সন্ত্রাসী বগাকে গ্রেপ্তারে মুখোমুখি চসিক মেয়র-পুলিশ

কিশোর গ্যাংয়ের এই নিয়ন্ত্রককে গ্রেপ্তারে বাধা

তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগা (ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নগর ভবনে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মেয়রের হস্তক্ষেপে বগা গ্রেপ্তার এড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মেয়র শাহাদাত হোসেনের দাবি, ওয়াকিল সন্ত্রাসী নন। গত মঙ্গলবার রাতে অভিযানের সময় নগর ভবনে ছিলেন না তিনি। 


বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি মেয়র শাহাদাতের অনুসারী হিসেবেও পরিচিত। বগা নগর ভবনে অবস্থান করছেন– এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে খুলশী থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশ ভবনে ঢোকার পর মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর অভিযান গুটিয়ে ফিরে যায় পুলিশ। 


ঘটনার বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে নগরের ২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ‘ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা সিটি করপোরেশনে এসেছিল– এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’ 


মেয়র বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাকলিয়া থানার ওসি থাকা আবদুর রহিম গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কীভাবে খুলশী থানার ওসি হলেন! খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত গ্রেপ্তার অভিযান হয়নি। সম্প্রতি হৃদয় নামে এক তরুণের হত্যা মামলায় কামরুলকে গ্রেপ্তারের পর তাকে মারধর করে ওয়াকিল ও তার ভাইদের নাম বলতে বাধ্য করা হয়েছে।’ 


মেয়র বলেন, ‘ওয়াকিলের দুই ভাই আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। তারা বলেছেন, কামরুলকে মেরে জোরপূর্বক ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।’ এ সময় তিনি খুলশী থানার ওসির বিরুদ্ধে আসামিকে মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায় এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও তোলেন। 


এদিকে, মেয়রের এমন বক্তব্যের পর গতকাল সন্ধ্যায় খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে রদবদলের বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। 


আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আবদুর রহিমকে সিটিএসবিতে বদলি করা হয়েছে। আকবরশাহ থানার বর্তমান ওসি মো. কামরুজ্জামানকে বদলি করে খুলশী থানার ওসি করা হয়েছে। একই আদেশে চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজের হোসেনকে আকবরশাহ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। 


আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় বদলি করা হলো খুলশীর ওসি আবদুর রহিমকে। 

এদিকে নগর ভবনে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা নগর ভবন এলাকায় অবস্থান করছেন– এমন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে তল্লাশি চালিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি তখন নগর ভবনে ছিলেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়।


এখন প্রশ্ন উঠেছে, সন্ত্রাসী বগা যদি নগর ভবনে নাই থাকেন, তাহলে সেখানে অভিযান কেন? আবার মেয়রইবা কেন পুলিশের অভিযানে হস্তক্ষেপ করলেন?


রাত ৯টায় নগর ভবনে পুলিশ


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নগর ভবন ঘেরাও করে পুলিশ। পরে বগাকে গ্রেপ্তারের জন্য ভবনের ভেতরে ঢোকে। এক পর্যায়ে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে সিএমপির (উত্তর) উপকমিশনার হাসান মোস্তফা স্বপন ঘটনাস্থলে যান। মেয়রের হস্তক্ষেপে পুলিশ অভিযান বন্ধ করে ফিরে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।


অভিযানের বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বগা ওই এলাকায় অবস্থান করছে– এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পরে তাঁকে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। 


মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


ঘটনাস্থলে মেয়রের উপস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে মেয়রকে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ত কাউকে খবর দেইনি, কেন এসেছেন আপনারা। কী জন্য আসছেন? সিটি করপোরেশনে ১০০ জন মানুষ আসবে। আপনারা চলে যান।’


ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, নগর ভবন থেকে পুলিশ বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মেয়রের অনুসারীদের ধাক্কাধাক্কি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।



সর্বশেষ সব খবর

ফসলি জমি থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ এএম

কুমিল্লায় নিখোঁজের চার দিন পর জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 



এ ঘটনায় তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। আবদুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। নগরের রেইসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তারা।



স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় সড়কের পাশে একটি ধানের জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।


স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক বলেন, সকালে জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা ছিল।



পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় জানা যায়নি। পরে খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বলেন, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তার মেয়ে। এরপর বিভিন্ন সময় মেয়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়।


তিনি বলেন, বুধবার গভীর রাতে তাজমিন তাকে একটি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। সেখানে তাকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখার পর ওই লাইভ লোকেশন অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেখতে পান।


তাজমিনের বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে কুমিল্লা শহর থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।


তাজমিন নিখোঁজ হওয়ার পর গত চার দিনে তিনি কার সঙ্গে কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস বলেন, ৪ অক্টোবর তাজমিন কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। তবে পুলিশের তদন্তে ওই দিন তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরদিন ৫ অক্টোবর তিনি কুমিল্লায় ফেরেন। এরপর ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।


পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তাজমিন। এরপর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তার যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই অটোরিকশা থেকেই একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ভ্যানিটি ব্যাগটি তাজমিনের নয়।


পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাজমিন গত চার দিন কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।


লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, তাজমিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।


ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাজমিনের গত চার দিনের অবস্থান, তার সঙ্গে কারা ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক হানিফ মজুমদার বলেন, সপ্তম শ্রেণির হাজিরা খাতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর তাজমিনের আর উপস্থিতির তথ্য নেই। তিনি অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন কি না, কিংবা পড়াশোনায় বিরতি নিয়েছিলেন কি না, তা তারা নিশ্চিত নন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা ও ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল এগারোটায় নলছিটি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।


সভাপতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ড। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনিচুর রহমান খান হেলাল, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা সালু, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, নলছিটি উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা, নলছিটি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পলাশ সজ্জনসহ আরো উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা, ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বৃন্দ। 


সভায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং পূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয় এবং উপজেলার ২২টি পূজামণ্ডপে ৬০০ শতকেজি করে সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম।

সর্বশেষ সব খবর

ফেসবুকে প্রেম মোবাইলে বিয়ে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ পিএম

প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর (৪৮) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুমাইয়া নামের এক নারীর। মেসেঞ্জারে কথোপকথনের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে মুঠোফোনেই বিয়ের কাজ সারেন। এরপর ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলেও নানান অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন সুমাইয়া।


গতকাল বুধবার দুপুরে সুমাইয়াকে ভিডিও কল দিলে সেটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। ওসি খোরশেদকে জানান, নারী ভেবে যাঁকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে নারী নন। তিনি শান্ত আলী নামের এক তরুণ। মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে তিনি এত দিন খোরশেদ আলীকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন।


খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর গত কয়েক মাসে ভরণপোষণসহ নানান কাজে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেন ওই তরুণ। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা অকেজো থাকার কথা জানাতেন কথিত সুমাইয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতেও নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন।


পুলিশের ভাষ্য, প্রতারণার অভিযোগে গতকাল সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার পরিচয় প্রকাশ পায়।


পুলিশ ভিডিও কলে প্রথমবারের মতো কথিত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার নামধারী শান্ত আলীকে দেখালে খোরশেদ আলী বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’


পুলিশ জানায়, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী লেখাপড়া জানেন না। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতে এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন।


শুধু তা-ই নয়, মুঠোফোনে বিয়ের পর কথিত সুমাইয়ার (শান্ত আলী) বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বহুবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন খোরশেদ আলী। তাঁর কথাবার্তায়ও শান্ত আলীর প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়েনি। 


পুলিশের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জেনেও ছেলেকে প্রতারণার কাজে সহায়তা করেছেন।


গতকাল সকালে শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনে খোরশেদ আলীর সঙ্গে খুদে বার্তা বিনিময়ের বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে।


খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি দিয়ে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে পরিচিত হন এবং কথাবার্তা শুরু করেন। ফেসবুকে ব্যবহৃত ওই নারীর তিনটি ছবিও তিনি খোরশেদ আলীকে পাঠান।


ওসি বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত আলী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এভাবে মোট তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সিলেটে মূহুর্তেই ট্রেনের টিকিট গায়েব

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী রেলের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছাড়ার পরপরই গায়েব হয়ে যায়। এবার এই বিষয়টি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। 


সিলেটে ট্রেনের টিকিট সংকটের পেছনে কালোবাজারি ও মজুদদারির সুনির্দিষ্ট আলামত পেয়ে মামলা দায়েরের পর সেটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)-কে। গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলার নথিপত্র পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছে। 


মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা মামলাটি তিনি তদন্ত করছেন।


সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকায় উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এসব রুটের টিকিট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সব বিক্রি হয়ে যায়। যেটি নজরে আসে বিজ্ঞ আদালতের। পরবর্তীতে আদালত পর্যবেক্ষণ করে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের সব টিকিট বিক্রির বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে। এরই প্রেক্ষিতে গত মাসের (সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি এজাহারে কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন। 


বিষয়টি নিয়ে সিলেট রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, রেলের টিকিট অনলাইনে ক্রয় করতে হয়। কেউ কেউ সরাসরি কাউন্টার থেকেও ক্রয় করেন। টিকিট বিক্রিতে তাঁদের কোনো হাত নেই। এদিকে, পিবিআই সিলেটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আহাদ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফয়সল আমিন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

ঠাকুরগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।


আজ বৃহস্পতিবার( ৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, একাত্তরের চেতনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে মির্জা ফয়সল আমীনের পক্ষে সমর্থন ও দোয়া কামনা করা হয়।




সভায় মির্জা ফয়সল আমীন দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম রনি।


এ সময় জে এইচ আলমগীর, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ডের সদস্য সাইদা আফরোজ চৌধুরী পুতুল, আহ্বায়ক মীর জাহিদসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোরুজ্জামান চৌধুরীর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. সহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ওরফে শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ​দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও সম্পদ বিবরণী প্রদানের নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এ মামলা দায়ের করা হয়। 


আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে দুদুক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০,৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন কর্তৃক তার প্রতি সম্পদ বিবরণী জারির নির্দেশ প্রদান করা হয়।


​দুদক সুত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারি পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শহীদ চৌধুরীর রাজবাড়ি এলাকার বাসায় প্রকাশ্য স্থানে এ ব্যাপারে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ জারির পর বিধি মোতাবেক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও গত তিনি অদ্যাবধি কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং কোনো প্রকার সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।


দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, ​কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নোটিশের নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদক, সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করেন।


২০২৩ সালের সিলেট সিটি নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ চৌধুরীকে তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরবির্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এরপর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। ৫ আগস্টের পর থেকে শহীদ চৌধুরীও আত্মগোপনে আছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সব খবর