গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সফল অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন ভর্তি ১৮২৪ পিস চাইনিজ বিয়ারসহ তিনজন ব্যবসায়ীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়াস্থ পাথরঘাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে সংবাদ দেয় যে, স্থানীয় পাথরঘাট সংলগ্ন চায়না বাংলা কংক্রিট অ্যান্ড ব্লক ইন্ডাস্ট্রির ভেতর অভিযান পরিচালনা করা হলে বিপুল পরিমাণ মাদক পাওয়া যাবে।
এখান থেকে বহু দিন ধরেই গোটা কালীগঞ্জ এলাকায় মাদক সরবরাহের কাজ চলে আসছে। স্থানীয়দের দেওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ঘোনাপাড়া এলাকার চায়না বাংলা কংক্রিট অ্যান্ড ব্লক ইন্ডাস্ট্রির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৬৯৬৮) ভ্যান ও বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৩৮টি কার্টুন ভর্তি ১৮২৪ পিস চাইনিজ বিয়ার উদ্ধার করে। এসময় মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে চায়না-বাংলা হলোব্রীকের ইনচার্জ সিলেটের ছাতক থানার জয়ন্তপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের পুত্র নাজির হোসেন (২১), রেজা কন্সট্রাকশনের ইনচার্জ কিশোরগঞ্জ সদর থানার হারোয়া গ্রামের বজলুর রহমানের পুত্র মেহেদী হাসান (৩৪) ও নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানার বাগলা গ্রামের আব্দুল বারেকের পুত্র আমানউল্লাহকে (৩৩) আটক করে পুলিশ।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্কের হাওয়া বইছে। গ্রেফতারের ভয়ে অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন অভিযান ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পিকআপ ভর্তি বিয়ারসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার মামলা নং ৩০(২)২৬, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনায় পুলিশের আইজিপি
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
কেএমপি কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, বিগত সতেরো বছরে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করাই আমাদের লক্ষ্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুলিশ কাজ করছে। জনগণের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। বর্তমান সরকার মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" ঘোষণা করেছে; যাতে সমাজে কোন মাদক না থাকে, চাঁদাবাজ না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপরাধ নির্মূল করবো। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানান। পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
ঠাকুরগাঁও এর আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে শুক্রবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহৌউৎসব। ঠাকুরগাঁওয়ে বছরের পর বছর ধরে হেমন্তের শুরুতেই বুড়ির বাঁধে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রীতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এখানে তৈরি করেছেন একটি দৃষ্টিনন্দিত মৎস চত্বর। যা স্থানীয় অদূরান্তের দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। এই বাঁধে অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের বিরুদ্ধে নিয়েছেন ব্যবস্থা। অবমুক্ত করা হয়েছে মাছের পোনাও।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে আজ শনিবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় পুরোদমে চলছে মাছ ধরার উৎসব। আর এখানকার শুক নদীর 'বুড়ির বাঁধ' এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উন্মুক্ত উৎসব। রীতিমতো প্রতিযোগিতার আমেজে চলে এ মাছ শিকার, যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। শীতের আগমনী বার্তায় বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর সবার জন্য মাছ ধরার এ সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে বসেছে তিন দিনের এক গ্রামীণ মেলাও।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয়। এর পরেই শত সৌখিন শিকারি ও সাধারণ মানুষ বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে নামেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদ ও শহর থেকে শত শত মানুষ বুড়ির বাঁধে ভিড় করেছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত বাঁধের চারপাশ। সবাই যার যার মতো করে জাল, পলো (খলুই), খোচা ও লাফি জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন কাদা-জলে। এমনকি সরঞ্জামহীন অনেকেই খালি হাতেও নেমেছেন মাছ ধরতে। সব মিলিয়ে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহা উৎসব।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত ১৯৮২ সালে শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলের জমি চাষাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে শুক নদীর ওপর বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি এখানে আটকে রাখা হয় সেচের জন্য। এ সময়ে ঠাকুরগাঁও মৎস্য অধিদপ্তর বাঁধের পানিতে বিভিন্ন মাছের পোনাও অবমুক্ত করে। আর শীতের শুরুতেই যখন পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বাঁধের মাছ ধরার জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে আসছে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
ঠাকুরগাঁও সদরের চিলারং ইউনিয়ন অম্বারু থেকে আসা কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার জন্য এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আমি খুব খুশি। কারণ দেশি মাছের স্বাদ আলাদা। এখানে রুই, পাবদা, ষোল ও বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
পীরগঞ্জের আমতলী থেকে আসা আলআমিন হকের মতে, বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে এসে মনে হচ্ছে যেন এক বিশাল লোকমেলা, যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।
মাছ শিকারি ছাড়াও মেলায় ভিড় বাড়ে মাছের ক্রেতাদেরও। শহর থেকে আসা মাছ ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি মাছ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন, কিন্তু এসে দেখেন শহরের বাজারের চেয়েও এখানকার মাছের অনেক সস্তা ও টাটকা।
ভুল্লী বাজার থেকে আসা সুজন ইসলাম জানান, এখানে টেংরা, গোচি, শিং, টুনা মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শোল ও রুই-কাতলা মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। পুঁটি মাছও বিক্রি হচ্ছে ১২০-২০০ টাকায়।
শহরের কলেজপাড়া থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারি রফিকুল ইসলাম বলেন, কত মাছ পেলাম সেটা বড় কথা নয়। সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে আসার জন্য।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সভা আলী জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয় এবং শীতের শুরুতেই মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
উৎসবে যোগ দেয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাজা শহিদুল আসলাম বলেন, মনে হচ্ছে যেন এক গ্রামীণ মেলায় এসেছি। মাছ ধরা এখানে উপলক্ষ মাত্র, আসলে এটা মিলনমেলা। এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে শত শত মানুষের মিলনমেলা ও মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
যুবদল নেতা রামিম
প্রতিনিয়ত খুলনায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা কেন্দিক গুলি করে হত্যার খবর নতুন না হলেও এবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) খুলনা সফরের মধ্যেও প্রকাশ্যে রামিম (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আহত রামিম বিশ্বাস পারহাজী গ্রামের হাবিবুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বিল্লাল মোল্লা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভ্যানে করে কোলাবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রামিম। পথে গ্রামের আইনাল মোল্লার বাড়ির সামনে প্রধান সড়কে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরীতে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার মায়ের সামনেই মাথায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জৈন্তাপুর পৌরসভা
সিলেটের জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত পল্লী এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণা করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর আগে পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও পত্র প্রদান এবং শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিও পত্র দেন। পরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ২৮১-আইন/২০২৬ নম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এটি ১৪ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণার অভিপ্রায় জানানো হয়েছিল।
পাশাপাশি, গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।পরবর্তী সময়ে উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৭০-আইন/২০২৬ নম্বরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
এর মাধ্যমে তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার, পিএইচডি। সরকারি গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী।
অন্যদিকে, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল। সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত ভূমি পৌরসভা ঘোষণার আওতায় এসেছে। গেজেটের তফসিলে মৌজাভিত্তিক জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরের পরিসরও উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম চালু হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানো, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর।
বড় আশা নিয়ে সিলেটে নির্মান করা হয় সিলেট হাইটেক পার্ক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেট হাইটেক পার্ক নিয়ে চলছে নানা যড়যন্ত্র। সিলেটে ভালো ম্যাগা প্রকল্প হাতে নেয়া হলে শুরু হয় নানা যড়যন্ত্র। এ থেকে রেহাই পায়নি সিলেট হাইটেক পার্কও।
এ পার্ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়, জমি লিজের বিপুল অর্থের হিসাব না থাকা এবং অবকাঠামো নির্মাণের পরও বিনিয়োগ না আসায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পের কাজ থুবরে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া পার্কের প্রবেশপথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র জমি লিজ বাবদ প্রাপ্ত ৫৬০ কোটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ জরুরি।
সিলেট নগর থেকে প্রায় ৩০ কিলো মিটার দূরে কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় ১৬৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই মেগা প্রকল্প। এ পর্যন্ত এতে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও বাস্তব সম্মত দিকগুলো যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় নির্ধারিত এলাকাটি জলাভূমি ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবনায় সমীক্ষার আপত্তিগুলো বাদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবেশ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ থাকতে পারে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ ইআইএ প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবেশ ও সম্ভাবনারও অপচয় হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবেও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপনে প্রতি কিলোমিটারে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রকৃত দর ছিল ২০ হাজার টাকা। কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণেও প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ খাতে দেড় শ’ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হলেও সরেজমিন নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণের দৃশ্য চোখে পড়েনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রবেশ পথের দেয়ালে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ছিল। সেটি নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন পার্কের দুটি দোতলা ভবনে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ভবনের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কোথাও জমেছে ময়লা-আবর্জনা। ফোয়ারার পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। পার্কের ৪৩ একর জমিতে স্টল বরাদ্দের কথা বলা হলেও র্যাংস ইলেকট্রনিক্স ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পার্কে কার্যক্রম পরিচালনাকারী র্যাংস ইলেকট্রনিক্সের উপমহাব্যবস্থাপক মোরশেদুল আলম জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো গ্যাসের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দিলে কখনো এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
সিলেট ইলেকট্রনিক সিটির সাবেক উপপরিচালক ও বর্তমানে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী এস এম আল মামুনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজের প্রাক্কলন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পটি অপরিকল্পিত ছিল বললে বিষয়টি তার বিরুদ্ধেও যেতে পারে। কাজের ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া টাকা ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মাজারের ব্যবস্থাপনায় তিনজন কর্মী নিয়োগের পর দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি কার্যকর হবে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের ডিসি বলেন, ‘আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে আরও একবার বর্তমান ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি নির্ধারণ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।