জান্নাতুল বুশরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার উদ্ভব হয়েছে।


মালয়েশিয়া প্রবাসী মাহফুজ আলম (৩৭) অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে জান্নাতুল বুশরা (৩১) নামের এক নারী তার কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।


ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে ফেসবুকের মাধ্যমে বুশরার সঙ্গে পরিচয় হয় মাহফুজ আলমের। প্রাথমিক কথোপকথন থেকে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বুশরা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং ভবিষ্যতে সংসার গড়ার নানা আশ্বাস দিতে থাকেন।


প্রবাস জীবনের একাকীত্ব ও আবেগঘন সম্পর্কের কারণে মাহফুজ আলম সেই প্রস্তাবে রাজি হন। এরপর নিয়মিত ফোন ও অনলাইনে যোগাযোগ চলতে থাকে। কিছুদিন পর থেকেই বুশরা নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরে আর্থিক সহায়তা চাইতে শুরু করেন।


অভিযোগে বলা হয়, কখনও পড়াশোনার খরচ, কখনও অসুস্থতার চিকিৎসা, আবার কখনও জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে ধাপে ধাপে টাকা দাবি করা হয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে এসব অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।


মাহফুজ আলম জানান, তিনি ইসলামী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং বুশরার ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ নম্বরে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠান। সব মিলিয়ে তার পাঠানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ টাকা।


এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভুক্তভোগীর কাছে টাকা পাঠানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তিনি ব্যাংক লেনদেনের রসিদ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ট্রানজেকশন হিস্ট্রি এবং কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন, যা তিনি পুলিশের কাছেও জমা দিয়েছেন।


মাহফুজ আলম দাবি করেন, আমি প্রতিটি টাকা পাঠানোর প্রমাণ পুলিশের কাছে দিয়েছি। ব্যাংকের কাগজপত্র, বিকাশ-নগদের ট্রানজেকশন সব কিছুই আছে। এটা পরিকল্পিত প্রতারণা, আমি এর সঠিক বিচার চাই।


অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ লেনদেনের সময় বুশরার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করায় তার সন্দেহ আরও কমে যায় এবং তিনি পুরো বিষয়টিকে একটি বৈধ সম্পর্ক হিসেবেই মনে করেন।


তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি দেশে ফিরে এসে তিনি সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন থেকেই বুশরা এবং তার পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ।


পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল সকালে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মঙ্গলখালী এলাকায় বুশরার বর্তমান ঠিকানায় যান। সেখানে গিয়ে তাকে না পেয়ে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নেন এবং তার নানার বাড়িতে যান। তবে সেখান থেকেও তিনি কোনো স্পষ্ট তথ্য পাননি।


একইদিন দুপুরে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মাহনা এলাকায় বুশরার স্থায়ী বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বুশরার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দেননি। বরং বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।


মাহফুজ আলমের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি মনে করেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা, যেখানে বুশরা তার পিতা, মাতা ও ভাইদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফাঁদে ফেলেছেন।


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি এবং তিনি যে লেনদেনের প্রমাণাদি দিয়েছেন, সেগুলো আমরা যাচাই করছি। ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং এবং যোগাযোগের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।


এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে এই ধরনের প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের টার্গেট করে আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে তুলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে এর পরিধি বাড়ছে।


ভুক্তভোগী মাহফুজ আলম তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তার আশা, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, দেশের সব রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের পর পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। অন্যদিকে, দুই দেশ সম্মত হলেই দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রেলযোগে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


মহাপরিচালক বলেন, পঞ্চগড় থেকে আপাতত একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি কোচ আনা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে আরও ২০০টি কোচ আসবে। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। কোচগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।


পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখনো দেশের সব রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়নি। ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগের যৌক্তিকতা এবং এ রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে।


বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাবান্ধার ওপারে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের সংযোগ না থাকায় প্রকল্পটি থেকে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করলেও এর মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবে না। তাই দুই দেশ সম্মত হলে ভবিষ্যতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আপাতত বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।


