ভুক্তভোগী রিকশাচালক বাদশা শেখ ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, ফরিদপুর সদর।
সরকারি নথিতে তিনি মৃত তাই নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। সরকারি সনদে তিনি মৃত হলেও বাস্তবে তিনি বেঁচে আছেন, সাধারণত অন্যান্যদের মতোই তিনিও শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন এবং পরিবারের জন্য নিজে রিকশা চালিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবিকা নির্বাহ করছেন।
এটি ফরিদপুর পৌরসভার ২৫নং ওয়ার্ড উত্তর সাদীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত গেন্দু শেখের ছেলে বাদশা শেখের (পেশায় একজন রিকশাচালক) জীবনের গল্প।
তিনি জীবিত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী বাদশা শেখ জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনেই তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। বিষয়টির খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে তাকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাদশা বলেন, আমি জীবিত, কিন্তু কাগজে-কলমে আমাকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার এনআইডিও ব্লক করে রাখা হয়েছে।
সমস্যার সমাধানের আশায় সম্প্রতি তিনি ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসে যান তিনি। সেখানে নিজের ছবিসহ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তার।
বাদশা শেখ বলেন, নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা বলেছেন, আমি যে জীবিত আছি, সে মর্মে পৌরসভা থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আসতে হবে। তারপর তারা বিষয়টি দেখবেন।
একজন জীবিত মানুষকে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ছবিসংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরও কেন একজন নাগরিককে জীবিত থাকার জন্য আলাদা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে?
রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বাদশা শেখ বলেন, প্রতিদিন কাজ না করলে সংসার চলে না। তারপরও নিজের পরিচয় ফিরে পেতে এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে আমাকে। আজ ৩ জুলাই (শুক্রবার) পর্যন্ত আমার আইডি কার্ড সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ বিষয়ে ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ আলাউল হোসেন তনু বলেন, আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদশা শেখের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা ভুলবশত অথবা যে কারণেই হোক আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সংশোধন করে একজন জীবিত মানুষকে পুনরায় তার ভোটার অধিকার প্রয়োগসহ সব নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার তারেক আহমেদের ব্যবহারকৃত মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাদশা শেখ নামের ভুক্তভোগী কয়েকদিন আগে এসেছিলেন আমাদের অফিসে, এরপর তার আইডি কার্ডটি পুনরায় সংশোধন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে তথ্যগত ভুল সংশোধন, ভোটার তালিকায় বাদশা শেখের নাম পুনর্বহাল এবং তার এনআইডির ব্লক অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। যেন তিনি একজন নাগরিক হিসেবে সাংবিধানিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো স্বাভাবিকভাবে ভোগ করতে পারেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
এ উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফিসহ মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।
অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।
রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।
আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।