৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

  • প্রকাশ : শনিবার ০২ মে, ২০২৬, সময় : ১০:০০ এএম

৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয় এটি সত্যের দীপশিখা জ্বালিয়ে রাখার এক অনন্ত আহ্বান, ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক নৈতিক শপথ, এবং মানুষের অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার এক সুদৃঢ় প্রত্যয়। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় সাক্ষ্য দেয় যেখানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্রের শিরায় শিরায় নেমে এসেছে নীরব অন্ধকার।


গণমাধ্যম সমাজের স্বচ্ছ দর্পণ যেখানে প্রতিফলিত হয় রাষ্ট্র, সরকার ও জনজীবনের বহুমাত্রিক রূপ। এটি কেবল তথ্যের বাহক নয়; বরং জবাবদিহিতার এক দৃঢ় প্রহরী। প্রান্তিক মানুষের নিঃশব্দ আর্তনাদ, বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস কিংবা ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত প্রতিবাদের ভাষা সবই গণমাধ্যমের পাতায় ও পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই অর্থে, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথে এক আলোকবর্তিকা।


তবু বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এই আলোর পথ সর্বদা মসৃণ নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে গণমাধ্যম আজও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি কখনো আইনের কঠোর বেড়াজাল, কখনো রাজনৈতিক প্রভাবের অদৃশ্য শৃঙ্খল, আবার কখনো সরাসরি ভীতি ও হুমকির অন্ধকার ছায়া। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয়। অগ্রগতির দীপ্ত রেখা যেমন দৃশ্যমান, তেমনি কিছু উদ্বেগের মেঘও আকাশে ভেসে বেড়ায় যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের বিস্তার অভূতপূর্ব। মুহূর্তেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়। কিন্তু এই দ্রুততার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক গভীর সংকট- ভুয়া খবর, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার। ফলে আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সত্যকে যাচাই করে উপস্থাপন করা, তথ্যকে বস্তুনিষ্ঠতার শুদ্ধতায় পরিশীলিত করা। স্বাধীনতার সাথে যুক্ত হতে হবে দায়িত্ববোধের কঠোর অনুশাসন; নইলে স্বাধীনতাই হয়ে উঠতে পারে বিভ্রান্তির হাতিয়ার।


রাষ্ট্রের ওপর বর্তায় একটি মৌলিক দায়িত্ব গণমাধ্যমের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিসর নিশ্চিত করা, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য উচ্চারণ করতে পারেন। অন্যদিকে, গণমাধ্যমকেও স্মরণ রাখতে হবে স্বাধীনতা মানে অবাধতা নয়; এটি এক গভীর নৈতিক দায়িত্ব, যেখানে পেশাগত সততা ও জনগণের আস্থাই সর্বোচ্চ মানদণ্ড।


বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয় স্বাধীন গণমাধ্যম কোনো বিলাস নয়, এটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য ভিত্তি। গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন সচল রাখতে, সুশাসনের ভিত মজবুত করতে এবং মানুষের অধিকারকে সমুন্নত রাখতে মুক্ত গণমাধ্যমের পথ সুদৃঢ় করাই হোক আমাদের অটল অঙ্গীকার।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১১ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘ইসলামী’ দল বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।


তার দাবি, ‘‘জামায়াত তাদের লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বীন’ কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। তাই তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’’


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলম মাদ্রাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলনের আমির এসব কথা বলেন।


সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে চরমোনাই পীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে আকিমুদদ্বীন কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত যে ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ কথা কোথাও বলেনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনে চালাবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে জামায়াত আর ইসলামী দল নয়। তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’


১১ দলের লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়’, তাহলে এতো তেল গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করলেন? এমন দ্বিমুখি আচরণ কেন।’’


একই সাথে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তার দাবি, বিএনপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ‘নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবেন না। কিন্তু সে ওয়াদা রাখছেন না। সংসদে তারা এরই মধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দিয়েছে’—যোগ করেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।


তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, ‘তারা (সরকার) শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হব।’

সর্বশেষ সব খবর

মশা নিধনে গাসিকের কর্মসূচি।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ পিএম

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড (ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস) স্প্রে ব্যবহার শুরু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)।


ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মত পরিবেশবান্ধব ও অধিক কার্যকর নতুন কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।


পরবর্তী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মত কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব-যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 


সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশে ব্রাজিল থেকে আনা বিশেষায়িত আধুনিক হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে লার্ভা ধ্বংস কার খুবই সহজ। 


এসব মেশিন শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত প্রফেশনাল গ্রেড স্প্রে মেশিন, যার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে লার্ভিসাইড বা কীটনাশক ছিটানো সম্ভব। প্রতিটি মেশিনে ১৩ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী স্প্রে ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে প্রায় ২ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ওষুধ ছিটানো যায়। এতে অ্যান্টি-ভাইব্রেশন প্রযুক্তি ও আরামদায়ক কাঁধের বেল্ট থাকায় দীর্ঘসময় কাজ করলেও অপারেটরদের জন্য ব্যবহার সহজ হয়।


সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ বলেন, এ ওষুধ (পাউডার) প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে নালায় স্প্রে করা হয়। লার্ভিসাইড এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এটি মানব দেহ ও পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না; এটি কেবল মশার লার্ভা ধ্বংস করে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করতে বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অত্যান্ত কার্যকর। 


আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, যেখানে মশার প্রজননকেন্দ্র বা লার্ভা বেশি সেখানে আগে লার্ভিসাইড স্প্রে প্রয়োগ করা হবে। আপাতত ডেঙ্গুর ৯টি ডেঞ্জার জোন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের এ পরিচালনা করা হবে। বিটিআই স্প্রে করার মাধ্যমে পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশার যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।


তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন। 


আরেক প্রশ্নের উত্তরে সালমা খাতুন বলেন, এ মুহূর্তে মশার উপদ্রব বেড়েছে ,তাই প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে  বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও কার্যকর পরীক্ষিত ওষুধটা ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এ ওষুধ একবার ছিটালে ১৫ দিন ওই জায়গা নিরাপদ থাকে। তবে আমাদের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিটিআই ব্যবহারে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু পুরো শহরে এ ওষুধ ছিটাতে পারলে ভালো রেজাল্ট পাব।


স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন মশা মারার ওষুধ কার্যকর হবে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পাবেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা হলেও মামলার তিনদিন পরও অভিযুক্ত আব্দুল খালেককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।


ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূমিহীন সমিতি ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিশুটির বাবা রুবেল বক্তব্য দেন।


স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ধনবাড়ী পৌর এলাকার বান্দ্রা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। পাশের বর্ণিচন্দ্রবাড়ী গ্রামের ওই শিশুকে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় একটি পুকুরপাড়ে ধর্ষণ করা হয়।


ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা রুবেল ও তার স্বজন দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা না বলেই সালিশের আয়োজন করা হয়। এতে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দেরি হয়।


পরে উপজেলা বিএনপির প্রথম সারির এক নেতাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন।


পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রোববার ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।


ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, “মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে মামলা করতে দেরি হয়েছে।”


তিনি আরও জানান, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে মামলা করার পর শিশুটির বাবাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো পরিবার উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।


মঙ্গলবারের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিজেরা করি'র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক ফজলুল হক, ধনবাড়ী কলেজের সাবেক জিএস মামুনুর রশীদ টিয়া, ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কছিম উদ্দিন, সিপিবি ধনবাড়ী কমিটির সভাপতি আইয়ুব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুপিটার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর শরাফত আলী, ভূমিহীন নেত্রী জমিলা বেগম, ভূমিহীন নেতা আব্দুল বাছেদ এবং ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রুবেল।


বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৭ পিএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রেপ্তার পাঁচজনকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় দায়ের করা নিয়মিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে হেতু (৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার কোনাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কালিঞ্জা গ্রামের মৃত ফরহাদ তালুকদারের ছেলে।


অন্যদিকে, রায়গঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক ওয়ারেন্ট অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শ্রী শাওন চন্দ্র তেলি (২৫), পিতা শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ চন্দ্র তেলি, সাং ক্ষীরতলা দোহার; মো. শাহ জামাল, পিতা মৃত আবু সাইদ শেখ, সাং ধানগড়া; মো. আফাল, পিতা ফজল, সাং ক্ষুদ্র বাশুরিয়া এবং মো. রফিকুল শেখ (৪৩), পিতা মৃত ইদ্রিস আলী, সাং পশ্চিম লক্ষীকোলা।


রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে চালান মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০০ পিএম

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি অ্যাকশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাসপাতালের ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঝালকাঠি শহরের পুরাতন কলেজ এলাকার হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) এ সভার আয়োজন করে।


সভায় সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা সরাসরি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, সেবাপ্রদানকারীদের জনবান্ধব আচরণের ঘাটতি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা, রোগ নিরীক্ষার সমস্যা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি, দায়িত্ব পালনে ঘাটতি, অপরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা সমস্যার কথা উঠে আসে।


সেবাগ্রহীতাদের এসব প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামতের জবাব দেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. টি.এম.মেহেদী হাসান (সানী)।


তিনি সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের ইতিবাচক দিক ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আরএমও।


সভার শুরুতে এসিজির সদস্যরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে কমিউনিটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত উন্নয়নযোগ্য বিষয়গুলোর তালিকা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন এবং কী কী সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়েও সেবাগ্রহীতা ও অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়।


অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (এসিজি) সদস্য মো. আরিফুর রহমান (রায়হান) সভাটি সঞ্চালনা করেন। এতে ব্যবসায়ী, গৃহিণী, শ্রমিক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং টিআইবির কর্মীবৃন্দ অংশ নেন।


সভা আয়োজনে সহযোগিতা করেন টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

জেলা তথ্য অফিস, গাইবান্ধা'র আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-সেপ্টেম্বর/২০২৬ কোয়াটারে "শিশু, কিশোর- কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম" শীর্ষক প্রকল্পের জিওবি খাতের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতরামারী গ্রামে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


তথ্য অফিসের সাইন অপারেটর মাসুদের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা তথ্য অফিসার ইশতিয়াক আহমাদ আবীর,গজারিয়ার মহিলা সদস্যা মিনারা বেগমসহ আরও অনেকেই। 


 অনুষ্ঠানে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ,  শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দান, শিশু ও নারী অধিকার, শিশুর যথাযথ বিকাশ,  অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, জন্ম নিবন্ধন, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসমূহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও দুর্যোগকালীন নারী, জেন্ডার সমতা, নিরাপদ মাতৃত্ব, বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, পরিস্কার পরিচ্চন্নতা  ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর