টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘ ১৮ মাস পর গাজীপুরের টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দলীয় কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নতুন বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন লেখা ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন দেখা যায়। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান।
ওই সময় কয়েক দফায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি প্রত্যক্ষদর্শীরা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের শঙ্কায় অধিকাংশ নেতা কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। এরপর থেকে কার্যালয়টি মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, পরিত্যাক্ত ভবনে ব্যানার লাগানোর বিষয়টি শুনেছি কে বা কারা লাগিয়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাটোরের লালপুরে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। একই সঙ্গে তাঁরা আগামীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের এমআর মোড়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তাঁরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক আলী আজগরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, নাটোর জেলা ছাত্রদলের সদস্য মান্নাফ হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সুরুজ ও নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন বলে জানান। পাশাপাশি আগামীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এ সময় তাঁরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু বলেন, তাদের ভুল বুঝতে পেরে দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, এজন্য বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা সিদ্ধান্ত নেবে।
এনসিপি’র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা.কামরুল ইসলাম দর্পণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ। তিনি ইতিপূর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির নীলফামারী জেলার সদস্য সচিব হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডা. মোঃ কামরুল ইসলাম দর্পণ এলাকায় একজন মানবিক চিকিৎসক এবং সমাজসেবক হিসেবে অত্যন্ত সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও দুস্থ মানুষকে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি শিক্ষাও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নাগরিক হাসপাতাল ও ইনসাফ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি নীলফামারী মডেল কলেজ ও কৃষি কলেজেরও প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি সংবাদ ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে তিনি অনলাইন সাপ্তাহিক 'নাগরিক চিন্তা'-র প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, নীলফামারী জেলায় 'জুলাই যাত্রা' নামের জমকালো ও সফল কর্মসূচির আয়োজন করে তিনি জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার এই নিষ্ঠা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে রংপুর বিভাগের বড় দায়িত্ব প্রদান করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ অত্যন্ত বিনয়ী, মার্জিত ও সৎ মানুষ হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং আশা ব্যক্ত করেছেন যে, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাংগঠনিক কাজ আরও গতিশীল হবে।
শুক্রবার রাতে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ে নিহত। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহণ আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় নাশকতা, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মীরনগর ও রসুলাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন মো. হাসিবুল ইসলাম (২২), মোহাম্মদ হোসাইন (৩০), লিয়াকত সিকদার (২৪) ও মো. আজাহার সিকদার (১৯)। তারা কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলাবাদ ও মীরনগর এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাবা দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া হাইওয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশের এসআই জাহেদের নেতৃত্বে একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসকর্মীদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এসআই জাহেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হতাহতদের উদ্ধারে তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলাম। পথে দুর্বৃত্তরা আমাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক ও এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত। ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান শান্তর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করে ওই পোস্ট দেয়া হয়। তবে ওই কর্মকর্তা মানসিকভাবে অসুস্থ বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের আইডি থেকে পোস্ট দুটি করা হয়। একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রাণী মোদক দায়ী থাকবে।’
এর কিছুক্ষণ পর অন্য আরেকটি পোস্টে লেখা হয়, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’।
জানা গেছে, আরিফুর রহমান গত প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করে আসছিলেন। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে বিষয়টি এতদিন পারিবারিক সীমারেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। শুক্রবার জামালগঞ্জের ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড শান্ত।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে তার তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান স্ত্রীসহ সেই কেক কাটার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে তার বাসা থেকে বের হয়েই ফেসবুকে বিতর্কিত সেই পোস্টগুলো দেন এসিল্যান্ড।
ইউএনও আরও জানান, বাসা থেকে বের হয়ে এমন পোস্ট দেয়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এসিল্যান্ড। তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং ইউএনওর তিন বছরের মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এছাড়া রাস্তায় যাকেই পেয়েছেন, তার সঙ্গেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি দেখে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়াসহ অনেকেই দ্রুত এসিল্যান্ডের বাসায় যান। ওসি জানান, সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার স্ত্রীর পরামর্শে একটি ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়। কিন্তু ওষুধটির পাওয়ার কম থাকায় তিনি শান্ত হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশন খোঁজা হলেও তা স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায়নি। বাসার ভেতর তীব্র অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকায় রাত ১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও পরিজনদের উপস্থিতিতে তাকে চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পরবর্তীতে সিলেটে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
ফেসবুক পোস্টে নিজের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘তিনি কেন আমার নাম লিখেছেন তা আমারও প্রশ্ন। আমি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারছি না।’
মিয়া গোলাম পরোয়ার
ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। নির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না কাউকে করতেও দেব না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’
জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।