• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ এএম

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।


নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।


নিহতের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।


শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।


স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।


চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালীতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের মতো ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, শিশুর মৃত্যুর পর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোন পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।  


চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চাটখিল ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছেন।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ পিএম

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তোলার একপর্যায়ে এক নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।


মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের চরগঙ্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রোশনা বেগম (৪০) ওই গ্রামের মজিবল মোসলমানের স্ত্রী।


ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকেলে কালো রঙের একটি হিরো মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক রোশনা বেগমের বাড়ির সামনে যায়। তারা নিজেদের সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানিয়ে তার পরিবারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।


একপর্যায়ে ‘লাইভ ভেরিফিকেশনের’ জন্য ছবি তুলতে হবে বলে রোশনা বেগমকে জানানো হয়। তিনি মোবাইল ফোনের ক্যামেরার দিকে তাকালে সুযোগ বুঝে তার কান থেকে স্বর্ণের দুল টেনে নেয় ওই দুই যুবক। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াসসহ কয়েকজন জানান, বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কথা বলে অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।


ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম সিকদার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। বর্তমানে এলাকায় প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’


এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের বক্তব্য জানতে একাধিক ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ’ খনন শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়।


বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

‎জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে আসা টনি সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

‎

আজ ‎মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) সন্ধ্যা ৪টায় কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ সুপেয় পানির দাবিতে সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে ২২দিবসে পায়ে হেঁটে ৭৮৩ কিলোমিটার একক পদযাত্রা মাসফিকুল হাসান টনির সমাপনী অনুষ্ঠান ধরা কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচএম ফরিদুল আলম শাহীনের সভাপতিত্বে ও জেলা ধরার শামশুল আলম শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। 

‎



‎প্রধান অতিথি টেকনাফ উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবরাং ইউনিয়ন বিএনপি' সভাপতি নুরুল আলম, ‎সদর উপজেলা ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ হাসান, চকরিয়া ধরা'র আহ্বায়ক একেএম বেলাল উদ্দীন, মহেশখালী ধরা'র আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইছার হামিদ। 

‎

‎এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন, সহসম্পাদক মোঃ আমিন উল্লাহ আমিন, জেলার ধরা'র সদস্য প্রভাষক রিয়াজ মাহমুদ, নুরুল ইসলাম সুমন, হেলাল উদ্দীন, মোঃ রুবায়েত, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনীতিক, বিভিন্ন পেশাজীবিও  শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎

‎অপরদিকে সংবর্ধিত হন 'লাগও বৃক্ষ, কামাও লক্ষ লক্ষ' স্লোগানে- ভেজাল নাই ডটকম কর্তৃক আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপন ক্যাম্পিংএ ৬৯১টি ঔষধি, ফলজ ও বনজসহ বিভিন্ন রকমের গাছের চারা রোপন করে ‎ওই ক্যাম্পিং প্রথমস্থান অধিকার করে ভেজাল নাই ডটকম এর এডভাইজার তাসরিফ খাঁনের হাত থেকে হেলাল উদ্দীন নিশাদ পুরষ্কার গ্রহণ করায় সংবর্ধনা প্রদান করেন ধরা জেলা শাখা। 

‎

‎উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনার সাতক্ষীরা শ্যামপুর উপজেলা উপকূলের চার নদীর মূখ থেকে ‎তাঁর একক পদযাত্রার ২২তম দিনে ৭৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে পৌঁছান।

‎

‎জানা গেছে, পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনসহ ৩৫টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে এ পদযাত্রা আয়োজন। পরিবেশযোদ্ধা মাসফিকুল হাসান টনির এটি নবম পদযাত্রা। এর আগে তিনি ছোট-বড় আরও আটটি পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন।

‎

‎মাসফিকুল হাসান টনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং সবার জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবিতে তাঁর এই পদযাত্রা। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে সিলেট নগরীর জালালাবাদ পার্ক। তবে এবার পুরোনো রূপে নয়। সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নতুন সাজে উন্মুক্ত করা হবে নগরবাসীর জন্য। পার্কটিকে শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি থাকবে বসার ব্যবস্থা ও মনোরম পরিবেশ। সংস্কার করা হবে পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীরও। সোমবার পার্কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পার্কটি দ্রুত জন সাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


সিসিক প্রশাসক বলেন, “জালালাবাদ পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করেই পার্কটি সাজানো হবে।”


