সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রায় ৭০০ জন অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের মাঝিরহাট এলাকায় হালিমা-খালেক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ প্রধান অতিথি থেকে অসহায়দের মাঝে এই উপহার তুলে দেন। উপহার পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা। তারা বলেন, এই সহায়তা তাদের ঈদের প্রস্তুতিতে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এসময় এমপি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, হালিমা খালেদ ফাউন্ডেশন–এর উদ্যোগে নড়িয়ার নাশাষন ইউনিয়ন–এর অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নশাসন ইউনিয়নের প্রায় ৭০০টি দরিদ্র পরিবারের হাতে সহায়তার ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। আমরা অসহায়ের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। আমাদের বিশ্বাস, আগামী এক বছর পর যখন আবার রমজান মাস আসবে, তখন এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। এমন একটি সময় আসবে, যখন আমরা সহায়তার ব্যাগ নিয়ে অপেক্ষা করবো, কিন্তু এত হতদরিদ্র মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমাদের সমাজে যারা গৃহহারা, যারা সাহায্য থেকে বঞ্চিত, যাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই—বিশেষ করে অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন, যাদের দেখাশোনার মতো ছেলে-মেয়ে নেই এবং অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়—তাদের পাশে দাঁড়াতে।
এমপি আরও বলেন, আমি চাই আমার নড়িয়া ও সখিপুর এলাকার মানুষ যেন আর কখনো না খেয়ে ঘুমাতে না যায়। এটাই আমার অঙ্গীকার।
এসময় নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বিএম আজিজুল হাকিম, হালিমা-খালেক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতি ঢাকার সভাপতি হাবিবুর রহমান পলাশ, পরিচালক মাহবুবুর রহমান ফকির, মোসাম্মৎ সাধনা মাঝি, হোসাইন ইসলাম জয়সহ বিএনপি ও তাঁর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
বিরোধ মেটাতে থানায় এসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাঁচজনকে আটক করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, মো.আলা উদ্দিন ওরফে সহেল, ইমতিয়াজ চৌধুরী, মো.আজগর আলী, জাহিদুল ইসলাম সাব্বির ও মাইন উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ছোটধলী গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. আলাউদ্দিন ওরফে সোহেল প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লামছি প্রসাদ গ্রামের মাশরুপা আক্তারকে (১৯) বিয়ে করেন। প্রায় তিন মাস আগে সহেল প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থানায় আসেন। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়দাস গুপ্ত বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে পরামর্শ দেন। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে উভয় পক্ষ থানার বাইরে যাওয়ার সময় থানার গেটসংলগ্ন সড়কে দুই পক্ষের লোকজন বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, একটি পারিবারিক বৈঠক শেষে চলে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাথে সাথে উভয় পক্ষের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় আটকদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সাতক্ষীরার এডিসি রিপন বিশ্বাসকে অপসারণ দাবি
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তাকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে আগামী (২৮ অক্টোবর) মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আকবর আলীর সভাপতিত্বে আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. আবু সাঈদ রাজা, অ্যাড. শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. জি এম ফিরোজ আহমেদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাড. ওলিউল্লাহ, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (৫), অ্যাড. সোহরাব হোসেন বাবলু ও অ্যাড. সরদার সাইফসহ সংগঠনের নেতারা। আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত (১৯ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে সিনি: আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলী এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আমিনের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ সময় তারা আরো বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে যেকারো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আগামী (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন সহ এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস জানান, তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভিপি “ল” ইয়ার অ্যাড. নুরুল আমিন কর্তৃক সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় আইনমন্ত্রালয়ে তার বিষয়ে পত্র প্রেরন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার সাথে যা আলাপ আলোচনা হয়েছে তার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় কথিত ভুয়া কাবিননামা তৈরি, জালিয়াতি ও তা ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলাটি তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রতিবেদনে এমন মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কাবিননামার সত্যতা, এক নারী ও তাঁর কন্যাসন্তানের সঙ্গে বাদীর সম্পর্ক, হাসপাতালের নথিপত্র এবং শিশুটির জন্মের পর তোলা একটি ছবিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৯৩৭/২০২৫-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী মো. মুসলিমের অভিযোগ ছিল, শেলীনা বেগম ওরফে শেলী আক্তারের সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় বা বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কাজির সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে তদন্ত শেষে শেলীনা বেগম, নিপু মনি ও মো. নাঈম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৩৮৫, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মতামত দেয় পিবিআই।
কাবিননামার সত্যতা যাচাইয়ে যা উঠে এসেছে
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১, বালাম নম্বর ০৫ এবং পৃষ্ঠা নম্বর ৫৭ উল্লেখ রয়েছে। এতে বরের নাম মো. মুসলিম এবং কনের নাম শেলীনা বেগম লেখা ছিল। নথিটিতে কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।
কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চান। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজির কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বালাম নম্বর ০৫-এর ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় মো. মুসলিম ও শেলীনা আক্তারের নামে কোনো নিকাহনামা লিপিবদ্ধ ছিল না।
তদন্তে আরও উঠে আসে, শেলীনা বেগম কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই না করেই বাদী মো. মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া নকল হিসেবে সেটি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তবে তিনি নিজে কাবিননামাটি তৈরি বা জাল করেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মতামত, শেলীনা বেগম সরল বিশ্বাসে নিকাহনামাটির অনুলিপি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগ প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের তথ্য তদন্তে
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মো. মুসলিম ও শেলীনা বেগমের পূর্বপরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে মুসলিম শেলীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেলীনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শিশুটির জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পিপলস হসপিটাল লিমিটেডের আইপিডি অ্যাডমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নথিতে শেলীনার স্বামীর নামের ঘরে ‘লিটন’ লেখা ছিল। হাসপাতালের জন্মসনদেও ‘Selina Akter wife of Mr. Liton’ উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে বাদী মো. মুসলিমের নাম ‘মো. মুসলিম ওরফে লিটন’ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
হাসপাতালের কেবিনে শিশুকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবি
তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির জন্মের পর হাসপাতালের কেবিনে তোলা একটি ছবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে সংগৃহীত রঙিন ছবি পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখতে পান, শিশুটির জন্মের পর পিপলস হসপিটালের একটি কেবিনে মো. মুসলিম শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছিলেন। ওই সময় শেলীনার বোন নিপু মনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে তাঁদের হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবিটি এবং হাসপাতালের নথিপত্র তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধের পর পৃথক মামলা
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে শেলীনা বেগম ও তাঁর কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন মো. মুসলিম বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেলীনা পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৮৬০/২০২৪ দায়ের করেন।
ওই মামলায় শেলীনা নিজেকে মুসলিমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন এবং মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া কাবিননামার অনুলিপি আদালতে দাখিল করেন বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ওই মামলা নিয়ে মুসলিম ও শেলীনার মধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বৈঠকে সাক্ষীদের উপস্থিতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা হাসপাতালের নথি, ‘লিটন’ নামের ব্যবহার, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং শেলীনার দায়ের করা পৃথক মামলার তথ্য—সব মিলিয়ে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তবে হাসপাতালের নথিতে কোনো নাম থাকা, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শিশুর ছবি থাকা কিংবা কোনো মামলায় কাউকে স্বামী হিসেবে দাবি করা—এসব তথ্যের কোনোটিই এককভাবে জৈবিক পিতৃত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে বিরোধ থাকলে আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বাদী
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীকে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত চলাকালে তিনি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর মনোনীত দুই সাক্ষীসহ মোট ছয়জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার।
সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন, মামলার তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লিখিত ধারাগুলোর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে একদিকে কথিত জাল কাবিননামা তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, একই প্রতিবেদনে কাবিননামার সত্যতা যাচাই, মুসলিম ও শেলীনার পূর্বপরিচয়, কন্যাসন্তানের জন্ম, হাসপাতালের নথিপত্র, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলার তথ্য উঠে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে কাবিননামা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা এবং শিশুটির পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নারীর দাবি, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রামাণ্য নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।
তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ও তথ্যের আইনগত মূল্যায়ন এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। মামলার আসামীরা হলেন, মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ গত প্রায় ৫ মাস আগে প্রতিবেশী কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ নামের এক যুবক শিশুটিকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্য অভিযুক্ত স্থাণীয় মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রধান অভিযুক্ত আহাদ গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ওষুধ সেবন করান।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর ২২(১০)২৬ দায়ের করা হয়েছে। আসামী আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চার মাস ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় বিসিএস ১৫ ব্যাচের আয়কর ক্যাডারের এই কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে তাঁকে প্রেষণে এনবিআরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে আহসান হাবিবকে তাঁর নিজ ক্যাডারে ফিরে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সরকার আহসান হাবিবকে আইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এর পূর্বে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।