একটি ডোবা থেকে ৭ মাস বয়সী শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের পর একটি ডোবা থেকে ৭ মাস বয়সী শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে মিরাজ মিয়া ও শিশুটির দাদি রাবেয়া পলাতক রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরব থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মিরাজ মিয়া মাদকাসক্ত। প্রায় ৭ দিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ৭ মাসের সন্তান তানভীরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন দাদি রাবেয়া বেগম ওষুধ কিনে দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
এরপর শিশুটিকে তার বাবা মিরাজ নিয়ে যায়। পরে সে জানায়, শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকরা ধানের জমি দেখতে গিয়ে একটি ডোবায় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। পরদিন দাদি ওষুধ কেনার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জে পাঠানোর কথা জানায়। ভৈরব থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদসহ দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ ও সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় স্থায়ীভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানে আলম মিয়া কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁটুর ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে তাঁর পক্ষে আর রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, নিজের জ্ঞান ও বিবেচনায়, স্বেচ্ছায় এবং কারও চাপ ছাড়াই বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে পদত্যাগ করেছেন।
জানে আলম মিয়া (বিরু) বলেন, এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না। জীবনের বাকি সময় আল্লাহর ইবাদত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শান্তিতে কাটাতে চান।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল
পঞ্চগড়ে গ্রামীণ সড়কে পাথর বালি পরিবহন করার যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল এর বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাসহ রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আওতায় কয়েকটি সড়কে নিয়মিত পাথর বালি নিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। তিনটি সড়কে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি ট্রাক থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও পরিষদে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারা দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যান গোপনে একেকটি সড়ক ইজারা দিয়েছেন ২ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।
জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা সালের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম গোপনে দীর্ঘদিন ধরে মিরগড়, লাঠুয়া পাড়া ও আহমেদ নগর এলাকায় সড়ক ইজারা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর কিছু অর্থ পরিষদের হিসাব নম্বরে জমা করলেও ৭ থেকে ৮ লাখ লাখ টাকা প্রতি বছর আত্মসাৎ করেছে চেয়ারম্যান।
পরিষদের ইউপি সদস্য মোজাহারুল হক জানান, ইজারার সময় আমি ছিলাম না। চেয়ারম্যান আলাদাভাবে করে নেয়, আর শুনানো হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ ইজারা বিষয়ে কিছু জানেননা এবং চেয়ারম্যান কিছু জানায় নাই বলেন তিনি।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাইমুল ইসলাম বলেন, কোন সড়ক কত টাকায় চেয়ারম্যান ইজারা দিয়েছেন তা জানিনা। তবে সেটার জন্য ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন রাজস্ব হিসাব নম্বরে জমা করতে, আমি জমা করেছি।
লাঠুয়া পাড়া এলাকায় সড়কের টোল আদায়ের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা এটাতে অনেকজন শেয়ার রয়েছি। ঠিক কত টাকায় ইজারা নিয়েছি তা জানিনা। তবে টোল আদায়কারী আকতারুল বলেন খরচসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার কথা।
ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, সড়কের কর আদায়ের ইজারা ঠিক কত টাকায় দিয়েছি খেয়াল নাই। তবে সবার সম্মুখে পরিষদে খোলা ডাক দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আমরা জমা দেই তবে কিছু বেশি নেওয়া হয়। আমাদেরতো বেতন ভাতা নাই। আরো অনেক খরচ রয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
গাজীপুরের কাশিমপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টুন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার শৈলান এলাকায় কারখানাটির গোডাউনে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে কাশিমপুর মিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়।বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ খালি কার্টন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে গেছে ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে হাসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের বাসটি একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা ১১ জনকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ ছাড়া পাঁচজনকে ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত ১৬ জন হলেন- হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) ও বোরহান উদ্দিন (৫৫) আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, ডামুরহুদা ও কাপাসডাঙ্গায়। এ ছাড়া মেহেরপুরের মুজিবনগর, ঝিনাইদহের মহেশপুর, ঢাকার আফতাবনগর এবং মাগুরা সদরের বাসিন্দাও রয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
সাজেকে অবরোধকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলছে। আজ শনিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে।
সাজেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি সাজেকবাসীর দাবির প্রতিও সংহতি জানিয়েছে সংগঠনটি।
অবরোধ চলাকালে রাঙামাটি শহরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেতবুনিয়ায় অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রাঙামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে এ সড়কের খামারপাড়া ও ধর্মঘর এলাকায় অবরোধকারীরা গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানেও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হচ্ছে। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধ চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অবরোধকারী তপন চাকমা বলেন, সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই আমরা অর্ধদিবস অবরোধ পালন করছি।
ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা বলেন, রাঙামাটিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। তবে কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে। সাজেকে গোলাগুলির অজুহাতে সাধারণ মানুষের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আমরা সমর্থন করি না। সাজেকবাসীর দাবি ন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন।
উষাতন চাকমা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর আবার হামলা ও মামলা চালানো হলে এবং সাজেকবাসীর দাবি পূরণ না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সড়কে কোনো পিকেটার অবস্থান করছেন না।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দীন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হচ্ছে। কোথাও সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও নৌপথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছেন।
আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের পর সামনে আসছে তার একাধিক অপরাধের চিত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কারওয়ান বাজারই নয়, নিজের এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক কাজ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভবন দখলের মতো নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা। ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়ন ও তার অনুসারীদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
বর্তমানে আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়েন্টনিষ্কাশন লাইনের কাজ জোর করে নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের সমর্থকরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।
৬ নম্বর সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িমালিককে হুমকি দেয়া হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা যেত, সেখানে তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন এবং সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।
এমনকি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দখল করতে না পেরে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
তবে সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জসিম চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।কমিটির বিলুপ্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেছেন, নয়নকে আদাবরের কথা বলে আটক করলেও পরে কারওয়ান বাজারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার মতে এক ধরণের চক্রান্ত।
তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে আসা আদাবরের অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।