বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকা এবং দলটি নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে নেই তাদের প্রার্থী ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।
এতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা-১ আসনে তৈরি হয়েছে ভোট দখলের লড়াই। তবে এই লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে মাঠে সক্রিয় বিএনপি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মূল প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের বিপুল ভোটব্যাংক কার দখলে যাবে? বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।
পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১১ জন। বরগুনা সদর ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন।
আমতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৪৮।
তালতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ২০। তিন উপজেলার এই বিশাল ভোটারদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পালটে জল গড়িয়েছে অনেক দূর।
শীর্ষ নেতারা পলাতক, কেউবা রয়েছেন জেলে। মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের রাজনীতিতে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই৷
তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও ভোটারদের বেশিরভাগই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দলটির অনুপস্থিতিতে এই কর্মী-সমর্থকদের ভোটগুলো কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবার একমুখী হবে না। মধ্যপন্থী ভোটের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। আবার ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে একটি অংশ ইসলামী আন্দোলনের দিকে যেতে পারে।
একই সঙ্গে একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোটের হিসেব পালটে যেতে পারে। বিএনপি এই আসনকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।
দলটি ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়েছে। বেগম জিয়ার মৃত্যু, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণদায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য বলে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ‘এনপিবি’-কে বলেন, “রাজনীতির মাঠে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আমি জনগণের পাশে ছিলাম। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি দলকে এই আসনটি উপহার দিতে চাই। বরগুনাকে উন্নয়নে এগিয়ে নিতে চাই।
অন্যায়, অত্যাচার ও লুটপাটের রাজনীতি বরগুনা থেকে চিরতরে নির্মূল করতে চাই। সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্ম আমার প্রতি আস্থা রেখে, ইনশাল্লাহ ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।"
অপরদিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলে ধর্মপ্রাণসহ সকল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়ভাবে চরমোনাই নেতারা আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বড় অংশ তাদের দিকে যাবে।
এরইমধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট রাজনীতির বাইরে থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে মাঠে রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় মাহফিলকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা ধারাবাহিকভাবে ভোটার সংযোগ বাড়িয়েছে।
তরুণ ও কওমি ধারা, সনাতন ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।
সেক্ষেত্রে চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন কি আওয়ামীপন্থী ভোটারের একটা অংশ এরই মধ্যে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ‘এনপিবি’ কে বলেন, "আমরা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে কোনো দলের সংঘাত নাই, তাই আওয়ামী লীগের ভোটও আমরা পাবো বলে বিশ্বাস করি।
বিগত দিনে ভোটের স্বাধীনতা থেকে বার বার আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমি বিজয়ী হবো।”
বরগুনা-১ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ভোটব্যাংক দখলের প্রতিযোগিতা।
প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে কারা এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর। উপকূলীয় এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা(ধানের শীষ প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ(হাতপাখা প্রতীক), খিলাফাত মজলিস থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন(ঘড়ি প্রতীক) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মোঃ জামাল হোসাইন (বাই সাইকেল প্রতীক)।
এদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ।
এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন। পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ জন। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় গত ১২ অক্টোবর হতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি দেয় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সকাল থেকে কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি সড়কগুলোতে।
সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা।
এদিকে অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। পরিবহন সংকটে জুমের উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে পারছেন না জুমচাষীরা।
স্থানীয়রা বলছেন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে সাজেকে খাদ্যসংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধ ঘিরে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে দুটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে সাজেক ইউনিয়নে এ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে চলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। অবরোধে সাজেকে আটকা পড়ে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটক ফিরিয়ে আনতে গেলে সাজেকের ওজোবাজার আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর পর্যটকবাহী নিরাপত্তা স্কটটি ছেড়ে দেয়া হয় এবং সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়।
এরপর বুধবার আবার দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডাকা হয়। পরে পর্যটক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
এদিকে, পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক কর্মচারীরা।
সীমান্তের কাছাকাছি ৬৪ মণ্ডপ, বিসর্জন পর্যন্ত থাকবে টহল তৎপরতা। শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজাকে কেন্দ্র করে দুই জেলার সীমান্ত এলাকায় মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। এর মধ্যে ৬৪টি মণ্ডপ আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব কাছাকাছি অবস্থিত। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাটালিয়নের দায়ীত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।
এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি, দিনাজপুরের বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বিজিবি জানায়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন এই উৎসব। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিজিবির টহল দল সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়ীত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ তৎপরতা অব্যাহত ও জোরদার থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও বিজিবির সদস্যরা।
