ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে ফের অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকদের বহনকারী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে তাদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।


এর আগে সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।


এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


এর আগে বুধবার বিকেলে সাজেক সড়কে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে এ কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবারের মধ্যে সব পর্যটককে সাজেক ছেড়ে চলে যেতে হবে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তবে অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি।


সাজেক রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সারা বছরই এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে উন্নতমানের কটেজ, হোটেল ও মোটেল। পাশাপাশি রয়েছে আলাদা পরিবহন স্টেশন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে বস্ত্র, খাবার ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর বেচাকেনার মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতা ও অবরোধের কারণে বারবার পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এর আগে গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাজেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


এরপর দুই দিন কর্মসূচি বন্ধ রাখার পর ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও সড়ক অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। পরে সাজেকের মাচালং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।


সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩৬ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি চলছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোলাগুলি চলছিল। এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব। 


তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি চলছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।


এর আগে সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। তাঁরা আজ সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফিরছিলেন। তবে আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে কারণে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন।


অবরোধকারীরা উজোবাজার এলাকায় অবস্থান করায় পর্যটকেরা সেখান থেকে সরতে পারছিলেন না। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করলে অবরোধকারীরা সরে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে পর্যটকের গাড়িবহর উজোবাজার এলাকা ছাড়ে। এ ঘটনার পরই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি শুরু হয় বলে জানায় পুলিশ।


গতকাল বুধবার সাজেক পর্যটন সড়কে তৃতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠন। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠন দুটি জানায়, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ চলবে। তাই গতকালকের মধ্যে সাজেক থেকে সব পর্যটককে চলে আসার অনুরোধ করা হয়।


আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের পর নিরাপত্তার কারণ উল্লেখ করে সাজেক বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা প্রশাসন। গতকাল সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আজ বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


জেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা মেনে আজ সকালে সাজেক ছাড়ছিলেন পর্যটকেরা। তবে সাজেক থেকে বের হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই বাঘাইছড়ির উজোবাজারে অবরোধকারীদের সামনে পড়েন তাঁরা।


সাজেকে পর্যটকবাহী যানবাহনের লাইনম্যান মো. ইয়াসিন বলেন, অন্যদিন সাজেক থেকে পর্যটকবাহী যান সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অবরোধের কারণে আজ ছেড়েছে সকাল ৯টায়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের পাহারায় প্রায় দুই হাজার পর্যটক সাজেক ছেড়েছেন।


এর আগে ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।


অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।


অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সাজেক রিসোর্ট কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, অবরোধের কারণে পর্যটকদের সাজেক ছাড়তে হচ্ছে। অনেকে রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করেছেন পর্যটকেরা। সাজেকে সড়ক অবরোধ হলে শুধু পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা নন, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটা ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৯ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় অসুস্থ হওয়ার পর ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ওই কারখানার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে।


বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় এসকিউ সেলসিয়াস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহত শ্রমিকের নাম তাসমিনা আক্তার (৩১)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশবাড়ি এলাকার ফজলুল রহমানের মেয়ে।


কারখানার সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে কাজে যোগ দেন তাসমিনা। পরে কারখানার ফিনিশিং বিভাগের সাত নম্বর ফ্লোরে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের অভিযোগ, অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছুটির আবেদন করলেও তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়নি।


পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারখানার নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে সেখানে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাসমিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সড়কে প্রতিবাদ জানান।


এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।


ময়মনসিংহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফিরোজ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অসুস্থ হওয়ার পরও তাসমিনাকে ছুটি না দেওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ভালুকা শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন জানান, তাসমিনা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বুধবার সকাল আটটার দিকে শারীরিক সমস্যা নিয়ে তিনি কারখানার মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানকার চিকিৎসক ডা. জ্যোতি শুভ পাল তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং শ্বাসকষ্ট দূর করতে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন।


এসপি মোহাম্মদ আনছার উদ্দিন আরও জানান, ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তাসমিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারখানার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ সময় একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন নার্সসহ মোট তিনজন চিকিৎসাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে একই অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে তাকে সেখানে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।


এদিকে, ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ ও চিকিৎসা দিতে বিলম্বের অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার। পরে নলিয়ান লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তার বানৌজা মোংলার জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি রয়েছে । এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন তিনি।


বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টায় বিমানবন্দরে পৌঁছে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সকাল ১০টায় হেলিকপ্টার থেকে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।


আজ দুপুর ৩টায় মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করবেন তিনি। এরপর বেলা সোয়া ৩টায় প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেলা সাড়ে ৩টায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। দিনের কর্মসূচি শেষে বিকেলেই ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ এএম

রক্তশূন্যতায় অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে ঢাকায় নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি) চিকিৎসা দেওয়ার কথা রয়েছে। ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 


তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরেই অসুস্থতাবোধ করছিলেন ভূমিমন্ত্রী। বুধবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


অসুস্থতার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ভূমিমন্ত্রী। হাসপাতালের শয্যায় থেকেও রাজশাহীর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। পরদিন অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরেও গিয়েছিলেন তিনি।


নিজের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি অসুস্থ। আমার সুস্থতার জন্য প্রিয় রাজশাহীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। যাতে আল্লাহ তায়ালা আমাকে সুস্থতা দান করেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারি।’


উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার মধ্য দিয়ে এখন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।


ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে রামেক হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাতে মহানগর জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও হাসপাতালে তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ছাপিয়ে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এই উপস্থিতিতে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের চিত্র ফুটে ওঠে।






ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৯ এএম

গভীর রাতে আগুনে পুড়েছে মসজিদ, দোকানপাট ও বিভিন্ন পণ্যের গুদাম। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, মুরগির দোকানসহ একটি ভাঙারির দোকানও। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের ২ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম বলেন, ‘রাত ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই আমরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।’ 


তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


অগ্নিকাণ্ডে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি দোকান, কয়েকটি মুরগির দোকান, ভাঙারির দোকানসহ একটি মসজিদ পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।


গ্রেফতার দুই ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩০ এএম

জাতিসংঘ শিশু তহবিল–ইউনিসেফের প্রকল্পে চাকরি দেওয়ার নামে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতার দুজনের মধ্যে একজনকে চক্রের মূলহোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোজাম্মেল হক (২৯) ও মো. আল আমিন সরদার (২৫)। বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।


তিনি জানান, ডিবির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় ফেসবুকে একটি পেজে ইউনিসেফের নাম ও লোগো ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়। ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি। চক্রটি অনলাইনে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ফরম বিক্রির কথা বলে প্রথমে ৫৮০ টাকা নিত। পরে চূড়ান্ত নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ হাজার ৫৮০ টাকা আদায় করত। টাকা পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দিত তারা।


এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ রমনা থানায় একটি মামলা করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করা হয়।


তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরের জহুরী মহল্লার একটি বাসা থেকে আল আমিন সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ফেসবুক পেজ-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও মোবাইল সিম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ডিবিকে জানিয়েছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বুস্টিং ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাজারো চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন তারা। গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।