সাতক্ষীরা শহরের রাজারবাগান এলাকায় ১০ দশমিক ৫৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল নিতে বেড়ার প্রাচীর দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ এমনকি জীবন নাশের হুমকি-ধমকিতে থানায় জিডি করেও রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও আইনগত সহায়তা চেয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ একাধিক উচ্চ মহলে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন জমির মালিক মোছাঃ মেহেরুন নেছা (৬১) নামে এক বৃদ্ধা নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজারবাগান মৌজার সাবেক খতিয়ান নং-৭৪০, হাল খতিয়ান নং-৫৯৮৭ এবং দাগ নং-২১১ ও ২১২-এর মোট ১০ দশমিক ৫৮ শতক জমি তিনি ক্রয় ও পৈতৃক সূত্রে মালিক হওয়ার সুবাদে আপডেট কাগজপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন। তবে জমিটি বেশ মূল্যবান হওয়ায় ৫ আগস্টের পর স্থানীয় মৃত মোদাচ্ছেরের ছেলে রেজা হোসেন (৫০) ও সিরাজ হোসেন (৪৫) এবং ওবেদ আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ (৬৫) দখল নিতে সকল ধরনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনু: ৮টার দিকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা জমিতে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাধা দিলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।
তাছাড়াও জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে এরই মধ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ এডিএম আদালতে ১৬৭৩/ক্রিঃ নং স্মারকে একটি মামলা চলমান রয়েছে যার নম্বর পি-৯১৬/২৬, ধারা ১৪৫ ফৌঃ কাঃ। তার পরেও বিবাদীরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করলেও কোন সমাধান পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর এবং বর্তমানে বিবাদীদের কথিত হুমকির কারণে পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, দলের নামে এভাবে দখল বানিজ্য মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারামারি কিংবা গুরুতর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত সুব্যবস্থা নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এমনটা প্রত্যাশা সকলের।
দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে দীর্ঘ অভিযানের পর একটি নির্জন নারকেল বাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন—মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিপন টুডু (৩৫) ও তাঁর সহযোগী সুজন টুডু (২০)। পুলিশ জানিয়েছে, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকার রিপন টুডুর সঙ্গে শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রায় ছয় মাস আগে জিন্নাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় শিশুটিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ৫ জুন রাতে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হলে মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনা করা হয়। পরে রিপন টুডু মোবাইল ফোনে সুজন টুডুকে ডেকে আনেন। তাঁরা মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ীর পাশের নারকেল বাগানে নিয়ে যান এবং সেখানে মাটিচাপা দেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনা গোপন রাখতে একই এলাকার কাছাকাছি আরেকটি গর্ত করে সেখানে একটি কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মঙ্গলবার সকালে নারকেল বাগানে দ্বিতীয় দফায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ। দীর্ঘ সময় মাটি খননের পর বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি তদন্তে জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজের ঘটনা থেকে শুরু করে আসামীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রতিটি ধাপ তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর অপরাধের রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের সমাবেশ ও মিছিল
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সমাবেশ ও মিছিল করেছে উপজেলা যুবদল।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা যুবদল আয়োজিত মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ করে। পরে মিছিলটি পার্টি অফিসের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
উপজেলা যুবদলের সভাপতি মাহমুদুল হক টিপুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম তাজুল ইসলাম ডালিম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেলায়েত হোসেন বিলু, দপ্তর সম্পাদক বেলাল হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা প্রামানিক রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ ইবনে রুবেলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তারা দাবি করেন, বিএনপির নেতৃত্বে দেশ পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের শান্তি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা যাতে জনজীবন ও দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন
ট্রিপল হত্যা মামলায় আবার বাবুল মিয়াকে রিমান্ডে নিলো পিবিআই
সিলেট নগরীর রায়নগরে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে হত্যার মামলার আসামি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিন মঞ্জুর করেন। পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোরসালিন জানান, বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ১২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা নিকুঞ্জ ভিলায় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ প্রথমে দাবি করেছিল, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন তিনি ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
হত্যাকান্ডের তিনদিন পর গত ১৪ আগস্ট রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিলো না। ১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
তবে ২০ আগস্ট হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি বাবুল মিয়া। এতে তিনি জানান, সেদিন সকালে চুরি করতে ওই বাসয় গিয়েছিলেন বাবুল মিয়া। চুরি করার সময় দেখে ফেলায় একেএকে তিনজনকে হত্যা করেন তিনি। পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহতের পরিবার। এরপর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে বাবুলকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা।
মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত
“শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতিটি ঘর হবে একটি স্কুল”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শফিক। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আসন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
অভিভাবকদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনার পর বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম শফিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, উপস্থিতি, শৃঙ্খলা ও সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিবাদে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী যুবদল।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টঙ্গীর বিভিন্ন সড়কে এসব মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন এবং যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলেসহ মধুমিতা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি টঙ্গী স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে টঙ্গীতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এদিকে বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলের উদ্যোগে চেরাগ আলী এলাকা থেকে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মিলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে যুবদল নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।
উভয় কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে শিশুদের শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ গড়িয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মকবুল হোসেন নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন।
মকবুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। নিহতের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পথে জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বালাগ্রাম ইউনিয়নে শ্যাম্পুর খালি প্যাকেট নিয়ে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মকবুল হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনরা।
মকবুল হোসেনের মরদেহ দুপুরে বালাগ্রামের নিজ বাড়িতে নেওয়ার সময় জলঢাকা বাজারে লাশবাহী গাড়ি আটকে দেন বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এক পর্যায়ে মানববন্ধনটি বিক্ষোভে রূপ নেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মকবুল হোসেনসহ সংঘর্ষে আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। তাদের দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা জলঢাকা থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। পরে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেও মামলা করা হলে সেটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২৩ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়। অর্থাৎ একই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত মকবুল হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “আসামিদের আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। অতিদ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”