তিনি বলেন, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করা হবে। নগরবাসী যেন এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নতুন নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। পার্কের সীমানাপ্রাচীর নিয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। 


প্রশাসক বলেন, বর্তমান গেট ও সীমানাপ্রাচীরের কারণে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই দেয়াল ও গেট সংস্কার করা হবে। বাইরে থেকেও যেন পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।


আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষ হাঁটতে যান। অবসর কাটান। জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কার শেষ হলে নগরবাসীকে এখানেও অবসর সময় কাটানো ও শরীরচর্চার জন্য আসার আহ্বান জানানো হবে। 


তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে হাঁটাচলা ও মুক্ত বাতাসে সময় কাটানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ পার্কটি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত। নগরবাসীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। তাই পার্কটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


তিনি বলেন, পার্কটির অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বীন ব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি। ফলে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের পর এটি নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। 


সিসিক প্রশাসক বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্ককে সিলেটের একটি সাংস্কৃতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিদর্শনকালে সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রেমিকের বাড়ীতে এক সন্তানের জননীর অনশন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন ১২ বছরের কন্যা সন্তানের জননী। দাবি না মানলে আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ষোলঘর সদারামপুর গ্রামে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। ঘটনার পর থেকেই সুশান্ত আত্মগোপনে রয়েছেন।


সুশান্ত দাস(৩৮) ওই গ্রামের স্বপন দাসের ছেলে। ভুক্তভোগী বিথী রানী রাজবংশী একই গ্রামের বাসিন্দা।  


জানা গেছে, প্রেমিকা বিথী রানী রাজবংশীর সাথে প্রেমিক সুশান্ত দাসের বিয়ের আগেই থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ১৩ বছর পূর্বে বিথীর মা-বাবা বিথীকে অন্যত্র বিয়ে দেন। বিয়ের পর তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পরও প্রেমিক সুশান্ত প্রেমিকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করত। 


ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর আমার স্বামী বিদেশে থাকার সুবাদে সুশান্ত আমার সাথে যোগাযোগ করত। গত তিন বছর পূর্বে অসুস্থতার কারণে আমার স্বামী মারা যান। এর পর থেকে সুশান্তর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। এই বিষয়ে জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস হয়। শালিসে সিদ্ধান্ত হয় যে, ভবিষ্যতে  কেউ কারো সাথে আর সম্পর্ক রাখতে পারবে না। পুনরায সম্পর্ক করলে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হবে। শালিসের মাস দেড় পর সুশান্ত মালয়েশিয়া চলে যায় এবং আমি নিষেধ না সত্বেও পূনরায় সে আমার সাথে যোগাযোগ অব্যহত রাখে। গত ৮ মাস পূর্বে সুশান্ত দাস আমাকে ফোন দিয়ে বলে তার ছোট ভাই হৃদয় পর্তুগালে যাবে তাকে ৫ লক্ষ টাকা দাও আমি বিদেশ থেকে এসে তোমাকে বিয়ে করবো। পরে সুশান্তের বিয়ের আশ্বাসে আমি হৃদয়ের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দেই। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুশান্ত দেশে আসে এবং আমাকে বিয়ে করবে বলে তার জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি দেন এবং আমাকে নিয়ে নিমতলাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করে। গত দুইদিন যাবত সে আমার ফোন ধরছে না এবং নাম্বার বক্ল করে রেখেছে।


ভুক্তভোগী আরও জানান, সুশান্ত দাসের বিয়ের আশ্বাসে তাকে টাকা দেয়া হয়েছে। এখন তাকে গ্রহণ না করলে তার আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। দাবি আদায় না হলে তিনি সুশান্তের বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন।


এদিকে ঘটনার পর থেকে সুশান্ত দাস পলাতক থাকায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সময় তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির কার্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ‘ভিসি ঘেরাও কর্মসূচি’ নামে একটি মিছিল নিয়ে ওই ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে ঘেরাও করেন।


উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, তার কাছে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি কাজ চাওয়া হয়েছিল। তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়েন।


ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তৈরি করা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।


উপাচার্যের ভাষ্য, পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘জোর করে এভাবে কখনো পদত্যাগ করানো যায় না। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’


তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তিনি সেখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলেও জানান।


উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, সহসভাপতি সালাম, লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহিনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে চান-এমন বক্তব্যসংবলিত কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করা হয়েছে।’


এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। কারা করেছে, তা জানা নাই।’


মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম। কারা করেছে, কেন করেছে তা আমার জানা নেই। জড়িতদের কেউ বিএনপির হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।