এ সময় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের লোডিং-আনলোডিং সুবিধা পরিদর্শনের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, স্টেশনে কী পরিমাণ চাহিদা রয়েছে এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট কি না, তা দেখতে এসেছেন তাঁরা। চাহিদা বেশি থাকলে এবং পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গেলে স্টেশনের অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কোচ রাখার ব্যবস্থা কিংবা পাশে নতুন রেললাইন নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।


পরিদর্শনকালে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৯ পিএম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীর পুরুষ’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘খোকার স্বপ্ন’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। বুধবার বিকেলে উপজেলার আমজুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দেন নাট্যকার হাজ্জাজ তানিন। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধসহস্রাধিক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।


সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনন, মেধা ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ‘কারিগর’-এর বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে ‘স্কুল সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম। আয়োজকদের দাবি, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম।


এই কার্যক্রমের আওতায় নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। এর আগে নাটকের সঙ্গে যুক্ত ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সাত দিনের নাট্যকর্মশালার আয়োজন করা হয়। গঠন করা হয় স্কুল থিয়েটার ক্লাব। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের মেডিটেশন, ইয়োগা ও বিভিন্ন থিয়েটার গেমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের গল্প, কবিতা, পরিবেশ পরিচিতি ও বিশ্বপরিচয়ের বিভিন্ন বিষয় নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। এর আগে শিক্ষার্থীরা এমন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। নাটকটিতে শুধু ‘বীর পুরুষ’ কবিতার মর্মার্থই নয়, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তারা সাবলীলভাবে কথা বলতে শিখছে। এমনকি ইংরেজিতে কথা বলার সাহসও অর্জন করছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা। এ সময় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম, সহকারী শিক্ষক হীরা মনি, ৭ নম্বর দেবনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ হোসেন এবং কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এটি একটি অভূতপূর্ব আয়োজন। থিয়েটার শুধু আনন্দের বিষয় নয়, এর মাধ্যমে সামাজিক নানা বার্তাও পাওয়া যায়। এটি কেবল নাটক নয়, বরং পাঠ্যসূচিরই একটি অংশ। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোট ১০টি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে।  জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভিন সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।


কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাত দিনের নাট্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশিক্ষকদের এক অনন্য সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটছে। সাত দিনের কর্মশালায় অংশ নেওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থী যেন নতুন একটি জগতে প্রবেশ করছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চ তৈরি করছে, নাটকের সংলাপ তৈরি করছে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটছে এবং সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা তৈরি হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফয়সল আমিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ফয়সল আমিন। 


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। 


এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। 


এ ছাড়া আসনটিতে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩০৮। ভোট প্রদানের হার ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। 


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 


নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ২৮৭ জন। 


গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন পাঁচজন। 


প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।


পরবর্তী সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিজয়ের পর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা ফয়সল আমিন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৪ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।


বিকেল ৫টার দিকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পলাশ ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান জিয়া। এ সময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। র‍্যালি ও সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ ভাগাভাগি করতে আয়োজন করা হয় কেক কাটার পর্ব। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা কেক কেটে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহা নূর আলম খান বাপ্পি, হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবিরসহ ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদল এবং বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সর্বশেষ সব খবর

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা। ছবি: সংগ্রহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খোরশেদ আলম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। 


বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খাঁনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত খোরশেদ দিলসাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ও পেশায় মাটি ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নিহত খোরশেদের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তার জানান, খোরশেদ মাটির ব্যবসা করতেন। দুপুরে তাকে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে শোনেন, ওয়ালিদ নামে একজন প্রতিপক্ষ তাকে গুলি করেছেন। ওয়ালিদ মাটির ব্যবসা নিয়ে এর আগেও বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন।


সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তিনি মারা গেছেন। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।


লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


খোরশেদের মৃত্যুতে হাসপাতাল এলাকায় তার স্ত্রী-মেয়ে ও স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

বেসরকারিভাবে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।


এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 


নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা আছে।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।


ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।


প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সর্বশেষ সব খবর