এর মাধ্যমে পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সহযোগীতার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করাও বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধীকার।
বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সীমান্ত বা পূজামণ্ডপ এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি কিংবা তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে। স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগীতাকে নিরাপত্তা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে বাহিনী।
উল্লেখ্য, এ বছর ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন'এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার(১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৩০ জন অংশ নেন। এ সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে ১৪টি স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ রফিকুল হক। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু তাহের। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর রহমান, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়সাল আহমদ এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট চিকিৎসক আল মানসুর। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৫ সালে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'আশা'। চলতি বছর এই খাতে ১৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রংপুরে এনজিও ফোরামের সভাকক্ষে আশার বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি আশার শিক্ষা, শিক্ষা বৃত্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিওথেরাপি, স্যানিটেশন এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
এসময় জানানো হয়, আশা রংপুর বিভাগের ৪৩৫টি ব্রাঞ্চের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৬ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণ বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি রংপুর বিভাগে ১০৭টি ব্রাঞ্চে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এক হাজার ২২টি শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৯৩৯ জন।
এছাড়া, ৩টি ব্রাঞ্চে সমন্বিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে গত অর্থ বছরে মোট ৩ লাখ তিন হাজার ৩৩৪ জনকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, রংপুর, নীলফামারী এবং ঠাকুরগাঁও সদরে অবস্থিত ৩টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ২২ হাজার ২১৩ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তিন হাজার ২০০টি কম্বল হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া স্যানিটেশন উদ্যোক্তা ও ব্যবহারকারীদের মাঝে ঋণ বিতরণ এবং গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় 'হোপ ফর দি পুওরেস্ট (এইচপি)' প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সদস্য কল্যাণ কার্যক্রমে আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৩২৬ জন সদস্যকে অবসর সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪৯ লাখ টাকা প্রদান। এক হাজার ৭০৫ জন সদস্যের মৃত্যুতে এককালীন ৮৫ লাখ টাকা অনুদান। দুই হাজার ২৮১ জন মৃত সদস্যের ১০ দশমিক ৬০ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ মওকুফ করা হয়।
এছাড়া তিন হাজার ৪৮২ জন অভিভাবকের মৃত্যুতে ১২ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ, ৬৪ জন কর্মক্ষমতা হারানো সদস্য ও অভিভাবকের ২৪ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ। তিন হাজার ৮৭৫ জন সদস্যকে ৮৮ দশমিক ২২ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আশার এসব কর্মসূচি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসাদ্দেকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশার রংপুর ডিভিশনাল ম্যানেজার এস. এম. বেলাল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলার সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হারুনার রশীদ সেখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আশার এই সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে আগামীতে এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’—এই প্রতিপাদ্যে রংপুরে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উদ্যাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। রংপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারেন। রংপুরের মতো জনপদ থেকেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, ইতোমধ্যে সরকার প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ‘শ্রুতিলেখক’সহ বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ চালু রয়েছে। রংপুর জেলার প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তাদেরকে সমাজের মূল স্রোত ধারায় নিয়ে আসার পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক প্রতিবন্ধীদের সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও অনুদান যেন প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেজন্য ভুয়া তথ্য পরিহার করে সঠিক তথ্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যাচারের সুযোগ নেই। সত্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করা হলে প্রতিবন্ধী শিশুরা সরকারি সহায়তার প্রকৃত সুফল পাবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবহেলা ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে সমাজের মূল স্রোতধারায় যুক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও তাদের সামগ্রিক সম্ভাবনার বিকাশে সঠিক তথ্য প্রকাশে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুসরাত ফাতেমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ড. রাকিবুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নুর আলম, প্রতিবন্ধী সঙ্গীতাঙ্গনের পরিচালক শংকর বাবু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী শিশু-অভিভাবক, শিক্ষবৃন্দ, এনজিও সংগঠনের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভার পূর্বে দিবসটি উপলক্ষ্যে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশু রায়হান নিখোঁজ হয়েছে। (১৫ অক্টোবর) বৃস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শিশুর মা রুমা বেগম জানান, সকালে শিশু রায়হানকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে তিনি গৃহস্থালির কাজে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কুকুরের ডাক শুনে ঘরে ফিরে আসেন। এ সময় ঘরে গিয়ে তিনি শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি।
এরপর থেকে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কীভাবে শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে শিশুটির বাবা মো. রাসেল খান জানান, আমি বাচ্চাটর সাথে ঘুমানো ছিলাম হঠাৎ নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে খোজাখুজির চেষ্টা করি, বাড়ির পুকুরে মটর লাগিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানিয়রা বলছেন, ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়ক থাকার কারনে পাচার কারিরা এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তাদের ধারণা। এই ঘটনাকে ঘিরে ঘুটাবাছা এলাকায় চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের সংবাদ শুনে ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরাও চেষ্টায় আছি আসলে প্রকৃত ঘটনা কি হয়েছে সেই বিষয়টি উদঘাটন করার জন্য।