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (Win Cerex সিরাপ) উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে ও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফরিদা সুলতানা
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে টাকা ধার ও কানের স্বর্ণের দুল দিতে রাজি না হওয়ায় ফরিদা সুলতানা (৬০) নামক এক বৃদ্ধাকে লোহার টর্চলাইট ও ধারালো চাক্কু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নিলা আক্তার গ্রেফতার হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফরিদা সুলতানার ছেলে মো. ইহতিয়াম মাহমুদ উত্তরা দিয়াবাড়ির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বৃদ্ধা ফরিদা সুলতানাকে বাড়িতে একা পেয়ে তার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই মো. ডালিমের স্ত্রী নিলা আক্তার ঘরে প্রবেশ করেন। ফরিদা সুলতানা কাছে টাকা ধার চান এবং কানের স্বর্ণের দুল দাবি করেন। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে নিলা আক্তার সঙ্গে থাকা একটি ভারী বিদেশি লোহার টর্চলাইট দিয়ে ফরিদা সুলতানার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
তার চিৎকার ও আর্তনাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে মো. ইহতিয়াম মাহমুদ বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ দ্রুত মামলাটি নথিভুক্ত করে। আজ বুধবার মামলার আসামি নিলা আক্তার মুন্সিগঞ্জ আদালতে হাজির হতে গেলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ নির্দেশ দেন।
বাঞ্ছারামপুলে পথচারী চলাচল ও ড্রেন পরিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন, ফের পৌর অভিযান দাবী। দিনাজপুর শহরের যানজট নিরসন, পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত এবং পৌরসভার ড্রেনগুলো সচল রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে দিনাজপুর পৌরসভা।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পরও শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাঞ্ছারামপুল এলাকায় পৌরসভার ড্রেন ও সড়কসংলগ্ন জায়গা দখল করে থাকা কিছু স্থাপনা ও অতিরিক্ত ছাউনিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইন কলেজ মোড় থেকে মধ্য বালুবাড়ী হয়ে বাঞ্ছারামপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সম্প্রতি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা চা, পান, বড়া, পিয়াজু, পুরিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অনেক নিম্নআয়ের মানুষের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। কিন্তু একই অভিযানের পর বাঞ্ছারামপুলের পূর্ব পাশে সড়কের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেনের ওপর নির্মিত স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক আদি মুন্সী হোটেলসংলগ্ন এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টের বারান্দা পৌরসভার ড্রেনের ওপর নির্মিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আহার কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্ট-এর ড্রেনের ওপর নির্মিত বারান্দার বাইরে আরও প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট অতিরিক্ত ছাউনী পৌরসভার জায়গার দিকে সম্প্রসারিত হয়েছে।
পাশাপাশি ওই স্থানে গাছের টপ, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন কাঠামো স্থাপনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের সময় ওই রেস্টুরেন্টের পৌরসভার জায়গার ওপর থাকা ফুলের টপ ও সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হলেও ড্রেনের ওপর নির্মিত বারান্দা ও অতিরিক্ত ছাউনীর বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত অংশ সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও যদি অতিরিক্ত স্থাপনা থেকে থাকে, তাহলে সেটি পুনরায় সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন তারা।
ড্রেনের ওপর স্থাপনা, পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
শহরের ড্রেনগুলো শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্য নয়, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ড্রেনের ওপর স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী বারান্দা, ছাউনী, কাঠামো কিংবা দোকানের অংশবিশেষ নির্মাণ করা হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পক্ষে ড্রেনে প্রবেশ করে ময়লা- আবর্জনা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে ড্রেনের ভেতরে ময়লা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় একাধিক পথচারীর প্রশ্ন- যে জায়গা দিয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ড্রেন পরিষ্কার করার কথা, সেখানে যদি দোকানের স্থাপনা ও অতিরিক্ত ছাউনি থাকে, তাহলে পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
গরিবের দোকান উচ্ছেদ হলে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চান নাগরিকরা, এলাকাবাসীর একটি অংশ বলছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবৈধ স্থাপনা যদি জনস্বার্থে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে একই নিয়মে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেন ও পৌরসভার জায়গা দখল করে থাকা অতিরিক্ত স্থাপনাও যাচাই করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নয়; বরং আইনের সমান প্রয়োগ এবং জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়।
আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে ধনী-গরিব, ছোট দোকান কিংবা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- কারও ক্ষেত্রেই পৌরসভার ড্রেন, ফুটপাত বা সরকারী/পৌর জায়গা দখলের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। পৌরসভার কাছে সরেজমিন তদন্তের দাবী, স্থানীয়দের দাবী, দিনাজপুর পৌরসভা চাইলে বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়ক, ড্রেন ও পৌরসভার জায়গার সীমানা নির্ধারণ করতে পারে। কোনো স্থাপনা অনুমোদিত হলে তার বৈধতা এবং অনুমোদনের সীমা যাচাই করা যেতে পারে। আর অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত অংশ থাকলে তা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এতে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত হবে, অন্যদিকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে ড্রেন পরিষ্কার করতে পারবেন। প্রশ্ন একটাই- অভিযান কি সবার জন্য সমান হবে? সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হলেও একই এলাকার বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেনসংলগ্ন স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি এখন পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া জরুরী। কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা বা বৈধ অনুমতির আওতায় স্থাপনা নির্মাণ করে থাকলে সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, দিনাজপুর পৌরসভা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য না করে সরেজমিনে তদন্ত করবে এবং পৌরসভার ড্রেন, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তাদের প্রত্যাশা-শুধু একবারের উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে শহরের ড্রেন ও সড়কপাশের পৌর জায়গা দখলমুক্ত রাখা হবে। তাহলেই গরিব-ধনী নির্বিশেষে সবার জন্য একই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন তিনি। ১৮৭১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেটের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রাখতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
ডিও লেটারে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিলেট সদর, ওসমানীনগর, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট, বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার এসব প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হলে এলাকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা বৈষম্য দূর হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক মান আরও উন্নত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
জাতীয়করণের তালিকায় থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠান হলো-বিয়ানীবাজারের লাউতা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, একই উপজেলার জমশেদ আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, জকিগঞ্জের গুরুসদয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট নগরীর রাজা গিরিশচন্দ্র মাধ্যমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ওসমানীনগরের শরৎ সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়, নগরীর কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং দক্ষিণ সুরমার রাখালগঞ্জ কৈলাশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ সুরমার লালবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, বিয়ানীবাজারের দুবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কানাইঘাটের দুর্গাপুর হাইস্কুল ও কলেজ, গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সিলেট নগরীর দি এইডেড হাই স্কুল, বিশ্বনাথের একলিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ সুরমার সিলাম পদ্মলোচন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আঞ্চলিক অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তালিকাভুক্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের লক্ষ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যায় ভারত, আওয়ামী লীগ এবং জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের নামে প্রহসন ও তদন্ত বারবার পেছানোর প্রতিবাদে এবং দ্রুততম সময়ে এই বিচার কার্য সম্পাদনের দাবি সহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই হত্যায় ও হাদি হত্যায় জড়িতদের ডিসেম্বরের মধ্যে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শাপলা ট্রাজেডি ও পিলখানা হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের দাবি, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। মার্চ ফর ইনসাফ-এর মাধ্যমে তারা এসব দাবির প্রতি জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে, বুধবার দুপুরে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছে শহীদ আবরার, শহীদ ওসমান হাদী সহ জুলাই আন্দোলনে নিহতদের জন্য দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
পরে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণ রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে অবস্থান করা খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহবায়ক আব্দুল্লাহ বিন জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে ২১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হবে। এর মাঝে বিভিন্ন বাজারে দাবি সম্মিলিত লিফলেট বিতরণ করবে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে শারমিন আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে রমিক চন্দ্র সিংহ (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও শারমিনের সন্ধান মেলেনি। এদিকে আসামিদের ভারতে যাতায়াতের অভিযোগ থাকায় মেয়েকে সীমান্ত পার করে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পরিবার।
শারমিন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পাড়িয়া ইউনিয়নের বামুনিয়া গ্রামের পশিরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি লাহিড়ী ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মোবাইল ফোনে শারমিনকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন প্রতিবেশী রমিক চন্দ্র সিংহ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার দুই দিন পর শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বাদী হয়ে রমিক চন্দ্র সিংহ, তার বাবা গ্রাম পুলিশ সুমন্ত চন্দ্র সিংহসহ পাঁচজনকে আসামি করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় অপহরণ মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার পরও শারমিনকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন শারমিনের মা। স্বজনরা জানান, তিনি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করছেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
শারমিনের বাবা পশিরুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে যে কোনো মূল্যে ফেরত চাচ্ছি।
স্বজনদের দাবি, মামলার কয়েকজন আসামির ভারতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও শারমিনের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাকে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ ঘটনায় মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িটির দেখাশোনা করছেন বৈশ্বানী রানী। তিনি বলেন, মেয়ে ধরে রমিক পালাইছে। এরপর থেকে ওর বাবাও নাই। মুই বাড়ি পাহারা দিছু।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, পরিবার কিছুটা দেরিতে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।